Sangeet Sangraha is a cherished compilation of devotional songs in Bengali. Perfect for spiritual seekers, it offers melodies to uplift the heart and deepen one's sadhana. Immerse yourself in this inspiring collection.
শ্রীশ্রীশিব সঙ্গীত
ধ্যান
ওঁ ধ্যায়েন্নিত্যং মহেশং রজত-গিরিনিভং চারুচন্দ্রাবতংসম্
রত্নাকল্পোজ্জ্বলাঙ্গং পরশু-মৃগ-বরাভীতি-হস্তং প্রসন্নম্।
পদ্মাসীনং সমম্তাৎ স্তুতমমরগণৈর্ব্যাঘ্র-কৃত্তিং বসানম্॥
বিশ্বাদ্যং বিশ্ববীজং নিখিল-ভয়হরং পঞ্চবক্ত্রং ত্রিনেত্রম্॥
↑ Contents
প্রণাম
নমঃ শিবায় শান্তায় কারণত্রয়-হেতবে।
নিবেদয়ামি চাত্মানং ত্বং গতিঃ পরমেশ্বর॥
↑ Contents
ডিমিকি ডিমিকি ডিমি
মালকোষ—কাওয়ালী*
ডিমিকি ডিমিকি ডিমি, ডিমিকি ডিমিকি ডিমি
নাচে ভোলা নাথ।
নাচে ভোলা নাথ (চারবার)॥
মৃদঙ্গ বোলে শিব শিব শিব ওম্,
ডমরু বোলে হর হর বোম্ বোম্;
বীণা বোলে হরি ওম্ হরি ওম্—
নাচে ভোলা নাথ (চারবার)॥
—অজ্ঞাত
* স্বরলিপি: আনন্দ লহরী দ্রষ্টব্য
↑ Contents
শিবাষ্টকস্তোত্রম্
গৌড় সারঙ্গ—তিনতাল
প্রভুমীশমনীশমশেষ গুণং, গুণহীনমহেশগরাভরণম্।
রণনির্জিতদুর্জয়দৈত্যপুরং, প্রণমামি শিবং শিবকল্পতরুম্ ॥১
গিরিরাজসুতান্বিতবামতনুং, তনুনিন্দিতরাজিতকোটিবিধুম্।
বিধিবিষ্ণুশিরোধৃতপাদযুগং, প্রণমামি শিবং শিবকল্পতরুম্ ॥২
শশলাঞ্ছিতরঞ্জিতসন্মুকুটং কটিলম্বিতসুন্দরকৃত্তিপটম্
সুরশৈবলিনীকৃতপূতজটং, প্রণমামি শিবং শিবকল্পতরুম্ ॥৩
নয়নত্রয়ভূষিতচারুমুখং, মুখপদ্মপরাজিতকোটিবিধুম্।
বিধুখণ্ডবিমণ্ডিতভালতটং, প্রণমামি শিবং শিবকল্পতরুম্ ॥৪
বৃষরাজনিকেতনমাদিগুরুং, গরলাশনমাজিবিষাণধরম্।
প্রমথাধিপসেবকরঞ্জনকং, প্রণমামি শিবং শিবকল্পতরুম্ ॥৫
মকরধ্বজমত্তমাতঙ্গহরং, করিচর্মগনাগবিবোধকরম্।
বরমার্গণশূলবিষাণধরং, প্রণমামি শিবং শিবকল্পতরুম্ ॥৬
জগদুদ্ভবপালননাশকরং, ত্রিদিবেশশিরোমণিখৃষ্টপদম্।
প্রিয়মানবসাধুজনৈকগতিং, প্রণমামি শিবং শিবকল্পতরুম্ ॥ ৭
অনাথং সুদীনং বিভো বিশ্বনাথ পুনর্জন্মদুঃখাৎ পরিত্রাহি শম্ভো।
ভজতোঽখিলদুঃখসমূহহরং, প্রণমামি শিবং শিবকল্পতরুম্ ॥ ৮
↑ Contents
আজু শম্ভুহর নাচত ডমরু করে
খাম্বাজ—সুরফাক্তা
আজু শম্ভুহর নাচত ডমরু করে,
বজাবত গজবদন লম্বোদর মৃদঙ্গ আনন্দ ভরে।
পঞ্চানন অনাদি নাদ আলাপ করে,
গাবত সুরগণ সমবেত ভঈরী,
রঙ্গনাথ নিরখ মোহন বিগলিত রূপম বিরাজে ৷৷
—যদুনাথ ভট্টাচার্য
↑ Contents
ত্রাণ করো, হে শঙ্কর
ভৈরবী-চৌতাল
ত্রাণ করো, হে শঙ্কর।
আশুতোষ নাম, গুণে গুণ-ধাম, হর মম দুঃখ হরো হর॥
বিপদ কাণ্ডারী, প্রভু ত্রিপুরারি, বিখ্যাতগুণ ত্রিপুর।
পাপে হয়ে ভারী, ভবে ডুবে মরি, ওহে গঙ্গাধর! ধরো ধরো।
ওহে ত্রিনয়ন ত্রিতাপহারী, ত্রিপুরান্তক ত্রিশূলধারী
ত্রিজগৎ-পাপ-তাপ নিবারি, কৃপানয়নে হেরো।
কি করি শঙ্কর শমন কিঙ্কর বাঁধে কর হে! কি করো?
করো শত্রু জয়, ওহে মৃত্যুঞ্জয়! দাশরথি কাঁপে থর থর॥
—দাশরথি রায়
↑ Contents
পীত জটা শিরে গঙ্গা উমঙ্গত
ভৈরব—ঝাঁপতাল
পীত জটা শিরে গঙ্গা উমঙ্গত ভাল বিশাল শশাঙ্ক বিরাজত।
লোচন তিন লসত দুঃখ মোচন, আনন কানন কুণ্ডল শোভিত॥
অঙ্গে বিভূতি ধরে অহিভূষণ, শূল লিয়ে করে ডমরু বাজত;
রূপ অনুপ সদা শিব মুরত, ভৈরব রাগ মহা ছবি ছাজত॥
-হরবল্লভ রায়
↑ Contents
হর হর হর শশাঙ্কশেখর
ভৈরব—তেওরা
হর হর হর শশাঙ্কশেখর শম্ভু শঙ্কর পিনাকধারী।
দেব ত্রিলোচন বৃষভবাহন জয় মহাকাল কাল-ভয়হারী॥
রজতশিখর শিরে জটাজুট গলে হাড়-মালা কণ্ঠে কালকূট,
ভালে বিভাবসু-নিভা পরিস্ফুট ধক্ ধক্ ধক্ জ্বলে অনিবার॥
শিরে সুরধুনী করে কুলু কুলু, ভাঙ্গ ধুতুরায় আঁখি ঢুলু ঢুলু,
নাচে সঙ্গে রঙ্গে ভূত প্রেতকুল, করে শূল দেব দেব ত্রিপুরারি॥
বিভূতি-ভূষণ, অঙ্গে ভুজঙ্গম, কটিতে শার্দুলচর্ম মনোরম,
পঞ্চমুখে সদা বম্ বম্ বম্, জয় ব্যোমকেশ শ্মশানবিহারী॥
—অজ্ঞাত
↑ Contents
শশী-ভাল শোভে, সুরেশ্বরী শিরপর বিরাজত
শ্রীরাগ—ঝাঁপতাল
শশী-ভাল শোভে, সুরেশ্বরী শিরপর বিরাজত,
অরধ নয়ন, রুণ্ডমাল, দিগম্বর, ঈশ্বর।
বিভূতিভূষণ অঙ্গ, ঔর বৃষবাহন,
করে ত্রিশূল ধারণ, উমাপতি শঙ্কর।
মহাদেব, দেবেশ, মৃত্যুঞ্জয়, গণেশ,
বিশ্বম্ভর, মহাযোগী, মহেশ্বর;
তেঁহারি চরণ ধ্যান করত গোপেশ,
দরশ দীজে দয়াল, শম্ভু শিব হর হর॥
—গোপেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায়
↑ Contents
শশধর-তিলক-ভাল গঙ্গা জটাপর
ভৈরব—ঝাঁপতাল*
শশধর-তিলক-ভাল গঙ্গা জটাপর,
করে লিয়ে ত্রিশূল রুদ্র বিরাজে।
ভস্ম অঙ্গ ছায়ি, গলে রুণ্ডমালা,
ভৈরব ত্রিলোচন হর যোগী সাজে॥
আসন-বাহন-বৃষ, বসন মৃগ ছালে,
কালকূট কণ্ঠে ভরা, তিমির লাজে;
গাবত হরিগুণ শ্রবণে অতি মধুর,
ধ্যাবত তান রাগে সদা হৃদি মাঝে॥
—যদুনাথ ভট্টাচার্য (যদু ভট্ট)
* স্বরলিপিঃ সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
যোগাসনে মহা ধ্যানে মগ্ন যোগীবর
ভৈরব—ঝাঁপতাল*
যোগাসনে মহা ধ্যানে মগ্ন যোগীবর,
অনন্ত তুষারে যেন অনন্ত শেখর॥
প্রলয়-নীরব মাঝে, একাকী পুরুষ রাজে,
ভয়ে অগ্নি ভস্ম সাজে ঢাকে কলেবর॥
শিশু শশী নাহি আর, অন্ধকার নিরাকার,
এক, নাহি দুই আর, প্রকৃতি নিথর।
কাল বদ্ধ বর্তমানে, ব্যোমকেশ ব্যোম পানে,
নিত্য সত্য পূর্ণ জ্ঞানে, পূর্ণ মহেশ্বর॥
—গিরিশচন্দ্র ঘোষ
* স্বরলিপি: সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
শঙ্কর শিব পিনাকী গঙ্গাধর
ইমন-কল্যাণ—সুরফাক্তা*
শঙ্কর শিব পিনাকী গঙ্গাধর, বিষধর বামদেব, ঈশ্বর ডমরুকর।
ভস্ম-অঙ্গ সোহে ভুজঙ্গ ভাল-চন্দ্র, শিঙ্গী ফুঁকত হ্যয় ভোলা দিগম্বর॥
তিলক-ললাট গলে রুণ্ডমাল, ত্রিনয়ন বরদাতা গৌরীসঙ্গ ত্রিশূলধর।
পশুপতি বিশ্বনাথ মৃত্যুঞ্জয়, জপ মহাদেব নাম হর হর॥
—বুধপ্ৰকাশ
* স্বরলিপি: সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
শম্ভু শিব মহেশ, আদি ত্রিলোচন
ছায়নট—সুরফাক্তা*
শম্ভু শিব মহেশ, আদি ত্রিলোচন
ভবভয়হর ভবেশ, দীননাথ দানবদলন দীনেশ্বর॥
জটাজূট পিনাকী, ভস্ম রুণ্ডমালা গরল গলেধর হর, ওঢ়ে বাঘাম্বর॥
নাচত চন্দ্ৰভাল বম্ বম্ বাজে ঘন ঘন,
অতি অপূর্ব হরিগুণ গাওয়ত ত্রিপুরেশ্বর;
বীরচন্দ্র নরপতি প্রকাশ করণ বেশ।
অধরে ধরে তাল তান সুমধুর॥
—রাজা বীরচন্দ্র মাণিক্য বাহদুর
* স্বরলিপি: দিব্যগীতি
↑ Contents
ডমরু হর করে বাজে বাজে
বসন্ত—তেওরা*
ডমরু হর করে বাজে বাজে।
ত্রিশূল-ধর-অঙ্গ ভসম ভূষণ, ব্যালমালা গলে বিরাজে৷৷
পঞ্চবদন পিনাকধর শিব, বৃষভবাহন ভূতনাথ,
রুণ্ড মুণ্ড গলে বিরাজিত অজর অমর দিগম্বর রে৷৷
—বিহারীলাল দুবে
* স্বরলিপিঃ সুরবিতান
↑ Contents
হর হর হর ভূতনাথ পশুপতি
কানাড়া—সুরফাক্তা*
হর হর হর ভূতনাথ পশুপতি,
যোগীশ্বর মহাদেব শিব পিনাকপাণি॥
ঊর্ধ্ব জ্বলত জটাজাল, নাচত ব্যোমকেশ ভাল,
সপ্তভুবন ধরত তাল টলমল অবনী॥
—স্বামী বিবেকানন্দ
* স্বরলিপি: সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
জপত মন আনন্দ শিব শিব
বেহাগ—তেওরা
জপত মন আনন্দ শিব শিব;
জাহী সুমিরত, বিঘ্ন বিনাশত, কাটত যম কে ফন্দ।
তিন লোক দয়াল, দাতা, হরত দুঃখ ঔর দ্বন্দ্ব॥
বৃষভবাহন, রুচি ধুতুরা শিবকে ভোজন ভাঙ্গ৷
ওঢ়না বাঘাম্বর, শির জটা-রমণিত গঙ্গ॥
রুণ্ডমাল-ত্রিশূল-ডমরু-ভসম-শোভিত-অঙ্গ।
তিন নেত্র, বিশাল মূরতি, তিলক-রাজিত-চন্দ্ৰ
ভূত প্রেত পিশাচ ভৈরব যোগিনী জিনকে সঙ্গ।
পার্বতীপতি চরণ কী রতি জপত ব্রহ্মানন্দ॥
—ব্রহ্মানন্দ
↑ Contents
শম্ভু শিব শঙ্কর হর
খাম্বাজ—চৌতাল
শম্ভু শিব শঙ্কর হর শৈলরাজ-তনয়া-বর
চন্দ্রচূড় ত্রিপুর-মথন, স্মরহর শিব মৃত্যুঞ্জয়।
শ্মশান-বিভূতি-বিভূষিতাঙ্গ, প্রখর প্রমথ পঞ্চ সঙ্গ,
শিরসি গঙ্গা গতি-তরঙ্গ, চরণ-শরণ-জন-কৃপাল॥
—অনন্তলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
↑ Contents
শিব শঙ্কর বম্ বম্ ভোলা
খাম্বাজ—তিনতাল
শিব শঙ্কর বম্ বম্ ভোলা কৈলাসপতি মহারাজ রাজ।
ওঢ় মৃগছাল লাল লোচন বিশাল, পহন বাঘছাল অরধ চন্দ্র ভাল
বিরাজ।
রুণ্ডমাল গলমে বৃষভ বাহন, করমে ত্রিশূল ভৈরব বেতাল দেখত
দেব সমাজ।
পিশাচ ভূতদৈত্য ঔর প্রমথগণ বোলত হর হর, বাম ভবানী অপরূপ
রূপ সাজ।
কহে দাস নিজামী কর জোর জোর, দেও দান মান রাখ মোর
কৃপা কীজে চরণ দেহুঁ মোহে আজ।
—সৈয়দ নিজামী
↑ Contents
গৌরাঙ্গ অরধাঙ্গ গঙ্গা তরঙ্গে
আড়ানা—ঝাঁপতাল
গৌরাঙ্গ অরধাঙ্গ গঙ্গা তরঙ্গে, যোগী মহাযোগ কা রূপ রাজে।
বাঘছাল মুণ্ডমাল শশীভাল করতাল,
তাঁ ডেক্ ডিমি ডিমিক ডিমি ডমরু বাজে।
অম্বর বাঘাম্বর দিগম্বর জটাজূট, ফণিধর ভুজঙ্গেশ অঙ্গ বিভূতি ছাজে।
বাণী বিলাস তুয়া ধাতা বিধাতা, জাতা সকল দুখ সদাশিব বিরাজে॥
—অজ্ঞাত
↑ Contents
আনন্দবন গিরিজাপত নগরী
ঝিঁঝিঁট খাম্বাজ—যৎ*
আনন্দবন গিরিজাপত নগরী, মন কেঁও নহি বাস লগাওয়তরে।
কাশী সমান নহি দ্বিতীয় পুরী, ব্রহ্মাদি কে মন ভাওয়তরে॥
মুক্তি প্রবাহ বহত যহাঁ গঙ্গা, সুরনরমুনি হর গাওয়তরে।
কীট পতঙ্গাদি নানা জীব, সব কি মুক্তি করাওয়তরে॥
সাঁজ সবেরে জগাওয়ে ভবানী, ডমরু শিঙ্গা বজাওয়তরে।
অন্তসময়ে শম্ভুসদাশিব, তারক ব্রহ্ম মন্ত্র সুনাওয়তরে॥
ঐ সা কাশী কেঁও নহি সেবে শিব শম্ভু সদা ভাওয়তরে।
তুলসীদাস ভজ গাওয়ে মহাদেব, কাশী পরম পদ পাওয়তরে॥
—তুলসীদাস
* গানখানি স্বামী তুরীয়ানন্দজীর প্রিয় ছিল।
↑ Contents
কে বৃষপরে, বম্ বম্ করে
ইমন—তেওরা
কে বৃষপরে, বম্ বম্ করে, বিমল কমলে চরণ দুখানি।
ত্রিশূলধারী, জটাজুট শিরে গরজে ফণী৷৷
হাড়মাল গলেতে লম্বিত, ইন্দু ভালে বিভূষিত,
আজানুলম্বিত বাহু সুললিত, জটাতে শোভিছে মা সুরধনী৷৷
—অজ্ঞাত
↑ Contents
শিবময় এ সংসার
সাহানা—ঝাঁপতাল
শিবময় এ সংসার ওরে জীব কি জান না।
প্রকৃতি প্রভাবে শিবে করিছ জীব কল্পনা॥
যেই শিব সেই জীব, যেই জীব সেই শিব
শিব ভিন্ন নহে জীব, যথা জলে বিম্ব ফেণা॥
শিব হতে এই জীব, এই জীব হয় শিব,
শিবপদ পায় জীব, শিব ভাবিয়ে।
অতএব ওরে জীব, সদা ভাব সদাশিব,
আছ জীব হবে শিব কি আর বল ভাবনা॥
—অজ্ঞাত
↑ Contents
নাচে বাহু তুলে, ভোলা ভাবে ভুলে
সিন্ধুমিশ্র—একতাল
নাচে বাহু তুলে, ভোলা ভাবে ভুলে, বববম্ বববম্ বাজে গালে।
(কিবা) রজতভূধর নিন্দি কলেবর, শশাঙ্ক সুন্দর শোভে ভালে॥
প্রেমধারে ত্রিনয়ন ছল ছল, ফণী ফন্ন জাহ্নবী কল কল,
জটা জলদজাল মাঝে॥
—গিরিশচন্দ্র ঘোষ
↑ Contents
আশুতোষ শিব শঙ্কর ভোলা
ইমন-কল্যাণ—কাওয়ালী*
আশুতোষ শিব শঙ্কর ভোলা।
আধ চাঁদ ভালে, কপোলে কুণ্ডল কণ্ঠে হলাহল ফণীন্দ্ৰ দোলা॥
বিভূতিভূষণ বৃষভবাহন, বাঘাম্বরধর ডমরুবাদন,
বববম্ বববম্ উথলে ঘন রোল, ফণীমণিউজল জটা জলদজাল,
কল কল খল খল উথলে গঙ্গা॥
—অজ্ঞাত
* স্বরলিপিঃ সুরবিতান
↑ Contents
ভাঙ্গ খেয়ে বিভোর ভোলানাথ
ঝিঝিট—দাদরা*
ভাঙ্গ খেয়ে বিভোর ভোলানাথ ভূতগণ সঙ্গে নাচিছে।
(সদা) কালী কালী কালী বলে মধুর ডমরু বাজিছে॥
শিরেতে শোভিছে জটাজুটফণী, ললাটে শোভিছে দেবী মন্দাকিনী;
চরণ প্লাবিয়া ভূধর ধরণী, কুলুকুলু ধ্বনি করিছে॥
বামেতে শোভিছে ভুবনমাতা, কী কব রূপ, কী কব কথা,
চারিপাশে হেমলতা তড়িত জড়িত রয়েছে॥
কর্ণেতে শোভিছে ধুতুরার ফুল, ধুতুরা পানে আঁখি ঢুলু-ঢুল,
কালী ধ্যানে ব্যাঘ্রচর্ম খসিয়া খসিয়া পড়িছে॥
—প্যারিমোহন কবিরত্ন
* স্বরলিপি: সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
তাথৈয়া তাথৈয়া নাচে ভোলা
কর্ণাটি—একতাল*
তাথৈয়া তাথৈয়া নাচে ভোলা, বম্ বব বাজে গাল।
ডিমি ডিমি ডিমি ডমরু বাজে, দুলিছে কপাল মাল॥
গরজে গঙ্গা জটামাঝে, উগরে অনল ত্রিশূল রাজে,
ধক্ ধক্ ধক্ মৌলিবন্ধ, জ্বলে শশাঙ্কভাল॥
—স্বামী বিবেকানন্দ
* স্বরলিপি: দিব্যগীতি
↑ Contents
নাচে পাগলা ভোলা
ভৈরবী-দাদরা
নাচে পাগলা ভোলা বাজে বম্ বম্ বম্;
শিঙ্গা বাজিছে ভোঁ ভোঁ ভোঁ ভম্ ভম্ ভম্॥
শিরে করিছে গঙ্গা কল্ কল্ কল্, চরণ চাপেতে ধরা টল্ টল্ টল্,
মৃদঙ্গ ধরে তাল তাথম্ তাথম্॥
ডিমি ডিমি ডিমি ডিমি ডমরু বাজে, ফন্ ফন্ ফন্ ফন্ ফণী গরজে,
নাদ উঠিছে সোঽহং সোঽহং॥
—স্বামী তপানন্দ
↑ Contents
যোগী হে, যোগী হে
আলাহিয়া—একতাল*
যোগী হে, যোগী হে, কে তুমি হৃদি আসনে।
বিভূতি-ভূষিত শুভ্র দেহ, নাচিছ দিক্-বসনে॥
মহা আনন্দে পুলক কায়, গঙ্গা উথলি উছলি ধায়,
ভালে শিশু-শশী হাসিয়া চায়, জটাজুট ছায় গগনে ॥
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
* স্বরবিতান—২০
↑ Contents
বিশ্বেশ্বর বিশ্বপাবন
ভীমপলশ্রী—একতাল
বিশ্বেশ্বর বিশ্বপাবন ভব ভব-ভয়-ভঞ্জন,
মৃত্যুঞ্জয় মদন-দমন, মরণ-জনম-নিবারণ॥
চরণ সরোজে নবারুণ ছটা, তাহে বিল্বদল চন্দনের ছিটা,
শার্দূল ছালে কটিতট আঁটা, যোগীজন-মনোমোহন॥
গলে হাড়মালা দল দল দোলে, বব বব বম্ বাজে ঘন গালে,
বাজায়ে ডমরু নাচে তালে তালে, নাচে সাথে ভূত অগণন॥
পন্নগভূষা পিনাকপাণি, ঝলমল ভালে জ্বলে নিশামণি,
কুলু কুলু শিরে বহে মন্দাকিনী, ঢুলু ঢুলু প্রেমে দুনয়ন॥
সৃষ্টিলয়কারী জগৎ পিতা, জ্ঞানময় প্রেম ভকতিদাতা,
এ দীন সন্তানে ভুলে আছ কোথা, নিজ গুণে দাও দরশন।
—স্বামী তপানন্দ
↑ Contents
জয় শিব শঙ্কর হর ত্রিপুরারি
কেদারা—তিনতাল*
জয় শিব শঙ্কর হর ত্রিপুরারি, পাশী পশুপতি পিনাকধারী।
শিরে জটাজুট, কণ্ঠে কালকূট, সাধক-জন-গণ-মানস-বিহারী॥
ত্রিলোকপালক ত্রিলোকনাশক, পরাৎপর প্রভু মোক্ষবিধায়ক।
করুণা নয়নে হেরো ভকত জনে, লয়েছি শরণ চরণে তোমারি॥
—গিরিশচন্দ্র ঘোষ
* স্বরলিপি : সাধন সঙ্গীত/ আনন্দলহরী
↑ Contents
জয় পরমেশ্বর পরম ভিখারী
কেদারা—তিনতাল
জয় পরমেশ্বর পরম ভিখারী, কল্পমেরু গুরু যোগ আচারী।
তরুতল আলয়, বসন দিশাচয়, ভীত-নিরাশ্রয়-ভবভয়হারী।
হর করুণাকর বরদাভয়কর, মদন-মান-হর শিব শুভকারী ৷৷
—গিরিশচন্দ্র ঘোষ
↑ Contents
‘শিব শিব’ বল জীব
কেদারা—ঝাঁপতাল
‘শিব শিব’ বল জীব, ঘুচিবে অশিব সব,
শিব নাম ভরসা করি বিশ্ব পালেন কেশব।
বিরিঞ্চি করেন সৃষ্টি, শিব পদে রাখি দৃষ্টি,
কালচক্র গ্রহ রিষ্টি, শিব নামে পরাভব ॥
শিব এ বিশ্বের সার, জ্ঞান-গুরু বিশ্বাধার,
শিব বিনা নাহি আর, নিস্তার-কারণ,
অতএব শিব নাম, গান কর অবিরাম,
পাইবে পরম ধাম নামের গুণ কি কব ৷৷
—অজ্ঞাত
↑ Contents
গঙ্গাধর মহাদেব শুন পুকার মেরী
ঝিঁঝিট—দাদরা
গঙ্গাধর মহাদেব শুন পুকার মেরী।
দীজিয়ে বম বেগী নাথ কাহে করত দেরী ॥
চন্দ্ৰ ভাল কৃপা নিহাল, মেটো ভ্ৰম মোহজাল।
কাশীমে বসাও নাথ, কৃপা দৃষ্টি ফেরি ॥
দেবীকে সহায় সদা, সেবক তেরো কহায় ।
আনন্দবন বাস আশ যাচত করজোড়ী॥
—দেবীসহায়
↑ Contents
শঙ্কর মহাদেব দেব সেবক সুর জাকে
ঝিঁঝিট—একতাল
শঙ্কর মহাদেব দেব সেবক সুর জাকে।
ভস্ম অঙ্গ শীষ গঙ্গ বয়ল বাহন অতি প্রচণ্ড
গৌরী অরধঙ্গ সঙ্গ রঙ্গ ভঙ্গ জাকে।
লপটি ঝপটি জাও ব্যাল ঔর ওঢ় বাঘছাল,
রুণ্ডমাল চন্দভাল দৃগ বিশাল জাকে।
পাবত নহী পার শেষ নারদ সারদ সুরেশ,
গাবত গুণীগণ গণেশ ব্রহ্মাদিক জাকে।
ধ্যাবত দ্বিজ তুলসীদাস গৌরী-পতি চরণ আশ
ঐসো হর ভেখ ধরহী ভকতি হেতু জাকে॥
—তুসলীদাস
↑ Contents
হর শঙ্কর, শশী-শেখর, পিনাকী ত্রিপুরারে
ঝিঁঝিট—একতাল
হর শঙ্কর, শশী-শেখর, পিনাকী ত্রিপুরারে।
বিভূতিভূষণ, দিক্বসন, জাহ্নবী জটাভারে॥
অনল ভালে মদন-দমন, তরুণ-অরুণ-কিরণ-নয়ন,
নীলকণ্ঠ রজত বরণ, মণ্ডিত ফণীহারে।
উক্ষারূঢ় গরল ভক্ষ্য, অক্ষমালা-শোভিত বক্ষ,
ভিক্ষা লক্ষ্য, পিশাচ পক্ষ, রক্ষক ভবপারে ॥
—গিরিশচন্দ্র ঘোষ
↑ Contents
বেল পাতা নেয় মাথা পেতে
মিশ্র ছায়ানট—কাহারবা*
বেল পাতা নেয় মাথা পেতে, গাল বাজালে হয় খুশি।
মান অপমান সমান তো তার, তার কাছে নয় কেউ দোষী॥
এত তো ভুলে থাকে, নেচে আসে যে তায় ডাকে,
‘বম ভোলা’ বোল ব’লে কেন লও না যেচে যা খুশি;
যা ফেলে দেছে, নেয় সে বেছে, ভাল মন্দ নাই হুঁশ্ই॥
—গিরিশচন্দ্র ঘোষ
* স্বরলিপি: আনন্দ লহরী
↑ Contents
বম্ বম্ বম্ হর হর
মালকোষ—একতাল
বম্ বম্ বম্ হর হর।
বৃষভবাহন বিশালবদন ত্রিপুরনাশন ঈশ্বর॥
পাদ-কমলে শোভে শতদল, ত্রিনয়নে আছে শোভিত ভাল,
গলে বিলম্বিত হাড়মাল, জয় জয় শিব শঙ্কর॥
—গিরিশচন্দ্র ঘোষ
↑ Contents
শিব শঙ্কর বম্ বম্ ভোলা
খাম্বাজ—কাওয়ালী
শিব শঙ্কর বম্ বম্ ভোলা
বিভূতিভূষণ, দেব ত্রিলোচন, বৃষরাজরাজে বামে গিরিবালা;
রাজরাজেশ্বর দেবাদিদেব হর ঢুঁড়ে শ্মশান ঘোরে যোগীরাজবর
জটাজুটধর, বাস বাঘাম্বর, করে শূল, গলে হাড়মালা॥
প্রেমানন চারু, ভাবে ঢল ঢল, আঁখি ছল ছল, ভকতবৎসল,
করুণা নয়নে, হেরি ভকতজনে, হরিছে ভবেশ ভবজ্বালা॥
—গিরিশচন্দ্র ঘোষ
↑ Contents
শিব ঘুচাও আমার মনের ভ্ৰম
বাউল—আড়খেমটা
শিব ঘুচাও আমার মনের ভ্ৰম, বম্ বম্ বম্, ববম্ বম্ ।
(আমি) তোমা বিনে হয়ে আছি বাঁশ-বাগানের কানা ডোম ॥
শিরে ঢালি গঙ্গাবারি, খুশি হবেন ত্রিপুরারি,
ঘুচিবে ভববারি, ঘোড়ার ডিম করবে যম ॥
—গিরিশচন্দ্র ঘোষ
↑ Contents
তুআ চরণ-কমল-পর মন ভ্রমর
আশোয়ারী—কাওয়ালী
তুআ চরণ-কমল-পর মন ভ্রমর, ভাল-ভানু! জ্যোঁ চন্দ্র চকোর।
জিমি চাতক বুঁদ স্বাতিকো, জলজ ভান ঘন মৌর॥
জৈসে কুমুদিনী হিমকর চাহত, চকই চাহত-ভোর;
জ্ঞান ধ্যান তুআ ভক্তি চাহত হ্যায়, শ্রীআনন্দকিশোর॥
—আনন্দকিশোর
↑ Contents
আজু মম ভবন যোগী আওয়ে
ভৈরব—[কাওয়ালী] চৌতাল*
আজু মম ভবন যোগী আওয়ে।
কর লিয়ে বীণা হরিগুণ গাওয়ে।
অঙ্গ বভূত কাণমে কুণ্ডল,
শীষ জটাপর ফণীগণ শোহে॥
-অজ্ঞাত
↑ Contents
হর হর হর বম্ বম্ বম্
রামকেলী—দাদরা
হর হর হর বম্ বম্ বম্ বামে শোভে গৌরী।
বাবা পাগলা ভোলা ত্রিপুরারি॥
আনিগে জবা তুলে, মাকে সাজাব ফুলে
বাবাকে পূজবো দু'টো বিল্বদলে;
বাবা ভক্তিতে ভোলে—মা ভক্ত নেহারে॥
—গিরিশচন্দ্র ঘোষ
↑ Contents
জয় গঙ্গাধর শশাঙ্ক শেখর
রামকেলী—কাওয়ালী
জয় গঙ্গাধর শশাঙ্ক শেখর ত্রিপুর অসুর বিনাশ কারণ,
রজত ভূধর বরবপু-ধর বিভূতি লেপিত কিবা সুশোভন;
ভূজঙ্গ-ভূষণ জটা-বিভূষণ, পবিত্র জাহ্নবী শিরে রাজমান॥
বাস বাঘছাল গলে হাড়-মাল, কপালে কুণ্ডল জ্বলে হুতাশন;
হর দিগম্বর শিঙ্গা করে ধর, শ্মশান নিবাসী ডমরু-বাদন॥
—অজ্ঞাত
↑ Contents
হর শশাঙ্ক শেখর
আশা-ভৈরবী—কাওয়ালী
হর শশাঙ্ক শেখর, দয়া কর, বিভূতি ভূষিত কলেবর।
তরঙ্গ ভঙ্গিত ভূজঙ্গ রঙ্গিত কপর্দ বর্ধিত জটাধর;
গণেশ শৈশব বিভূতি বৈভব, ভবেশ ভৈরব দিগম্বর ॥
ভূজঙ্গ কুণ্ডল পিশাচ মণ্ডল মহাকুতূহল মহেশ্বর,
রাজ প্রভায়ত পদাম্বুজানত সুদীন ভারত শুভঙ্কর ॥
—ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর
↑ Contents
ভূতনাথ ভব ভীম বিভোলা
ইমন-ভূপালী—কাওয়ালী
ভূতনাথ ভব ভীম বিভোলা, বিভূতিভূষণ ত্রিশূলধারী।
ভূজঙ্গ ভৈরব বিশাল ভীষণ, ঈশান শঙ্কর শ্মশানচারী।
বামদেব শিতিকণ্ঠ উমাপতি, ধূর্জটি পশুপতি রুদ্র পিনাকী,
মহাদেব মৃড় শম্ভু বৃষধ্বজ, ব্যোমকেশ ত্র্যম্বক ত্রিপুরারি॥
স্থাণু কপর্দী শিব পরমেশ্বর, মৃত্যুঞ্জয় গঙ্গাধর স্মরহর,
পঞ্চবক্ত্র হর শশাঙ্কশেখর, কৃত্তিবাস কৈলাসবিহারী॥
—গিরিশচন্দ্র ঘোষ
↑ Contents
মৃড় চন্দ্রচূড় হর ভোলা
ভৈরব—কাওয়ালী
মৃড় চন্দ্রচূড় হর ভোলা।
ভূতনাথ ভব, বোম্ বব বোম্ বব নিনাদ ভৈরব, অম্বু উথলা॥
মন্মথ-শাসন, নয়ন হুতাশন, ফণীমাল গলে দলদল দোলা॥
তমাল-নিন্দিত কণ্ঠে হলাহল, জলদজাল জিনি জটাজূটদল,
কল কল ঢল ঢল গঙ্গা বিলোলা॥
—গিরিশচন্দ্র ঘোষ
↑ Contents
হর হর শঙ্কর, শম্ভু শুভঙ্কর
মল্লার মিশ্র — কাওয়ালী
হর হর শঙ্কর, শম্ভু শুভঙ্কর, ধূর্জ্জটি স্মর-হর, পিনাকধারী।
চলে প্রমথনাথ, ভূত ভৈরব সাথ, ভাবে ভোলা ভাঙ্গবিভোলা, শ্মশানচারী॥
ববম্ ববম্ বম্ বাজিছে বিষাণ ভাল, হর হর শঙ্কর গাহিছে প্রমথ পাল,
সঙ্গে বেতাল তাল, রঙ্গে দিতেছে তাল, জটাজালে কল কল জাহ্নবী বারি॥
সোহং সোহং রবে ভৈরব ডমরু বাজে, শিব শিব শঙ্কর, গরজে ভুজগরাজে,
রাজ রাজাধিরাজে, শম্ভু যোগীর সাজে, যোগেশ্বর দিগম্বর, মন্মথ-বারী॥
—অজ্ঞাত
↑ Contents
তুঁহি জগত গুরু তুঁহি পরমেশ্বর
ইমন-কল্যাণ—ঝাঁপতাল
তুঁহি জগত গুরু তুঁহি পরমেশ্বর,
আদি অনাদি পিনাকধর শঙ্কর।
তুঁহি ভরণ পোষণ কর, সবকো তারণ,
সৃজন প্রলয় তুসে হোয়ে, বিশ্বেশ্বর॥
ভাল চন্দ রুণ্ড মাল শোভিত
বৃষভ বাহন ঔর জগ অঘ হর।
জটাজূট মাঝ গঙ্গা বিরাজিত
ধন্য ধন্য মহাদেব তুঁহি যোগেশ্বর॥
—গোপেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায়
↑ Contents
গরজে গম্ভীর গগনে কম্বু
মালকোষ—তেওরা
গরজে গম্ভীর গগনে কম্বু।
নাচিছে সুন্দর নাচে স্বয়ম্ভু।
সে-নাচ হিল্লোলে জটা আবর্তনে
সাগর ছুটে আসে গগন-প্রাঙ্গণে।
আকাশে শূল হানি, শোনাও নব বাণী,
তরাসে কাঁপে প্রাণী, প্ৰসীদ শম্ভু৷৷
ললাট-শশী টলি জটায় পড়ে ঢলি,
সে-শশী-চমকে গো বিজুলি ওঠে ঝলি।
ঝাঁপে নীলাঞ্চলে মুখ দিগঙ্গনা,
মুরচ্ছে ভয়ভীতা নিশি নিরঞ্জনা
আঁধারে পথ-হারা চাতকী কেঁদে সারা,
যাচিছে বারিধারা ধরা নিরম্বু৷৷
—কাজী নজরুল ইসলাম
↑ Contents
হর হর শঙ্কর, শশাঙ্কশেখর
ইমন ভূপালী—ঢিমে তেতালা
হর হর শঙ্কর, শশাঙ্কশেখর, ভবধব ভোলা, শিব মহেশ্বর।
ফণীন্দ্র ভূষণ, নগেন্দ্র-শাসন, উপেন্দ্র-মোহন, যোগী দিগম্বর॥
অনাদি অশেষ, পরেশ মহেশ, শেষ বিষপানে অজর অমর,
বববম্ বববম্, গাল বাদ্যকর, দৃমিকি দৃমিকি দৃমি, বাজাবে ডম্বুর;
‘তাতাথৈ’ ‘তাতাথৈ’ তালে নাচে মহেশ্বর,
‘অগড়, বস্’ ‘অগড় বস্’ সদা বাজে তম্বুর॥
—অজ্ঞাত
↑ Contents
সুমর মন শঙ্কর গিরিজাপতি হর
ছায়ানট—ঝাঁপতাল
সুমর মন শঙ্কর গিরিজাপতি হর,
জাকে জটাজুটমে পাবনী গঙ্গা।
গজ চর্ম অম্বর আসন বাঘাম্বর,
অব কোন রাজশ্রী বিষধর উমঙ্গ॥
ধরে শশী ভালে আউর লিয়ে রুণ্ডমালা,
নখসে ধূৰ্জ্জটী ভস্ম তন মন তরঙ্গ।
পূজে সুরাসুর পাবত সকল বর,
কর পুর রঙ্গ ঢঙ্গ লছমন উমঙ্গ॥
—গোপেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায়
↑ Contents
সদা শিব ভজমনা নিশদিন
ইমন—তিনতাল
সদা শিব ভজমনা নিশদিন।
রিধ-সিধ-দায়ক, বিনত সহায়ক, নাহক ভটকত, ফিরত অনবরত।
শংকর ভোলা পারবতী রমণ,
সিত তন-পৌণগ-ভূষণ, অনুপম কাহে ন সুমরত, ভটকত তুঁ ফিরত।
—অজ্ঞাত
↑ Contents
অব শিব পার করো মেরী নৈয়া
আলাহিয়া-বিলাবল—তিনতাল*
অব শিব পার করো মেরী নৈয়া।
অউ ঘট ঘাট অগাধ জলধি, বল্লী লাগে ন খেওইয়া॥
বারি বরোবর বারি রহো হ্যয়, তা’ পর অতি পূরবৈয়া।
থর থরওয়ত কম্পত হিয়া মেরো, শিব কি দেত দুহৈয়া।
দেবী সহায় প্রভাত পুকারত, শিব পিতু গিরিজা মৈয়া॥
—দেবী সহায়
* স্বরলিপি: সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
যোগী শিব শঙ্কর ভোলা দিগম্বর
আড়ানা—ঝাঁপতাল
যোগী শিব শঙ্কর ভোলা দিগম্বর,
ত্রিলোচন দেবাদি দেব ধ্যানে সদা মগন॥
চিরশ্মশানচারী অনাদি সমাধি-ধারী,
স্তব্ধ ভয়ে চরণে তাঁরি প্রণতি করে গগন॥
ত্রিশূল বিষাণ রহে পড়িয়া পাশে,
ললাটে শশী নাহি হাসে;
গঙ্গা তরঙ্গ হারা ভীতভুবন৷
ত্রাহি হে শম্ভু শিব, ত্রাসে কাঁপে জড় ও জীব
ভোল এ ভীষণ তপ গাহিছে হে সঘন॥
—কাজী নজরুল ইসলাম
↑ Contents
নেচেছে প্রলয়-নাচে, হে নটরাজ! নটরাজ!
মেঘমল্লার—সুরফাক্তা
নেচেছে প্রলয়-নাচে, হে নটরাজ! নটরাজ!
তাথৈ তাথৈ বাজে গাল ববম্ ববম্, হাতে বাজে ডমরু ঐ।
অতীতের হাড়মালা বিরাটের বুকে দোলে,
নাচনের তালে জটা সে জটিল বাঁধ খোলে;
আজি এই মুক্তি হারার নয়নের ভীতি ভেঙেছে॥
নয়নের বহ্নিশিখা অসহায় সৃষ্টি নাশি,
ললাটে আশার আলো ঐ শিশু-শশীর হাসি;
প্রলয় লীলার মাঝখানেতে ডাকে মাভৈঃ, ডাকে মাভৈঃ, মা ভৈঃ॥
—অজ্ঞাত
↑ Contents
প্রলয়-নাচন নাচলে যখন আপন ভুলে
মিশ্ৰ—একতাল*
প্রলয়-নাচন নাচলে যখন আপন ভুলে’
হে নটরাজ, জটার বাঁধন পড়ল খুলে॥
জাহ্নবী তাই মুক্তধারায়, উন্মাদিনী দিশা হারায়,
সঙ্গীতে তার তরঙ্গদল উঠল দুলে’॥
রবির আলো সাড়া দিল আকাশ পারে,
শুনিয়ে দিল অভয়বাণী ঘর-ছাড়ারে।
আপন স্রোতে আপনি মাতে, সাথী হোল আপন সাথে,
সব-হারা সে সব পেল তার কূলে কূলে॥
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
* স্বরবিতান—৫৭
↑ Contents
জয় শিবওঁকারা, হরশিব ওঁকারা
(আরাত্রিক ভজন) কার্যা
জয় শিবওঁকারা, হরশিব ওঁকারা (ধ্রুবপদ)
ব্রহ্মা-বিষ্ণু-সদাশিব, অর্দ্ধাঙ্গী ধারা॥
চতুরানন, গজানন, পঞ্চাননরাজে;
হংসাসন গরুড়াসন বৃষবাহন সাজে॥
ভুজচার, চতুর্ভুজ, দশভুজ তে সোহে;
তীনোঁ রূপ নিরখতা ত্ৰিভুবন জন মোহে॥
অক্ষমালা, বনমালা, ব্যালমালাধারী;
চন্দনমৃগমদ সোহে, ভোলে শুভকারী॥
শ্বেতাম্বর, পীতাম্বর, বাঘাম্বর অঙ্গে;
ব্রহ্মাদিক সনকাদিক প্রেতাদিক সঙ্গে॥
করকেবীচ কমণ্ডল, চক্র-ত্রিশূলধরতা;
জগকর্তা, সংহর্তা, জগপালন করতা॥
ব্রহ্মা-বিষ্ণু-সদাশিব জানত অবিবেকা;
প্রণব সবকে মধ্যে তীনোঁ হি একা॥
ত্রিগুণ আরতি শিবকী, জো কোই গাবে;
সো পাবত শিব-আনন্দ সুখ-সম্পতি পাবে॥
—অজ্ঞাত
↑ Contents
শিব-বর্ণনা
ঝুমুর-সঙ্গীত
ঝুমুর বলিতে আমরা সাধারণত সাঁওতাল, বাউরি প্রভৃতি নিম্নশ্রেণির লোকদিগের দ্বারা গীত অশ্লীল সঙ্গীতই বুঝিতাম। কিন্তু শ্রীশ্রী বৈদ্যনাথের প্রধান পাণ্ডা সদুপাধ্যায় শ্রীশ্রীভবপ্রীতানন্দ ওঝা মহাশয় দেবদেবী-বিষয়ক ও আধ্যাত্মিক-ভাব-সম্বলিত বহু ভক্তি রসাত্মক ঝুমুর গান রচনা ও প্রচার করিয়া ইহাকে উচ্চাঙ্গের ভজন-সঙ্গীতে পরিণত করিয়াছেন। আমরা তাঁহার অনুমতিক্রমে তৎপ্রণীত “বৃহৎ ঝুমুর রসমঞ্জরী” নামক পুস্তক হইতে একটি গান সংগ্রহ করিয়া দিলাম।
শিব-বর্ণনা
ভাদ্রমাসের ঝুমুর
বন্দি শিব ত্রিদশেশ ত্রিলোচন অম্বিকেশ
ত্রিলোকেশ ত্রিলোকে ত্রিতাপবারী
হর ত্রিপুরারি! ত্রিনেত্র ত্রিগুণ হে ত্রিশূলধারী॥ (রং)
শঙ্কর শম্ভু সুরেশ সদানন্দ ব্যোমকেশ
ভূতেশ ভৈরব ভীম ভয়হারী॥ (রং)
বৃষকেতু পঞ্চানন পাৰ্ব্বতীর প্রাণধন
পতিতপাবন শম্ভু শুভকারী॥ (রং)
গঙ্গাধর গণধাতা তুমি হে গণেশ-পিতা
তুমি ভবপ্রীতার হৃদিবিহারী॥ (রং)
—ভবপ্রীতানন্দ ওঝা
↑ Contents
শ্ৰীশ্ৰী মাতৃ সঙ্গীত
সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যে শিবে, সর্বার্থসাধিকে
সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যে, শিবে, সর্বার্থসাধিকে।
শরণ্যে, ত্র্যম্বকে, গৌরি, নারায়ণি নমােহস্তু তে॥
সৃষ্টিস্থিতিবিনাশানাং শক্তিভূতে সনাতনি।
গুণাশ্রয়ে, গুণময়ে, নারায়ণি নমােহস্তু তে॥
শরণাগত-দীনার্ত-পরিত্রাণ পরায়ণে।
সর্বস্যার্তিহরে দেবি নারায়ণি নমােহস্তুতে॥
জয় নারায়ণি নমােহস্তু তে, জয় নারায়ণি নমােহস্তু তে।
জয় নারায়ণি নমােহস্তু তে, জয় নারায়ণি নমােহস্তু তে॥
—চণ্ডী
↑ Contents
ত্বং অপারা বিশ্বসারা
জয়জয়ন্তী—চৌতালা
ত্বং অপারা, বিশ্বসারা, বিশ্বাধারা বিশ্বরঞ্জিনী;
সবর্ভূত-আত্মভূত, সর্ববিভূতি-প্রবিধায়িনী॥
ত্বং অনল ক্ষিতি-অনিল, ব্যোম-সলিল-সংরূপিণী;
তুমি অমেয়া মহেশজায়া, ভাে অভয়া ভয়বারিণি॥
বিরাজিতা শব-আসনে, কভু প্রমত্তা আসব পানে,
কভু যুক্তা শিব সনে, শিবে গাে শিবানি;
ওমা ত্রিগুণধারিণি, গুণাতীতা ত্রিনয়নি,
প্রেমিকের ত্রিতাপের তাপ সংহর হর-মােহিনি॥
—প্রেমিক
(মহেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য, আন্দুল কালীকীর্তন সমিতির প্রতিষ্ঠাতা)
↑ Contents
নীলবরণী নবীনা রমণী
খাম্বাজ-চৌতালা
নীলবরণী, নবীনা রমণী, নাগিনীজড়িত জটাবিভূষিণী;
নীল নলিনী জিনি ত্রিনয়নী, নিরখিলাম নিশানাথ-নিভাননী॥
নিরমল-নিশাকর-কপালিনী, নিরুপমা ভালে পঞ্চরেখাশ্রেণী,
নৃকর চারুকর-সুশােভিনী, লােলরসনা করালবদনী॥
নিতম্বে বেষ্টিত শার্দুলছাল, নীলপদ্ম করে, করেকরবাল,
নৃমুণ্ড-খর্পর অপর দ্বিকরে, লম্বােদরী লম্বােদর প্রসবিনী;
নিপতিত পতি শবরূপে পায়, নিগমে ইহার নিগূঢ় না পায়;
নিস্তার পাইতে শিবের উপায়, নিত্যসিদ্ধা তারা নগেন্দ্ৰনন্দিনী॥
—শিবচন্দ্র রায় (মহারাজ)
↑ Contents
এমা কালভয়বারিণী কপালিনী
দেশ মল্লার-তেওরা*
(এমা) কালভয়বারিণী কপালিনী, কালরূপিণী,
শম্ভুভামিনী, নিশুম্ভঘাতিনী, সমরবাসিনী, সুরবন্দিনী॥
পুর-হর-মনোমোহকারিণী, সত্যবাদিনী;
তত্ত্বদায়িনী, ত্ৰাসনাশিনী, ত্রাণকারিণী; তিমিরবরণী॥
ত্রিগুণধারিণী, ত্রিদেবজননী, ত্রিলোকেশী, তেজরূপিণী,
অন্নদায়িনী, অমরপালিনী, অসুরদলনী, আদিকারিণী,
আশুতোষ-হৃদিবিলাসিনী, আত্মরূপিণী॥
—আশুতোষ দেব
(সাতুবাবু)
* স্বরলিপিঃ সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
আহা মরি মরিরে কীরূপ মাধুরী ও বামা কে আসে
জয়জয়ন্তী-ধামার*
আহা মরি মরিরে, কীরূপ মাধুরী, ও বামা কে আসে
হাসিতে হাসিতে ঘনবরণী
বিবসনা নবীনা রমণী, এলায়ে পড়েছে বেণী,
চরণে নূপুর কটিতে কিঙ্কিণী, আসব-আবেশে লোহিত-লোচনী॥
(বামার) ভালে শিশুশশী, সীমন্তে সিন্দুর, পীযূষপূর্ণ পীন পয়োধর,
অসিমুণ্ডধরা বরাভয়া মুণ্ডমালিনী;
সাধক হৃদয় ভাবেতে ধন্য, নিরূপমা নারী নহে সামান্য,
ত্রিতাপহারিণী শিবের কামিনী বিশ্বপ্রসবিনী ভুবনমোহিনী॥
-সাধক
* স্বরলিপিঃ সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
জগৎ-জননী জাগিয়াছে আজি
খাম্বাজ—তালফের
(চৌতাল, সঞ্চারী-ধামার)
জগৎ-জননী জাগিয়াছে আজি জয় মা তারিণী গাও রে,
বাজাও ডঙ্কা নাহিকো শঙ্কা ঘুচে গেছে ভবভয় রে॥
নেহারি দানব-নিপীড়িত ধরা, দানব-দলনী পাগলের পারা,
মুখে অট্টহাস ত্রিভুবন-ত্রাস বুঝি বা সৃষ্টি যায় রে॥
ডাকিনী যোগিনী নাচিছে সঙ্গে, গ্রাসিছে দানব কত না রঙ্গে,
রুধির লেগেছে সকল অঙ্গে পদভরে ধরা টলে রে।
দানব নাশিতে অসিমুণ্ডধরা, ভকতের তরে বরাভয়করা,
রুদ্র মধুরে অপরূপ তারা, হেরিলে প্রাণ জুড়ায় রে॥
—স্বামী চণ্ডিকানন্দ
↑ Contents
তুমি শ্যামা হররমা
জয়জয়ন্তী—চৌতাল
তুমি শ্যামা হররমা উমা রমা মনোমোহিনী,
তুমি পরা বিশ্বাধারা বরাননী বরবর্ণিনী।
যোগীবর হৃদয়কন্দর জ্ঞানভাস্কর প্রবিধায়িনী
সতী সাবিত্রী জগদ্ধাত্রী, মুক্তিদাত্রী ভোগদায়িনী॥
বিবসনী তুমি কৃপাণী, গলদ্রুধির শিরোমালিনী,
বরাভয়া ত্রিনয়নী, ত্রিবর্গদায়িনী;
ওমা ভূধরনন্দিনী, দনুজ-দল-দলনি,
প্রেমিকের ভব ভয় হর হর মা হররানি॥
—প্রেমিক
↑ Contents
বামা কেরে এলো চিকুরে
ইমন-কল্যাণ—ধামার*
বামা কেরে এলো চিকুরে!
বিহরে আনন্দময়ী শবহৃদি’ পরে॥
বসন নাহিক গায়, পদ্মগন্ধে অলি ধায়,
চলে যেতে ঢলে পড়ে আসব ভরে॥
যে ঠেকেছে রাঙ্গা পায়, হত-দিতি-সুতচয়,
স্পর্শমাত্র শিব হয় সমর মাঝারে;
কমলাকান্তের ভাষী, সর্বনাশি, ধরে অসি
করিলি সব কাশীবাসী জনমের তরে॥
—কমলাকান্ত চক্রবর্তী
* স্বরলিপি : সাধন সঙ্গীত
1
↑ Contents
কেরে বামা ভুবনমোহিনী
তিলক কামোদ—–সুরফাক্তা
কেরে বামা ভুবনমোহিনী, করালিনী রঙ্গিণী,
রণ-মাঝারে আলো করি, কিবা বিহরে নিবিড় নীরদবরণী।
বিকশিত-চারু-দশনা, ঘোর-লোহিত-লোচনা, অট্টহাসি-আননা,
বিবসনা শব-আসনা দানব-দৃপ্ত-দলনী॥
ভীম মধুর কান্তি, নাশে মানস ভ্রান্তি, দরশনে চিরশান্তি,
যাচে হৃদয় আকুল অভয় শ্রীপদতরণী॥
—নীরদ রঞ্জন মজুমদার
↑ Contents
কে গো আমার মা কি এলি
প্রসাদী, লুম্-ঝিঁঝিট—একতালা
কে গো আমার মা কি এলি।
আয় মা মনের কথা বলি (ওমা শোন মা, দুটি কথা)॥
এত দুঃখ দিয়ে শ্যামা যদি দয়া প্রকাশিলি,
তবে মা হয়ে মায়ের মত ছেলের কথা শোন্ মা কালী॥
দাঁড়া গো মা হৃৎকমলে, পূজি মানসকুসুম তুলি,
ভক্তিচন্দন মাখাইয়ে পদে দিব পুষ্পাঞ্জলি॥
করিব সুমহৎ হোম চিৎকুণ্ডে অনল জ্বালি,
পূর্ণাহুতি দিব তাহে ‘জয় কালী, জয় কালী’ বলি॥
প্রাণান্ত এ দক্ষিণান্ত, কর্মফল মা তুই সকলি,
মায়ের ছেলে প্রেমিক এখন, যার কাছে কাল কৃতাঞ্জলি॥
—প্রেমিক
↑ Contents
কে এল এলোকেশে
মিশ্র বাহার চৌতাল*
কে এল এলোকেশে ন্যাংটা বেশে রণেতে,
নাচে শবে, নাশে সবে, শিবা সব সঙ্গেতে
অধরে রুধিরধারা, সর্বাঙ্গ শোণিত ভরা,
শাণিত কৃপাণধরা, কাঁপে ধরা ভয়েতে॥
শব দোলে কর্ণমূলে, নরশির শোভে গলে,
অনল জ্বলিছে ভালে, কালফণী কাঁধেতে;
প্রেমিক বলে ওমা কালি, ভূভার হরিলি খালি,
করলিনে ভার আমার খালি, পারি না ভার বহিতে।
—প্রেমিক
* স্বরলিপি : দিব্যগীতি
↑ Contents
আমার অন্তরে আনন্দময়ী
জংলা—একতালা
আমার অন্তরে আনন্দময়ী সদা করিতেছেন কেলি।
আমি' যেভাবে সেভাবে থাকি, নামটি কভু নাহি ভুলি।
আবার দু-আঁখি মুদিলে দেখি, অন্তরেতে মুণ্ডমালী॥
বিষয়বুদ্ধি হইল হত, আবার পাগল বোল বলে সকলি৷
আমায় যা বলে তা বলুক তারা, অন্তে যেন পাই পাগলী॥
শ্রীরামপ্রসাদ বলে, মা বিরাজে শতদলে,
আমি শরণ নিলাম চরণ তলে অন্তে না ফেলিও ঠেলি॥
—রামপ্রসাদ সেন
↑ Contents
দীনতারিণী দূরিতহারিণী
খাম্বাজ—চৌতাল
দীনতারিণী দূরিতহারিণী, সত্ত্বরজস্তম ত্রিগুণধারিণী,
সৃজন-পালন-নিধন-কারিণী, সগুণা নির্গুণা সর্বস্বরূপিণী॥
ত্বং হি কালী তারা পরমাপ্রকৃতি, ত্বং হি মীন কূর্ম বরাহ প্রভৃতি,
ত্বং হি স্থল জল অনল অনিল, ত্বং হি ব্যোম ব্যোমকেশ-প্রসবিনী॥
সাংখ্য পাতঞ্জল মীমাংসক ন্যায়, তন্ন তন্ন জ্ঞানে ধ্যানে সদা ধ্যায়,
বৈশেষিক বেদান্ত, ভ্ৰমে হ’য়ে ভ্রান্ত,
তথাপি অদ্যাপি জানিতে পারেনি॥
নিরুপাধি আদিঅন্তরহিত, করিতে সাধক জনার হিত,
গণেশাদি পঞ্চরূপে কালবঞ্চ, ভবভয়হরা ত্রিকালবর্তিনী॥
সাকার সাধকে তুমি যে সাকার, নিরাকার উপাসকে নিরাকার,
কেহ কেহ কয় ব্রহ্মা জ্যোতির্ময়, সেই তুমি নগতনয়া জননী;
যে অবধি যার অভিসন্ধি হয়, সে অবধি সে পরব্রহ্ম কয়,
তৎপরে তুরীয়, অনির্বচনীয় সকলি মা তারা ত্রিলোকব্যাপিনী॥
—শিবচন্দ্র রায় (মহারাজ)
↑ Contents
সিংহচারী খপথ ধাওয়ে
ইমন কল্যাণ—তেওরা
সিংহচারী খপথ ধাওয়ে, অসুর-সুরগণ গগনে ছাওয়ে
রক্ত-বীজ-মারী করে রুধির ধারে॥
ইন্দ্র চন্দ্র করত ধ্যান, ভয়ে ধরণী কম্পমান,
আওয়ে হরি শঙ্খ নাদে সকল চরণ পাওয়ে॥
ব্রহ্মা হরি হর ধরণী অম্বর, সিদ্ধ কিন্নর সজল জলধর,
জ্যোতিঃ সঞ্চারে॥
—অজ্ঞাত
↑ Contents
ও মা কালী চিরকালি সঙ সাজালি এ সংসারে
পরজ বাহার—ঝাঁপতাল
ও মা কালী চিরকালি সঙ সাজালি এ সংসারে।
এ সংসারে নাইকো মজা, সাজা পাই মা অন্তরে॥
(ওমা) কভু ভূতলে অনিলে, কভু ব্যোম রসাতলে,
কভু বারিধি-সলিলে সাজাও নানা আকারে॥
(আমি) ভ্ৰমিয়া অশেষ দেশ ধরিলাম অশেষ বেশ,
তবুও না হোল শেষ, বলিহারি মা তোমারে॥
প্রেমিক বলে আমার মন যে পাজী, তাইতো প্রলোভনে মজি,
নইলে তোমার এ কারসাজি খাটতো কি মা বারেবারে॥
—প্রেমিক
↑ Contents
ঢলিয়ে ঢলিয়ে কে আসে
বাগেশ্রী-ধামার*
ঢলিয়ে ঢলিয়ে কে আসে, গলিত চিকুর আসব-আবেশে,
বামা রণে দ্রুতগতি চলে, দ’লে দানব-দলে,
ধরে করতলে, গজ গরাসে;
কালীর শরীরে রুধির শোভিছে, কালিন্দীর জলে কিংশুক ভাসে,
নীলকমল শ্রীমুখমণ্ডল, অর্ধচন্দ্র ভালে প্রকাশে॥
নীলকান্ত মণি নিতান্ত, নখরনিকর তিমির নাশে,
রূপের ছটায় তড়িত ঘটায়, ঘন ঘোর রব উঠে আকাশে,
দিতিসুতচয়, সবার হৃদয়, থর থর থর কাঁপে হুতাশে।
(মাগো) কোপ করো দূর, চলো নিজপুর, নিবেদে শ্রীরামপ্রসাদ দাসে॥
—রামপ্রসাদ সেন
* স্বরলিপি: সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
দ্যাখনা চেয়ে ন্যাংটা মেয়ে করতেছে কি কারখানা
বাহার—ধামার
দ্যাখনা চেয়ে ন্যাংটা মেয়ে, করতেছে কি কারখানা,
হাস্য করে, আস্যে পোরে, মত্ত মাতঙ্গ সেনা॥
আসব পানে মত্ত মন রোষে আরক্ত নয়ন,
নৃত্য করে অনুক্ষণ, সঙ্গে পিশাচ দানা॥
রুধির ধরে উদরে, কাঁপে ধরা পদ ভরে,
হুহুঙ্কার রব করে, সদাই লোল রসনা;
(যত) ভীষণ আকার ধর, ভীত নহে এ অন্তর,
অন্তে হ’য়ো না অন্তর প্রেমিকের এই বাসনা॥
–প্রেমিক
↑ Contents
সে মা কি এমনি মায়ের মেয়ে
জংলা—একতাল
সে (মা) কি এমনি মায়ের মেয়ে।
যার নাম জপিয়ে মহেশ বাঁচেন হলাহল খাইয়ে॥
সৃষ্টি স্থিতি প্রলয় যার কটাক্ষে হেরিয়ে।
সে যে অনন্ত ব্রহ্মাণ্ড রাখে উদরে পুরিয়ে॥
যে চরণে শরণ লয়ে দেবতা বাঁচেন দায়ে।
দেবের দেব মহাদেব যাঁর চরণে লুটায়ে॥
প্রসাদ বলে রণে চলে রণময়ী হয়ে।
শুম্ভ নিশুম্ভকে বধে হুঙ্কার ছাড়িয়ে॥
—রামপ্রসাদ সেন
↑ Contents
বড় ধূম লেগেছে, হৃদিকমলে
সুরট-মল্লার—তেওড়া
বড় ধূম লেগেছে, হৃদিকমলে।
মজা দেখিছে আমার মন-পাগলে॥
হতেছে পাগলের মেলা ক্ষেপাতে-ক্ষেপিতে মিলে,
আনন্দেতে সদানন্দে আনন্দময়ী পড়ছে ঢলে॥
দেখে অবাক লেগেছে তাক্ ইন্দ্রিয় আর রিপুদলে,
পেয়ে সুযোগ এই গোলযোগ জ্ঞানের কপাট গেছে খুলে।
প্রেমিক পাগল বলে সকল তাবলে আমার মন কি টলে,
(যার) পিতামাতা বদ্ধ পাগল, ভাল হয় কি তাদের ছেলে॥
শোন্ মা তারা ভূভারহরা এই বেলা মা রাখছি বলে
(যখন) ভাসব’ জলে অন্তকালে তনয় ব’লে করিস কোলে॥
—প্রেমিক
↑ Contents
জগতজননী আমায় তরাও গো মা তারা
আড়ানা——চৌতাল*
জগতজননী, আমায় তরাও গো মা তারা।
জগতকে তরালে আমাকে ডুবালে, আমি কি জগত ছাড়াগো মা তারা॥
দিবা অবসান রাত্রিকালে, দিয়েছি সাঁতার শ্রীদুর্গা বলে,
মম জীর্ণ তরী মা আছে কাণ্ডারী, (তবু) ডুবিল ডুবিল ডুবিল ভরা॥
রামপ্রসাদ ভাবিয়ে সারা, মা হ’য়ে পাঠালি মাসীর পাড়া,
কোথায় গিয়েছিলি এ ধর্ম শিখিলি, মা হ’য়ে সন্তান ছাড়া গো তারা?
—রামপ্রসাদ সেন
* স্বরলিপি: সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
আমি জানি না তন্ত্র সাধনা
প্রসাদী—একতালা
আমি জানি না তন্ত্র সাধনা।
কেবল কালী-নামটি ডাক রসনা॥
কালী-কল্পলতায় ফলে, চতুর্বর্গ তা জান না?
(ও মন) নামের গুণে পূরায় মনের শবাসনা সব বাসনা।
মায়ের নামে সুধা ঝরে, ভবক্ষুধা তো থাকে না;
ডাকলে যারা সারাৎসারা পায় না রে যম-যাতনা॥
(যার) অন্তরেতে মুক্তকেশী, মুখে দুর্গানাম রটনা;
গয়া গঙ্গা বারাণসী, ঘরে বসি পায় সে জনা॥
ভবপ্রীতা কাতরে কয়, (মা), ঘুচাও মনের দুর্ভাবনা,
অজপান্তে পদপ্রান্তে স্থান দিবি গো ত্রিনয়না॥
—ভবপ্রীতানন্দ ওঝা
↑ Contents
ওরে সুরা পান করি না আমি সুধা খাই জয় কালী বলে
পিলু-বাহার—যৎ
ওরে সুরা পান করি না আমি, সুধা খাই জয় কালী বলে,
মন-মাতালে মাতাল করে, মদ-মাতলে মাতাল বলে।
গুরদত্ত গুড় লয়ে, প্রবৃত্তি তায় মশলা দিয়ে মা;
আমার জ্ঞান শুঁড়ীতে চোঁয়ার ভাটি, পান করে মোর মন-মাতালে।
মূল মন্ত্র যন্ত্রভরা, শোধন করি বলে তারা মা;
রামপ্রসাদ বলে এমন সুরা খেলে চতুর্বর্গ মেলে।
—রামপ্রসাদ সেন
↑ Contents
পঙ্কজ বনে রাত্রদিনে কি রঙ্গ করিছ শিবা
কামোদ—চৌতাল*
পঙ্কজ বনে রাত্রদিনে, কি রঙ্গ করিছ শিবা,
সদা শিবসঙ্গে আনন্দে, আনন্দময়ী॥
তুমি একা হয়েছে দ্বিধা, পরমপুরুষ প্রকৃতিনারী;
কতই নামে কতই রূপ ধরি কত লীলা কর, লীলাময়ী॥
সকল আকারে আছ মা অন্তরে, জানিতে না পারে জীব তোমারে,
তুমিই নিত্যা নিরাকারা চিদানন্দ-ব্রহ্মময়ী;
তুমি কৃপা কর যারে সেই তোমারে জানিতে পারে,
প্রসীদ প্রসীদ প্ৰসীদ, দেবেশি,
সাধকের হৃদিপদ্মে প্রকাশ, করুণাময়ি॥
—সাধক
* স্বরলিপি: সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
গয়া-গঙ্গা-প্রভাসাদি কাশী-কাঞ্চী কেবা চায়
পরজ-বাহার—ঝাঁপতাল*
গয়া-গঙ্গা-প্রভাসাদি কাশী-কাঞ্চী কেবা চায়,
কালী কালী কালী বলে, অজপা যদি ফুরায়॥
ত্রিসন্ধ্যা যে বলে কালী, পূজা সন্ধ্যা সে কি চায়।
সন্ধ্যা তার সন্ধানে ফেরে, কভু সন্ধি নাহি পায়॥
কালী নামের এত গুণ কেবা জানতে পারে তায়,
দেবাদিদেব মহাদেব যাঁর পঞ্চমুখে গুণ গায়॥
দান ব্রত যজ্ঞ আদি, আর কিছু না মনে লয়;
মদনের যাগ যজ্ঞ ব্রহ্মময়ীর রাঙ্গা পায়॥
—মদন
* স্বরলিপিঃ শ্রীরামকৃষ্ণের প্রিয় সঙ্গীত (রামকৃষ্ণ মিশন, গোলপার্ক)
↑ Contents
ওমা ভবভয়বারিণী এলাম ভবে দেখা দে গো জননী
ইমন-কল্যাণ—চৌতাল*
ওমা ভবভয়বারিণী, এলাম ভবে দেখা দে গো জননী,
দিও না যাতনা ত্রিনয়না, দিবানিশি ভাসি দুঃখে গো তারিণী॥
তব পদে এই মিনতি, না জানি জননী তোমার স্তুতি,
গতিহীনের অতি মূঢ়মতি, কর দীনে ত্রাণ, ত্রাণকারিণী॥
দাসের দোষ হর হর-মনোরমা, তনয়েরে ঘৃণা ক’র না গো উমা,
এ পাপাঙ্গে গো অপাঙ্গে, কর কৃপা শ্যামাঙ্গিনী,
এ রঙ্গভূমির রঙ্গ, কালস্রোতে হ’লে ভঙ্গ,
প্রেমিকের না হয় আতঙ্ক, কর কৃপা কপালিনী॥
—প্রেমিক
* স্বরলিপি: সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
দয়াময়ী হ'য়ে গো মা নিদয়া হয়ো না শ্যামা
পরজ বাহার—সুরফাঁক্তা*
দয়াময়ী হ’য়ে গো মা নিদয়া হ’য়ো না শ্যামা।
ও হরললনা, বুঝিতে পারি না, এ কেমন তোমার ছলনা॥
ভেবেছিলাম ভবে ভবজায়া ভেবে করব ভবব্যাধি সান্ত্বনা,
আমার আশা সকল করিলি বিফল সফল ভ্ৰমণ হ’ল না॥
প্রপঞ্চ জগতে পরিজন ভূতে লঙ্ঘাইয়া দিচ্ছে যাতনা,
খেতে শুতে যেতে ফেরাস তাদের মতে
স্বাধীনতা প্রেমিক পেলে না;
এত যে চাতুরী করিবি শঙ্করী, স্বপনেও তা জানি না,
(এখন) কর মা উপায় দিয়ে স্থান ও পায় বৃথা জনম যেন যায় না॥
—প্রেমিক
* স্বরলিপি: দিব্যগীতি
↑ Contents
সমরে নাচে রে শ্যামা শিব-সীমন্তিনী
খাম্বাজ—কাওয়ালী
সমরে নাচে রে শ্যামা শিব-সীমন্তিনী।
আলো করে কালো রূপে করালবদনী॥
রোষেতে লোচন লাল, রুধিরে চরণ লাল;
রাঙ্গা পায়ে জবা লাল, মরালগামিনী॥
অপরূপ তনু কালো, কালো সে চিকুর-জাল;
দশন ঝলকে যেন মেঘেতে দামিনী॥
—স্বামী চণ্ডিকানন্দ
↑ Contents
কে নাচে সমরে বামা তিমিরবরণী
খাম্বাজ—যৎ
কে নাচে সমরে বামা তিমিরবরণী?
শোণিত সায়রে যেন ভাসিছে নীল নলিনী॥
কেরে ঘূর্ণিত লোচনী ত্রিনয়নী দিগম্বরী?
পদভরে ধরাধর অধীরা ধরণী;
তাই ভেবে শ্রীচরণে পড়ে আছেন শূলপাণি।
—অজ্ঞাত
↑ Contents
শ্যামা মন-ছাঁচে তোমাকে ফেলে
সুরট মল্লার–তেওরা
শ্যামা, মন-ছাঁচে তোমাকে ফেলে,
মনোময়ী মূর্তি আজ ল’ব তুলে॥
মন যে আমার খাদে ভরা, তোমার ভাবে কৈ মা গলে,
ভাবরূপিণী হও তারিণী, গ’লে আমার ভাব অনলে॥
দেখিব রূপ তোমার স্বরূপ, যে রূপেতে ভোলা ভোলে,
পুরাও আশা, কৃত্তিবাসা দিয়ে দেখা হৃদিকমলে॥
গঙ্গাজলে গঙ্গাপূজা, কি হবে মা বনফুলে,
কি দিয়ে পূজিব তোমায় ভাবছি ব’সে তাই বিরলে ॥
আমি আমার নই জননী, আমার নাই কিছুই ভূতলে,
এ ব্রহ্মাণ্ড তোমার সৃষ্টি, দৃষ্টিহীনে আমার বলে॥
প্রেমিক বলে শোনরে যুক্তি যথাশক্তি ভক্তিজলে,
ধু’য়ে দে মা’র রাঙ্গা চরণ, মনফুল দে পদতলে॥
—প্রেমিক
↑ Contents
তিলেক দাঁড়া ওরে শমন বদন ভরে মাকে ডাকি
ঝিঁঝিট—একতালা
তিলেক দাঁড়া ওরে শমন, বদন ভরে মাকে ডাকি।
আমার বিপদ কালে ব্রহ্মময়ী, আসে কি না আসে দেখি॥
লয়ে যাবি সঙ্গে করে, তার এত ভাবনা কিরে
তবে তারা নামের কবচমালা, বৃথা আমি গলায় রাখি॥
মহেশ্বরী আমার রাজা, আমি খাস তালুকের প্রজা
আমি কখন নাতান, তখন সাতান, কখন বাকীর দায়ে না ঠেকি॥
প্রসাদ বলে মায়ের লীলা, অন্যে কি জানিতে পারে।
যাঁর ত্রিলোচন না পেল তত্ত্ব, আমি তাঁর অন্ত পাব কি॥
—রামপ্রসাদ সেন
↑ Contents
দুরিতবারিণি ও মা হররানি
আড়ানা—তাল ফেরতা
(চৌতাল, সঞ্চারী—ধামার)
দুরিতবারিণি ও মা হররানি ডাকিছে কাতরে এ দীন সন্তান,
করিয়া যতন কমল আসন পেতেছি হৃদয়ে কর অধিষ্ঠান॥
শিখাইয়া দাও তুমি মা ভবানি, কেমনে পূজিব চরণ দু’খানি,
ভজন পূজন কিছুই না জানি, তাই ভাবি কিসে পাব পদে স্থান॥
ভরসা কেবল করুণা তোমার তাই এ সন্তান ডাকে বার বার,
নাশ মা তাহার অজ্ঞান-আঁধার তনয়ে তোমার দাও দিব্য জ্ঞান;
যেন নাহি ভুলি চরণ দু’খানি এই মতি দাও তনয়ে জননি,
অকূল পাথার কিসে হই পার, ভব দুঃখ যেন হয় অবসান॥
—অজ্ঞাত
↑ Contents
মনরে কালী বলে ডাক
রামপ্রসাদী—একতাল
মনরে কালী বলে ডাক।
আমার কথা শোন কথা রাখ, তুমি ঘরের বাহির হয়ো নাকো॥
ভবের যাতনা যত দেহ তাদের অনুগত
দেহ জানে আর দুঃখ জানে, মন তুমি আনন্দে থাক
ঘরে আছে দু’জন কুজন, তাদের সঙ্গী হয়োনা মন,
(কেবল) রসনা রঙ্গিয়া ওঠে যত্নে তায় স্ববশে রাখ॥
ভবেরি যাতনা যত দেহ তাদের অনুগত
দেহ জানে আর দুঃখ জানে, মন তুমি আনন্দে থাক॥
কমলাকান্তের হৃদি— কমলের আনন্দ-নিধি
(আমি) সাধ করে মন তোমায় দিলাম তুমি জ্ঞান-চক্ষু খুলে দেখ॥
—কমলাকান্ত চক্রবর্তী
↑ Contents
এমন দিন কি হবে মা তারা
কাফিসিন্ধু—যৎ
এমন দিন কি হবে মা তারা।
(যবে) ‘তারা’ ‘তারা’ ‘তারা’ বলে (দুনয়নে) তারা বেয়ে পড়বে ধারা॥
হৃদি পদ্ম উঠবে ফুটে, মনের আঁধার যাবে ছুটে।
(তখন) ধরাতলে পড়বো লুটে, ‘তারা’ বলে হবো সারা।
ত্যাজিব সব ভেদাভেদ, ঘুচে যাবে মনের খেদ।
ওরে, শত শত সত্য বেদ, তারা আমার নিরাকারা॥
শ্রীরামপ্রসাদ রটে, মা বিরাজে সর্বঘটে।
ওরে, আঁখি অন্ধ, দেখরে মাকে, তিমিরে তিমির হরা॥
—রামপ্রসাদ সেন
↑ Contents
অন্তরে জাগিছ গো মা অন্তরযামিনী
সুরট মল্লার—ঝাঁপতাল*
অন্তরে জাগিছ গো মা অন্তরযামিনী,
কোলে করে আছ মোরে, দিবস যামিনী॥
অধম সুতের প্রতি, কেন এত স্নেহ প্রীতি,
প্রেমে আহা! একেবারে যেন পাগলিনী॥
কখনো আদর করি, কখনো সবলে ধরি
পিয়াও অমৃত, শুনাও মধুর কাহিনী;
নিরবধি অবিকারে কত ভালবাস আমারে,
উদ্ধারিছ বারে বারে, পতিতোদ্ধারিণী॥
বুঝেছি এবার সার, মা আমার আমি মার,
চলিব সুপথে সদা শুনি তব বাণী;
করি মাতৃস্তন্য পান, হব বীর বলবান,
আনন্দে গাহিব জয় ব্ৰহ্মসনাতনী॥
—ত্রৈলোক্যনাথ সান্যাল
* স্বরলিপি: শ্রীরামকৃষ্ণের প্রিয় সঙ্গীত
↑ Contents
কার কামিনী মরালগামিনী
আলাইয়া—একতাল
কার কামিনী মরালগামিনী নীরদবরণী দামিনী বিহরে।
অরুণ কিরণ চমকে চরণে দশ সুধাকর জড়িত নখরে॥
নব ইন্দিবর ত্রিনয়নে শোভে, উড়ে অলিকুল পরিমল-লোভে,
এলোথেলো কেশ, পাগলিনী-বেশ, শোণিতের ধারা বহিছে অধরে॥
গলে দোলে কিবা নরশিরহার, নরকরশ্রেণী কিঙ্কিণী বামার,
করাল বদনা বিকট-দশনা দেখে হয় ত্রাস, অন্তর শিহরে॥
—আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
↑ Contents
যখন যেরূপে মাগো রাখিবে আমারে
কাফি—ঝাঁপতাল*
যখন যেরূপে মাগো রাখিবে আমারে।
সকলই সফল যদি না ভুলি তোমারে॥
জনম করম দুঃখ, সুখ করি মানি,
জলদ-বরানি যদি নিবাখি অন্তরে শ্যামা॥
বিভূতি ভূষণ কিংবা রতন মণি-কাঞ্চন,
তরুতলে বাস কিংবা রাজসিংহাসন;
কমলাকান্ত উভয় মম সাধন, জননি,
নিবাস যদি হৃদয় মন্দিরে, গো মা॥
—কমলাকান্ত চক্রবর্তী
* গান খানি শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণদেব এবং শ্রীমাতাঠাকুরানী যেমন গাইতেন উপরে তেমনি দেওয়া হলো; গানখানি মায়ের কাছ থেকে সংগ্রহ করেন ক্ষীরোদবালা রায় এবং স্বামী চণ্ডিকানন্দকে দেন। কিন্তু মূলগানখানি অন্যরকম আছে। ব্রহ্মসঙ্গীত গ্রন্থে কমলাকান্তের রচিত এরকম একটি গান রয়েছে।
↑ Contents
কালী কপালিনী পূর্ণ সনাতনী
কানাড়া—চৌতাল
কালী কপালিনী পূর্ণ সনাতনী, কলুষনাশিনী কৈবল্যদায়িনী,
জ্ঞান-ভক্তি-প্রদায়িনী, পতিত জন-পাবনী॥
কাতরে ডাকে মা অকৃতি সন্তান, কৃপা করি তারে দাও পদে স্থান
দাও সেই জ্ঞান যাহে পায় ত্রাণ এ ভব-সাগরে, জগতজননী॥
যে জন তোমার রাঙ্গা চরণ হৃদয়ে সতত করে মা স্মরণ,
ভবভয় তার হয় নিবারণ অন্তে শান্তিধামে যায় সে তখনি;
তুমি বিনা আর কে আছে আমার, মাগি গো শরণ শ্রীপদে তোমার
করো না নিরাশ হও মা প্রকাশ, দাও দরশন করুণারূপিণী॥
—অজ্ঞাত
↑ Contents
অন্ন দে মা অন্নপূর্ণে
কেদারা—ধামার*
অন্ন দে মা অন্নপূর্ণে অন্ন দে মা অন্নদে!
সারদে হৃদয়পদ্মে জ্ঞানং দেহি মে জ্ঞানদে॥
ধন্য কাশী শিব ধন্য সুরধুনী অবতীর্ণ।
বিরাজিতা অন্নপূর্ণা অঞ্জলি করে ভবদে॥
হ’য়েছে মা ক্ষুধাব্যাধি দে মা গো সুধা-ঔষধি,
অন্তে চরণে সমাধি মোক্ষং দেহি মে মোক্ষদে॥
—মহারাজ রামকৃষ্ণ
স্বরলিপিঃ সাধনসঙ্গীত
↑ Contents
দুর্গে দলনী দুঃখ দারিদ্র্যদহনী দুষ্ট-বিদারিণী হর-শম্ভু-জায়া
আড়ানা—ঝাঁপতাল
দুর্গে দলনী দুঃখ, দারিদ্র্যদহনী, দুষ্ট-বিদারিণী হর-শম্ভু-জায়া॥
অসুর-সংহারিণী, রক্তবীজ-নাশিনী, দীন-অভয়বরা-সুর-নর-পায়া॥
সংসার-তারিণী, তারা তরণীতে, উদ্ধরে কৃপালী, যো পরমা মায়া;
সপ্তদ্বীপ নব খণ্ড ত্রৈলোক্য-ব্যাপিত যাচে সুযশ চারু আনন্দ-দায়া॥
—অজ্ঞাত
↑ Contents
মহাকালের কোলে এসে গৌরী হ’ল মহাকালী
দুর্গা—তেওরা
মহাকালের কোলে এসে গৌরী হ’ল মহাকালী।
শ্মশান চিতার ভস্ম মেখে ম্লান হ’ল মার রূপের ডালি॥
তবু মায়ের রূপ কি হারায়।
(সে যে) ছড়িয়ে আছে চন্দ্রতারায়।
মায়ের রূপের আরতি হয় নিত্য সূর্য-প্রদীপ জ্বালি॥
উমা’ হ’ল ভৈরবী হায়, বরণ করে ভৈরবেরে,
হেরি শিবের শিরে জাহ্নবীরে শ্মশানে মশানে ফেরে;
অন্ন দিতে ত্রিজগতে,
অন্নদা মোর বেড়ায় পথে,
ভিক্ষু শিবের অনুরাগে ভিক্ষা মাগে রাজদুলালী॥
—নজরুল
↑ Contents
ঈশ্বরী পরমা নির্গুণা ত্রিগুণা একা হও নানা
মালকোষ—ধামার
ঈশ্বরী পরমা নির্গুণা ত্রিগুণা একা হও নানা;
অচিন্ত্য অতুলনা তুমিই আমার মা॥
জগত জীব ঈশ ভিন্ন ব্যবহারে লীলা কর সৃজন পালন সংহারে।
এ মায়া সরায়ে স্বরূপ মহামায়ে দেখাও সচ্চিদানন্দময়ি! শুদ্ধা ভূমা॥
—স্বামী তপানন্দ
↑ Contents
কে ও ললনা নলিনী-বদনা
দরবারী কানাড়া—চৌতাল
কে ও ললনা নলিনী-বদনা দানব-দলনা বল রে আমায়,
মরি কি মাধুরী যেন স্বর্ণগিরি রবিশশী হারি পতিত পায়॥
গলিত চিকুরে শ্রীঅঙ্গপ্রভা নব নীলঘনে চপলারি আভা
কপোল-কমলে অনিল-হিল্লোলে, অলকার ছলে মধুপ ধায়॥
রাজে মৃগরাজে সাজে অপরূপ, আসব-আবেশে সুধায় লোলুপ
হুহুঙ্কার ধ্বনি কাঁপিছে অবনী, চরণে শরণ বিপিন লয়॥
—অজ্ঞাত
↑ Contents
শিব সঙ্গে সদা রঙ্গে আনন্দ-মগনা
সাহানা—ঝাঁপতাল*
শিব সঙ্গে সদা রঙ্গে আনন্দ-মগনা,
সুধা পানে ঢল ঢল ঢলে কিন্তু পড়ে না॥
বিপরীত রতাতুরা পদভরে কাঁপে ধরা,
উভয়ে পাগলের পারা লজ্জা ভয় আর মানে না॥
—রামপ্রসাদ সেন
* স্বরলিপিঃ শ্রীরামকৃষ্ণের প্রিয় সঙ্গীত
↑ Contents
মদমত্ত-মাতঙ্গিনী উলঙ্গিনী নেচে ধায়
সাহানা—ঝাঁপতাল
মদমত্ত-মাতঙ্গিনী উলঙ্গিনী নেচে ধায়,
নিবিড় কুন্তলদল বিজড়িত পায় পায়॥
নখরে অরুণ ছুটে পদচিহ্নে পদ্ম ফুটে,
মকরন্দ-গন্ধ-অন্ধ ভৃঙ্গবৃন্দ গুঞ্জি ধায়।
অট্টহাস্য অবিরত তড়িত প্রকট কত,
উজল ঝলকে আলো কালবরণ ঘটায়॥
—গিরিশচন্দ্র ঘোষ
↑ Contents
অভয়ার অভয়পদ কর মন সার
গৌড়সারঙ্গ—ঝাঁপতাল*
অভয়ার অভয়পদ কর মন সার,
ভবভয় সব দূরে যাবে রে তোমার॥
অকর্মজনিত ভয়, যদি ভোগাধীন হয়,
ভয়হরা তারা নামে পাইবে নিস্তার॥
ভ্রান্তিযুক্ত শ্রান্তিহীন, হেলায় হারালে দিন,
এখনো কর বিধান মনরে আমার;
আদিভূতা-সনাতনী-চরণ কররে ধ্যান,
না হইও অকিঞ্চন আকিঞ্চনে বদ্ধ আর॥
—রঘুনাথ রায় (দেওয়ান)
* স্বরলিপিঃ সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
পাবি না ক্ষেপা মায়েরে ক্ষেপার মতো না ক্ষেপিলে
পরজ-বাহার—ঝাপতাল*
পাবি না ক্ষেপা মায়েরে ক্ষেপার মতো না ক্ষেপিলে,
সেয়ান পাগল বুঁচকিবগল, কাজ হবে না ওরূপ হ’লে॥
শুনিসনে তুই ভবের কথা, ও যে বন্ধ্যার প্রসবব্যাথা,
সার করে শ্রীনাথের কথা, চোখের ঠুলি দে না খুলে॥
মায়া মোহ ভোগ তৃষ্ণা দেবে তোরে যতই তাড়া,
বোবার মতো থাকবি বসে, সে কথায় না দিয়ে সাড়া॥
নিবৃত্তিরে লয়ে সাথে ভ্রমণ করো তত্ত্বপথে,
নৃত্য করো প্রেমে মেতে, সদা কালী কালী বলে॥
মজা আছে এ পাগলে, জানবি আসল পাগল হ’লে,
‘আয় রে পাগল ছেলে’ ব’লে, ঐ পাগলী মায়ে নেবে কোলে;
ফুরাবে পাগলের মেলা ঘুচিবে ত্রিতাপের জ্বালা,
শান্তিধামে করবি লীলা এ যুক্তি প্রেমিক বলে॥
—প্রেমিক
* স্বরলিপিঃ সুরবিতান
↑ Contents
মরি কি রূপমাধুরি
মল্লার—একতাল
মরি কি রূপমাধুরি, (আহা মরি মরি)॥
ভুবন-আভা মানস-লোভা কিবা শোভা নেহারি।
বিহরে সমর—সাজেরে শিবানী শঙ্করী॥
অধরে মৃদু হাসির রেখা, যেন গো দামিনী গগনে আঁকা,
ভকত-হৃদয়ে বিতরে আলো মোহ-তিমির নিবারি॥
শ্রবণে কুণ্ডল করে ঝলমল, গলে দোলে মণি মুকুতা-মালা
লোচন বিশাল কুন্তল-দল, নিবিড় নীরদ যায় হারি॥
—অনিলবরণ রায়
↑ Contents
আর কাজ কি আমার কাশী
জংলা—একতাল
আর কাজ কি আমার কাশী।
মায়ের পদতলে পড়ে আছে; গয়া গঙ্গা বারাণসী॥
হৃৎকমলে ধ্যানকালে, আনন্দ সাগরে ভাসি,
(ওরে) কালীর পদ কোকনদ, তীর্থ রাশি রাশি॥
কালী নামে পাপ কোথা মাথা নাই তার মাথাব্যথা
(ওরে) অনলে দহন যথা হয়রে তুলারাশি॥
গয়ায় করে পিণ্ডদান, বলে পিতৃঋণে পাব ত্রাণ,
(ওরে) যে করে কালীর ধ্যান, তার গয়া—শুনে হাসি॥
কাশীতে ম’লেই মুক্তি, এ বটে শিবের উক্তি,
(ওরে) সকলের মূল ভক্তি, মুক্তি হয় তার দাসী॥
নির্বাণে কি আছে ফল, জলেতে মিশায় জল,
(ওরে) চিনি হওয়া ভাল নয় মন, চিনি খেতে ভালবাসি॥
কৌতুকে প্রসাদ বলে, করুণানিধির বলে,
(ওরে) চতুর্বর্গ করতলে, ভাবিলে রে মন এলোকেশী॥
—রামপ্রসাদ সেন
↑ Contents
ওমা দীন তারিণী তারা
মালকোষ—একতাল
(ওমা) দীন তারিণী তারা!
দিনে দিনে দিন কেটে গেল মাগো আর কতদিন রব তোমা ছাড়া॥
পাঠালি যদি মা এ ভব সংসারে
(কেন) চির পরাধীন করিলি আমারে;
পরাধীনতার সহে না যাতনা, নে মা কোলে তুলে ওমা দুখহরা॥
—রামপ্রসন্ন বন্দ্যোপাধ্যায়
↑ Contents
নমামি ত্বং তারিণী
মালকোষ—একতাল
নমামি ত্বং তারিণী
নমামি ত্বং তারিণী
ত্বং হি ব্রহ্মাণী, ত্বং হি রুদ্রাণী, মহেশ্বরী নারায়ণী
বারাহী নারসিংহী অপরাজিতা কৌমারী
অষ্টশক্তি রূপিণী
নমামি ত্বং তারিণী!
বিকট শ্মশান করেছ আলয়,
আসন করেছ ঈশান হৃদয়
এলায়ে দিয়েছ চিকুর জাল
লোল রসনা বিকট দশনা শোণিত মেখেছ অঙ্গে
ভীষণ আহবে ভীম হুঙ্কারে সেজেছ দানব দলনী।
নমামি ত্বং তারিণী,
করেতে শোভিছে বরাভয় আর,
শাণিত কৃপাণ নরশবশির
কণ্ঠে দুলিছে মুণ্ডালী।
কটিতে বদ্ধ বিকট কাঞ্চী নরশবকর নিকরে
গগন চুম্বিছে উজল কিরীট চরণে বাজিছে কিঙ্কিণী
নমামি ত্বং তারিণী
তুমি ভূমি ব্যোম তুমিই সলিল
তুমিই অনিল তুমি বৈশ্বানর
তুমিই মনোবুদ্ধি॥
অহঙ্কার তোমার বিকার চিদানন্দ রূপিণী
তোমা ছাড়া কিছু নাহি আর
বিপুল বিশ্বব্যাপিনী।
নমামি ত্বং তারিণী॥
—স্বামী নির্বেদানন্দ
↑ Contents
মা তুমি কে কেউ জানে না
প্রসাদী—একতাল
(মা তুমি কে কেউ জানে না,—সুর)
ডাক দেখি মন মনে মনে, মা যে মনের কথাই আগে শুনে॥
ভাল মন্দ কাজ কি বুঝে, ভার দে না মা’র শ্রীচরণে,
(তুই) নির্ভাবনায় থাকতে পাবি, কি চিন্তা মরণে রণে॥
ঘুম ভাঙ্গাতে হবে, মা’ যে ঘুমে আছেন পদ্মবনে,
(তিনি) জাগ্লে খেতে দিবেন সুধা, ভবের ক্ষুধা যাবে ক্ষণে॥
দীন-তারিণী দীনভাবে ডাক, ময়লা যেন রয় না মনে,
চাঁদের দেখা পায় কে কোথা মেঘ যদি থাকে গগনে;
চোখের জলে ধুয়ে মুছে (মাকে) বসতে দে হৃৎ-সিংহাসনে।
(তুই) ভক্তি মন্ত্রে মা বলে ডাক্, কাজ নাই অন্য আয়োজনে॥
—আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
↑ Contents
দেবী দুঃখ হারিণী তারিণী দুর্গা
কেদারা—সুরফাক্তা
দেবী দুঃখ হারিণী, তারিণী দুর্গা
দুরিত-বারিণী মাতঃ, তুমি জগদম্বা।
আগম নিগমে শুনি, তুমি প্রাণ স্বরূপিণী
জীবগতি-বিধায়িনী মোক্ষদা রুদ্রা॥
—স্বামী চণ্ডিকানন্দ
↑ Contents
ডাক দেখি মন ডাকার মতো কেমন শ্যামা থাকতে পারে
প্রসাদী—একতাল
ডাক দেখি মন ডাকার মতো কেমন শ্যামা থাকতে পারে।
কেমন শ্যামা থাকতে পারে, কেমন কালী থাকতে পারে।
মন যদি একান্ত হও, জবা বিল্বদল লও,
ভক্তি চন্দন মিশাইয়ে (মা-র), পদে পুষ্পাঞ্জলি দাও॥
—অজ্ঞাত
↑ Contents
সকলি তোমার ইচ্ছা ইচ্ছাময়ী তারা তুমি
মনোহরসাহী—ঝাঁপতাল*
সকলি তোমার ইচ্ছা ইচ্ছাময়ী তারা তুমি।
তোমার কর্ম তুমি করো মা, লোকে বলে করি আমি॥
পঙ্কে বদ্ধ করো করী পঙ্গুরে লঙ্ঘাও গিরি।
কারে দাও মা ব্রহ্মপদ কারে করো অধোগামী॥
আমি যন্ত্র তুমি যন্ত্রী, আমি ঘর তুমি ঘরণী।
আমি রথ তুমি রথী, যেমন চালাও তেমনি চলি॥
—রামদুলাল নন্দী (দেওয়ান)
স্বরলিপিঃ সাধন সঙ্গীত। 'সঙ্গীত সন্দর্ভ' নামক পুস্তকে নরচন্দ্রের রচনা বলে প্রকাশিত। কিন্তু আসলে এটি রামদুলালের গান।
↑ Contents
শ্যামাপদ আকাশেতে মন ঘুড়িখান উড়িতেছিল
কীর্তন—ঝাঁপতাল*
শ্যামাপদ আকাশেতে মন ঘুড়িখান উড়িতেছিল।
কলুষের কুবাতাস পেয়ে গোপ্তা খেয়ে পড়ে গেল॥
মায়া কান্নি হল ভারি, আর আমি উঠাতে নারি।
দারাসুত কলের দড়ি, ফাঁস লেগে সে ফেঁসে গেল।
জ্ঞান-মুণ্ড গেছে ছিঁড়ে, উঠিয়ে দিলে অমনি পড়ে।
মাথা নাই সে আর কি উড়ে, সঙ্গের ছয় জন জয়ী হ’ল॥
ভক্তি ডোরে ছিল বাঁধা, খেলতে এসে লাগল ধাঁধা,
নরেশচন্দ্রের হাসা কাঁদা, না আসা এক ছিল ভাল॥
—নরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
* স্বরলিপি: দিব্যগীতি
↑ Contents
অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষিত করো সন্তানে তব আজ
ইমন-কল্যাণ—একতাল
অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষিত করো সন্তানে তব আজ।
আশীর্বাদের বর্ম পরাও ঘুচায়ে দৈন্য সাজ॥
তপ্ত করো মা হৃদয়-রুধির, দূর করে দাও ভীতি অশ্রুনীর,
দাঁড়াই আমরা মা তোরে ঘিরিয়া বিশ্ব-সভার মাঝ॥
মানুষ আমরা, নহি তো মা হীন, তুই যার মা সে কি কভু দীন?
তবে কেন মিছে, পড়ে থাকা পিছে, কেন এ অলীক লাজ?
এসো এসো এসো, এসো মা আমার, দশপ্রহরণ-ধারিণী,
হাসো মা অট্ট অট্ট হাস্য ভূলোক-দ্যুলোক-নাদিনী,
(মোরা) করি বিদূরিত স্বার্থ দ্বন্দ্ব সাধিয়া তোমার কাজ॥
—স্বামী চণ্ডিকানন্দ
↑ Contents
মাকে দেখব বলে ভাবনা কেউ ক’রো না আর
ভীমপলশ্রী—কাওয়ালী*
মাকে দেখব বলে ভাবনা কেউ ক’রো না আর।
সে যে তোমার আমার মা শুধু নয়, জগতের মা সবাকার॥
মা যদি নিদয়া হত, তবে কি আর প্রসবিত,
পৃথিবী শুকায়ে যেত, অন্ন বিনা হাহাকার॥
অস্পৃশ্য চণ্ডাল হ’তে ব্রাহ্মণাদি সকল জেতে,
মা বলে ডাকিলে কভু হয় না নিষ্ফল তার॥
অঙ্গে দরদর ধারে, যবে স্বেদবিন্দু ঝরে,
বায়ুরূপে কে তোমারে বাতাস করে অনিবার॥
ছেলের মুখে ‘মা’, ‘মা’ বাণী শুনবেন বলে ভবরানী,
আড়াল থেকে শুনেন পাছে দেখিলে না ডাকে আর॥
—রামলাল দাসদত্ত
* স্বরলিপিঃ সুরবিতান
↑ Contents
মন গরিবের কি দোষ আছে মা
সিন্ধু খাম্বাজ—যৎ
মন গরিবের কি দোষ আছে মা।
তুমি বাজীকরের মেয়ে শ্যামা, যেমনি নাচাও তেমনি নাচে॥
তুমি কর্ম ধর্মাধর্ম, মা, মর্ম কথা বুঝা গেছে,
ওমা তুমি ক্ষিতি, তুমি জল, ফল ফলাচ্ছ ফলা গাছে॥
তুমি শক্তি, তুমি ভক্তি, তুমিই মুক্তি, শিব বলেছে।
ওমা, তুমি দুখ, তুমি সুখ, চণ্ডীতে তা লেখা আছে॥
প্রসাদ বলে, কর্মসূত্র, সে সূতার কাটনা কেটেছে,
ওমা, মায়া সূত্রে বেঁধে জীব ক্ষ্যাপা ক্ষ্যাপি খেল খেলিছে॥
—রামপ্রসাদ সেন
↑ Contents
আমার মাকে কি দেখেছিস তোরা
জংলা-দাদরা
আমার মাকে কি দেখেছিস তোরা বল সত্যি করে।
মায়ের নব নব নবরূপে ভুবন-মন হরে॥
মা তো আমার নয় রে কল্পনা, ঐ দেখ চিন্ময়ী হাস্যবদনা,
মায়ের স্নেহচক্ষে প্রেমবক্ষে অমিয় ঝরে॥
হাসিমুখে করে ভুবন আলো, মায়ের কোলে শোভে ভক্তদল,
মায়ের প্রসারিত প্রেমবাহু আমাদের তরে॥
আয় রে আয় ও জগৎবাসী, তোরা দেখে যা একবার আসি,
মোদের জননীর ও রূপরাশি পরাণ ভরে।
(ও রূপ) যে দেখেছে সে-ই মজেছে জনমের তরে॥
-ত্রৈলোক্যনাথ সান্যাল
↑ Contents
মা প্রসীদ গুণময়ী প্ৰপন্নে
খাম্বাজ—কাওয়ালী
মা প্রসীদ গুণময়ী প্ৰপন্নে।
বিরিঞ্চি-শরণ্যে ত্রিলোক-মান্যে,
অনন্য গতি মম ত্বং বিনে।
ত্বমেকা প্রকৃতি ব্ৰহ্ম আচ্ছাদনী,
মহামায়া রূপে ত্রিজগত মনোমোহিনী
সৃজন-পালন-নিধন কারিণী দেহি পদাশ্রয় এ জঘন্যে॥
ত্বং সর্বং নহি কিঞ্চিদস্তি ত্বদন্যৎ, ত্বং পরাৎ পরতরং
ত্বঞ্চ বিদ্যা মহাবিদ্যা জ্ঞানদা সুমতিদায়িনী মা, মতি হীনে॥
—অজ্ঞাত
↑ Contents
আয় মা সাধন সমরে
মুলতান—একতাল
আয় মা সাধন সমরে।
দেখব মা হারে কি পুত্র হারে॥
আরোহণ করি পুণ্য মহারথে,
ভজন পূজন দুটো অশ্ব জুড়ি তাতে,
(দিয়ে) জ্ঞান-ধনুকে টান, ভক্তি-ব্রহ্মবাণ, বসে আছি ধরে॥
ওমা, দেখব আজি রণে, শঙ্কা কি মরণে, ডঙ্কা মেরে লব মুক্তিধন।
আমার রসনা ঝঙ্কারে তারা নাম হুঙ্কারে কার সাধ্য আমার সনে রণ॥
বারে বারে তুমি দৈত্যরণজয়ী, এবার আমার রণে এস ব্রহ্মময়ি,
দ্বিজ রসিকচন্দ্রে বলে মা তোমারি বলে, জিনিব আমি তোমারে॥
—রসিকচন্দ্র রায়
↑ Contents
অপার সংসার, নাহি পারাবার
গারা ভৈরবী—ঠুংরী
অপার সংসার, নাহি পারাবার।
ভরসা শ্রীপদ, সঙ্গের সম্পদ,
বিপদে তারিণী, কর গো নিস্তার॥
যে দেখি তরঙ্গ অগাধ বারি,
ভয়ে কাঁপে অঙ্গ, ডুবে বা মরি।
তারো কৃপা করি, কিঙ্কর তোমারি,
দিয়ে চরণ তরী, রাখ এইবার॥
বহিছে তুফান, নাহিক বিরাম,
থর থর অঙ্গ কাঁপে অবিরাম।
পুরাও মনস্কাম, জপি তারা নাম
তারা তব নাম সংসারের সার॥
কাল গেল কালী হলো না সাধন,
প্রসাদ বলে গেল বিফলে জীবন।
এ ভব বন্ধন, কর বিমোচন,
মা বিনে তারিণী কারে দিব ভার॥
—রামপ্রসাদ সেন
↑ Contents
ডেকে ডেকে তারা হলাম জ্যান্তে মরা
টোড়ী ভৈরবী—একতালা
ডেকে ডেকে তারা হলাম জ্যান্তে মরা
তবু না জাগিল কুল-কুণ্ডলিনী৷
দীনে কর দয়া, জাগো যোগমায়া, এত ঘুম ভাল নয় গো জননী॥
সার্ধ ত্রিবলয়াকারে মূলাধারে বামাবর্ত্তে বেড়িয়াছ স্বয়ম্ভুরে,
হয়ে ভুজঙ্গিনী, বিদ্যুত-বরণী, যোগনিদ্রাগতা শাস্ত্রে এই শুনি;
কোথা সে সুষুম্না, কোথা মূলাধার, নয়ন মুদিলে হেরি মা আঁধার,
খুলে দে মা আঁখি, প্রাণ ভরে দেখি—
জ্ঞান দে জ্ঞানদে, মহেশমোহিনী॥
খুলে দিয়ে মম সূক্ষ্ম ব্রহ্মদ্বার, ফণা তুলি ঊর্ধ্বে উঠ মা আমার,
ক্রমে ধীরে ধীরে আসি সহস্রারে শিবসঙ্গে মিশ ত্রিগুণধারিণী;
সর্বতত্ত্ব যথা মহাশূন্যে লয়, নিরুদ্ধ সর্বচিত্তবৃত্তিচয়,
ত্যজি নামরূপ ব্রহ্মানন্দময় সিন্ধু-অঙ্গে যথা মিশে তরঙ্গিণী॥
—স্বামী তপানন্দ
↑ Contents
মূর্ত্ত আজিকে মৃত্যুরূপিণী নৃত্য করিছে রঙ্গে
কানাড়া—একতাল
মূর্ত্ত আজিকে মৃত্যুরূপিণী নৃত্য করিছে রঙ্গে।
অট্ট হাসিছে দানব নাশিছে ডাকিনী যোগিনী সঙ্গে॥
প্রলয় অনল জ্বলে ত্রিনয়নে, রুদ্র ঝঞ্ঝা গরজে সঘনে;
দৈত্যদলনী অমরপালিনী, ত্রাহি মে চির-প্রপন্নে॥
—স্বামী চণ্ডিকানন্দ
↑ Contents
কালী কালী বল রসনা
বসন্ত-বাহার—একতাল
কালী কালী বল রসনা।
কর পদধ্যান, নামামৃত পান,
যদি হতে ত্রাণ থাকে বাসনা॥
ভাই বন্ধু সুত, দারা পরিজন,
সঙ্গের দোসর নহে কোন জন।
দুরন্ত শমন, বাঁধিবে যখন,
বিনে ঐ চরণ, কেহ কারো না।
দুর্গা নাম মুখে বলো একবার,
সঙ্গের সম্বল দুর্গানাম আমার
অনিত্য সংসার নাহি পারাপার,
সকলি অসার, ভেবে দেখ না৷
গেল গেল কাল, বিফলে গেল,
দেখ না কালান্ত নিকটে এল।
প্রসাদ বলে ভালো, কালী কালী বলো,
দূর হবে কাল-যম-যন্ত্ৰণা॥
—রামপ্রসাদ সেন
↑ Contents
কালীনাম জপ রে মন
আড়ানা—একতালা
কালীনাম জপ রে মন (ভব) যাতনা সব যাবে দূরে॥
যে নামের গুণে কত জনগণে তারিলে অনায়াসে।
কেন রে মন বিষয় বিষে মত্ত হয়ে রয়েছ ব’সে
এ সব ত্যজিয়ে সদা ভাব হৃদে, ও পদ পাবে কিসে॥
–গোপেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায়
↑ Contents
হের হর-মনোমোহিনী কে বলে রে কাল মেয়ে
শঙ্করা—একতাল
হের* হর-মনোমোহিনী কে বলে রে কাল মেয়ে।
(আমার) মায়ের রূপে ভুবন আলো, চোখ থাকে তো দেখনা চেয়ে॥
বিমল হাসি ক্ষরে শশী, অরুণ পড়ে নখে খসি,
এলোকেশী শ্যামা ষোড়শী;
কমলভ্রমে ভ্রমর ভ্রমে, বিভোর ভোলা চরণ পেয়ে॥
—গিরিশচন্দ্র ঘোষ
* দ্যাখো অর্থে ‘হের’, তাই উচ্চারণ হয় ‘হ্যারো’ হর মনমোহিনী
↑ Contents
নবীনা নীরদ বরণী ত্রিনয়নী সনাতনী
ইমন-কল্যাণ—সুরফাক্তা
নবীনা নীরদ বরণী ত্রিনয়নী সনাতনী
সমর বাসিনী শ্যামা এলোরে রণে॥
অট্ট হাস্য মুখরা, শাণিত কৃপাণ ধরা
লোহিত লোচনী তারা আসব পানে বিভোরা,
বিবসনা এলোকেশী, দৃপ্ত-দানবত্রাসি চলে গজ গমনে॥
কম্পিত ত্রিভুবন, শঙ্কিত সুরগণ
মুর্ছিত ত্রিলোচন, নিপতিত চরণে।
শিব সীমন্তিনী অশিব বিনাশিনী
জীব গতি বিধায়িনী ব্রহ্মাণী করালিনী;
বিনাশি ষড় অসুরে নিবস হৃদয়পুরে প্রসীদ প্ৰপন্নে॥
—স্বামী চণ্ডিকানন্দ
↑ Contents
হৃৎ-কমল-মঞ্চে দোলে করালবদনী শ্যামা
গারা ভৈরবী—আড়া
হৃৎ-কমল-মঞ্চে দোলে করালবদনী শ্যামা।
মন-পবনে দুলাইছে দিবস রজনী ওমা॥
ইড়া পিঙ্গলা নামা, সুষুম্না মনোরমা।
তার মধ্যে গাঁথা শ্যামা, ব্রহ্ম সনাতনী ওমা॥
আবির রুধির তায়, কি শোভা হয়েছে গায়।
কাম আদি মোহ যায়, হেরিলে অমনি ওমা॥
যে দেখেছে মায়ের দোল, সে পেয়েছে মায়ের কোল।
রামপ্রসাদের এই বোল, ঢোলমারা বাণী ওমা॥
—রামপ্রসাদ সেন
↑ Contents
নামেরি ভরসা কেবল শ্যামা গো তোমার
কীৰ্তন—ঝাঁপতাল*
নামেরি ভরসা কেবল শ্যামা গো তোমার।
কাজ কি আমার কোশাকুশি, দেঁতোর হাসি লোকাচার॥
নামেতে কাল-পাশ কাটে, জটে তা দিয়েছে রটে,
আমি তো সেই জটের মুটে, হয়েছি আর হব কার॥
নামেতে যা হবার হবে, মিছে কেন মরি ভেবে,
নিতান্ত করেছি শিবে, শিবেরি বচন সার॥
—কমলাকান্ত ভট্টাচার্য
* স্বরলিপি: দিব্যগীতি
↑ Contents
আমার মা ত্বং হি তারা, তুমি ত্রিগুণধরা পরাৎপরা
ভৈরবী—একতাল*
আমার মা ত্বং হি তারা, তুমি ত্রিগুণধরা পরাৎপরা।
আমি জানি মা ও দীনদয়াময়ী, তুমি দুর্গমেতে দুখহরা॥
তুমি জলে তুমি স্থলে, তুমি আদ্যমূলে গো মা,
আছ সর্বঘটে অক্ষপুটে, সাকার আকার নিরাকারা॥
তুমি সন্ধ্যা তুমি গায়ত্রী, তুমি জগদ্ধাত্রী গো মা,
তুমি অকূলের ত্রাণকর্ত্রী, সদা শিবের মনোহরা॥
–অজ্ঞাত
* স্বরলিপিঃ সাধন সঙ্গীত; শ্রীশ্রীঠাকুর স্বামীজীকে প্রথম এই মাতৃসঙ্গীত শিখাইয়াছিলেন।
↑ Contents
দীন-তারিণী বলে মা, ডাকি গো তোরে
ছায়ানট—ত্রিতাল
দীন-তারিণী বলে মা, ডাকি গো তোরে।
তবে কেন দীনের প্রতি নিদয়া হইলি শ্যামা॥
যদি পুণ্যফলে তারা তরে যায় মা ভবদারা,
তারা নাম দুখ-হরা ভবে আর কে কবে গো মা॥
—অনন্তলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
↑ Contents
ভবানী দয়ানী মহাবাক্বাণী
ভৈরব—ঝাঁপতাল
ভবানী দয়ানী মহাবাক্বাণী
সুর-নর-মুনি-জন মানি সকল বুধজ্ঞানী।
জগজননী জগজানি মহিষাসুর-মরদনী।
জ্বালামুখী চণ্ডী অমরপদ-দানী॥
–অজ্ঞাত
↑ Contents
শ্রীদুর্গা নাম ভুল’না ভুল’না ভুল’না
সিন্ধু ভৈরবী—একতাল*
শ্রীদুর্গা নাম ভুল’না ভুল’না ভুল’না।
শ্রীদুর্গা শরণে সমুদ্রমন্থনে, বিষপানে বিশ্বনাথ ম’লনা॥
যদ্যপি কখনও বিপদ ঘটে, শ্রীদুর্গা স্মরণ করিও সঙ্কটে,
তারায় দিয়ে ভার সুরথ রাজার, লক্ষ অসিঘাতে প্রাণ গেল না॥
বিভু নামে এক রাজার ছেলে, যাত্রা করেছিলে শ্রীদুর্গা ব’লে
আসিবার কালে সমুদ্রের জলে ডুবেছিল তবু মরণ হ’ল না॥
—রামপ্রসাদ সেন
* স্বরলিপি: আনন্দলহরী
↑ Contents
একবার গাল ভরা মা ডাকে
বাউল—দাদরা*
একবার গাল ভরা মা ডাকে।
(তোরা) মা ব’লে ডাক, মা ব’লে ডাক, মা ব’লে ডাক মাকে॥
ডাক এমনি করে, আকাশ ভুবন সেই ডাকে যাক ভ’রে;
আর ভা’য়ে ভা’য়ে এক হ’য়ে যাক যেখানে যে থাকে॥
দুটি বাহু তুলে নৃত্য ক’রে ডাকরে মা মা বলে,
আর নেচে নেচে আয়রে মায়ের ঝাঁপিয়ে পড়ি কোলে।
মায়ের চরণ দুটি জড়িয়ে ধ’রে আনরে মায়ে লুটে,
ছেলের শুনলে সে ডাক দেখব সে মা কেমন ক'রে থাকে॥
দিয়ে করতালি ‘মা মা’ বলি’ ডাকরে এমনি ভাবে,
উঠে প্রবল বন্যা ভাবে ভুবন ভাসিয়ে দিয়ে যাবে;
মায়ের বুকের উপর আছড়ে পড়ে চক্ষু দুটি মুদে,
আমার গান ভেসে যাক প্রাণ ভেসে যাক, দেখি শুধুই মাকে॥
—দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
* স্বরলিপিঃ শ্রেষ্ঠ দ্বিজেন্দ্র স্বরলিপি
↑ Contents
কালী নামের গণ্ডী দিয়া আছিরে দাঁড়াইয়ে
ললিত বিভাস—আড়খেম্টা
কালী নামের গণ্ডী দিয়া আছিরে দাঁড়াইয়ে।
শোরে শমন তোরে কই, আমি তো আটাশে নই,
তোর কথা কেন রব সয়ে।
ছেলের হাতের মোওয়া নয় যে, খাবে হুলকে দিয়ে।
কটু বল্বি, সাজাই পাবি, মাকে দিব কয়ে।
সে যে কৃতান্ত দলনী শ্যামা, বড় ক্ষেপা মেয়ে॥
শ্রীরামপ্রসাদ যেন কয়, শ্যামা গুণ গেয়ে।
আমি ফাঁকি দিয়ে চলে যাব, চক্ষে ধূলা দিয়ে॥
—রামপ্রসাদ সেন
↑ Contents
ও দুটি চরণ সার! দীনের শরণ নাহি গো আর
আশাবরী—একতাল
ও দুটি চরণ সার! দীনের শরণ নাহি গো আর।
কলুষ ক্লেশ-হারিণী, তারিণী, হর মা মোর মোহ-আঁধার॥
অট্টহাস্যে শাণিত কৃপাণে
কাট পাশ নাশ অভিমানে।
পতিতপাবনী, জানি গো সন্তানে অহেতুক তব কৃপা অপার।
মন-সর-নীর সমল চঞ্চল
কর ধীর স্থির প্রশান্ত নির্মল;
বিকাশ যুগল চরণ কমল জনম সফল কর আমার॥
—স্বামী তপানন্দ
↑ Contents
মা আমি কি আটাশে ছেলে
প্রসাদী—একতাল
মা আমি কি আটাশে ছেলে।
আমি ভয় করিনে চোখ রাঙ্গালে॥
সম্পদ আমার ও রাঙ্গাপদ শিব ধরেন যা হৃদকমলে৷
আমার বিষয় চাইতে গেলে বিড়ম্বনা কতই ছলে॥
শিবের দলিল সই রেখেছি হৃদয়েতে তুলে
এবার করব নালিশ নাথের আগে, ডিক্রি লব এক সওয়ালে॥
জানাইব কেমন ছেলে মোকদ্দমায় দাঁড়াইলে।
যখন গুরুদত্ত দস্তাবিজ, গুজরাইব মিছিল চালে॥
মায়ে পোয়ে মোকদ্দমা, ধূম হবে রামপ্রসাদ বলে।
আমি ক্ষান্ত হব যখন আমায় শান্ত করে লবে কোলে॥
—রামপ্রসাদ সেন
↑ Contents
মন শরণ লওরে রাঙ্গা পায়
ভৈরবী—জলদ একতাল
মন শরণ লওরে রাঙ্গা পায়। ভাল মন্দ হয় হবে ব্রহ্মময়ীর দায়॥
দুর্গা দুর্গা দুর্গা স্মরি, ভাসায়ে দে জীর্ণ তরী;
মা আমার আছেন কাণ্ডারী, কি ভাবনা তায়॥
কালী নামের পাল তুলিয়ে বেলাবেলি চলরে বেয়ে;
ঢেউ কাটিয়ে যাই উজিয়ে ত্রিবেণী যথায়।
তথা প্রেম তরঙ্গে খেলে হংস সনে হংসী মিলে;
কি আনন্দ তথায় বলে বুঝান না যায়॥
—স্বামী তপানন্দ
↑ Contents
দিবানিশি ভাব রে মন অন্তরে করালবদনা
ঝিঁঝিট—একতালা
দিবানিশি ভাব রে মন অন্তরে করালবদনা।
নীল কাদম্বিনী রূপ মায়ের, এলোকেশী দিগ্বসনা॥
মূলাধারে সহস্রারে বিহারে সে, মন জান না।
সদা পদ্মবনে হংসীরূপে আনন্দরসে মগনা॥
আনন্দে আনন্দময়ীর হৃদয়ে কর স্থাপনা
জ্ঞানাগ্নি জ্বালিয়া কেন ব্রহ্মময়ী রূপ দেখ না॥
প্রসাদ বলে, ভক্তের আশা,
পূরাইতে অধিক বাসনা।
সাকারে সাযুজ্য হবে, নির্বাণে কি গুণ বল না॥
—রামপ্রসাদ সেন
↑ Contents
জগত-জননী জগদম্ব ভবানী
মারোয়া—ত্রিতাল
জগত-জননী জগদম্ব ভবানী;
কিরূপা-করণী, দুখ-হরণী, সুখ-করণী, প্রণতজন-শরণী ভব-জলধী-তরণী
ম্যয় পতিত সেবক চরণকো মুঝ পর্ কিরূপা দৃষ্টি অব্ কীজে
মহামায়া যোগিনী শিবানী, প্রণতজন-শরণী, ভব-জলধি-তরণী॥
—অজ্ঞাত
↑ Contents
মা যার আনন্দময়ী সে কি নিরানন্দে থাকে
সিন্ধু খাম্বাজ—যত্
মা যার আনন্দময়ী সে কি নিরানন্দে থাকে।
ইহকালে পরকালে মা তারে আনন্দে রাখে।
সদানন্দময়ী তারা সদানন্দের মনোহরা
এই মিনতি করি তারা ঐ পদে যেন মতি থাকে॥
—কমলাকান্ত চক্রবর্তী
↑ Contents
আমরা মায়ের ছেলে
ইমন-ভূপালী—খেম্টা*
আমরা মায়ের ছেলে, আমরা মায়ের ছেলে।
আমরা কি কম, আসুক না যম, জিনব অবহেলে॥
পথের’ পরে বিপদ পেলে, দলতে পারি পদতলে।
(মোদের) হুঙ্কারেতে সাগর শুকায়, পাহাড় পড়ে ঢ’লে॥
চন্দ্র সূর্য গ্রহতারা, মায়ের কথায় ঘুরছে তারা।
এমন মায়ের ছেলে মোরা দুর্বল কে বলে॥
মোদের আবার পাপ কোথায়, স্বর্গ নরক কে বল চায়?
কাজ ফুরালে সন্ধ্যাবেলায় মা করিবে কোলে॥
—স্বামী চণ্ডিকানন্দ
* স্বরলিপি: আনন্দলহরী
↑ Contents
জয় জয় জগবন্দিনী
ভৈরবী—একতাল*
জয় জয় জগবন্দিনী।
দেবি, দুঃখহারিণী তারিণী মহেশ-হৃদয়বাসিনী॥
সুরাসুরনর সবার পূজিতা আগম নিগমে সৃজনকারিণী,
জ্ঞানদা বরদা সুখদা মোক্ষদা তুমি মা অন্নদা জয়পরায়ণী।
ভৈরবী ভবানী নগেন্দ্রনন্দিনী, নাগ-নাগ পাশা ঘোরনিনাদিনী,
জ্ঞানেন্দ্র উপেন্দ্র যোগেন্দ্রাদি কত চরণে পড়িয়া দিবস রজনী॥
গুরুমুখে শুনি তুমি মা ভবানী, আদ্যাশক্তি শিবে সবার জননী,
মা মা বলে ডাকে মা তোমারে, তাই তো তোমারে মা বলিয়ে জানি॥
—রামলাল দাসদও
* স্বরলিপিঃ সুরবিতান
↑ Contents
আশাবাসা ঘোর-তমোনাশা
বেহাগ—কাওয়ালী*
আশাবাসা ঘোর-তমোনাশা, বামা কে (মোহিনী)।
ঘোর ঘটা কান্তিছটা, ব্ৰহ্মকটা ঠেকেছে।
রূপসী শিরসি শশী, হরোরসি এলোকেশী,
মুখজ্বালা সুধাঢালা কুলবালা নাচিছে॥
দ্রুত চলে আস্য টলে, বাহু বলে দৈত্যদলে;
ডাকে শিবা কব কিবা, নিশি দিবা ক’রেছে॥
ক্ষীণ-দীন ভাগ্যহীন, দুষ্টচিত্ত সুকঠিন;
রামপ্রসাদে কালীর বাদে কি প্রমাদে ঠেকেছে॥
—রামপ্রসাদ সেন
* স্বরলিপি: সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
জয় জয় জগজননী দেবী
সিন্ধু-খাম্বাজ—জলদ একতাল
জয় জয় জগজননী দেবী সুর-নর-মুনি-অসুর-সেবী,
ভক্ত-ভূতি দায়িনী ভয়হরণী কালিকা।
মঙ্গল-মুদ-সিদ্ধি-সদনী, পর্ব-শর্বরীশ-বদনী,
তাপ-তিমির-তরুণ-তরণী কিরণমালিকা॥
বর্ম-চর্ম কর কৃপাণ, শূল-শৈল-ধনুষ-বাণ
ধরণী-দলনী দানব-দল-রণ করালিকা।
পূতনা পিশাচ প্রেত, ডাকিনী শাকিনী সমেত,
ভূতগ্রহ বেতাল খগ মৃগালি জালিকা॥
জয় মহেশ-ভামিনী, অনেক রূপ-নামিনী,
সমস্ত লোক স্বামিনী হিম-শৈল-বালিকা।
রঘুপতি-পদ পরম-প্রেম, তুলসী চাহে অচল নেম,
দেহু হয়ো প্রসন্ন পাহি প্ৰণতপালিকা॥
—তুলসীদাস
↑ Contents
রণবেশে হেসে হেসে ঐ বামা এসেছে
মিশ্র বেহাগ—কাওয়ালী*
রণবেশে হেসে হেসে ঐ বামা এসেছে।
করে অসি পদে শশী কি রূপসী সেজেছে॥
নয়নে অনল জ্বলে, নরশির শােভে গলে,
দলিতে দনুজদলে ঢলে ঢলে চলেছে॥
রুধির লেগেছে গায়, নীল জলে জবা প্রায়,
আঁখি না ফিরিতে চায়, কি সুখেতে মজেছে।
আ মরি কি রূপ হায়, অরূপ উথলে তায়,
সাধে কিরে ঐ পায় পশুপতি পড়েছে॥
—স্বামী চণ্ডিকানন্দ
* স্বরলিপি: আনন্দলহরী
↑ Contents
রণে নেমেছে রে কার বামা ওকে দেখতে যাবি
বাউল—দাদরা*
রণে নেমেছে রে কার বামা ওকে দেখতে যাবি;
(তােরা) দেখতে যাবি, দেখতে যাবি, রূপ দেখলে অবাক হ’বি॥
মায়ের মাথার মুকুট গগনে ঠেকে গলায় নরশির-হার,
পদভার সইতে নারে, ধরা হ’ল ভার॥
(মায়ের) রূপ তাে নয়, আ মরে যাই, কাজল জিনেও কাল,
(আবার) কি অদ্ভুত মূর্তি ধরে, ভুবন করে আলাে॥
—অজ্ঞাত
↑ Contents
কার বামা রণে নাচিছে
পরজ—আড়া
কার বামা রণে নাচিছে।
সুধাপানে ঢল ঢল ঢ’লে পড়িছে॥
একে তাে নীরদ-কায় ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিমা তায়,
কালিন্দী-সলিলে যেন জবা ভাসিছে।
—রঘুনাথ রায় (দেওয়ান)
↑ Contents
ধিয়া তাধিয়া নরমালী
কানাড়া—টিমে ত্রিতাল
ধিয়া তাধিয়া নরমালী।
ঘাের আননা, রক্তদশনা, রণাঙ্গনা মা করালী॥
অট্ট অট্ট হাস, ত্রিপুর ত্রাস, প্রলয়-জলধী-ঘন-গভীর ভাষ;
দম্ভ বিনাশ, অসুর ত্রাস, কোটি অরুণ ছটা চরণে বিকাশ।
মানস সকাশ আশ্রিত আশ, যামিনী-রূপিণী, অম্বে, জগদম্বে,
জয়ন্তে, জয়দে মা কালি, অম্বিকে ত্র্যম্বক কামিনী করালি॥
—গিরিশচন্দ্র ঘােষ
↑ Contents
সমরে নাচে রে কার এ রমণী
খাম্বাজ-আদ্ধা-কাওয়ালি
সমরে নাচেরে কার এ রমণী,
নাশিছে তিমিরে তিমিরবরণী॥
হুহুঙ্কার রবে মগনা তাণ্ডবে,
চমকে দমকে যেন রে দামিনী॥
অট্ট অট্ট হাসি সমর উল্লাসি,
দিতিসুত নাশে দনুজদলনী॥
অসুরে সংহারে অসির প্রহারে,
বরাভয় করে সৃজন-পালিনী।
বামা ভয়ঙ্করা ভীষণা মধুরা,
হরমনোহরা মানসমোহিনী
সংসার-অরণ্যে অনন্যশরণ্যে,
শ্রীরামপ্রসন্নে শরণদায়িনী॥
—রামপ্রসন্ন বন্দ্যোপাধ্যায়
↑ Contents
দনুজদলনী, নিজজন-প্রতিপালিনী শ্রীকালী
খাম্বাজ-একতাল
দনুজদলনী, নিজজন-প্রতিপালিনী শ্রীকালী।
চণ্ড মুণ্ড খণ্ড খণ্ডি, মহিষাসুর ছিন্দি ভিন্দি,
শুম্ভ নিশুম্ভ সভট সমরে নিমেষে মহাকালী॥
ধ্যাওত তুয়া পাওত, ইন্দ্রাদিক-সুর অষ্টসিদ্ধি
অর্থাদিক চতুরবর্গ তুয়া কৃপা মৃড়ানী;
মাঙ্গে কুঁঝে অচলা ভকতি দীজে নিজ দাস জানি,
সদা ভক্তবৎসল হে মাতঃ তু কৃপালী॥
-অজ্ঞাত
↑ Contents
নব-সজল-জলধর-কায়
বারোঁয়া—খেমটা
নব-সজল-জলধর-কায়।
শ্যামারূপ হেরিলে, কালীরূপ হেরিলে, প্রাণ গলে যায়॥
কপালে সিন্দুর, কটিতে ঘুঙ্গুর, রতন-নূপুর পায় (মায়ের);
হাসিতে হাসিতে, দানব নাশিতে রুধির লেগেছে গায় (মায়ের)॥
চরণ যুগল, অতি সুশীতল, প্রফুল্ল কমল প্রায় (আ মরি);
কমলাকান্তের মন নিরন্তর, ভ্রমর হইতে চায় (ও পদে)॥
—কমলাকান্ত চক্রবর্তী
↑ Contents
দেখনা সমর আলাে করে কার কামিনী
মল্লার—একতাল
দেখনা, সমর আলাে করে কার কামিনী।
কেরে, সজল জলদ জিনিয়া কায়, দশনে প্রকাশে দামিনী॥
এলায়ে চাঁচর চিকুর পাশ, সুরাসুর মাঝে না করে ত্রাস,
অট্টহাসে দানব নাশে, রণ প্রকাশে রঙ্গিণী॥
কিবা শােভা করে শ্রমজ বিন্দু, ঘনতনু ঘেরি কুমুদবন্ধু,
অমিয় সিন্ধু হেরিয়া ইন্দু, মলিন এ কোন্ মােহিনী॥
এ কি অসম্ভব ভব পরাভব, পদতলে শবসদৃশ নীরব,
কমলাকান্ত কর অনুভব, কে বটে ও গজগামিনী॥
—কমলাকান্ত চক্রবর্তী
↑ Contents
কত চাঁদ শ্রীপদ-নখ
সাহানা—কাওয়ালী
কত চাঁদ শ্রীপদ-নখ—ফাঁদে সুধা আশে,
অরুণ কিরণে নব-নীল-নলিনী হাসে॥
উলঙ্গ রক্তাক্ত কায়, এলােকেশী ভীমা ধায়,
বিধি-হরিহর কাপে ত্রাসে;
হাসি ভাষে স্নেহ ভরে বামা বরাভয় করে,
তনয় হৃদয় সুখে ভাসে॥
ঘাের শ্মশান ভিতরে, শিবা ঘাের রব করে,
সুখে মহাকাল সহবাসে;
বসি শব-শিব-বুকে সুপ্রসন্ন হাসি মুখে,
বিপরীত রতি-রসােল্লাসে॥
রবি শশী এক ঠাই, হেন কভু শুনি নাই,
কঠোরে কোমলে একাবাসে;
অদ্ভুত মরি মরি, এ তত্ত্ব বুঝিতে নারি,
ভয়ঙ্করী তবু ভয় নাশে॥
—স্বামী তপানন্দ
↑ Contents
জীব সাজ সমরে, রণবেশে কাল প্রবেশে তাের ঘরে
ভীমপলশ্রী—একতাল*
জীব সাজ সমরে, রণবেশে কাল প্রবেশে তাের ঘরে।
ভক্তিরথে চড়ি, লয়ে জ্ঞান তূণ, রসনাধনুকে দিয়ে প্রেমগুণ,
ব্রহ্মময়ীর নাম-ব্রহ্ম অস্ত্র, তাহে সন্ধান করে॥
আর এক যুক্তি রণে, চাই না রথরথী, শত্রুনাশে জীব হবে সুসঙ্গতি
রণভূমি যদি করে দাশরথি, ভাগীরথীর তীরে॥
—দাশরথি রায়
* স্বরলিপিঃ সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
লম্বিত গলে মুণ্ডমাল
কানাড়া—একতাল
লম্বিত গলে মুণ্ডমাল দম্ভিতা ধনি-মুখ-করাল,
স্তম্ভিত পদে মহাকাল, কম্পিতা ভয়ে মেদিনী॥
দিগ্বসনা চন্দ্র-ভাল, এলায়ে পড়েছে কেশজাল,
শোভিত অসি করে কপাল প্রখরা শিখরি-নন্দিনী॥
চারিদিকে কত দিক্পাল, ভৈরবী শিবা তাল বেতাল,
অতি অপরূপ রূপ বিশাল কালী কলুষনাশিনী॥
—দাশরথি রায়
↑ Contents
শতকোটি-শশী হাসে (মায়ের) চরণ নখরে
ভৈরবী/ঝাঁপতাল*
শতকোটি-শশী হাসে (মায়ের) চরণ নখরে।
আলাে করে কালােরূপ (মায়ের), হৃদয় কন্দরে॥
প্রীতির সাগর উছলে নয়নে, উজ্জ্বল কপােল প্রসন্ন বয়ানে।
মনে হয় রাখি নয়নে নয়নে।
(বাঁধি) হৃদি কারাগারে, তারে চিরদিন তরে॥
বাঞ্ছা বাধা পড়ে হৃদয় মাঝারে, কোটি মনােহর হর মনােহরে,
উরু চারু অতি চরণ যুগল, হৃদি বিয়াকুল করে।
(তাহে) চাহে মিশিবারে॥
এস এস অয়ি ভুবন মােহিনী সর্বস্ব আমার, আমার জননী।
(মাগাে) ফিরে চাও যদি কৃপা কর যদি
পড়ুক অশনী শিরে-(আমি) লব সাধ করে।
—স্বামী প্রেমেশানন্দ
* পূরবী—একতাল-এও অনেকে এই গান গেয়ে থাকেন।
↑ Contents
আহা তাই শিবের নয়ন ভুলেছে
কালাংড়া—একতাল
(আহা) তাই শিবের নয়ন ভুলেছে,
অনুপম রূপ চিকণ কাল হেরিয়ে॥
তা না হলে ত্রিলােচন পরম যতনে কেন,
শ্রীচরণ হৃদে ধরেছে॥
চাঁদ ভ্রমে চকোরিণী ঘন ভ্রমে চাতকিনী,
নলিনী ভরমে ভ্ৰমরিণী এসেছে;
হারাইয়ে নিজ মণি, ব্যাকুলা হইয়ে ফণী,
ওরূপ নেহারি রয়েছে॥
হারাইয়ে ফুলধনু, অভিমানে ত্যজি তনু
বিরহিণী হৃদয়ে শরণ লয়েছে;
ও রূপ-আনন্দ-নিধি, কমলাকান্তের হৃদি
সরােজে প্রকাশ করেছে॥
—কমলাকান্ত চক্রবর্তী
↑ Contents
কামিনী যামিনী-বরণে বামা কে এল রণে
খট ভৈরবী—একতাল
কামিনী যামিনী-বরণে বামা কে এল রণে।
উলঙ্গ এলােকেশী, বাম করে ধরে অসি, উল্লাসিতা দানব নিধনে॥
পদভরে বসুমতী সভীতা কম্পিতা অতি,
তাই দেখি পশুপতি পতিত চরণে রণে।
শ্রীরামপ্রসাদে কয়, তবে আর কি রে ভয়
অনায়াসে যম জয়, জীবনে মরণে॥
—রামপ্রসাদ সেন
↑ Contents
বলরে বল শ্রীদুর্গা নাম
পাঁচালী
বলরে বল শ্রীদুর্গা নাম।
(ওরে আমার মন রে)
‘দুর্গা’ দুর্গা’ ‘দুর্গা’ ব’লে পথে চলে যায়।
শূল হস্তে শূলপাণি রক্ষা করেন তায়॥
তুমি দিবা তুমি সন্ধ্যা তুমি সে যামিনী।
কখন পুরুষ হও মা কখন কামিনী॥
তুমি বল ছাড় ছাড় আমি না ছাড়িব।
বাজন নূপুর হয়ে মা চরণে বাজিব॥
মীন হয়ে রব জলে নখে তুলে লবে।
শঙ্করী হইয়ে মাগাে গগনে উড়িবে॥
নখাঘাতে ব্রহ্মময়ী যখন যাবেগগা পরাণী।
কৃপা করে দিও রাঙ্গা চরণ দুখানি॥
—দাশরথি রায়
↑ Contents
দোষ কারাে নয় গাে মা
ভীমপলশ্রী—একতাল*
দোষ কারাে নয় গাে মা,
আমি স্বখাত সলিলে ডুবে মরি শ্যামা।
ষড়রিপু হ’ল কোদণ্ডস্বরূপ পুণ্যক্ষেত্রমাঝে কাটিলাম কূপ;
সে কূপে বেড়িল কালরূপ জল, কাল-মনােরমা॥
আমার কি হবে তারিণী, ত্রিগুণধারিণী, বিগুণ করেছে সগুণে;
কিসে এ বারি নিবারি, ভেবে দাশরথির অনিবার বারি নয়নে;
ছিল বারি চক্ষে, ক্রমে এল বক্ষে, জীবনে জীবন কেমনে হয় মা রক্ষে,
আছি তাের অপিক্ষে, দে মা মুক্তি ভিক্ষে, কটাক্ষেতে করে পার॥
—দাশরথি রায়
* স্বরলিপিঃ সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
একি বিকার শঙ্করী, কৃপা-চরণ-তরী পেলে ধন্বন্তরি
বাগেশ্রী—একতাল
একি বিকার শঙ্করী, কৃপা-চরণ-তরী পেলে ধন্বন্তরি।
অনিত্য গৌরব সদা অঙ্গেদাহ,
‘আমার আমার’ একি হল পাপ মােহ,
(তায়) ধনুজনতৃষ্ণা না হয় বিরহ, কিসে জীবন ধরি॥
ওমা, অনিত্য আলাপ, কি পাপ প্রলাপ, সতত সর্বমঙ্গলে;
মায়া-কাকনিদ্রা সদা দাশরথির নয়ন যুগলে;
হিংসারূপ তাহে সে উদরে কৃমি,
মিছে কাজে ভ্রমি, সেই হয় ভূমি,
এ রােগে বাঁচি কি না বাঁচি, তন্নামে অরুচি, দিবস শর্বরী॥
—দাশরথি রায়
↑ Contents
রাখ মা আমায় কোলে করে ও প্রেমরূপিণী
জয়জয়ন্তী—একতাল
রাখ মা আমায় কোলে করে ও প্রেমরূপিণী,
আমার আর কে আছে, রাখবে কাছে, তুই বিনে জননী॥
আমি ঘুমাইলে রাখ কোলে করে,
(আবার) জাগিলে নয়ন মেলে কোথা যাও জননী॥
অবােধ শিশু ছেলে ডাকে মা মা বলে,
আমি কারে ডেকে কা’র মুখ দেখে রইব গাে জননী॥
আমায় (আর) ভুলাইও না, ভুলে থেক না,
তুমি থাক আমার কাছে কাছে দিবস রজনী॥
—অজ্ঞাত
↑ Contents
মা তুমি কে কেউ জানে না
ঝিঝিট-খাম্বাজ-একতাল
মা তুমি কে কেউ জানে না।
তােমায় নানা লােকে বলছে নানা।
বেদাগমে পুরাণেতে বলে গেছে নানাখানা,
তাই যে তােমার ঠিক মহিমা একথা তাে কেউ বলে না।
বেদান্তে যে আছে অন্ত তাতাে কভু যায় না জানা,
সাংখ্য পাতঞ্জল মীমাংসায় মীমাংসা কিছুই হল না॥
অনন্তরূপিণীর অন্ত বৈশেষিকেতেও মিলে না,
চিদাকাশে যার যা ভাসে তাই তাদের বােধের সীমানা॥
প্রেমিক বলে গােলেমালে সেরে গেছে সব ক’জনা,
ব্রহ্মা বিষ্ণু শূলপাণি (তােমার) স্বরূপ দেখতে সবাই কানা॥
—প্রেমিক
↑ Contents
আমার মন যদি যায় ভুলে
ভৈরবী—একতাল*
আমার মন যদি যায় ভুলে।
(তবে) বালির শয্যায় কালীর নাম দিও কর্ণমূলে॥
এ দেহ আপনার নয় রে, সদা রিপু সঙ্গে চলে।
(তবে) আনরে ভােলা জপের মালা, (দেহ) ভাসাই গঙ্গা জলে
ভয় পেয়ে রাজা রামকৃষ্ণ ভােলাপ্রতি বলে।
(আমার) ইষ্ট প্রতি দৃষ্টি খাট, কি আছে কপালে॥
—মহারাজা রামকৃষ্ণ
* স্বরলিপিঃ দিব্যগীতি
↑ Contents
জয় কালী জয় কালী বলে, যদি আমার প্রাণ যায়
বাহার—ঝাপতাল*
জয় কালী জয় কালী বলে, যদি আমার প্রাণ যায়।
শিবত্ব হইব প্রাপ্ত, কাজ কি বারাণসী তায়॥
অনন্তরূপিণী কালী, কালীর অন্ত কেবা পায়,
কিঞ্চিৎ মাহাত্ম্য জেনে, শিব পড়েছেন রাঙ্গা পায়॥
—মহারাজা রামকৃষ্ণ
* স্বরলিপিঃ সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
কখন কি রঙ্গে থাক মা, শ্যামা সুধাতরঙ্গিণী
ছায়া-খাম্বাজ-একতাল
(শ্রীরামকৃষ্ণের প্রিয় গান)
কখন কি রঙ্গে থাক মা, শ্যামা সুধাতরঙ্গিণী
তুমি রঙ্গে ভঙ্গে অপাঙ্গে অনঙ্গে ভঙ্গ দাও জননী॥
লম্ফে ঝম্ফে কম্পে ধরা, অসিধরা করালিনী।
(তুমি) ত্রিগুণা ত্রিপুরা তারা ভয়ঙ্করা কালকামিনী॥
সাধকের বাঞ্ছা পূর্ণ কর নানা-রূপ-ধারিণী॥
(কভু) কমলের কমলে নাচ মা পূর্ণব্রহ্ম-সনাতনী॥
—কমলাকান্ত চক্রবর্তী
↑ Contents
কেন মা তাের পাগলিনী বেশ
বারোয়া—ঠুংরী
কেন মা তাের পাগলিনী বেশ।
পাগলিনী বেশ মা তাের এলােথেলাে কেশ॥
এলায়ে পড়েছে বেণী যেন কালভুজঙ্গিনী,
কটিতে কিঙ্কিণী বাজে, চরণে মহেশ॥
—অজ্ঞাত
↑ Contents
সদানন্দময়ী কালী
মনােহরসাহী ঝাপতাল*
সদানন্দময়ী কালী, মহাকালের মনােমােহিনী গাে মা।
তুমি আপনি নাচ আপনি গাও আপনি দাও মা করতালি॥
আদিভূতা সনাতনী শূন্যরূপা শশী-ভালী।
ব্রহ্মাণ্ড ছিল না যখন, মুণ্ডমালা কোথায় পেলি॥
সবে মাত্র তুমি যন্ত্রী, যন্ত্র আমরা তন্ত্রে চলি।
তুমি যেমন রাখ তেমনি থাকি (মা), যেমনি বলাও তেমনি-বলি॥
অশান্ত কমলাকান্ত দিয়ে বলে গালাগালি।
এবার সর্বনাশী, ধরে অসি, ধর্মাধর্ম দুটোই খেলি॥
—কমলাকান্ত চক্রবর্তী
* স্বরলিপি ঃ সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
তারা তরণী নাম জগমে তরয় কো
আশােয়ারী—ঝাপতাল
তারা তরণী নাম জগমে তরয় কো।
য়্যা জগমে জপু মূঢ় হরে তাপ তন কো॥
আগম নিগম বেদ ব্রহ্মা বখানত।
সংকটহরণি মাত হরে পাপ জনকো॥
জোই জোই ধ্যাবত ইচ্ছাফল পাবত।
আবত ন এহি জগমে পুনরাগমন কো॥
তানতরঙ্গ তুয়া ঘট ঘট বিরাজত।
য়্যাসী অরী মাত কৃপা করন কো॥
—তুলসীদাস
↑ Contents
তুলে নে রাঙ্গা কমল
ছায়ানট—খেমটা
তুলে নে রাঙ্গা কমল, মায়ের১ পায়ে সাজবে ভালাে।
চল ত্বরা, পূজব তারা, থাকবে না মনের কালাে॥
নাচবে শ্যামা হৃদকমলে, ধােব চরণ নয়ন জলে,
বদন ভরে ডাকবাে ওমা! মায়ের রূপে জগৎ আলাে॥
—গিরিশচন্দ্র ঘােষ
১ পাঠান্তর — রাঙা
↑ Contents
ভাব কি! ভেবে পরাণ গেল মায়ের
প্রসাদী—একতাল
ভাব কি! ভেবে পরাণ গেল (মায়ের)।
(যাঁর) নামে হরে কাল, পদে মহাকাল, তার কেন কাল রূপ হল।
কালাে রূপ অনেক আছে, এ বড় আশ্চর্য কালাে,
(যাঁকে) হৃদমাঝারে রাখলে পরে, হৃদয়পদ্ম করে আলাে॥
নামে কালী রূপে কালী কালাে হতেও অধিক কালাে,
(ও রূপ) যে দেখেছে সেই মজেছে, অন্যরূপ লাগে না ভালাে॥
প্রসাদ বলে কুতূহলে, এমন মেয়ে কোথায় ছিল,
না দেখে নাম শুনে কানে, মন গিয়ে তায় লিপ্ত হ’ল॥
—রামপ্রসাদ সেন
↑ Contents
আমি দুর্গা দুর্গা দুর্গা বলে মা যদি মরি
ভীমপলশ্রী—একতাল*
আমি ‘দুর্গা’, ‘দুর্গা’ দুর্গা বলে মা যদি মরি।
আখেরে এ দীনে, না তারাে কেমনে, জানা যাবে গাে শঙ্করী॥
নাশি গাে ব্রাহ্মণ, হত্যা করি জ্বণ, সুরাপান আদি বিনাশি নারী।
এ সব পাতক, না ভাবি তিলেক, ব্রহ্মপদ নিতে পারি॥
—অজ্ঞাত
* স্বরলিপিঃ আনন্দলহরী
↑ Contents
বিফলে দিন যায় মা শ্যামা
মিশ্র বেহাগ—আদ্ধা*
বিফলে দিন যায় মা শ্যামা
কবে দীনে দয়া হবে।
দীন বলে কি দয়াময়ী
চিরদিন দীন পড়ে রবে॥
অভাগা সন্তান যদি,
মা কভু নয় তারে বাদী,
তবে কেন নিরবধি,
একাঙ্গাল পড়ে রবে॥
ষড়রিপু ভীষণ অরি,
পরবশ হয়ে যে মরি,
দে মা শ্যামা চরণ-তরী
ডােবে পুত্র ভবার্ণবে॥
—অজ্ঞাত
* স্বরলিপিঃ আনন্দলহরী
↑ Contents
শ্যামা মা কি আমার কাল রে
মিশ্র মল্লার—একতাল*
শ্যামা মা কি আমার কাল রে।
কালরূপে দিগম্বরী হৃদিপদ্ম করে আলাে রে।
লােকে বলে কালী কাল, আমার মন তাে বলে না কাল রে॥
কখনও শ্বেত কখনও পীত, কখনও নীল লােহিত রে,
(আমি) আগে নাহি জানি কেমন জননী, ভাবিয়ে জনম গেল রে॥
কখনও পুরুষ কখনও প্রকৃতি, কখনও শূন্যরূপা রে,
(মায়ের) এভাব ভাবিয়ে কমলাকান্ত, সহজে পাগল হ’ল রে॥
—কমলাকান্ত চক্রবর্তী
* স্বরলিপিঃ দিব্যগীতি, স্বামী বিবেকানন্দ শেষ দিনে এই গান গেয়েছিলেন।
↑ Contents
ভেবে দেখ মন কেউ কার নয়
কীর্তন—ঝাপতাল
ভেবে দেখ মন কেউ কার নয়, মিছে ভ্রম ভূমণ্ডলে।
ভুলােনা দক্ষিণাকালী বদ্ধ হ’য়ে মায়াজালে॥
যার জন্য মর ভেবে, সে কি তােমার সঙ্গে যাবে।
সেই প্রেয়সী দিবে ছড়া, অমঙ্গল হবে বলে॥
দিন দুই তিনের জন্য ভবে, কর্তা বলে সবাই মানে!
সে কর্তারে দেবে ফেলে কালাকালের কর্তা এলে॥
শ্রীরামপ্রসাদ বলে, শমন যখন ধরবে চুলে,
তখন ডাকবি কালী কালী বলে, কি করিতে পারবে কালে॥
—রামপ্রসাদ সেন
↑ Contents
আমি ঐ খেদে খেদ করি
প্রসাদী—একতাল*
আমি ঐ খেদে খেদ করি।
তুমি মাতা থাকতে আমার জাগা ঘরে চুরি॥
মনে করি তােমার নাম করি, আবার সময়ে পাসরি।
আমি বুঝেছি জেনেছি, আশয় পেয়েছি, এ সব তােমারি চাতুরি॥
কিছু দিলে না, পেলে না, নিলে না, খেলে না, সে দোষ কি আমারি।
যদি দিতে পেতে, নিতে খেতে, দিতাম, খাওয়াইতাম তােমারি॥
যশ, অপযশ, সুরস কুরস, সকল রস তােমারি।
(ওগাে) রসে থেকে রসভঙ্গ, কেন করাে রসেশ্বরী॥
প্রসাদ বলে মন দিয়েছ, মনেরে আঁখি ঠারি।
(ওমা) তােমার সৃষ্টি দৃষ্টি পােড়া মিষ্টি বলে ঘুরি॥
—রামপ্রসাদ সেন
* ‘ভৈরবী’ রাগেও গাওয়া হয়।
↑ Contents
এমনি মহামায়ার মায়া, রেখেছে কি কুহক করে
(মনােহরসাহী) কীর্তন—ঝাঁপতাল*
এমনি মহামায়ার মায়া, রেখেছে কি কুহক করে।
ব্রহ্মা বিষ্ণু অচৈতন্য, জীবে কি তা জানতে পারে॥
বিল করে ঘুনি পাতে, মীন প্রবেশ করে তাতে।
যাওয়া আসার পথ আছে, তবু মীন পালাতে নারে॥
গুটিপােকায় গুটি করে, কাটিলে সে ত কাটতে পারে।
মহামায়ায় বদ্ধ গুটি, আপনার নালে আপনি মরে॥
—কুমার নরচন্দ্ররায়
* স্বরলিপিঃ শ্রীরামকৃষ্ণের প্রিয় সঙ্গীত
↑ Contents
এবার কালী তােমায় খাব
প্রসাদী—একতাল
এবার কালী তােমায় খাব (খাব খাব গাে দীন দয়াময়ী)।
খাব খাব বলি গাে মা উদরস্থ না করিব।
এই হৃদিপদ্মে বসাইয়ে, মনােমানসে পূজিব॥
(তারা গণ্ডযােগে জন্ম আমার)
গণ্ডযােগে জনমিলে১ সে হয় মা-খেকো ছেলে।
এবার তুমি খাও কি আমি খাই মা, দুটার একটা ক’রে যাব॥
হাতে কালী মুখে কালী, সর্বাঙ্গে কালী মাখিব।
যখন আসবে শমন বাঁধবে কষে, সেই কালী তার মুখে দিব॥
যদি বল কালী খেলে, কালের হাতে ঠেকা যাব।
আমায় ভয় কি তাতে, কালী বলে কালেরে কলা দেখাব॥
ডাকিনী যােগিনী দিয়ে, তরকারী বানায়ে খাব।
মুণ্ডমালা কেড়ে নিয়ে অম্বলে সম্বরা চড়াব॥
কালীর বেটা শ্রীরামপ্রসাদ ভালমতে তাই জানাব।
তাতে মন্ত্রের সাধন, শরীর পাতন, যা হবার তাই ঘটাইব॥
—রামপ্রসাদ সেন
১ পাঠান্তর — জন্ম হলে
↑ Contents
মন বলি, ভজ কালী, ইচ্ছা হয় তাের যে আচারে
কালেঙড়া—কাহারবা
মন বলি, ভজ কালী, ইচ্ছা হয় তাের যে আচারে
মুখে গুরুদত্ত মহামন্ত্র দিবানিশি জপ করে॥
শয়নে প্রণাম জ্ঞান, নিদ্রায় কর মাকে ধ্যান;
নগর ফের মনে কর প্রদক্ষিণ শ্যামা মারে॥
চব্য-চোষ্য-লেহ্য-পেয় যত রস এ সংসারে।
আহার কর মনে কর আহুতি দিই শ্যামা মারে॥
যত শােন কর্ণপুটে, সবই মায়ের মন্ত্র বটে;
কালী পঞ্চাশৎ বর্ণময়ী, বর্ণে বর্ণে নাম ধরে॥
আনন্দে রামপ্রসাদ রটে, মা বিরাজেন সর্বঘটে;
ঘটে ঘটে যতরূপ, মা আমার সে রূপ ধরে॥
—রামপ্রসাদ সেন
↑ Contents
মজলাে আমার মন-ভ্রমরা শ্যামাপদ নীল কমলে
সিন্ধু-খাম্বাজ—যৎ*
মজলাে আমার মন-ভ্রমরা শ্যামাপদ নীল কমলে।
(শ্যামাপদ নীল কমলে, কালীপদ নীল কমলে)
যত বিষয়-মধু তুচ্ছ হ’লাে কামাদি কুসুম সকলে॥
চরণ কালাে, ভ্রমর, কালাে, কালােয় কালাে মিশে গেল,
পঞ্চতত্ত্ব, প্রধান মত্ত, রঙ্গ দেখে ভঙ্গ দিলে॥
কমলাকান্তের মনে, আশা পূর্ণ এত দিনে,
(তার) সুখ দুখ সমান হ’ল আনন্দ-সাগর-উথলে।
—কমলাকান্ত চক্রবর্তী
* স্বরলিপিঃ সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
কে জানে মা তব মায়া মহামায়ারূপিণী
মিশ্র আলাহিয়া—ঝাঁপতাল
কে জানে মা তব মায়া মহামায়ারূপিণী!
বিরাজিত সর্বঘটে, মা তুমি বিশ্বব্যাপিনী॥
প্রথমেতে মহাকালী, দ্বিতীয়েতে তারা;
তৃতীয়ে ষােড়শীরূপা, তুমি মা ত্রিপুরা।
চতুর্থে ভুবনেশ্বরী, অপরূপ মাধুরী;
হ’লে মা বিচিত্র নারী হর মনমােহিনী॥
পঞ্চমে পরমেশ্বরী, ভৈরবী আকারা,
বিভূতি ভূষিত অঙ্গে, শিরে জটাভারা;
কি দেখিলাম মা অদ্ভুত, ভূতনাথ আবির্ভূত,
চিত্ত ভীত সশংকিত, হর শূলপাণি (মা)॥
যষ্ঠে ছিন্নমস্তা রূপ ধারণ করিলে,
নিজ মুণ্ড কেটে মাগাে, করেতে রাখিলে।
রক্ত ওঠে মা তিন ধার, এক ধার করে আহার;
আরাে অন্য দুই ধার পিয়ে দুই ডাকিনী॥
সপ্তমেতে ধূমাবতী, অষ্টমে বগলা,
নবমে মাতঙ্গী রূপা, দশমে কমলা,
কি দিয়ে বর্ণিব মাগাে, তুমি বর্ণমালা,
কৃপা করি এ দাসেরে
তারাে গাে মা হররাণী॥
—অজ্ঞাত
↑ Contents
ডুব দেরে মন কালী বলে
প্রসাদী—একতাল*
ডুব দেরে মন কালী বলে; হৃদি-রত্নাকরের অগাধ জলে।
রত্নাকর নয় শূন্য কখন, দু’চার ডুবে ধন না পেলে।
তুমি দম সামর্থে এক ডুবে যাও, কুলকুণ্ডলিনীর কূলে॥
জ্ঞান-সমুদ্রের মাঝে রে মন, শান্তিরূপা মুক্তা ফলে।
তুমি ভক্তি ক’রে কুড়ায়ে পাবে, শিবযুক্তি মত চাইলে॥
কামাদি ছয় কুন্তীর আছে, আহার-লােভে সদাই চলে।
তুমি বিবেক-হলদি গায় মেখে যাও, ছোঁবে না তার গন্ধ পেলে॥
রতন মাণিক্য কত, পড়ে আছে সেই জলে।
রামপ্রসাদ বলে, ঝম্প দিলে, মিলবে রতন ফলে ফলে॥
—রামপ্রসাদ সেন
*স্বরলিপিঃ শ্রীরামকৃষ্ণের প্রিয় সঙ্গীত
↑ Contents
ঘুচিয়ে দে মা ভবের বাসা
প্রসাদী—একতাল
ঘুচিয়ে দে মা ভবের বাসা।
করতে পারিনা আর যাওয়া আসা॥
সুখে শুয়ে সুখের কোলে দেখলাম কত সুখের আশা।
এখন সে আশা নিরাশাপূর্ণ, ঠিক যেন মা মৃগের তৃষা॥
মায়ায় ভুলে মায়ার বলে করিলাম যাদের ভরসা।
ও মা ইহকালে পরকালে তারাই আমার কর্মনাশা॥
পেয়ে এমন সােনার জমি সময়ে হল না চষা।
ও মা ভুলিয়ে দিলে আমায় তখন গােল ক’রে পাঁচ বেটা চাষা॥
প্রেমিক বলে ঠেকে ঠুকে কেটেছে মা মায়ার নেশা,
এখন কৃপা কর কৃপাময়ি করেছি ও পদ ভরসা॥
—প্রেমিক
↑ Contents
ক্ষেপার হাট-বাজার, মা তােদের ক্ষেপার হাট-বাজার
প্রসাদী—একতাল
ক্ষেপার হাট-বাজার, মা তােদের ক্ষেপার হাট-বাজার।
(গুণের কথা কব কার, মা)
তােরা দুই সতীনে কেউ বুকে কেউ মাথায় চড়ি তার॥
কর্তা যিনি ক্ষ্যাপা তিনি ক্ষ্যাপার মূলাধার।
(আবার) চাকলা-ছাড়া চেলা দুটো সঙ্গে অনিবার॥
গজ বিনে গাে আরােহণে ফিরিস্ কদাচার।
মণি মুক্তা ফেলে পরিস্ গলে নরশির হার॥
শ্মশানে মশানে ফিরিস্ কার বা ধারিস্ ধার।
এবার রামপ্রসাদকে ভবঘােরে করতে হবে পার॥
—রামপ্রসাদ সেন
↑ Contents
কাজ কি মা সামান্য ধনে
প্রসাদী—একতাল
কাজ কি মা সামান্য ধনে।
(ও কে) কাদছে গাে তাের ধন বিহনে॥
সামান্য ধন দিলে তারা, পড়ে রবে ঘরের কোণে।
যদি দাও মা আমায় অভয় চরণ, রাখি হৃদি পদ্মাসনে॥
গুরু আমায় কৃপা করে মা যে ধন দিলেন কানে কানে।
এমন গুরু-আরাধিত মন্ত্র, তাও হারালেম সাধন বিনে॥
প্রসাদ বলে কৃপা যদি মা, হবে তােমার নিজগুণে।
আমি অন্তিমকালে জয় দুর্গা বলে, স্থান পাই যেন ঐ চরণে॥
—রামপ্রসাদ সেন
↑ Contents
সুখের বাসনা কর আর কদিন
সুরট-মল্লার—একতাল
সুখের বাসনা কর আর কদিন।
ত্যজি অন্য বােল, ‘কালীকালী’ বল, মানব জনম যদিন॥
পাবে ব্রহ্মপদ, অক্ষয় সম্পদ, স্মরণ করিবে এ দীন।
সৃষ্টি স্থিতি লয়, যা হইতে হয়, সে হবে তােমার অধীন॥
যখন যেমন, বিধির লিখন, সেইরূপে যাবে সেদিন।
ভাবিলে বিষাদ, ঘটিবে প্রমাদ, কালী না বলিবি যেদিন॥
কমলাকান্ত, হইয়ে ভ্রান্ত, ভুলেছ ন’মাস ন’দিন।
বারে বারে আসি, দুঃখ রাশি রাশি, যাতনা সবে আর ক’দিন॥
—কমলাকান্ত চক্রবর্তী
↑ Contents
কালী সব ঘুচালি লেঠা
প্রসাদী—একতাল*
কালী সব ঘুচালি লেঠা।
শ্রীনাথের বচন আছে যেমন মানবি কি না মানবি সেটা॥
শ্মশান পেলে ভালবাস মা তুচ্ছ করি মণিকোঠা।
আপনি যেমন ঠাকুর তেমন ঘুচল না আর সিদ্ধিঘোঁটা॥
তুমি যারে কৃপা কর মা, অপূর্ব তার রূপের ছটা।
(তার) কটিতে কৌপিন জোটে না, গায়ে ছাই আর মাথায় জটা॥
ভূতলে আনিয়ে মাগাে করলি আমায় লােহা পেটা।
তবু কালী বলে ডাকি মা শাবাশ আমার বুকের পাটা॥
সুখে রাখ দুখে রাখ মা, কি করিব দিয়ে খোঁটা।
আমি সাধ করে পরেছি এখন পুঁছতে নারি সাধের ফোঁটা॥
চাকলা জুড়ে নাম রটেছে প্রসাদ ব্রহ্মময়ীর বেটা।
মায়ে পােয়ে এমন ব্যবহার, মর্ম ইহার বুঝবে কেটা॥
—রামপ্রসাদ সেন
* ‘বাঙালির গান’ গ্রন্থে কমলাকান্তের অনুরূপ একটি গান পাওয়া যায়।
↑ Contents
অভয় পদে প্রাণ সঁপেছি
প্রসাদী—একতাল
অভয় পদে প্রাণ সঁপেছি।
আমি আর কি যমের ভয় রেখেছি॥
কালীনাম কল্পতরু, হৃদয়ে রােপণ করেছি
(আমি) এ দেহ বেচে ভবের হাটে, দুর্গানাম কিনে এনেছি॥
দেহের মধ্যে সুজন যে জন, তাঁর ঘরেতে ঘর করেছি।
এবার শমন এলে হৃদয় খুলে, দেখাব ভেবে রেখেছি॥
সারাৎসার তারা নাম, আপন শিখাগ্রে বেঁধেছি।
রামপ্রসাদ বলে, দুর্গা ব’লে, যাত্রা করে বসে আছি॥
—রামপ্রসাদ সেন
↑ Contents
যতনে হৃদয়ে রেখাে, আদরিণী শ্যামা মাকে
কাংড়ালে—ঝাঁপতাল*
যতনে হৃদয়ে রেখাে১, আদরিণী শ্যামা মাকে।
মন তুই দেখ আর আমি দেখি, আর যেন কেউ নাহি দেখে॥
কামাদিরে দিয়ে ফাঁকি, আয় মন বিরলে দেখি
রসনারে সঙ্গে রাখি, সে যেন মা ব’লে ডাকে॥
কুরুচি কুমন্ত্রী যত, নিকট হ’তে দিও নাক,
জ্ঞান নয়নে প্রহরী রেখ, সে যেন সাবধানে থাকে।
কমলাকান্তের মন ভাই আমার এক নিবেদন,
দরিদ্রে পাইলে ধন, সে কি অযতনে রাখে॥
—কমলাকান্ত চক্রবর্তী
* স্বরলিপিঃ সাধন সঙ্গীত
১ পাঠান্তরঃ আদর করে হৃদে রাখাে
↑ Contents
মন কি তত্ত্ব কর তাঁরে, যেন উন্মত্ত আঁধার ঘরে
প্রসাদী, লুম-ঝিঝিট—একতাল
মন কি তত্ত্ব কর তাঁরে, যেন উন্মত্ত আঁধার ঘরে।
সে যে ভাবের বিষয়, ভাব ব্যতীত, অভাবে কি ধরতে পারে॥
অগ্রে শশী বশীভূত কর তব শক্তিসারে।
ওরে কোঠার ভিতর চোরকুঠরী, ভাের হলে সে লুকাবে রে॥
ষড়দর্শনে না পায় দরশন, আগম নিগম তন্ত্রসারে।
সে যে ভক্তিরসের রসিক, সদানন্দে বিরাজ করে পুরে॥
সে ভাব লাগি পরম যােগী, যােগ করে যুগ যুগান্তরে।
হলে ভাবের উদয় লয় সে যেমন, লােহাকে চুম্বকে ধরে॥
প্রসাদ বলে মাতৃভাবে, আমি তত্ত্ব করি যাঁরে।
সেটা চাতরে কি ভাঙ্গবাে হাঁড়ি, বােঝ না রে মন ঠারে-ঠোরে॥
—রামপ্রসাদ সেন
↑ Contents
মন রে কৃষি কাজ জান না
প্রসাদী—একতাল*
মন রে কৃষি কাজ জান না।
এমন মানব জমিন রইল পতিত, আবাদ করলে ফলতাে সােনা॥
কালী নামে দাওরে বেড়া, ফসলে তছরূপ হবে না।
সে যে মুক্তকেশীর শক্ত বেড়া, তার কাছেতে যম ঘেঁসে না॥
অদ্য কিম্বা শতাব্দান্তে, বাজাপ্ত হবে জান না।
এখন আপন একতারে, (মনরে) চুটিয়ে ফসল কেটে নে না॥
গুরুদত্ত বীজ১ রােপণ করে, ভক্তিবারি সেচে দে না।
ওরে একা যদি না পারিস মন, রামপ্রসাদকে সঙ্গে নে না॥
—রামপ্রসাদ সেন
* স্বরলিপি: সাধন সঙ্গীত
১ পাঠান্তর: গুরু রােপণ করেছেন বীজ, ভক্তিবারি তায় সেঁচ না।
↑ Contents
আমায় দে মা পাগল করে
বাউল—জলদ একতাল (ত্রিমাত্রিক ছন্দ)*
আমায় দে মা পাগল করে (ব্রহ্মময়ী)।
আর কাজ নাই মা জ্ঞান বিচারে ৷
তােমার প্রেমের সুরা পানে কর মাতােয়ারা,
ওমা ভক্তচিত্তহরা ডুবাও প্রেমসাগরে॥
তােমার এ পাগলা গারদে, কেহ হাসে কেহ কাদে,
কেহ নাচে আনন্দ ভরে।
ঈশা মুসা শ্রীচৈতন্য, ওমা প্রেম ভরে-অচৈতন্য,
হায় কবে হব মা ধন্য, (ওমা) মিশে তার ভিতরে॥
স্বর্গেতে পাগলের মেলা, যেমন গুরু তেমনি চেলা,
প্রেমের খেলা কে বুঝতে পারে।
তুমি প্রেমে উন্মাদিনী, ওমা পাগলের শিরােমণি,
প্রেমধনে কর মা ধনী, কাঙ্গাল প্রেমদাসেরে॥
—ত্রৈলােক্যনাথ সান্যাল
* স্বরলিপিঃ শ্রীরামকৃষ্ণের প্রিয় সঙ্গীত
↑ Contents
আপনাতে আপনি দেখ, যেও নাকো মন কারাে ঘরে
সিন্ধু-খাম্বাজ—যৎ*
আপনাতে আপনি দেখ, যেও নাকো মন কারাে ঘরে।
যা চাবি এইখানে তা বসে পাবি, খোঁজ নিজ অন্তঃপুরে॥
পরম ধন ঐ পরশ মণি, যে অসংখ্য ধন দিতে পারে।
এমন মণি পড়ে আছে চিন্তামণির নাচ দুয়ারে॥
তীর্থ-গমন দুঃখ ভ্রমণ মন! উচাটন হয়াে না রে,
(তুমি) আনন্দ-ত্রিবেণীর স্নানে শীতল হও না মূলাধারে।
কী দেখ কমলাকান্ত মিছে বাজী এ সংসারে,
ওরে! বাজীকরে চিনলে নারে, (সে যে) তােমার ঘটে বিরাজ করে॥
—কমলাকান্ত চক্রবর্তী
* স্বরলিপিঃ সাধন সঙ্গীত / দিব্যগীতি
↑ Contents
শ্যামা মা কি এক কল করেছে
মনােহরসাহী—ঝাঁপতাল
শ্যামা মা কি এক কল করেছে।
কালী মা কি এক কল করেছে।
এই চোদ্দ পােয়া কলের ভিতরি, কত রঙ্গ দেখাতেছে।
আপনি থাকি কলের ভিতরি, কল ঘুরায় ধরে কল ডুরি,
কল বলে আপনি ঘুরি, জানে না কে ঘুরাতেছে।
যে কলে জেনেছে তাঁরে, কল হতে হবে না তারে,
কোন কলের ভক্তি ডােরে, আপনি শ্যামা বাঁধা আছে।
—অজ্ঞাত*
* কোন বইতে রচয়িতা কমলাকান্ত বলে উল্লিখিত হয়েছে।
↑ Contents
শ্যামা মা উড়াচ্ছে ঘুড়ি
প্রসাদী—একতাল
শ্যামা মা উড়াচ্ছে ঘুড়ি (ভব সংসার বাজার মাঝে)।
(ঐ যে) মন-ঘুড়ি, আশা বায়ু বাঁধা তাহে মায়া দড়ি॥
কাক গণ্ডি মণ্ডি গাঁথা, তাতে পঞ্জরাদি নাড়ি।
ঘুড়ি স্বগুণে নির্মাণ করা, কারিগরি বাড়াবাড়ি॥
বিষয়ে মেজেছে মাঞ্জা, কর্কশা হয়েছে দড়ি।
ঘুড়ি লক্ষে দুটা একটা কাটে, হেসে দেও মা হাত চাপড়ি॥
প্রসাদ বলে, দক্ষিণা বাতাসে, ঘুড়ি যাবে উড়ি।
ভবসংসার সমুদ্র পারে, পড়বে গিয়ে তাড়াতাড়ি॥
—রামপ্রসাদ সেন
↑ Contents
গাে আনন্দময়ী হয়ে মা আমায় নিরানন্দ কোরাে না
ললিত—একতাল*
গাে আনন্দময়ী হ’য়ে মা আমায় নিরানন্দ কোরাে না।
(ওমা) ও দুটি চরণ বিনে আমার মন, অন্য কিছু আর জানে না॥
তপন-তনয়, আমায় মন্দ কয়, [কি বলিব তায় বল না।১]
ভবানী বলিয়ে, ভবে যাব চলে, মনে ছিল এই বাসনা।
অকূল পাথারে, ডুবাবি আমারে (ওমা) স্বপনেও তাতাে জানি না॥
আমি অহর্নিশি শ্রীদুর্গানামে ভাসি, দুঃখ রাশি তবু গেল না।
এবার যদি মরি, ও হর-সুন্দরী, (তাের) দুর্গানাম আর কেউ লবে না॥
—গৌরমােহন রায়
* স্বরলিপি: সাধন সঙ্গীত
১ পাঠান্তর: কি দোষে তাও জানি না
↑ Contents
আয় মন, বেড়াতে যাবি
প্রসাদী—একতাল
আয় মন, বেড়াতে যাবি।
কালীকল্পতরুমূলে রে (মন) চারি ফল কুড়ায়ে খাবি॥
প্রবৃত্তি নিবৃত্তি জায়া, (তার) নিবৃত্তিরে সঙ্গে লবি।
ওরে বিবেক নামে তার বেটারে তত্ত্বকথা তায় শুধাবি॥
প্রথম ভার্যার সন্তানেরে দূরে রইতে বুঝাইবি।
যদি না মানে প্রবােধ, জ্ঞানসিন্ধু মাঝে ডুবাইবি॥
শুচি অশুচিরে লয়ে দিব্য ঘরে কবে শুবি।
যখন দুই সতীনে পিরিত হবে, তবে শ্যামা মাকে পাবি॥
ধর্মাধর্ম দুটো অজা, তুচ্ছ খোঁটায় বেঁধে থুবি।
যদি না মানে নিষেধ, তবে জ্ঞান খেড়্গ বলি দিবি॥
অহঙ্কার অবিদ্যা তাের, পিতামাতায় তাড়িয়ে দিবি।
যদি মােহ গর্তে টেনে লয়, ধৈর্য-খোঁটা ধ’রে র’বি॥
প্রসাদ বলে, এমন হ’লে, কালের কাছে জবাব দিবি।
তবে বাপু বাছা বাপের ঠাকুর, মনের মত মন হবি॥
—রামপ্রসাদ সেন
↑ Contents
ভাবিলে ভাবের উদয় হয়
প্রসাদী—একতাল
ভাবিলে ভাবের উদয় হয়।
যেমন ভাব তেমনি লাভ মূল সে প্রত্যয়।
কালীর ভক্ত জীবন্মুক্ত নিত্যানন্দময়॥
কালীপদ সুধাহ্রদে চিত্ত ডুবে রয়।
যাগ যজ্ঞ পূজা বলি কিছুই কিছু নয়॥
—রামপ্রসাদ সেন
↑ Contents
মন, তাের এমন মা থাকিতে ঘুরে মর এ ভ্রম কেমন
সিন্ধু—যৎ
মন, তাের এমন মা থাকিতে ঘুরে মর এ ভ্রম কেমন।
শব হয়ে শিব সার ভেবে যাঁর হৃদে ধরেন রাঙ্গা চরণ॥
ব্রহ্মানন্দ চাও যদি ভাব শ্যামায় নিরবধি,
আলাে হবে আঁধার হৃদি, জ্ব’লে উঠবে জ্ঞান-তপন॥
মা মা ব’লে সকল ভুলে ডাক দেখি রে হৃদয় খুলে।
লবেন আসি কোলে তুলে স্নেহময়ী করি যতন॥
—স্বামী তপানন্দ
↑ Contents
জাগ জাগ জননী
মূলতানী—একতাল
জাগ জাগ জননী,
মূলাধারে নিদ্রাগত কতদিন গত হল কুলকুণ্ডলিনী।
স্বকার্য সাধনে চল মা শির মধ্যে,
পরম শিব যথা সহস্রদল পদ্মে,
করি ষড়চক্র ভেদ পুরাও মনের খেদ, চৈতন্যরূপিণী।
ঈড়া পিঙ্গলা সুষুম্না, চিনতে পারি এ তিন নাড়ী
ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর শিবরূপে দেবতারা,
নিয়ত জপে তারা, তারা গাে।
তােমার অধিষ্ঠান হয়ে স্বাধিষ্ঠান পরে,
চিন্তাহরা, চলে চিন্তামণিপুরে,
জীবাত্মা যে স্থানে অনাহত চক্রে—
দীপ-শিখার ন্যায় জ্বলে দিবা রজনী॥
এই দেহ-বিশ্বচক্রে, যে বিশুদ্ধ ষােলাে দল
কমল শােভা পায় তাহে অর্ধ নাভি সরে,
সদা সেবা করে শাকিনী নামে শক্তি
তথা ওগাে কুণ্ডলিনি।
করাে গাে গমন আদ্য অক্ষর মধ্যে
দ্বিদল পদ্মে মন করে ষটচক্র ভ্রমণ
কৃষ্ণধনকে সাধন করাও মা সর্বাণি।
—দাশরথি রায়
↑ Contents
জাগাে জাগাে কুলকুণ্ডলিনী
তিলক-কামােদ—কাওয়ালী*
জাগাে জাগাে কুলকুণ্ডলিনী।
আদি শকতি পরাবিদ্যা নারায়ণী, ব্রহ্মসনাতনী, বাগ্-বাদিনী
ত্রিভুবন-মােহিনী, ত্রিজগত-জননী, কোটিবিজলী প্রভা জীবগতি-দায়িনী,
আধারপদ্মে ত্রিকোণপীঠে স্বয়ম্ভ-হর-বেষ্টিনী
(ষড়) চক্রভেদিনী, সহস্রারগামিনী, শিবসঙ্গ-বিলাসিনী জয় জয় যােগিনী,
অকুল সাধকে তুমি কুলদায়িনী, পরমকলা কুলীনা কুলকামিনী
—স্বামী অম্বিকানন্দ
* স্বরলিপি: দিব্যগীতি
↑ Contents
উঠ গাে করুণাময়ী, খােল গাে কুটীর দ্বার
পিলু—যৎ
উঠ গাে করুণাময়ী, খােল গাে কুটীর দ্বার,
আঁধারে হেরিতে নারি, হৃদি কাঁপে অনিবার॥
তারস্বরে ডাকিতেছি তারা তােমায় কতই বার,
দয়াময়ী হয়ে আজি একি হেরি ব্যবহার॥
সন্তানে রাখি বাহিরে, আছ শুয়ে অন্তঃপুরে,
‘মা’‘মা’ বলে ডেকে মাের অস্থি চর্ম হ’ল সার॥
ধ্বনি-বর্ণ-তাল-লয়ে তিন গ্রাম বসাইয়ে,
এত ডাকি তবু নিদ্রা ভাঙ্গে না কি মা তােমার॥
খেলায় মত্ত ছিলেম বলে, বুঝি মুখ বাঁকাইলে,
একবার চাও মা বদন তুলে, খেলিতে যাবনা আর॥
দীন রাম বলে ওমা, কার কাছে যাব আর,
মা বিনে কে লবে আর অকৃতী অধমের ভার॥
— রামলাল দাসদত্ত
↑ Contents
জাগ মা কুলকুণ্ডলিনী, জাগাে মা তুমি নিত্যানন্দ-স্বরূপিণী
ভৈরবী—একতাল*
জাগ মা কুলকুণ্ডলিনী, জাগাে মা তুমি নিত্যানন্দ-স্বরূপিণী
তুমি ব্রহ্মানন্দ-স্বরূপিণী, প্রসুপ্ত ভুজগাকারা, আধার-পদ্মবাসিনী।
ত্রিকোণে জ্বলে কৃশানু, তাপিতা হইল তনু,
মূলাধার ত্যাজ শিবে স্বয়ম্ভু-শিব-বেষ্টিনী॥
গচ্ছ সুষম্নার পথ, স্বাধিষ্ঠানে হও উদিত,
মণিপুর অনাহত বিশুদ্ধাজ্ঞা সঞ্চারিণী॥
শিরসি সহস্রদলে, পরম শিবেতে মিলে,
ক্রীড়া কর কুতূহলে সচ্চিদানন্দদায়িনী॥
— অজ্ঞাত
* স্বরলিপিঃ সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
বারে বারে যত দুঃখ দিয়েছ দিতেছ তারা
খাম্বাজ—যৎ
বারে বারে যত দুঃখ দিয়েছ দিতেছ তারা।
সে কেবল দয়া তব, জেনেছি মা দুঃখহরা॥
সন্তান মঙ্গল তরে জননী তাড়না করে।
(ওমা) তাই বহিতেছি শিরে সুখদুঃখেরি পসরা॥
জিনি অমূল্য রতন, ব্রহ্মময়ী-নাম-ধন,
তারা বলে ডাকি যখন, হই গাে আপনহারা॥
তুমি মা দীন তারিণী, শরণাগত-পালিনী,
আমি ঘাের পাতকী বলে তােমায় হয়েছি হারা॥
আমি মা তাের পােষা পাখী, যা শিখাও মা তাই শিখি,
(ওমা) শিখায়েছ তারা বুলি তাই ডাকি মা তারা তারা॥
— রামলাল দাসদত্ত
↑ Contents
আমার নাই আঁধারের ভয়
মিশ্র দেশ—একতাল
আমার নাই আঁধারের ভয়—
কালাে মায়ের রূপে আলাের
ঝরণা-ধারা বয়॥
সকল জ্ঞানের অতীত যে মা, তাই তাে কালাে আমার শ্যামা,
জ্ঞানরূপী শিব চরণে তাঁর লুটিয়ে পড়ে রয়॥
তাের কালাে রূপের পর্দাখানার আড়াল দিয়ে কালী,
নিভিয়ে দে মা ত্রিতাপ-জ্বালা দহনে জ্বলি॥
আলাের জ্বালায় জ্বলি যত, আঁধার কালী স্নিগ্ধ তত—
ঐ শীতলে নে মা তুলে আলাের করি ক্ষয়॥
— নজরুল ইসলাম
↑ Contents
ওমা তাের কোলে লুকায়ে থাকি
বেহাগ-খাম্বাজ—ঠুংরী
ওমা তাের কোলে লুকায়ে থাকি।
চেয়ে চেয়ে মুখ পানে মা, মা, মা, বলে ডাকি॥
ডুবি চিদানন্দ রসে মহাযােগ নিদ্রাবশে,
হেরি তােমায় অনিমেষে নয়নে নয়ন রাখি॥
দেখে শুনে ভয় করে, হৃদি কেঁপে উঠে ডরে,
রাখ আমায় বুকে করে স্নেহের অঞ্চলে ঢাকি॥
— ত্রৈলােক্যনাথ সান্যাল
↑ Contents
ভবে সেই সে পরমানন্দ
গৌরী—একতাল*
ভবে সেই সে পরমানন্দ।
যে জন পরমানন্দময়ীরে জানে॥
যে জন না যায় তীর্থপর্যটনে কালী ছাড়া কথা না শুনে কানে,
সন্ধ্যা পূজা কিছু না মানে, যা করেন কালী সেই সে জানে॥
কালীর চরণ যে করেছে স্থূল, সহজে হয়েছে বিষয়েতে ভুল,
ভবার্ণবে পাবে সে কূল, মূল হারাবে সে কেমনে॥
রামকৃষ্ণ কয় এমন জনে, লােকের নিন্দা না শুনে কানে।
আঁখি ঢুলু ঢুলু রজনী দিনে কালী নামামৃত-পীযূষ পানে॥
— মহারাজ রামকৃষ্ণ
* স্বরলিপিঃ সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
শ্যামা ধন কি সবাই পায়
পরজ—একতাল*
শ্যামা ধন কি সবাই পায়, রে কালী ধন কি সবাই পায়,
অবােধ মন! বুঝ না একি দায়।
শিবেরও অসাধ্য সাধন, মন! মজানো রাঙ্গা পায়॥
ইন্দ্রাদি সম্পদসুখ তুচ্ছ যে ভাবে মায়।
সদানন্দ সুখে ভাসে, শ্যামা যদি ফিরে চায়॥
যােগীন্দ্র মুনীন্দ্র ইন্দ্র, যে চরণ ধ্যানে না পায়।
নির্গুণ কমলাকান্ত তবু সে চরণ চায়॥
— কমলাকান্ত চক্রবর্তী
* স্বরলিপিঃ সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
কেন রে মন ভাবিস এত, দীনহীন কাঙ্গালের মত
সিন্ধু খাম্বাজ—যৎ
কেন রে মন ভাবিস এত, দীনহীন কাঙ্গালের মত,
আমি যে পেয়েছি মায়ের অক্ষয় ধন অভয়পদ।
একবার যদি মা ব’লে, ডাকি তাঁরে হৃদয় খুলে,
তখন মা ল’য়ে কোলে, মুখে তুলে দেয় অমৃত।
আমার মা ব্রহ্মাণ্ডেশ্বরী, দয়াময়ী ক্ষেমঙ্করী,
সুদর্শনচক্র ধরি, (ধন ধান্য হাতে করি)
আছেন কাছে নিয়ত।
শােরে মন তােরে বলি, আমি মায়ের বলে বলী,
দেহ মন প্রাণ সকলি, তাহারি অন্নে পালিত।
অন্য ধনে কি প্রয়ােজন, পরশমণি মায়ের চরণ,
হৃদয়ে রাখিয়ে সে ধন, কর সুখে কাল গত॥
— ত্রৈলােক্যনাথ সান্যাল
↑ Contents
মা আছেন আর আমি আছি, ভাবনা কি আর আমার
লগ্নী-খাম্বাজ—কাহারবা
মা আছেন আর আমি আছি, ভাবনা কি আর আমার?
আমি মায়ের হাতে খাই পরি, মা লয়েছেন সকল ভার॥
পড়ে সংসার-পাকে ঘাের বিপাকে দেখিয়াছি অন্ধকার;
সেই ঘাের আঁধারে মা আমারে (মাভৈ) বাণী শুনায় বারে বার॥
এসে ছয়জনাতে একই সাথে পথ ভুলায় যে কতবার;
সেই বিপদ হতে ধরে হাতে মা যে করিছে উদ্ধার॥
আমি ভুলে থাকি, তবু দেখি ভােলে না মা একটিবার;
এমন স্নেহের আধার কে আছে আর?
মা যে আমার আমি মা’র॥
— মনােমােহন চক্রবর্তী
↑ Contents
আর কারে ডাকব শ্যামা ছাওয়াল কেবল মাকে ডাকে
ঝিঝিট—পােস্তা
আর কারে ডাকব শ্যামা ছাওয়াল কেবল মাকে ডাকে।
আমি তেমন ছেলে নই মা তােমার ডাকব গাে ‘মা’ যাকে তাকে॥
মা বইত শিশু জানে না, মা বইত কিছু বােঝে না,
মা ছাড়া কভু থাকে না; (আমি) থাকব গাে মা লয়ে কাকে॥
মা যদি সন্তানে মারে, (তবু) শিশু কাঁদে মা মা করে,
ঠেলে দিলে গলা ধরে ছাড়ে না মা যতই বকে॥
জগতজননী হও, পুত্রভার মাগাে লও,
কত আব্দার ছেলের সও, তাইতে তনয় তােমায় ডাকে॥
—মহারাজ মহাতাচাঁদ
↑ Contents
আছে কার মা এমন দয়াময়ী আমাদের মা তুমি যেমন
সিন্ধু-খাম্বাজ—যৎ
আছে কার মা এমন দয়াময়ী আমাদের মা তুমি যেমন।
তুমি সঙ্গে থাক দিবানিশি চোখের আড় কর না কখন
পরীক্ষার অনল জ্বেলে, আপনি দাও মা তাতে ফেলে;
আপনি দাও মা উপায় বলে, যে ভাবে যার বাঁচে জীবন।
তুমি ভালবাস যেমন, আমি ত বাসিনা তেমন,
ভালবাসা শিখাও আমায় (তুমি) আমায় ভালবাস যেমন॥
—কালিশঙ্কর কবিরাজ
↑ Contents
দেহি পদতরণী, জননী
কাফি-সিন্ধু — কাওয়ালী
দেহি পদতরণী, জননী।
দিন দিন যায় দিন, আসে মাগাে সেই দিন
দিনে রেতে তাই তােরে ডাকি দীনতারিণী॥
জানিনা কি বলে আমি ডাকিব গাে মা তােমায়,
শিখায়েছ মা বলিতে মা বলিয়ে ডাকি তাই,
কুপুত্র যদিও হয়, কুমাতা কখনও নয়,
চরণে শরণ তাই লয়েছি নিস্তারিণী॥
সংসার-প্রান্তরে শ্মশান-বাহিনী কূলে,
এ দীন পথিক বসে বিষয়-পাদপ মূলে,
আসে ঐ কাল-ফণী, দংশিতে মােরে জননী,
ত্রাসিত পরাণে তাই ডাকি মা ত্রিনয়নী॥
মায়া মায়াবিনী মােরে কুপথেতে লয়ে যায়,
দেখাও সুপথ মােরে সদা জ্বলি সে জ্বালায়,
যায় যায় প্রাণ যায়, তাই ডাকি মা তােমায়,
অকূলে কর মা কোলে ওমা কুলদায়িনী॥
—রামলাল দাসদত্ত
↑ Contents
আর কিছু নাই সংসারের মাঝে, কেবল শ্যামা সার রে
ছায়ানট — কাওয়ালী
আর কিছু নাই সংসারের মাঝে, কেবল শ্যামা সার রে।
ধ্যান কালী জ্ঞান কালী প্রাণ কালী আমার রে॥
আসিয়ে ভুবনে এ তনু ধারণে যাতনা না হয় কার রে।
(একবার) হেরিলে ও কায়, সব দুঃখ যায়, এই গুণ শ্যামা মার রে॥
এ ভবে এসেছে, কেহ সুখে আছে, পেয়ে শিরে রাজ্যভার।
(আমার) দরিদ্রের দন, ও রাঙা চরণ, গলায় করেছি হার রে॥
কমলাকান্ত, হইয়ে ভ্রান্ত, যাওয়া আসা বারম্বার রে।
(মায়ের) অভয় চরণ, লহরে শরণ, অনায়াসে পাবি পার রে॥
—কমলাকান্ত চক্রবর্তী
↑ Contents
ভজরে শ্যামা পদ পঙ্কজরাজ
কেদার — ঢিমে ত্রিতাল
ভজরে শ্যামা পদ পঙ্কজরাজ,
পিও, পিও, পিও মধু হয়ে মাতােয়ারা॥
মা, মা, মা ঝঙ্কার মন-মধুকর,
ঝরুক অবিরল অখণ্ড অমৃত ধার;
অহর্নিশি অনিমেষে মার মুখ নেহার,
তারা তারা, তারা বলে হয়ে যাও হারা॥
—স্বামী তপানন্দ
↑ Contents
একবার বিরাজ গাে মা হৃদি কমলাসনে
মিশ্র ছায়ানট — দাদরা*
একবার বিরাজ গাে মা হৃদি কমলাসনে।
তােমার ভুবন-ভরা রূপটি একবার দেখে লই মা নয়নে॥
তুমি অন্নপূর্ণা মা, শ্মশানে শ্যামা, কৈলাসেতে উমা, তুমি বৈকুণ্ঠে রমা,
ধর বিরিঞ্চি-শিব-বিষ্ণুরূপ সৃজন-লয়-পালনে॥
তুমি পুরুষ কি নারী, বুঝিতে নারি, স্বয়ং না বুঝালে তা কি বুঝিতে পারি,
তুমি আধা রাধা আধা কৃষ্ণ সাজিলে বৃন্দাবনে॥
তুমি জগতের মাতা, যােগীজনানুগতা, অনুগত জনে কৃপা কল্পলতা,
তােমায় মা বলে ডাকিলে নাকি কোলে নাও ভক্তজনে॥
দুঃখ-দৈন্যহারিণী, চৈতন্যকারিণী, অন্য কিছু চাই না বিনা চরণ দুখানি,
আমি প্রেম-সরােজে সাজাব পদ বাসনা মনে মনে॥
পরিব্রাজক ভিখারী সাধ মনেতে ভারী, মধুহাসিমাখা মার মুখখানি হেরি,
বসে মায়ের কোলে মা মা ব’লে মাতিব যােগধ্যানে॥
—স্বামী কৃষ্ণানন্দ
* স্বরলিপি: আনন্দলহরী
↑ Contents
মাতিয়ে দে মা আনন্দময়ী, একেবারে মেতে যাই
ঝিঝিট — একতাল
মাতিয়ে দে মা আনন্দময়ী, একেবারে মেতে যাই,
তেমনি করে মাতিয়ে দে মা, যেমন মেতেছিলেন রাই॥
দেশে দেশে গ্রামে গ্রামে, তব নামসুধা পানে,
ওমা মাতুক যত নরনারী দেখে শুনে প্রাণ জুড়াই॥
নামসুধা-রস পান করিলে ভব ক্ষুধা যায় মা দূরে,
হয় যে মহাভাবের উদয়, সে সুধা পান করতে চাই॥
—অজ্ঞাত
↑ Contents
এবার আমি ভাল ভেবেছি, ভাল ভাবীর কাছে ভাব শিখেছি
প্রসাদী — একতাল
এবার আমি ভাল ভেবেছি, ভাল ভাবীর কাছে ভাব শিখেছি॥
যে দেশে রজনী নাই, সেই দেশের এক লােক পেয়েছি।
আমি কিবা দিবা, কিবা সন্ধ্যা, সন্ধ্যারে বন্ধ্যা করেছি॥
ঘুম ছুটেছে, আর কি ঘুমাই, যুগে যুগে জেগে আছি।
এবার যার ঘুম তারে দিয়ে, ঘুমেরে ঘুম পাড়িয়েছি॥
সােহাগা গন্ধক মিশায়ে, সােনাতে রং ধরিয়েছি।
মণি-মন্দির মেজে দেব, মনে এই আশা করেছি॥
তােমার পদ তােমায় দিয়ে তােমাতে তােমায় সঁপেছি।
ভবের হাটে এসে এবার, বেচা কেনা সব করেছি॥
প্রসাদ বলে, ভুক্তি মুক্তি উভয়ে মাথায় রেখেছি।
(আমি) কালী ব্ৰহ্ম জেনে মর্ম, ধর্মাধর্ম সব ছেড়েছি॥
—রামপ্রসাদ সেন
↑ Contents
ফিরিয়ে নে তাের বেদের ঝুলি
লুম-ঝিঝিট — একতাল
ফিরিয়ে নে তাের বেদের ঝুলি।
ওমা মজাসনে আর আমায় কালী॥
ভবের খেলা খেলতে ভবে আমাকে একলা পাঠালি।
কি ভাব ভেবে বলনা শিবে, ভানুমতীরে জুটিয়ে দিলি॥
মায়ায় মজে বেদে সেজে বারে বারে যতই খেলি।
(মা তাের) এমনি অধঃপেতে ঝুলি খেলার জিনিস হয় না খালি॥
মনে করি খেলব না আর, ভানুমতীরে ছাড়তে বলি।
(ওমা) এমনি কুহকিনীর কুহক আবার তার কুহকে ভুলি॥
এমন সর্বনেশে মায়া, মহামায়া, কোথায় পেলি।
(আমি) আর যে পারি না শ্যামা, ব’লতে আত্মারামের বুলি॥
প্রেমিক বলে, কি ব’লে মা তনয়ে বেদে সাজালি।
(ওমা) দয়াময়ি! ‘দয়াময়ী’র নামে কালী কালি দিলি॥
—প্রেমিক
↑ Contents
এবার আমি বুঝব হরে
প্রসাদী — একতাল
এবার আমি বুঝব হরে।
(মায়ের) ধরব চরণ লব জোরে।
ভােলানাথের ভুল ধরেছি, বলব এবার যারে তারে।
সে যে পিতা হ’য়ে মায়ের চরণ হৃদে ধরে কোন বিচারে॥
পিতাপুত্রে এক ক্ষেত্রে, দেখা মাত্র বলব তারে।
মায়ের চরণ ক’রে হরণ মিছে মরণ দেখায় কারে॥
মায়ের ধন সন্তানে পায়, সে ধন নিলে কোন্ বিচারে।
আপন ভাল চায় যদি সে চরণ ছেড়ে দিক্ আমারে॥
শিবের দোষ বলি যদি বাজে আপন গা’র উপরে।
রামপ্রসাদ বলে ভয় করিনে, (মার) অভয়চরণের জোরে॥
—রামপ্রসাদ সেন
↑ Contents
মােরে দেহি দেবী দরশন
কাফি-সিন্ধু — কাওয়ালী
মােরে দেহি দেবী দরশন।
আর দুঃখ দিও না দীনে দীন-দয়াময়ী!
দনুজদলনী দেবী, দেব-আরাধ্য ধন॥
জানি মা তব চরণ অপারের সুখতরী,
কি জানি শেষের দিনে পাছে ও পদ পাসরি,
তাই মা আকুল প্রাণে তােমার তরে নেহারি,
লুকায়ে থেকোনা কর দ্রুত পদে আগমন॥
দীন-তারিণী, মম দিন আগত দেখি,
দিনে রাতে তাই তােরে এত পরিত্রাহি ডাকি,
জানিনা জননী আর ক’দিন বা আছে বাকি,
এই বেলা কর আসি দীনের দুঃখমােচন॥
সভয়ে ডাকি অভয়ে কর মা অভয় দান,
ভব ভয় হ’তে দীন রামে কর পরিত্রাণ,
তুমি না করিলে দুঃখ কে করিবে অবসান,
কুপুত্র হয় মা যদি কুমাতা নহে কখন।
—রামলাল দাসদত্ত
↑ Contents
কোন হিসাবে হরহৃদে দাঁড়ায়েছ মা পদ দিয়ে
কাফি — ঠুংরী
কোন হিসাবে হরহৃদে দাঁড়ায়েছ মা পদ দিয়ে।
সাধ ক’রে জিভ বাড়ায়েছ মা, যেন কত ন্যাকা মেয়ে॥
জেনেছি জেনেছি তারা, তারা গাে তাের এমনি ধারা,
তাের মা কি তাের বাবার বুকে দাঁড়িয়েছিল এমনি করে॥
—অজ্ঞাত
↑ Contents
জানি গো জননী, তুমি কেমন লোকের মেয়ে মা
ভৈরবী — ঝাঁপতাল
জানি গো জননী, তুমি কেমন লোকের মেয়ে মা।
পাষাণকুলে জন্ম তোমার পাষাণ তোমার হিয়ে মা॥
অন্নপূর্ণা নাম ধর, অন্নেতে পূর্ণিত কর,
তবে কেন বিশ্বেশ্বর বেড়ায় গরল খেয়ে মা॥
—অজ্ঞাত
↑ Contents
হর ঊরে কেন অভয় চরণ, মম শিরে মাগো দাওনা
ঝিঁঝিট খাম্বাজ — একতাল
হর ঊরে কেন অভয় চরণ, মম শিরে মাগো দাওনা।
ভোলাই শুধু কি তোর এত আপনার, আমি কি তোমার কেউ না॥
শব হয় শিব শ্রীপদপরশে, তবে আমি মাগো এতই ঘৃণ্য কিসে,
চিদানন্দময়ী স্নেহভাষে হেসে, চাও চাও ফিরে চাও না॥
তমোময়ী, অমানিশা ভালবাস, আঁধার হৃদয়ে স্বরূপ প্রকাশ,
মহামায়ে মায়ামোহতমো নাশ, দাও জ্ঞান সুধা পিয়াও না॥
লহ লহ জিহ্বা করিয়া বিস্তার, এস, ধর, পিও হৃদি রক্ত-ধার,
দেহ প্ৰাণ মন সকলি তোমার, নিজ গুণে এসে লও না॥
বিধি বিষ্ণু শিব নাহি পান যাঁয়, আমি ক্ষুদ্র কিসে তুষিব তোমায়
না হলে করুণা, কেবা তোমা পায়, তনয়ে সদয়া হও না।
—স্বামী তপানন্দ
↑ Contents
কি উপায় শংকরী! বল কি করি
কাফি-সিন্ধু — কাওয়ালী
কি উপায় শংকরী! বল কি করি?
অসংখ্য এ বৃত্তিগণে বল নিবারি কেমনে,
সুতীব্র বৈরাগ্য দাও, শকতি দাও পদ স্মরি॥
রসনা স্ববশে আনি রুচি দাও নাম গানে,
ইন্দ্রিয় সকলে টেনে ফিরায়ে লও তব পানে।
বিনাশ সব বিঘ্ন ধেয়ানে, মজাও মন,
প্রকাশ আনন্দ ঘন স্বরূপ হৃদয়ে ধরি॥
—দাশরথি রায়
↑ Contents
দেখা যদি নাহি দিবে কেমনে থাকিব তবে
মিশ্র ভৈরবী — ঢিমে তেতালা
দেখা যদি নাহি দিবে কেমনে থাকিব তবে
মরু সম এই ভবে বল ওগো জননী।
দিন যায়, মাস যায়, বরষও নিঃশেষ-প্রায়
এখনও না দিলি দেখা কেন ওগো ভবানী॥
জীবনপ্রভাতে হায়, কত আশা নিয়ে বুকে
চেয়েছিনু মুখ-পানে ভাবিনু পাইব তোকে;
এবে দেখি সব মিছে, মরীচিকা-সম মায়া
মম দরশন-আশ মিটিল না শিবানী॥
—স্বামী চণ্ডিকানন্দ
↑ Contents
নাম ধরেছ ‘সর্বনাশী’ ডাকব তোরে কি আর বলে
বেহাগ — ঝাঁপতাল
নাম ধরেছ ‘সর্বনাশী’ ডাকব তোরে কি আর বলে।
মা বলতে সাধ হয় না তোমা, মার ব্যাভার তো নাইক মূলে॥
কে শুনেছে এমন কথা হাতে কেটে ছেলের মাথা,
কোন মাতা পরেছে কোথা ছেলের মাথার মালা গলে॥
নাম অভয়া, ভয়ঙ্করী, একি ধারা বুঝতে নারি,
ভয়ে যম যায় না কাছে, পালায় ছুটে নাম শুনিলে।
শুভঙ্করী বলে সবে, কার শুভ করেছ কবে?
নাম নিলে সার ঝুলি কাঁথা, সাক্ষী শিব ঐ চরণতলে॥
বুঝতে নারি তোর মর্ম, নাই কো মা তোর ধর্মাধর্ম,
প্রসবি গ্রাসিছ বিশ্ব, কি রহস্য কোন্ ছলে॥
আগম নিগম তন্ত্রসারে, গুণের কথায় সবাই হারে,
সৃষ্টি ছাড়া কি বেয়াড়া, জোড়া তোর নাইকো মিলে ৷
অপরের কি কব কথা, ভাঙ্গড় ভোলা বৃদ্ধ পিতা,
তোর তরে সার ঝুলি কাঁথা, ভয়ে লুটায় চরণতলে॥
–দেবেন্দ্রনাথ মজুমদার
↑ Contents
তাই কালোরূপ ভালবাসি
প্রসাদী — একতাল
তাই কালোরূপ ভালবাসি, জগমন্মোহিনী মা এলোকেশী।
কালোর গুণ ভাল জানে, শুক শম্ভু দেব ঋষি।
যিনি দেবের দেব মহাদেব, কালোরূপ তাঁর হৃদয়বাসী॥
কালো বরণ ব্রজের জীবন, ব্রজাঙ্গনার মন উদাসী
হলেন বনমালী কৃষ্ণকালী, বাঁশী ত্যজে করে অসি॥
যতগুলি সঙ্গী মায়ের, তারা সকল এক বয়সী
ঐ যে তার মধ্যে কেলে মা মোর, বিরাজে পূর্ণিমার শশী॥
প্রসাদ ভণে অভেদ জ্ঞানে, কালোরূপে মেশামেশি
ওরে একে পাঁচ পাঁচেই এক, মন করো না দ্বেষাদ্বেষি॥
—রামপ্রসাদ সেন
↑ Contents
আমার মনের কালী অঙ্গে মেখে হলি মা’ তুই কালী
মিশ্র — রাগ
আমার মনের কালী অঙ্গে মেখে হলি মা’ তুই কালী।
তাই বুঝি মা মলিন হ’লো অমন রূপের ডালি।
অশান্ত এই ছেলের তরে শান্তি বুঝি নেই মা ঘরে,
ওমা কেশ এলিয়ে শ্মশানে তুই বেড়াস রাজ-দুলালী।
কালো ছেলের মা বলে তুই আপনি হলি কাল বরণ
আমার অনুরাগের রং লেগে মা রাঙ্গা হল যুগল চরণ।
এবার মোর অশ্রুজলে মা তোর কালি যাক মা গলে
তোর রূপের দেউল করবো উজল ভক্তি প্রদীপ জ্বালি॥
—প্রণব রায়
↑ Contents
রাঙা জবা দিতে গিয়ে মরি আমি লজ্জা পেয়ে
মিশ্র — রাগ
রাঙা জবা দিতে গিয়ে মরি আমি লজ্জা পেয়ে
তোর চরণ যে মা আরও রাঙ্গা বনের জবা ফুলের চেয়ে।
এমন রাঙ্গা জবার ডালি কোন্ বনে পাব মা কালী,
আমি চেয়ে চেয়ে দেখি শুধু ধারা বহে নয়ন বেয়ে।
নৃত্য কালীর রূপে মাগো নৃত্যে যখন উঠিস মেতে
পাছে তোর চরণে ব্যথা বাজে শিব দিল তাই হৃদয় পেতে।
ওই চরণে ওমা শ্যামা সন্তানে তোর ঠাঁই দে না মা
মায়ার বাঁধন মুক্ত করে মুক্তকেশী কালো মেয়ে॥
—বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য
↑ Contents
ভয়ঙ্করী তোরে কালী, কে বলে মা তারা
মিশ্র — রাগ
ভয়ঙ্করী তোরে কালী, কে বলে মা তারা
তোর অভয় চরণ ছুঁয়ে মা মোর ভয় হ’ল সব হারা॥
রুদ্রাণী তোর নাচন তালে প্রলয় যখন এগিয়ে চলে,
হয় সেই প্রলয়ের অন্তরালে নূতন ভুবন গড়া॥
মায়া মোহে মত্ত হয়ে জীব যদি রয় ভুলে,
মরণ ছলে তুই মা তারে নিস্ গো কোলে তুলে॥
ভবভয়ে ও শঙ্করী আমি যে মা ভয়ে মরি,
আয় মা হ’য়ে ভয়ঙ্করী ভাঙতে পাষাণ কারা॥
—মঃ সুলতান
↑ Contents
মন, তোর এত ভাবনা কেনে
প্রসাদী
মন, তোর এত ভাবনা কেনে।
একবার কালী ব’লে ব’স রে ধ্যানে॥
জাঁকজমকে করলে পূজা, অহঙ্কার হয় মনে মনে।
তুমি লুকিয়ে তাঁরে করবে পূজা, জানবে না রে জগজ্জনে॥
ধাতু পাষাণ মাটির মূর্তি, কাজ কি রে তোর সে গঠনে।
তুমি মনোময় প্রতিমা করি, বসাও হৃদি-পদ্মাসনে॥
আলো চাল আর পাকা কলা, কাজ কীরে তোর আয়োজনে।
তুমি ভক্তিসুধা খাইয়ে তাঁরে, তৃপ্তি করো আপন মনে॥
ঝাড়-লণ্ঠন বাতির আলো, কাজ কীরে তোর সে রোশনায়ে,
তুমি মনোময় মানিক্য জ্বেলে দেও না জ্বলুক নিশি দিনে॥
মেষ ছাগল মহিষাদি, কাজ কী রে তোর বলিদানে।
তুমি জয় কালী জয় কালী বলে, বলি দেও ষড় রিপুগণে॥
প্রসাদ বলে ঢাক ঢোল, কাজ কীরে তোর সে বাজনে।
তুমি জয় কালী বলি দেও করতালি, মন রেখো সেই শ্রীচরণে॥
—রামপ্রসাদ সেন
↑ Contents
মা মা বলে আর ডাকব না
গৌরী-গান্ধার — একতাল
মা মা বলে আর ডাকব না।
ও মা, দিয়েছ দিতেছ কতই যন্ত্ৰণা॥
ছিলেম গৃহবাসী, করিলি সন্ন্যাসী,
আর কি ক্ষমতা রাখ এলোকেশী,
ঘরে ঘরে যাব, ভিক্ষা মেগে খাব,
মা ব’লে আর কোলে যাব না॥
ডাকি বারে বারে মা মা বলিয়ে,
মা কি রয়েছে চক্ষুকর্ণ খেয়ে,
মা বিদ্যমানে, এ দুঃখ সন্তানে,
মা ম’লে কি আর ছেলে বাঁচে না॥
ভণে রামপ্রসাদ মায়ের কি এ সূত্র,
মা হয়ে হলি মা সন্তানের শত্রু,
দিবানিশি ভাবি, আর কি করিবি,
দিবি দিবি পুন জঠর-যন্ত্রণা॥
—রামপ্রসাদ সেন
↑ Contents
ঘোর অমানিশি কে ঐ ষোড়শী চলিতে চরণ টলেরে
কেদারা—একতাল
ঘোর অমানিশি কে ঐ ষোড়শী চলিতে চরণ টলেরে।
মরি হায় হায়! নব ঘন কায় কতই বিজলি ঝলেরে॥
নিপতিত পশুপতি পদতলে, হাসি অসি-করে দলে রিপুদলে।
জিহ্বা লহ লহ রুধিরাক্ত দেহ মাভৈঃ মাভৈঃ বলেরে॥
কটিতে অসুর-কর-মেখলা আজানুলম্বিত গলে মুণ্ডমালা।
উলঙ্গিনী বালা এলোকুন্তলা, আসব আবেশে চলেরে॥
আয়ত ত্রিনেত্র অরুণ বরণ, স্নেহ ঢল ঢল প্রেম প্রস্রবণ।
মদন-মথন মনোবিমোহন হেরি প্রাণ মন গলেরে॥
উল্লাসে রসনা মা মা ভাষে, অবশ অন্তর অপূর্ব আবেশে।
ধর্মাধর্ম জ্ঞানাজ্ঞান যায় ভেসে আনন্দ সাগর জলেরে॥
—স্বামী তপানন্দ
↑ Contents
লুকাবি কোথায় মা কালী
বাগেশ্রী—দাদরা
(আর) লুকাবি কোথায় মা কালী।
বিশ্বভুবন আঁধার ক’রে তোর রূপে মা সব ডুবালি।
সুখের গৃহ শ্মশান করে বেড়াস মা তুই আগুন জ্বালি।
(আমায়) দুঃখ দেওয়ার ছলে মা, তোর ভুবন ভরা রূপ দেখালি॥
পূজা ক’রে পাইনি তোরে (মাগো) এবার চোখের জলে এলি।
বুকের ব্যথায় আসন পাতা বস মা সেথা দুখ-দুলালী॥
—নজরুল ইসলাম
↑ Contents
বলরে জবা বল
মিশ্র-খাম্বাজ—একতাল
বলরে জবা বল—
কোন সাধনায় পেলি শ্যামা মায়ের চরণ তল?
মায়া তরুর বাঁধন টুটে
মায়ের পায়ে পড়লি লুটে,
মুক্তি পেলি, উঠলি ফুটে আনন্দবিহ্বল।
তোর সাধনা আমায় শেখা জীবন হোক সফল॥
কোটি গন্ধ কুসুম ফুটে বনে মনোলোভা—
কেমনে মার চরণ পেলি তুই তামসিক জবা;
তোর মত মার পায়ে রাতুল
হ’ব কবে প্রসাদী ফুল,
কবে উঠবে রেঙে—
ওরে মায়ের পায়ের ছোঁয়া লেগে উঠবে রেঙে,
কবে তোরই মত রাঙবে রে মোর মলিন চিত্তদল॥
—নজরুল ইসলাম
↑ Contents
তুমিই তবে শ্যামা, কঠিনা কেন মা
ঝিঁঝিট খাম্বাজ—একতাল
তুমিই তবে শ্যামা, কঠিনা কেন মা, মা তো কভু কারও এমন নয়।
বরং এই রীতি, কুসন্তান প্রতি জননীর প্রীতি অধিকই হয়॥
অবিরত কত আকুল অন্তরে, কাতরে কাঁদি মা মা মা স্বরে,
শুনেও শুন না, চাহ না তো ফিরে, বল না বেদনা কতই সয়।
দুর্দৈবে মজিনু খেলা ছলে ভুলে,
সুখে আছি ভেবে ফেলে গেছ চলে,
এস এস কালি, নাও কোলে তুলে, থেকো নাক ভুলে ডাকে তনয়।
ছেড়ে তো দেব না এবার তোমায় পেলে,
সোহাগ জড়ায়ে রব তব গলে,
স্নেহসিন্ধু জলে ডুবে সব ভুলে আমি গ’লে হব আনন্দময়॥
—স্বামী তপানন্দ
↑ Contents
ভুবন ভুলাইলি মা, ভবমোহিনী
ভৈরবী—তিনতাল*
ভুবন ভুলাইলি মা, ভবমোহিনী।
মূলাধারে মহোৎপলে, বীণাবাদ্য-বিনোদিনী॥
শরীর শারীর যন্ত্রে, সুষুম্নাদি ত্রয় তন্ত্রে
গুণ ভেদে মহামন্ত্রে, তিনগ্রাম-সঞ্চারিণী॥**
আধার ভৈরবাকার, ষড়দলে শ্রীরাগ আর,
মণিপুরেতে মল্লার বসন্তে হৃদপ্ৰকাশিনী॥
বিশুদ্ধ হিন্দোল সুরে, কর্ণাটক আজ্ঞাপুরে,
তান-মান-লয়-সুরে ত্রিসপ্ত-সুরভেদিনী॥
মহামায়া মোহপাশে, বদ্ধ কর অনায়াসে,
তত্ত্ব লয়ে তত্ত্বাকাশে স্থির আছে সৌদামিনী।
শ্রীনন্দকুমার কয়, তত্ত্ব না নিশ্চয় হয়,
তব তত্ত্ব গুণত্রয় কাকীমুখ-আচ্ছাদিনী॥
—মহারাজ নন্দকুমার
* স্বরলিপি: সাধন সঙ্গীত
** পাঠান্তর: গুণ ত্রয়বিভাগিনী
↑ Contents
কালো মেয়ের পায়ের তলায় দেখে যা আলোর নাচন
জৌনপুরী—দাদরা
কালো মেয়ের পায়ের তলায় দেখে যা আলোর নাচন।
মায়ের রূপ দেখে দেয় বুক পেতে শিব, যাঁর হাতে মরণ বাঁচন॥
কালো মায়ের আঁধার কোলে শিশু রবি শশী দোলে,
(মায়ের) একটুখানি রূপের ঝলক—স্নিগ্ধ বিরাট নীল গগন॥
পাগলী মেয়ে এলোকেশী নিশিথিনীর দুলিয়ে কেশ,
নেচে বেড়ায় দিনের চিতায় লীলার যে তাঁর নাইক শেষ॥
সিন্ধুতে মার বিন্দু খানিক, ঠিকরে পড়ে রূপের মাণিক,
বিশ্বে মায়ের রূপ ধরে না, মা আমার তাই দিগবসন॥
—নজরুল ইসলাম
↑ Contents
রূপ যদি তোর এতই ভালো মুণ্ডমালা কেন গলে
শঙ্করা—মিশ্র-রাগ
রূপ যদি তোর এতই ভালো মুণ্ডমালা কেন গলে।
দয়াময়ী নাম যদি মা শিব কেন তোর চরণ তলে॥
যার রূপে হয় ভুবন আলো তার কেন হায় বরণ কালো।
যার করুণায় বিশ্ব মাতায় খড়্গ তাহার করতলে॥
যোগী ঋষি তোমার লীলা পায় না আজও ধ্যানের মাঝে।
অভয়া তোর চরণ ছায়া রাখিস আমার হৃদয় মাঝে॥
কাঁদলো তোরই ছেলে মেয়ে শ্যামা মা তোর পথ চেয়ে।
পূজার ডালা সাজিয়েছি মা ব্যথায় ভরা নয়ন জলে॥
—ফটিকচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
↑ Contents
ভুলিস্নে ভুলিস্নে ওমা
খট্ ভৈরবী—যৎ
ভুলিস্নে ভুলিস্নে ওমা
আমি যে তোর অবোধ ছেলে,
আমি যদি থাকি ভুলে,
নিস্ মা কোলে ছেলে ব’লে॥
যে-বাঁধনে বাঁধা থাকি,
হয় না মনে বারেক ডাকি,
(ওমা) দয়াময়ী দিস্নে ফাঁকি,
ভুলিস্নে মা দিন ফুরালে॥
খেলাঘরে ধুলো-খেলা,
যতই খেলি ততই জ্বালা,
ডাকি তোরে বিপদ-বেলা,
চরণ দিস্ মা মরণকালে॥
—কালীপদ ঘোষ
↑ Contents
দুর্গে দুখহারিণী শুম্ভ ঘাতিনী ভবানী বিপদ ভয়বারিণী
দুর্গা—সুরফাকতাল*
দুর্গে দুখহারিণী; শুম্ভ ঘাতিনী ভবানী, বিপদ ভয়বারিণী॥
বিশ্ব জননী শারদে, শুভদে অভয়া বরদে।
দনুজদলনী শিবানী, জগজন প্ৰতিপালিনী॥
শূলখড়্গ ধারিণী, দৈত্যদর্পদারিণী।
সর্বব্যাপিনী চণ্ডিকে, মহামায়া মোহনাশিনী॥
—প্রজ্ঞানানন্দ
*স্বরলিপি: দিব্যগীতি
↑ Contents
পড়িয়ে ভবসাগরে, ডুবে মা তনুর তরী
সরফর্দা—ঝাঁপতাল*
পড়িয়ে ভবসাগরে, ডুবে মা তনুর তরী।
মায়াঝড়, মোহ-তুফান ক্রমে বাড়ে গো শংকরী॥
একে মন-মাঝি আনাড়ী, তাহে ছ'জন গোঁয়ার দাঁড়ি;
কুবাতাসে দিয়ে পাড়ি, হাবুডুবু খেয়ে মরি॥
ভেঙ্গে গেল ভক্তির হাল, ছিঁড়ে পড়ল শ্রদ্ধার পাল,
তরী হ’ল বানচাল, উপায় কি করি?
উপায় না দেখি আর, অকিঞ্চন ভেবে সার,
তরঙ্গে দিয়ে সাঁতার, দুর্গা নামের ভেলা ধরি॥
—রঘুনাথরায় (দেওয়ান)
* স্বরলিপি: দিব্যগীতি
↑ Contents
এস ভীমা ভবানি ভৈরবভামিনি
কেদারা—কাওয়ালী
এস ভীমা ভবানি ভৈরবভামিনি, এস মা, আজি এ শ্মশানে।
এস শোণিতসিক্ত শাণিত অসি নিয়ে, এস মা লোহিত-লোচনে॥
এস অয়ি জননি প্রলয়রূপিণী হয়ে,
দৈত্য-দন্তনাশী বিকট হাসি লয়ে,
খর্পর করে, নরশির ধ’রে, দামিনী জ্বালিয়া দশনে॥
নাচ শব ’পরে, বাজুক দামামা, নাশ গো অসুরে, মৃত্যুরূপিণী মা,
আমি যাব সঙ্গে, মরিতে রঙ্গে, গাহিয়া ‘জয় মা’ সঘনে॥
—স্বামী চণ্ডিকানন্দ
↑ Contents
কে জানেরে কালী কেমন, ষড়দর্শনে না পায় দরশন
রামপ্রসাদী—একতাল*
কে জানেরে কালী কেমন, ষড়দর্শনে না পায় দরশন,
কালী পদ্মবনে হংসসনে, হংসীরূপে করে রমণ।
তাঁকে মূলাধারে সহস্রারে, সদা যোগী করে মনন॥
আত্মারামের আত্মা কালী, প্রমাণ প্রণবের মতন,
তিনি ঘটে ঘটে বিরাজ করেন, ইচ্ছাময়ীর ইচ্ছা যেমন॥
মায়ের উদরে ব্রহ্মাণ্ড-ভাণ্ড, প্রকাণ্ড তা’ জান কেমন।
মহাকাল জেনেছেন কালীর মর্ম, অন্যে কেবা জানে তেমন॥
প্রসাদ ভাষে লোকে হাসে, সন্তরণে সিন্ধুতরণ,
আমার মন বুঝেছে প্রাণ বুঝে না, ধরবে শশী হয়ে বামন॥
—রামপ্রসাদ সেন
*স্বরলিপি: সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
কোথা ভবদারা দুর্গতিহরা, কতদিনে তোর করুণা হবে
দরবারী—একতাল
কোথা ভবদারা দুর্গতিহরা, কতদিনে তোর করুণা হবে?
কবে দেখা দিবি কোলে তুলে নিবি, সকল যাতনা জুড়াবে?
মায়ার সংসারে কর্ম কোলাহলে, শ্রীপদ দু’খানি রয়েছি গো ভুলে;
বিবেক-বৈরাগ্য তুমি নাহি দিলে মোহ-ভ্রান্তি কিসে টুটিবে?
আয়ু সূর্য মোর বসিতেছে পাটে, কোথা ব্রহ্মময়ী এস তুমি ছুটে;
তনয়ে তারো মা এ ঘোর সংকটে তুমি বিনে কে আর তারিবে?
—অজ্ঞাত
↑ Contents
এস মা এস. মা, ও হৃদয় রমা, পরাণ-পুতলী গো
ই-পূরবী—একতাল*
এস মা এস. মা, ও হৃদয় রমা, পরাণ-পুতলী গো,
(এস মা, পাপীতাপীর গতি কর গো)
(মম) হৃদয়-আসনে একবার হও মা আসীন, নিরখি তোমারে গো।
আছি জন্মাবধি তব মুখ পানে চেয়ে, ধরি এ জীবন যে যাতনা সয়ে;
(তা’তো তুমি জান মা, অবোধ সন্তানের দুঃখ )
একবার হৃদয় কমল বিকাশ করিয়ে, প্রকাশ তাহাতে গো।
—পুণ্ডরীকাক্ষ মুখোপাধ্যায়
* স্বরলিপি: সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
মা আমাদের এসেছে আজ, আর মোরা ভয় করি কারে
কানাড়া—একতাল
মা আমাদের এসেছে আজ, আর মোরা ভয় করি কারে।
দুঃখ-বিপদ তুচ্ছ করি চলব মোরা এ সংসারে॥
মা’র পায়ে যে শরণ লয়, তার কি থাকে মরণ-ভয়?
শিব হয়েছেন মৃত্যুঞ্জয় মায়ের চরণ হৃদে ধরে॥
এই মিনতি ও মা তারা, হই না যেন দিশেহারা,
তোমার কাজে বাঁচবো মোরা, মরিব তোমারি তরে॥
—স্বামী চণ্ডিকানন্দ
↑ Contents
কত ভালবাস গো মা মানব সন্তানে
খাম্বাজ—একতাল*
কত ভালবাস গো মা মানব সন্তানে, (পাপী)
মনে হলে প্রেমধারা বহে দুনয়নে গো মা।
তব পদে অপরাধী, আছি আমি জন্মাবধি,
তবু চেয়ে মুখ পানে প্রেমনয়নে, ডাকিছ মধুর বচনে,
মনে হলে প্রেমধারা বহে দুনয়নে।
বার বার প্রেমভরে ডাকিছ গো মা!
(প্রেম-বাহু প্রসারিয়ে, স্নেহে বিগলিত হয়ে, আয় আয় আয় বলে,
অপরাধ ক্ষমা করে, হাসিমুখে প্রেমভরে, ও মা আনন্দময়ী,
জীবের দশা মলিন দেখে, ডাকিছ গো মা!)
আমাদেরই জন্যে স্বর্গ-নিকেতনে গো মা,
কত সুখ শান্তি, অতুল সম্পত্তি, রেখেছ যতনে,
নিত হাতে সাজাইয়ে বিবিধ বিধানে গো মা!
তোমার প্রেমের ভার, বহিতে পারি না গো আর,
প্ৰাণ উঠিছে কাঁদিয়া, হৃদয় ভেদিয়া, তব স্নেহ দরশনে,
লইনু শরণ মা গো তব শ্রীচরণে গো মা॥
—ত্রৈলোক্যনাথ সান্যাল
* ব্রহ্মসঙ্গীত স্বরলিপি—৭
↑ Contents
অম্ব অন্নপূর্ণে, আবিরেহি ভো ভবানী
(অন্নপূর্ণা)
মিশ্র-খাম্বাজ—জলদ একতাল
অম্ব অন্নপূর্ণে, আবিরেহি ভো ভবানী!
নমো কিংকর, মোহ ঘোর হর আসি কাশীরানি।
বিশ্বেশ্বর হর ত্রিপুরারি মাগো তব আগে সাজি ভিখারী;
কেন মোরা দীন মা মহেশ্বরি যাদের হেন কল্যাণী?
পীযূষ সিঞ্চি পদনখকোণে শকতি সঞ্চার নারী-নর প্রাণে,—
আনন্দ দাও নাশ রিপুগণে রাখগো পরমেশানী!
ধন, ধর্ম, অন্ন, বিদ্যা, বুদ্ধি, বল, সকল ভারতে করি সমুজ্জ্বল,
দে মা সমদৃষ্টি, প্রেম নিরমল, সবে কর মহাজ্ঞানী॥
—স্বামী তপানন্দ
↑ Contents
সত্য তুমি মৃত্যুরূপা কালী
বাগেশ্রী—ত্রিতাল*
‘সত্য তুমি মৃত্যুরূপা কালী’ -মা তোমার মায়ার ছায়া সুখবনমালী
‘বিষকুম্ভ ভরি বিতরিছ জনে জনে';
‘মহামারী’ হয়ে তুমি বিনাশিছ জীবগণে,
কম্পিত সুরনর তব ভীম গরজনে ভীষণ হইতে তুমি ভয়ালী
সমর উল্লাসে নাচ সুজন-পালন লয়ে,
তবু ‘শুধু দয়াময়ী’ তোমারে বলি মা ভয়ে।
ভেঙ্গে দাও সুখ-আশ, কাট মা করম-পাশ লহ লহ এ জীবন-ডালি॥
—স্বামী চণ্ডীকানন্দ
* স্বরলিপিঃ শ্রীমাতৃমন্দির, জয়রামবাটী কর্তৃক প্রকাশিত ‘ভজন সঙ্গীত’ গ্রন্থ দ্রষ্টব্য
↑ Contents
জাগো, ওগো দয়াময়ি জননি
ইমন মিশ্র—কাওয়ালী
জাগো, ওগো দয়াময়ি জননি,
তব মন্দির দ্বারে আজি, মিলিত তব সন্তানগণ॥
দেশ দেশান্তর করি অনুসন্ধান কুসুম চন্দন,
আজি এনেছি জননি, পূজিতে তব চরণ॥
তব মঙ্গল মন্ত্রে তোমারি সন্তান, বিস্মৃত-গর্ব-ভেদ-অভিমান;
নব আশায় পুলকিত প্রাণ,
দেহ শিক্ষা নব দীক্ষা, জননি, মেলি করুণা-নয়ন॥
করে আশীষ তুলি পুণ্য পাণি, শুনাও সন্তানে অভয় বাণী;
শত বিষাদ দৈন্য সরম মানি পড়ুক সরিয়া;
(আজি) দিকে দিকে তব বিজয়শঙ্খ উঠুক বাজিয়া বাজিয়া,
পুলক-উৎসবে, হোক পরিপুরিত মম দীন ভবন॥
—অজ্ঞাত
↑ Contents
ঘোর তামসী মোহনিশি মাগো কবে হবে অবসান
বেহাগ—একতালা
ঘোর তামসী মোহনিশি মাগো কবে হবে অবসান।
(কবে) ঊষার আলোকে পরম পুলকে গাহিব তোমারি গান॥
তৃষিত চাতক প্রায়,
তব কৃপাকণা বরিষণ আশে ডাকিব শুধু তোমায়;
নবঘনরূপে এসে, স্নিগ্ধ করিবে আনন্দ সিঞ্চনে তপ্ত হৃদয়াকাশে,
শীতল শান্তি সমীরে অলসে ঢেলে দিব মনপ্ৰাণ॥
হ’য়ে তব ভাবে ভোর, চরণ-নখর-শশধর-সুধা লভি এ চিত চকোর,
অহরহ মাতোয়ারা, পরাণ ভরিয়া করিব পান অবিরল সুধাধারা,
হাসি হাসি আসি কালী এলোকেশী, করিবে অভয় দান।
সুধায় ডুবিব সুধাময় হব সুধায় করিব স্নান॥
—স্বামী তপানন্দ
↑ Contents
কবে সমাধি হবে শ্যামা চরণে
ভৈরবী—আড়াঠেকা
কবে সমাধি হবে শ্যামা চরণে।
অহংতত্ত্ব দূরে যাবে সংসার বাসনা সনে।
উপেক্ষিয়ে মহত্তত্ত্ব, ত্যজি চতুর্বিংশ তত্ত্ব।
সর্বতত্ত্বাতীত তত্ত্ব, দেখি আপনে আপনে।
জ্ঞানতত্ত্ব ক্রিয়াতত্ত্বে, পরমাত্মা আত্মতত্ত্বে,
তত্ত্ব হবে পরতত্ত্বে, কুণ্ডলিনী জাগরণে।
শীতল হইবে প্রাণ, আপনে পাইব প্রাণ,
সমান উদান ব্যান, ঐক্য হবে সংযমনে।
কেবল প্রপঞ্চ পঞ্চ, ভূত পঞ্চময় তঞ্চ।
পঞ্চে পঞ্চেন্দ্রিয় পঞ্চ, বঞ্চনা করি কেমনে।
করি শিবা শিবযোগ, বিনাশিবে ভব রোগ,
দূরে যাবে অন্য ক্ষোভ, ক্ষরিত সুধার সনে।
মূলাধারে বরাসনে, ষড়দল ল’য়ে জীবনে,
মণিপুরে হুতাশনে, মিলাইবে সমীরণে।
কহে শ্রীনন্দকুমার, ক্ষমা দে হরি নিস্তার,
পার হবে ব্রহ্মদ্বার, শিবশক্তি আরাধনে॥
—দেওয়ান নন্দকুমার
↑ Contents
শ্ৰীশ্ৰীকৃষ্ণ সঙ্গীত
ধ্যান
ধ্যান
ওঁ ফুল্লেন্দীবরকান্তিমিন্দুবদনং বাবতংসপ্রিয়ং
শ্রীবৎসাঙ্কমুদারকৌস্তুভধরং পীতাম্বরং সুন্দর।
গােপীনাং নয়নােৎপলার্চিততনুং গােগােলসংঘাবৃতং,
গােবিন্দং কমবেণুবাদনপরং দিব্যাঙ্গভূষং ভজে॥
↑ Contents
প্রণাম
প্রণাম
কৃষ্ণায় বাসুদেবায় হরয়ে পরমাত্মনে।
প্রণত-ক্লেশনাশায় গােবিন্দায় নমাে নমঃ ॥
↑ Contents
শ্রীকৃষ্ণ-বন্দনা
শ্রীকৃষ্ণ-বন্দনা*
নবীন-মেঘ সন্নিভং সুনীল-কমলচ্ছবি।
সুহাসরঞ্জিতাধরং নমামি কৃষ্ণ-সুন্দরম্ ॥১
যশোদানন্দনন্দনং সুরেন্দ্রপাবন্দন।
সুবৰ্ণরত্নমণ্ডনং নমামি কৃষ্ণ-সুন্দরম্ ॥২
ভবাক্কিকর্ণধারকং ভয়ার্তিনাশকারক।
মুমুক্ষু-মুক্তি-দায়কং নমামি কৃষ্ণ-সুন্দরম্ ॥৩
* স্বরলিপি ঃ সুরবিতান
↑ Contents
মধুরাষ্টকম্
মধুরাষ্টকম্
অধরং মধুরং বদনং মধুরং নয়নং মধুরং হসিতং মধুর।
হৃদয়ং মধুরং গমনং মধুরং মধুরাধিপতেরখিলং মধুরম্ ॥১
বচনং মধুরং চরিতং মধুরং বসনং মধুরং বলিতং মধুর।
চলিতং মধুরং ভ্ৰমিতং মধুরং মধুরাধিপতেরখিলং মধুরম্ ॥২
বেণুমধুরাে রেণুমধুরঃ পাণির্মধুরঃ পাদৌ মধুরৌ।
নৃত্যং মধুরং সখ্যং মধুরং মধুরাধিপতেরখিলং মধুরম্ ॥৩
গীতং মধুরং পীতং মধুরং ভুক্তং মধুরং সুপ্তং মধুর।
রূপং মধুরং তিলকং মধুরং মধুরাধিপতেরখিলং মধুরম্ ॥৪
করণং মধুরং তরণং মধুর হরণং মধুরং রমণং মধুর।
বমিতং মধুরং শমিতং মধুরং মধুরাধিপতেরখিলং মধুরম্ ॥৫
গুঞ্জা মধুরা মালা মধুরা যমুনা মধুরা বীচি মধুরা।
সলিলং মধুরং কমলং মধুরং মধুরাধিপতেরখিলং মধুর ॥৬
গােপী মধুরা লীলা মধুরা যুক্তং মধুরং ভুক্তং মধুর।
হৃষ্টং মধুরং শিষ্টং মধুরং মধুরাধিপতেরখিলং মধুরম্ ॥৭
গােপা মধুরা গাবাে মধুরা যষ্টিমধুরা সৃষ্টিমধুরা।
দলিতং মধুরং ফলিতং মধুরং মধুরাধিপতেরখিলং মধুরম্ ॥৮
ইতি শ্রীবল্পভাচার্যবিরচিতং মধুরাষ্টকং সমাপ্ত।
↑ Contents
রিণি ঝিণি রিণি ঝিণি মঞ্জীর বাজে
ভজন
রিণি ঝিণি রিণি ঝিণি মঞ্জীর বাজে,
বাজে, বাজে, বাজে মন-মাঝে।
বহে যমুনা উজান, গাহে কল কল গান
‘মীরাকে’ চিত-চোর গিরিধারী নাগর
নাচত অঙ্গন-মাঝে।
শুনি মূরলী-ধ্বনি মধু মাধবী রাতে
ঝরে প্রেমের সলিল মম নয়ন পাতে,
মম চিত্তের বান গাহে আনন্দ গান
হৃদি-যমুনা-তীরে শুনি কল কল তান।
এস কৃষ্ণ-মুরারি, সুন্দর গিরিধারী,
(এস) মীরাকে হৃদয় মাঝে।
—মীরাবাঈ
↑ Contents
কিবা ঘাের নিশায়
বেহাগ-একতাল
“কিবা ঘাের নিশায়।”
নিখিল জগত ঝিল্লিরবাবৃত জীবগণ যত অলসে ঘুমায়।
এমন সময় পতিত-পাবন, জগত-জীবন ব্রহ্ম সনাতন,
ত্যজিয়া সাধের বৈকুণ্ঠ ভুবন অবতীর্ণ হ’তে আইলেন ধরায় ।
রােহিণী নক্ষত্র অষ্টমী তিথিতে, দেবকী-জঠর-সাগর হইতে,
শ্রীকৃষ্ণচন্দ্রমা উদিল ভারতে নাশিতে জীবের ভার।
বসুদেব অতি কাতর অন্তরে, তিমিরে-তিমির-মণি কোলে করে,
বাসুকী মাথায় ফণীছত্র ধরে হাঁটিয়া যমুনা পার হয়ে যায়।
—অজ্ঞাত
↑ Contents
সুখ বৃন্দাবনে বহে প্রেমলহরী
রামকেলী—কাওয়ালী
সুখ বৃন্দাবনে বহে প্রেমলহরী।
লীলাছলে আসি, লয়ে ব্রজবাসী আপনা পাসরি আছেন শ্রীহরি।
নবজলধর বরণ সুন্দর,
কিবা নটবর বেশ মনােহর,
চাদের নিছনি জিনিয়া লাবণী, প্রেমপীযূষখনি বদনে বাঁশরী ॥
দিবসে রাখাল চরান গােপাল, নিশি আগমনে ব্রজগােপীসনে;
প্রেমের মিলনে লীলা-নিধুবনে, স্থির-বিজলী বামে রাধা রাসেশ্বরী।
নানা ছাঁদে বাজে মূরলী মধুর, আকুল গােকুল শ্রবণে সে সুর
তরুশাখে নাচে ময়ূরী ময়ূর, গােপী চলে জলে ফেলিয়া গাগরী ।
—অজ্ঞাত
↑ Contents
তুমি কি গাে শুধু খেয়েছিলে ননী
মালকোষ—তেওরা
তুমি কি গাে শুধু খেয়েছিলে ননী, তুমি কি শুধুই বংশীধারী?
তুমি কি শুধুই শ্যাম নটবর, মােহেছিলে শুধু ব্ৰজেরি নারী?
নহ কি গাে তুমি অসুরবিনাশী, কংস-পূতনা-কৌরব-ত্রাসি,
ধরম স্থাপনে স্বজন-বিনাশী কৃষ্ণ সুদর্শন-ধারী ?
তুমি কিগাে শুধু সুখবনমালী, নহ তুমি শ্যামা করালিনী কালী,
ভৈরবী, ভীমা, নরমুণ্ডমালী, জনগণ-ভয়-হারী ?
শিখাইতে জ্ঞান করম ভকতি, এস হে আবার পার্থসারথি,
দূর কর নাথ মম দুরমতি, মােহতিমির নিবারি’ ॥
—স্বামী চণ্ডিকানন্দ
↑ Contents
ঢল ঢল কাচা অঙ্গের লাবণি
শ্রীরাগ-খয়রা
ঢল ঢল কাচা অঙ্গের লাবণি, অবনী বহিয়া যায়।
ঈষৎ হাসির তরঙ্গ হিলােলে মদন মূরছা পায়।
কিবা সে নাগর, কিখনে দেখিনু, ধৈরজ রহল দূরে।
নিরবধি মাের চিত বেয়াকুল, কেনবা সদাই ঝুরে ।
হাসিয়া হাসিয়া অঙ্গ দোলাইয়া, নাচিয়া নাচিয়া যায়।
নয়ন কটাখে, বিষম বিশিখে, পরাণ বিধিতে চায় ।
মালতী ফুলের, মালাটি গলে, হিয়ার মাঝারে দোলে।
উড়িয়া পড়িয়া, মাতল ভ্রমর, ঘুরিয়া ঘুরিয়া বােলে ৷
কপালে চন্দন, ফেঁাটার ছটা লাগিল হিয়ার মাঝে।
জানি কি ব্যাধি, মরমে বাঁধল, না কহি লােকের লাজে ।
এমন কঠিন, নারীর পরাণ, বাহির নাহিক হয়।
জানি কি জানি, হয় পরিণামে, দাস গােবিন্দ কয়।
—গােবিন্দ দাস
↑ Contents
নব জলধর পীতাম্বর শ্যাম
দরবারী—একতালা
নব জলধর পীতাম্বর শ্যাম বিপিনচারী।
বঙ্কিম ঠাম কুসুম ভূষণ গােপনারী-মনােহারী।
অতুল রাতুল চরণ রাজে, ধীর মধুর নূপুর বাজে।
মােহন সাজে মােহে ফুলধনু, নটবর বনােয়ারী।
সুধাকর কিবা শ্রীমুখকমল প্রেমপীযুষ-ঢলঢলঢল,
বিমল ফুল্ল অধরযুগল মধুরমুরলীধারী।
—অজ্ঞাত
↑ Contents
বাজে শ্যামের মােহন বেণু
পূরবী—একতাল
বাজে শ্যামের মােহন বেণু বেণু-রব শুনে জুড়াল তনু।
যে বনে বাজিছে সেই বনে যাই, এ ছার জীবনে আর কাজ নাই,
পুরাইব আশ মন অভিলাষ, হয়ে থাকি শ্যামের চরণ-রেণু ৷৷
পঞ্চমেতে পাখী ধরিয়াছে গান, পবন দাঁড়ায়ে শুনিতেছে তান,
যাঁহার নামেতে যমুনা উজান, হাম্বা হাম্বা রবে ডাকিত ধেনু ।
—গিরিশচন্দ্র ঘােষ
↑ Contents
শ্যাম কলেবরধারী বনবারী
পিলু বারোয়া—কাওয়ালী
শ্যাম কলেবরধারী বনবারী।
ব্রহ্মা জিনকে পার ন জানে, জিনকী মহিমা বেদ বাখানে
সন্তানকে হিতকারী বনবারী ।
ত্যজি গােলক নবরূপ ভয়াে হায় গােয়াল বাল সব সাথ মিলে হ্যায়
কিয়ে মাখন কী চোরি বলিহারি বনবারী ।
শুনি ধ্বনি মুরলী বৃন্দাবন মে,
সুধ ন রহত কছু গােপী তনমে,
ভই সকলবনচারী কুলনারী বনবারী ।
কংসাসুর অরূ কালীয়মর্দন,
ভক্তবছল কেশব মধুসূদন,
ধ্রুব প্রহ্লাদ উধারী শুভকারী বনবারী ।
—অজ্ঞাত
↑ Contents
লটকি লটকি চলত মােহন আবে
খাম্বাজ-একতাল
লটকি লটকি চলত মােহন আবে।
আবে মােহন অধরে মুরলী মধুর মধুর বাজে।
চঞ্চল কুণ্ডল চপল দোলনী মৌর মকুট চন্দ্র কলনী,
মন্দ হসনী জিয়কী রহনি মােহন মূরতি রাজে৷৷
ভ্রকুটি-কুটিল কজ্জল নয়ন, অধর অরুণ মধুর বয়ান,
গতি গয়ন্দ চারু তিলক ভাল পর বিরাজে।
লছমনদাস শ্যামরূপ নখশিখ শােভা অনুপ,
রসিক ভূপ বদন নিরখি কোটি মদন লাগে ।
—লছমনদাস
↑ Contents
চন্দ্রকিরণ অঙ্গ নমাে বামনরূপধারী
সুরট মিশ্র-একতাল
চন্দ্রকিরণ অঙ্গ নমাে বামনরূপধারী।
গােপীগণ-মনােমােহন, মঞ্জুকুঞ্জ-চারী
ব্রজবালক সঙ্গ, মদন-মান-ভঙ্গ, উন্মাদিনী ব্রজকামিনী উন্মাদ তরঙ্গ,
দৈত্য-ছলন নারায়ণ, জয় জয় গিরিধারী;
ব্রজবিহারী, গােপনারী-মান-ভিখারী, জয় রাধে শ্রীরাধে।
—গিরিশচন্দ্র ঘােষ
↑ Contents
কেশব কুরু করুণা দীনে
দেশ মিশ্র-একতাল*
কেশব কুরু করুণা দীনে, কুঞ্জকাননচারী।
মাধব মনােমােহন, মােহন মুরলীধারী ॥
(হরিবােল, হরিবােল, হরিবােল, মন আমার)
ব্রজকিশাের, কালীয়হর, কাতর-ভয়-ভঞ্জন,
নয়ন বাঁকা, বাঁকা শিখপাখা, রাধিকা-হৃদি-রঞ্জন,
গােবর্ধনধারণ, বনকুসুমভূষণ, দামােদর কংসদর্পহারী।
শ্যাম রসরাসবিহারী, (হরিবােল, ইত্যাদি)।
- গিরিশচন্দ্র ঘােষ
* স্বরলিপি ঃ সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
মাধব বহুত মিনতি করি তােয়
কীর্তন-খয়রা
মাধব, বহুত মিনতি করি তােয়।
দেই তুলসী তিল, দেহ সমর্পিল, দয়া জনু ন ছােড়বি মােয় ।
গণইতে দোষ, গুণলেশ না পাওবি, যব তুহু করবি বিচার।
তু জগন্নাথ জগতে কয়সি, জগ বাহির নহি মুঞি ছার।
কিয়ে মানুষ পশু পাখী কিয়ে জনমিয়ে, অথবা কীট পতঙ্গ।
করম-বিপাকে গতাগতি পুনপুন, মতি রুহু তুয়া পুরসঙ্গ ।
ভনয়ে বিদ্যাপতি অতিশয় কাতর, তরইতে ইহ ভবসিন্ধু।
তুয়া পদপল্লব করি অবলম্বন, তিল এক দেহ দীনবন্ধু ।
—বিদ্যাপতি
↑ Contents
(আমার) আঁখিতে রহগাে নন্দদুলাল
ভজন—তিনতাল
(আমার) আঁখিতে রহগাে নন্দদুলাল।
মােহন মূরতি সুন্দর জ্যোতি নয়ন অতি বিশাল।
অধরে অমৃত মুরলী বােলে গলেতে বিজয়মাল।
কটীদেশে শােভে ঘণ্টি মেখলা, মঞ্জিলে মধুঢ়াল ।
রুণু-ঝুনু রুণু-ঝুনু নূপুর বােলে, চরণে চরণে চলে তাল।
চিত নন্দন মাের শ্যামল মনের গােপন পুরে ভাঙ্গিল আগল।
মীরা চিতচারী শ্যাম গিরিধারী, ভকত হৃদয় গােপাল ৷
—মীরাবাঈ
↑ Contents
কঁহা জীবন ধন বৃন্দাবন প্রাণ
বেহাগ—কাওয়ালী
কঁহা জীবন-ধন বৃন্দাবন-প্রাণ কঁহা মেরী হৃদয়কী রাজা।
শূন্য হৃদয়পুরী আও আও মুরারি মােহন বাঁশরী বাজা ।
নয়ন সলিলে বসন তিতাওল, সাধ কি সায়র হিয়া’পর শুকাল;
শিরতাজ মেরী শিরােপরি আজা।
নয়না কা রােসনি নয়না ছােড়াকে, ঘুরত ফিরত কঁহা ফাকে ফাকে
হা হা পিয়াবঁধু এ কোন সাজা ।
—অমরেন্দ্রনাথ দত্ত
↑ Contents
হেরী মৈঁ তাে প্রেম দিবাণী
কাফি সিন্ধু —ঢিমে তিনতাল
হেরী মৈঁ তাে প্রেম দিবাণী। (মেরাে) দরদ ন জানে কোয়।
সূলী উপর সেজ হমারী, সােনা কিস্ বিধ হােয়।
গগন মণ্ডল পর সেজ পিয়াকী কিস্ বিধ মিলনাে হােয়।
ঘায়লকী গতি ঘায়ল জানৈ জো কোই ঘায়ল হােয়।
জৌহরিকী গতি জৌহরি জানৈ দূজা ন জানৈ কোয় ॥
দরদকী মারী বন বন ডাে বৈদ মিল্যৌ নহি কোয়।
মীরাকী প্রভু পীর মিটে জব বৈদ সাঁবলিয়াে হােয় ।
—মীরাবাঈ
↑ Contents
হরে মুরারে মধুকৈটভারে
ইমন-কল্যাণ—টিমে কাওয়ালী
হরে মুরারে মধুকৈটভারে, গােপাল গােবিন্দ মুকুন্দ শৌরে।
কলির পীড়নে ব্যথিত জীবগণে পরম ঔষধি এ ঘাের সংসারে।
যেভাবে যেই ভাবে, সে সেভাবে তারে,
তার হে কৃপাময় এ ঘাের সংসারে,
প্রেমনবঘন তুমি হে শ্ৰীমাধব উজলিছ সদা আনন্দ নীরে ।
উচ্চ পুচ্ছচূড়া শিরে শিখিপাখা,
পরাৎপর গুরু পরম সখা,
অন্তে শুনি যেন গঙ্গা নারায়ণ রাম নাম পরাণ ভরে ॥
—অজ্ঞাত
↑ Contents
সাধন করনা চাহিয়ে মনবা
ভৈরবী—কার্যা
সাধন করনা চাহিয়ে মনবাঁ ভজন করনা চাই।
প্ৰেম লগানা চাহিয়ে মনবাঁ প্রীত করনা চাই।
নিত নাহসে হরি মিলে তাে জলজন্তু হােই।
ফল মূল খাকে হরি মিলে তাে বাদুর বাঁদরায়।
তুলসী পূজনসে হরি মিলে তাে ম্যঁয় পূঁজু তুলসী ঝাড়।
পাথর পূজসে হরি মিলে তাে ম্যয় পূঁজু পহাড়।
তিরণ ভখসে হরি মিলে তাে বহুৎ মৃগী অজা।
স্ত্রী ছােড়সে হরি মিলে তাে বহুৎ রহে খােজা ।
দুধ পিনেসে হরি মিলে তাে বহুৎ বৎস বালা।
মীরা কহে বিনা প্রেসে নহীঁ মিলে নন্দলালা ।
—মীরাবাঈ
↑ Contents
শ্যামল বংশীওয়ালা নন্দলালা
সিন্ধু-মিশ্র—টুংরী
শ্যামল বংশীওয়ালা, নন্দলালা, মাতােয়ালা, গােকুল কে উজিয়ালা।
কৃষ্ণ কৃষ্ণ ক সাঁজ সবেরে, কৃষ্ণ নাম সব দুঃখ হারে
কৃষ্ণহী ভবসাগর পারে পার লগানেওয়ালা'।
কোই কহত হ্যয় কৃষ্ণ মুরারী, কোই কহত হয় রাসবিহারী,
কোই কহত হ্যয় হরে মুরারি জপে তুলসী মালা।
—অজ্ঞাত
↑ Contents
গাওরে সঘনে বীণা হরিগুণ গাওরে
বৃন্দাবনী সারঙ্গ—কাওয়ালী
গাওরে সঘনে বীণা হরিগুণ গাওরে
সুরাগে সুতানে ভরা,
ললিত পীযূষপরা
উদারা মুদারা তারা তাহাতে মিশাও রে ॥
গলে দোলে মৃদু হিল্লোলে বনমালা,
অধরে ধরেছে হাসি হিল্লোলে লাল বিজলি খেলা
গােপকুলতারণ পতিতপাবন ভজ হরি শ্রীচরণ নাম বিলাও রে ।
—গিরিশচন্দ্র ঘােষ
↑ Contents
আও রে কানাইয়া বংশী বাজাইয়া
খাম্বাজ-কাওয়ালী
আও রে কানাইয়া বংশী বাজাইয়া নিকুঞ্জ-কাননে।
আবীর কুঙ্কুম কুসুম চন্দন লাগাব রাঙ্গা চরণে।
শােন হে কেশব, তব শ্যাম অঙ্গে
মােরা সখি সবে ফাগ দিব রঙ্গে;
লালে লাল নন্দলাল, লাল কাল তমাল, রঞ্জিব পীত বসনে ॥
ও নিঠুর হরি, ক’র না চাতুরি,
ছলনা জানিনা মােরা ব্রজনারী
চল ত্বরা করি, রাঙ্গাপায়ে পড়ি, দিয়াে না ব্যথা পরাণে।
—স্বামী চণ্ডিকানন্দ
↑ Contents
মেরে তাে গিরিধর গােপাল দুসরাে ন কোঈ
ঝিঝিট—একতাল
মেরে তাে গিরিধর গােপাল দুসরাে ন কোঈ।
যাকে সিরে মাের-মুকুট, মেরাে পতি সােঙ্গ;
শঙ্খ চক্র গদা পদ্ম কণ্ঠমাল হােই ৷৷
তাত-মাত-ভ্রাত-বন্ধু আপনাে নহি কোর্স।
দাঁড় দই কুল-কান ক্যা করিহে কঈ ||
সন্তান সঙ্গ বৈঠ বৈঠ লােকলাজ খােই।
চুনরীকে কিয়ে টুক টুক, ওঢ় লীহ্ন লােঈ ।
মােতী মুঙ্গে উব, বনমালা পােঙ্গ।
আঁসুবন হল সীৰ্চ সীৰ্চ প্রেম বেলি বঙ্গ ।
অবতাে বাত ফৈল গই আনন্দ ফাল হােঙ্গ।
দুধকী মথনিয়া বড়ে প্রেমে সে বিলােঙ্গ ।
মাখন জব কাড়ি এলিয়ে দাদৃ পিয়ে কেঈ।
মীরা প্রভু লগন লাগি, জো হােয় সাে হােই ৷
—মীরাবাঈ
↑ Contents
মুঝে বারি বনবারী সেঁইয়া যানেকো দে
মূলতান—কাওয়ালী*
মুঝে বারি বনবারী সেঁইয়া যানেকো দে।
যানেকো দেরে সেঁইয়া যানেকো দে (আজু ভলা)
মেরা বনবারী বাদি তুহারি, ছােড় চতুরাই সেঁইয়া যানেকো দে।
(আজু ভলা, যানেকো দে মেরে সৈঁইয়া যানেকে দে)
যমুনা কিনারে ভরে গাগরিয়া
(কর) জোড়ে কহত সেঁইয়া যানেকো দে ।
—স্বামী বিবেকানন্দ
* স্বরলিপি ঃ সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
শ্যাম মৈনে চাকর রাখােজী গিরিধারীলাল
ভজন—কাহরবা
শ্যাম মৈঁনে চাকর রাখােজী, গিরিধারীলাল! চাকর রাখােজী।
চাকর রহস্যুঁ বাগ লগাসুঁ, নিত উঠ দরশন পাসুঁ।
বৃন্দাবনকী কুঞ্জ গলিনমেঁ তেরী লীলা গাসুঁ ।
চাকরীমেঁ দরশন পাউ, সুমিরণ পাউঁ খরচী।
ভাব ভগতি জাগীরী পাউঁ, তিনু, বাতাঁ সরসী ।
মৌর মুকুট পীতাম্বর সােহে, গল বৈজন্তী মালা।
বৃন্দাবনমেঁ ধেনু চরাওয়ে, মােহন মুরলীবালা ।
হরে হরে নিত বাগ লগাউঁ বিচ বিচ রাখুঁ ক্যায়ারী।
শাঁওরিয়াকে দরশন পাউ, পহর কুসম সারী ॥
যােগী আয়া যােগ করনুকুঁ তপ করনে সন্ন্যাসী।
হরি ভজনকুঁ সাধু আয়া, বৃন্দাবনকে বাসী।
মীরাকে প্রভু গহির গম্ভীরা সদা রহাে জী ধীরা।
আধিরাত প্রভু দরশন দীন্হেঁ প্রেমনদীকে তীরা।
—মীরাবাঈ
↑ Contents
আঁখিয়া হরি দরশন কি প্যাসী
ভজন—কার্ফা
আঁখিয়া হরি দরশন কি প্যাসী।
দেখ্যো চাহত কমলনয়নকো নিশিদিন রহত উদাসী।
কেশব তিলক মােতিনকি মালা, বৃন্দাবনকে বাসী।
নেহ লগায় ত্যাগী তৃণসম, ডারি গয়ে গল ফঁাসি ।
কাহুকে মনকী কো জানত, লােগনকে মন হাঁসি।
সুরদাস প্রভু তুম্হর দরশ বিনা লৈহোঁ করবত কাসী।
—সুরদাস
↑ Contents
রে মন কৃষ্ণ নাম কহি লীজে
ভৈরবী—তিনতাল
রে মন কৃষ্ণ নাম কহি লীজে
গুরুকে বচন অটল করি মানহি, সাধু সমাগম কীজে ।
পঢ়িয়ে গুনিয়ে ভগতি ভাগবত, আউর কহা কথি কীজে।
কৃষ্ণনাম বিনু জনমু বাদিহী, বিরথা কাহে জীয়ে।
কৃষ্ণনাম রস বহো জাত হ্যয়, তৃষাবন্ত হৈ পীজে।
সুরদাস হরি শরণ তাকিয়ে জনম সফল করি লীজে ॥
—সুরদাস
↑ Contents
অব মন কৃষ্ণ কৃষ্ণ কহি লীজে
মালশ্রী—তিনতাল
অব মন কৃষ্ণ কৃষ্ণ কহি লীজে।
কৃষ্ণ নামকী মালা লেকে কৃষ্ণ নাম চিত দীজে।
কৃষ্ণ নাম অমৃত রসনা, তৃষাবন্ত হাে পীজে।
কৃষ্ণ নাম হ্যয় সার জগতমে, কৃষ্ণ হেতু তন ছীজে।
রূপ কুবীর ধরি ধ্যান কৃষ্ণকো, কৃষ্ণ কৃষ্ণ কহী লীজে ।
—কুবীর
↑ Contents
মেরে জনম মরণকে সাথী থাঁনে নহি বিসরু দিনরাতী
প্রভাবতী—তিনতাল
মেরে জনম-মরণকে সাথী থাঁনে নহি বিসরু দিনরাতী।
থাঁ দেখো বিন ফল ন পড়ত হয় জারত মেরী ছাতী।
উঁচী চঢ় চঢ় পন্থ নিহারু রােয় রােয় আঁখিয়া রাতী ।
যাে সংসার সকল জগ ঝুটো, ঝুঠা কুলরা ন্যাতী।
দৌ কর জোঊ্যা আরজ করুষ্টু শুন লীজ্যো মেরী বাতী।
যাে মন মেরাে বড়াে হরামী জো মদমাতাে হাতী।
সদ্গুরু হাথ ধরো শির উপর অঙ্কুশ দৈ সমঝতী।
পল-পল পিকো রূপ নিহারু নিরখ নিরখ সুখপাতী।
মীরাকে প্রভু গিরিধর নাগর, হরিচরণা চিতরাতী ।
—মীরাবাঈ
↑ Contents
শুনি হাে ম্য়ঁয় হরি আওয়নকী আওয়াজ
দেবগান্ধার—ত্রিতাল (কানাড়া—একতাল)
শুনি হাে ময় হরি আওয়নকী আওয়াজ।
মহল চড় চড় জাউ মেরী সজনী! কব আওয়ে মহারাজ ।
দাদর মৌর পপইয়া বােলৈ, কোয়ল মধুরে সাজ।
উগ্যো ইন্দ্র চন্দ্র দিশি বরষৈ* দামনি ছছাড়ি লাজ ।
ধরতি রূপ নবা নবা ধরয় কান্ত মিলনকৈ কাজ।
মীরাকে প্রভু হরি অবিনাশী বেগ মিলাে সিররাজ ।
—মীরাবাঈ া
পাঠান্তর ঃ গরজে বদরা মেঘা বােলে
↑ Contents
শ্যামল কদম্ব মূলে মুরলী বাজাওয়ত
দরবারী-কানাড়া—ঝাঁপতাল
শ্যামল কদম্ব মূলে মুরলী বাজাওয়ত
খেলত মােহন শ্যাম।
(নব) নীরদ নেত্রে য্যায়সে খেলত বিজুরিয়া নয়ন মােহে ।
প্রভু হাে কৃপালু অতুল গুণকো
দেখকে জীয়ারা হােত সুমধুর হাস জীয়রা উদাস।
ভজু বনবিহারী বনমালী বংশীধারী।
—অজ্ঞাত
↑ Contents
তুম্হারে কারণ সব সুখ ছােড়া
ভজন—কাহারবা
তুম্হারে কারণ সব সুখ ছােড়া, অবমােহি কেঁউ তরসাও।
বিরহ বিথা লাগী উর অন্তর সাে তুম আয় বুঝাও
অব ছােড়ত নহি বনে প্রভুজী চরণকো পাশ বুলাও।
বিরহ-বিথা লাগী উর-অন্দর, সাে তুম আয় বুঝাও
মীরা দাসী জনম-জনমকী অঙ্গ অঙ্গ লাগাও।
—মীরাবাঈ
↑ Contents
সুন্দর লালা নন্দ দুলালা
ভজন—কাওয়ালী
সুন্দর লালা নন্দ দুলালা নাচত শ্ৰীবৃন্দাবন মে
ভালে চন্দন তিলক মনােহর অলকা শােভে কপােলন মে ।
শিরে চূড়া নয়ন বিশালা কুন্দমালা হিয়া পর দোলে।
পহিরণ পীত পটাম্বর বােলে রুণু ঝুনু নূপুর চরণ মে ॥
কোই গাওয়ত পঞ্চম তান, বংশী পুকারাে রাধা নাম,
মঙ্গল তাল মৃদঙ্গ রসাল বাজাওয়ত কোই রঙ্গন মে।
রাধা কৃষ্ণ একতনু হােয়, নিধুবন মে যাে রঙ্গ মচাই
বিশ্বরূপ যাে ভগবান সােহি লীলা করত বৃন্দাবন মে ।
—বিশ্বরূপ গােস্বামী
↑ Contents
রাধারমণ মদন-মােহন
দরবারী কানাড়া—ঝাঁপতাল
রাধারমণ মদন-মােহন মাধব মুকুন্দ মুরারে।
মধুসূদন মনােহর ময়ূরপুচ্ছধারি!
কৃষ্ণ কেশব কানু কালীয়-মর্দন
কলুষহারী কংসারী কালা কমলাপতি
শ্রীকান্ত দনুজারি হরি ।
ব্রজমে গিরিধর লাল ব্রজরাজ গােপাল
ব্রজপাল ব্রজবাল বাঁকে বিহারী।
নীল-নীরদ-শ্যাম নবল-কিশাের
জয়তি যদুনাথ শ্রীগােপীনাথ হরি ।
—নজরুল ইসলাম
↑ Contents
নব নীরদ বরণ কিসে গণ্য শ্যামচাদ রূপ হেরে
মনােহরসাহী—ঝাঁপতাল
নব নীরদ বরণ কিসে গণ্য শ্যামচাদ রূপ হেরে।
করেতে বাঁশি, অধরে হাসি, রূপে ভুবন আলাে করে ৷
জড়িত পীত বসন জিনি তড়িত করে ঝলমল।
আন্দোলিত চরণবিধি হাদিসরােজে বনমাল,
নিতে গােপিনী জাতি কুল আলাে করে যমুনা কূল,
নন্দকুলচন্দ্র, কোটি চন্দ্র জিনি বিহরে ।
শ্যাম গুণধাম পশি, হাম হৃদি-মন্দিরে,
প্রাণ মন জ্ঞান সখি, হরে নিল বাঁশীর স্বরে।
গঙ্গানারায়ণের দুঃখ বলে কি জানাব তােরে,
জানতে যদি যেতে সখি, যমুনায় জল-আনিবারে।
—গঙ্গানারায়ণ
↑ Contents
জগজন মোহন সঙ্কট-হারী কৃষ্ণ মুরারি
মিশ্র—তিনতাল
জগজন মোহন সঙ্কট-হারী কৃষ্ণ মুরারি শ্রীকৃষ্ণ মুরারি।
রাস রচাওত শ্যামবিহারী পরম যোগী প্রভু ভবভয় হারী ৷৷
গোপীজন-রঞ্জন ব্রজ-ভয়হারী, পুরুষোত্তম প্রভু গোলক-চারী ৷৷
বন্শী বাজাওত বন-বন-চারী ত্রিভুবন-পালক, ভক্ত-ভিখারী ॥
রাধাকান্ত হরি শিখি-পাখাধারী কমলা-পতি, জয় গোপী-মনোহারী ॥
—নজরুল ইসলাম
↑ Contents
দিনবা যাতে হো বীত হ্যায়
ইমন-ভূপালী—কাওয়ালী
দিনবা যাতে হো বীত হ্যায়, মন তেরী হো,
ক্যা কিয়ো মুরখ মন, আকে দুনিয়া মে ৷৷
পরম আত্মা পরমেশ্বর ঈশ্বর, শঙ্খ চক্র গদা পদ্ম পীতাম্বর,
দীনবন্ধু দয়াল দামোদর, ভজলে মুরখ মন কৃষ্ণবাসুদেবায় ৷৷
জনম লিয়া জব জননী গরভমে, বার বার জোরি আরজ করত হায়।
আকে দুনিয়া মে বিসর গয়ো সব কহত তানসেন শুনত হায় ৷৷
—মিঞা তানসেন
↑ Contents
সংসারে মায়া ছাড়িয়ে কৃষ্ণ নাম ভজ মন
ভজন—তিনতাল
সংসারে মায়া ছাড়িয়ে কৃষ্ণ নাম ভজ মন।
কৃষ্ণ নাম জপরে জপরে পাবে অমূল্য ধন ৷৷
বিষয় বাসনা, মায়ার ছলনা সকলি ঘুচিয়া যাবে।
রূপের পিয়াসা পলকে মিটিবে নয়নে হেরিবে অরূপ রতন ॥
সুন্দর বরণ রূপের চেতনা সুন্দরে দশদিশি মগন।
অপরূপ বিভবে পরাণ ভরিবে রাজীব চরণে পরশ দান ॥
—হীরেন বসু
↑ Contents
হে গোবিন্দ রাখু শরণ
ভজন—(তিনতাল) একতাল*
হে গোবিন্দ রাখু শরণ, অবতো জীবন হারে ॥
নীর পীবন হেত গয়ো, সিন্ধুকে কিনারে।
সিন্ধু বীচ বসত গ্রাহ চরণ ধরি পছারে ॥
চার প্রহর যুধ ভয়ো, লে গয়ো মাঝাধারে।
নাক কান যুগল লাগে কৃষ্ণকে পুকারে ॥
দ্বারকামে শব্দ ভয়ো, গরুড় ত্যাজি সিধারে।
গ্রাহকে মারকে গজরাজকো উধারে ৷৷
সুর কহে শ্যামসে আস হ্যায় তুম্হারে।
মেরা তেরা ন্যাব হোই জমরাজ-কো ডুবারে ॥
—সুরদাস
* স্বরলিপি : সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
সাজে নওল কিশোর চাঁদের তিলকে
ভজন—কাহারবা
সাজে নওল কিশোর চাঁদের তিলকে,
তার বনফুল মালা দোলে।
সে যে বংশীওয়ালা মোহিল ভুবন,
তার মোহন মুরলী বোলে;
বনফুল মালা দোলে।
মোর আনন্দ সে যে নন্দদুলাল,
সে যে ছন্দ দুলাল মোর নন্দদুলাল
রহে কদম্বমূলে যমুনার কূলে
বাঁশীতে উজান তোলে।
নিধুবনে সখা লয়ে খেলে হরি শিশু হয়ে,
অধরে মধুর হাসি জাগো
যেথা চলে শ্যামরায় ফুল জাগে পায় পায়,
ধূলিকণা পদছায়া মাগে।
যবে আমার জীবনে আসি ডাকিবে বাজায়ে বাঁশি—
যেন অন্ধ নয়নে জাগে প্রেমের মলয় লাগে,
হৃদয় দুয়ার যেন খোলে ৷
—অজয়কুমার ভট্টাচার্য
↑ Contents
হরি তুম্ হরো জন কি ভীর
ভজন—কাহারবা
হরি তুম্ হরো জন কি ভীর
দ্রোপদী কি লাজ রাখি, তুরৎ বঢ়ায়ো চীর ॥
ভকত কারণ রূপ নরহরি ধজ্যো আপ শরীর।
হিরণ-কশ্যপ মারি লীন্হো ধজ্যো নহীন্ ধীর ॥
বুঢতে গজরাজ রাখ্যো, কিয়ো বাহার নীর,
দাসী মীরা লাল গিরিধারী চরণকমলপর শির* ॥
—মীরাবাঈ
*পাঠান্তর ঃ দাসা মীরা লাল গিরিধারী দুঃখ জহাঁ তহাঁ পীর
↑ Contents
ভেইয়ারে কানাইয়ারে নেক্ দরশ দিখায়ে যা রে
মিশ্র—কাহারবা
ভেইয়ারে কানাইয়ারে নেক্ দরশ দিখায়ে যা রে।
শ্যামলিয়া প্যারে বনশীওয়ারে মেরে ছাতিয়াপে আযা রে ॥
মেরো ভেইয়াবরজলালা ব্রজবাল সেঁইয়া নন্দদুলালা ৷৷
যমুনা কিনারে ধীর সমীরে (নেক) বাঁশরী বাজায়ে যা রে।
প্রাণ কি প্রাণ ভেইয়া মেরো ভিক্যা মাঁগি দরশন তেরো।
নয়নমে ঠারো পিয়াস নিবারো মেরে রাজন কি রাজা রে ॥
—ব্রজেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়
↑ Contents
যদি গোকুলচন্দ্ৰ ব্ৰজে না এল
কীর্তন—খয়রা
যদি গোকুলচন্দ্ৰ ব্ৰজে না এল
(আমার) এহেন জীবন পরশ রতন কাঁচের সমান ভেল ৷৷
(আমি) গেরুয়া বসন অঙ্গেতে ধরিব শঙ্খের কুণ্ডল পরি।
(আমি) যোগিনীর বেশে যাব সেই দেশে যেথায় নিঠুর হরি ॥
(আমি) মথুরা নগরে প্রতি ঘরে ঘরে খুঁজিব যোগিনী হয়ে।
(আমায়) যদি মিলায় বিধি মম গুণনিধি বাঁধিব অঞ্চল দিয়ে ৷৷
(আমি) আপন বঁধুয়া আপনি বাঁধিব কেবা রাখিবারে পারে।
(আর) যদি রোধে কেউ ত্যজিব এ জীউ নারী বধ দিব তারে ৷৷
(আমি) পুনঃ ভাবি মনে বাঁধি বা কেমনে সে শ্যাম বঁধুয়া করে।
(হায়) বাঁধিয়া কেমনে ধরিব পরাণে তাই ভাবিতেছি চিতে ৷৷
জ্ঞানদাসে কয় বিনয় বচনে শুন বিনোদিনী রাধা ।
মথুরা নগরে যেতে মানা করে দারুণ কুলের বাধা ॥
—জ্ঞানদাস
↑ Contents
অনেক সাধের পরাণ বঁধুয়া
কীর্তন—খয়রা
অনেক সাধের পরাণ বঁধুয়া আর না ছাড়িব তোরে!
পরাণ যেখানে রাখিব সেখানে যেতে তো দিব না ফিরে ॥
হিয়ায় হিয়ায় রাখিব তোমায়, রহিব পড়িয়া ও কমল পায়,
তুমি যে আমার হৃদয়ের হার পরশ চরণ শিরে ॥
কত আরাধনা জীবনে মরণে,
পেয়েছি তোমায় বলিব কেমনে,
দিবস রজনী কিছু নাহি জানি ভেসেছি ভেসেছি নীরে ॥
—অজ্ঞাত
↑ Contents
আজু সই কুদিন সুদিন ভেল
কীর্তন—খয়রা
আজু সই কুদিন সুদিন ভেল।
মাধব মন্দিরে তরিতে আওব কপাল কহিয়া গেল
চিকুর ফুরিছে বসন খসিছে পুলক যৌবন ভার,
বাম অঙ্গ আঁখি সঘনে নাচিছে দুলিছে হৃদয় হার।
(অজু) বিধি অনুকূল ভেল ॥
—বিদ্যাপতি
↑ Contents
মরিব মরিব সখি নিশ্চয় মরিব
কীর্তন—একতাল
মরিব মরিব সখি, নিশ্চয় মরিব,
কানু হেন গুণনিধি কারে দিয়ে যাব ।
তোমরা যতেক সখী থেক মঝু সঙ্গে,
মরণ কালে কৃষ্ণ নামটি লিখ মঝু অঙ্গে
ললিতা প্রাণের সখি মন্ত্র দও কানে,
মরা দেহ পড়ে যেন কৃষ্ণনাম শুনে।
না পোড়াইয়ো রাধা অঙ্গ না ভাসাইয়ো জলে,
মরিলে তুলিয়া রেখ তমালেরি ডালে ॥
সেই তো তমাল তরু কৃষ্ণ বরণ হয়,
অবিরত তনু মোর তাহে যেন রয় ৷৷
কবহুঁ সে পিয়া যদি আসে বৃন্দাবনে,
পরাণ পয়াব হাম পিয়া দরশনে ৷
ভনয়ে বিদ্যাপতি শুন বরনারী,
ধৈর্য ধরয় চিতে মিলব মুরারি ॥
—বিদ্যাপতি
↑ Contents
মাধব তুঁহু রহল মধুপুর
কীর্তন—খয়রা
মাধব তুঁহু রহল মধুপুর
ব্রজকুল আকূল দুকুল কলরব, কানু কানু বলি ঝুর।
যশোমতীনন্দ অন্ধ সম বৈঠত, সাহসে চলই না পার ৷৷
সখাগণ ধেনু, বেনুরব বিছুরলু, তরুগণ মলিন সমান।
পিক শুক-সারী ময়ূরী ন নাচত, কোকিল ন করত হি গান ৷৷
বিরহিণী বিরহ কি কহব মাধব, দশ দিকে বিরহ হুতাশ।
সোই যমুনা জল কূল অধিক ভেল, কহত হি গোবিন্দদাস ৷৷
–গোবিন্দ দাস
↑ Contents
আজু রজনী হম ভাগে পোহায়নু পেখনু পিয়া মুখচন্দা
বেহাগ—কাওয়ালী
আজু রজনী হম ভাগে পোহায়নু, পেখনু পিয়া মুখচন্দা।
জীবন যৌবন সফল করি মাননু, দশদিক ফেল নিরদ্বন্দ্বা ৷৷
আজু মঝু গেহ গেহ করি মাননু, আজু মঝু দেহ ভেল দেহা।
আজু বিহি মোরে অনুকূল হোয়ল, টুটুল সবহু সন্দেহা ॥
সোঈ কোকিল অব লাখ ডাকউ লাখ উদয় করু চন্দা।
পাঁচ বান অব লাখ বান হউ মলয় পবন বহুঁ মন্দা।
আজু মঝু যবহু পিয়া সঙ্গ হোয়ল, তবহি মানব নিজ দেহা।
বিদ্যাপতি কহ অল্পভাগী নহ, ধনি ধনি তুয়া নব লেহা ৷৷
—বিদ্যাপতি
↑ Contents
নিঠুর হরি বংশীধারী খেলব হোরি তোমার সনে
খাম্বাজ—দাদরা
নিঠুর হরি বংশীধারী, খেলব হোরি তোমার সনে,
লাজ-মান পরিহরি এসেছি তাই কুঞ্জবনে ॥
আবীর-কুঙ্কুম, সাজাইব তব অঙ্গে
ভাসিয়ে প্রেমতরঙ্গে দাসী হব ঐ চরণে ॥
—অজ্ঞাত
↑ Contents
জাগো মোহন প্যারে
ভৈরবী—তিনতাল
জাগো মোহন প্যারে;
সাঁবরি সূরত মোরে মন ভাওঁরে, সুন্দর লাল হামারে।
প্রাত সমে উঠ ভানু উদয় ভয়ো,
গোয়াল বাল সব ভূপত ঠাড়ে;
দরশনকে সব ভুখে প্যাসে উঠিয়ো নন্দ-কিশোরে।
—অজ্ঞাত
↑ Contents
জাগ ওঠে সব জন তুম জাগো
বিলাবল—তিনতাল
জাগ ওঠে সব জন তুম জাগো;
গৌওনকে চরবাল চরৈয়া।
গোয়াল বাল সব গৌয়া চাওয়ত,
তুমরে কারণ আওয়ত ধাওয়ত,
সদারঙ্গ মন তুমসোঁ লাগা!
—সদারঙ্গ
↑ Contents
লাগরহ্যো মন রাদা বরসে
খাম্বাজ—তিনতাল
লাগরহ্যো মন রাদা বরসে;
অউর কহে কছু অউর উপরসে।
দিন রাতিয়াঁ আখিয়াঁ আগে মেরী,
ঠাড় রহে কছু রূপ সুঘরসে।
আনন্দ ঘন প্রভু লায়ে নেহা,
প্রেম রঙ্গোগী মায় গিরিধরবরসে |
—অজ্ঞাত
↑ Contents
মম মন মন্দিরে রহ নিশিদিন
মিশ্র বেহাগ—কাহারবা
মম মন মন্দিরে রহ নিশিদিন
কৃষ্ণ মুরারি শ্রীকৃষ্ণ মুরারি
বন্দনা গানে তব বাজুক জীবন বীণ ৷৷
ভক্তি প্রীতি মালা চন্দন
তুমি নিওহে নিও চিতনন্দন
জীবন মরণ তব পূজা নিবেদন
সুন্দর হে মনোহারী।
এস নন্দকুমার আর নন্দকুমার
হবে প্রেম প্রদীপে আরতি তোমার,
নয়ন যমুনা ঝরে অনিবার
তোমারি বিরহে গিরিধারী ॥
—অজ্ঞাত
↑ Contents
মোরি ইতনি বিনতি অব সুনিয়ে
জৌনপুরী—তিনতাল
মোরি ইতনি বিনতি অব সুনিয়ে;
বনোয়ারী কৃষ্ণমুরারি শরণাগতকে, তুম হিতকারী।
ম্যয় হুঁ দীন অনাথ নাথ তুম,
ভক্তনকে অঘ সঙ্কটহারী;
তুম্হরে চরণ শরণ অব আয়ো,
কাট দ্বন্দ্ব ফন্দ অতভারী ॥
—অজ্ঞাত
↑ Contents
তাতল সৈকত বারিবিন্দুসম সুতমিত রমণী সমাজে
ধানসী (কীর্তন)
তাতল সৈকত বারিবিন্দুসম-সুতমিত-রমণী-সমাজে।
তাহে বিসরি মন, তাহে সমর্পিলু, অব মঝু হব কোন কাজে ॥
মাধব, হাম পরিণাম-নিরাশা।
তুঁহু জগতারণ দীন-দয়াময় অত লে তুঁহারি বিশোয়াসা।
আধ জনম হাম নিঁদ গোঙায়লু, জরা শিশু কতদিন গেলা।
নিধুবনে রমণী-রসরঙ্গে মাতলু, তোহে ভজব কোন বেলা ৷
কত চতুরানন মরি মরি যাবত, ন তুয়া আদি অবসানা।
তোহে জনমি, পুনঃ, তোহে সমাওত, সাগর লহরী সমানা ৷৷
ভনয়ে বিদ্যাপতি শেষ শমন-ভয়, তুয়া বিনু গতি নাহি আরা।
আদি-অনাদিক-নাথ কহায়সি, অব তারণ-ভার তুঁহারা ॥
—বিদ্যাপতি
↑ Contents
সজনিয়াঁ পানিয়া ভরনে কৈসে জাউঁ
কাফী—কাওয়ালী
সজনিয়াঁ পানিয়া ভরনে কৈসে জাউঁ?
নাগর লচকি আই করত ঢিঠাই, তট বংশী বট যমুনাকে তট মে ৷৷
উচকি উচকি তান লেত বংশীয়া কী,
ডাগর চলত করত ঢিঠাই তট বংশীবট যমুনাকে তট মে ৷৷
—অজ্ঞাত
↑ Contents
অব মথুরাপুর মাধব গেল
মনোহরসাহী—খয়রা
অব মথুরাপুর মাধব গেল, গোকুল মানিক সখি, কো হরি নেল।
(ওকে হরি নিল গো— প্রাণের হরি, ব্রজপুরী আঁধার করি,
হিয়ার মানিক, প্রাণ মন শূন্য করি ইত্যাদি)।
গোকুলে উছলল করুণার রোল নয়নের জলে হের বহয়ে হিল্লোল,
(আজি উছলিল, যমুনা জল, ব্রজ গোপিনীর নয়ন জলে,
শুন ভেল মন্দির, শুন ভেল নগরী, শুন ভেল দশদিশ, শুন ভেল সগরী,
(সব শূন্য হল, একবিনে সব, এক ভানুকানু বিনে
কৈছনে যাওব যমুনাকী তীর, কৈছে নেহারব কুঞ্জকুটীর,
সহচর সজ্ঞে যাহা কয়ল ফুলখেরি, কৈছনে জীয়ব তাহি নেহারি,
(আমি বাঁচি কেমনে–হেরে যমুনে, কুঞ্জ হেরে)
যমুনা পুলিন বিহারী ছাড়ি, কুঞ্জকাননচারী ছাড়ি, কুঞ্জ হেরে।
ভনয়ে বিদ্যাপতি করি অবধান, কৌতুকে ছাপি তঁহি রহু কান্ ॥
—বিদ্যাপতি
↑ Contents
প্রভুজী তুঁহু হামারি প্রাণ তুঁহু জগৎ তুঁহু আশমান্
ভজন
প্রভুজী! তুঁহু হামারি প্রাণ তুঁহু জগৎ তুঁহু আশমান্।
তুঁ হামারি আঁখ কি শশী, তুঁহু হামারি সুরকি বংশী,
তুঁহু হামারি প্রেম কি প্রীতম্, তুহু হামারি গান।
তুঁহু হামারি জ্ঞান কি বাতি, তুঁ হামারি হিয়াকি ছাতি,
তুঁ হামারি দুখ্কি শান্তি, ‘দাসী মীরা’কে ধ্যান ॥
—মীরাবাঈ
↑ Contents
তুম বিন মৌরী কৌন খবর লৈ গোবর্ধন গিরিধারী
পিলু—তিনতাল
তুম বিন মৌরী কৌন খবর লৈ গোবর্ধন গিরিধারী।
মৌর মুকুট পীতাম্বর শোহে, কুণ্ডলকী ছর ন্যারী ৷
ভরীসভা মে দ্রৌপদি ঠাড়ে রাখো লাজ হমারী।
মীরা কে প্রভু গিরধর-নাগর চরণ কমল বলিহারী ॥
—মীরাবাঈ
↑ Contents
চলো মন গঙ্গা যমুনাতীর
পাহাড়ী—তিনতাল
চলো মন গঙ্গা যমুনাতীর,
গংগাযমুনা নিরমল পানী শীতল হোত শরীর ॥
বন্শী বজাওত গাওত কান্হা, সংগ লিয়ে বল-বীর।
মৌর মুকুট পীতাম্বর সোহে, কুণ্ডল ঝলকত হীর।
মীরাকে প্রভু গিরিধর-নাগর চরণ কমল পর সির।
—মীরাবাঈ
↑ Contents
এ সখি হামারি দুখের নাহি ওর
মল্লার—যৎ
এ সখি হামারি দুখের নাহি ওর।
এ ভরা বাদর মাহ ভাদর শূন্য মন্দির মোর ॥
ঝম্পি ঘন গরজন্তি সন্ততি ভুবন ভরি বরিখন্তিয়া।
কান্ত পাহুন বিরহ দারুণ সঘনে খর শর হন্তিয়া ৷৷
কুলিশ শত শত পাত মোদিত ময়ূর নাচত মাতিয়া।
মত্ত দাদুরি ডাকে ডাহুকী ফাটী যাওত ছাতিয়া ॥
তিমিরদিগ ভরি ঘোর যামিনী অথির বিজুরি পাঁতিয়া।
বিদ্যাপতি কহ কৈসে গোঙায়বি হরি বিনে দিন রাতিয়া ৷৷
—বিদ্যাপতি
↑ Contents
সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু
কীর্তন—একতাল
সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু অনলে পুড়িয়া গেল।
অমিয়া-সাগরে সিনান করিতে সকলি গরল ভেল ৷৷
সখি, কি মোর কপালে লেখি।
শীতল বলিয়া চাঁদ সেবিনু, ভানুর কিরণ দেখি ৷
উচল বলিয়া অচলে চড়িনু পড়িনু অগাধ জলে।
লমী চাহিতে দারিদ্র্য বেঢ়ল, মানিক হারানু হেলে।
নগর বসালাম সাগর বাঁধিলাম মানিক পাবার আশে
সাগর শুকাল মাণিক লুকাল অভাগীর করম-দোষে ॥
পিয়াস লাগিয়া জলদ সেবিনু বজর পড়িয়া গেল।
জ্ঞানদাসকহে কানুর পিরীতি মরমে রহিল শেল ॥
—জ্ঞানদাস
↑ Contents
গোবিন্দ-মুখারবিন্দ নিরখি মন বিচারে
খাম্বাজ-—যৎ*
গোবিন্দ-মুখারবিন্দ নিরখি মন বিচারে।
চন্দ্ৰ কোটি, ভানু কোটি, কোটি মদন হারে ॥
সুন্দর কপাল সোহে পঙ্কজদলনয়না,
অধরবিম্ব মধুর হাস, কুন্দকলিকাদশনা ॥
মণিকুণ্ডল মকরাকৃতি অলকাবলী পুঞ্জা।
কেশরকো তিলক গোয়ি সোনেমরি মুঞ্জা
নবজলধর পীতাম্বর বনমালা গলে সোহে
লীলানট সূরকে প্রভু জগজনমন মোহে ৷৷
—সুরদাস
* স্বরলিপি : দিব্যগীতি
↑ Contents
একবার ব্রজে চল ব্রজেশ্বর
ঢপ-কীর্তনের সুর
একবার ব্রজে চল ব্রজেশ্বর
দিনেক দুয়ের মতো—
(ও তোর) মন মানে তো থাকবি সেথা,
নইলে আসবি দ্রুত।
আগে ছিল একহেটো জল,
নৈলে যমুনার তীরে বসে ব্রজ নিরখিবে।
যদি বল ব্ৰজে যেতে চরণেতে
ধুলা লাগিবে—
(বললে বলতেও পার, আগে রাখাল ছিলে
এখন রাজা হয়েছ)।
—না হয় ব্রজনারীর নয়ন নীরে
চরণ পাখালিবে ৷৷
—অজ্ঞাত
↑ Contents
(ওরে) নীল যমুনার জল
কীর্তন—দাদরা
(ওরে) নীল যমুনার জল
বল রে মোরে বল,
কোথায় ঘনশ্যাম, আমার কৃষ্ণ ঘনশ্যাম,
আমি বহু আশায় বুক বেঁধে যে এলাম
এলাম ব্রজধাম ৷৷
তোর কোন কূলে কোন বনের মাঝে
আমার কানুর বেণু বাজে
আমি কোথায় গেলে শুনতে পাব
রাধা-রাধা-রাধা-রাধা নাম?
আমি শুধাই ব্রজের ঘরে ঘরে
কৃষ্ণ কোথায় বল।
কেন কেউ কহে না কথা
হেরি সবার চোখে জল।
বলরে আমার শ্যামল কোথায়
কোন মথুরায় কোন দ্বারকায় (বল যমুনা বল)
বাজে বৃন্দাবনের কোন পথে তার
নূপুর অবিরাম ৷৷
—কাজী নজরুল ইসলাম
↑ Contents
ননদিন তুই বলগে নগরে
ঝিঁঝিট-খাম্বাজ—যৎ্
ননদিন তুই বলগে নগরে
ডুবেছে রাই রাজ নন্দিনী কৃষ্ণ কলঙ্ক সাগরে।
কাজ কি গোকুল কাজকি গোকুল
ব্রজ কুল সব হোল প্রতিকূল
আমি যে সঁপেছি গো কুল সেই অকূল কাণ্ডারী করে।
আমার কাজ কি বাসে
কেবল কাজ কি বাসে
কাজ কেবল কি সেই পীত বাসে
যে যাঁরে তাঁহারে ভালবেসে
হৃদয় বাসে সে কি বাসে বাস করে
—অজ্ঞাত
↑ Contents
মাধব মধুসূদন মুকুন্দ মুরারে
আড়ানা—সুরফাঁক্তা*
মাধব মধুসূদন মুকুন্দ মুরারে,
কেশব কমললোচন ব্রজবনোয়ারী।
জনাদন জগত-গর্ব-খর্বকারী,
অসুরনাশন কংসাসুরহারী ॥
--বিষ্ণু বৈকুণ্ঠ বিরাট বামন
বিরিঞ্চিবন্দন বিশ্ববিহারী।
কহে মিঞা তানসেন তুম হো ত্রিগুণগুণী,
গোপাল গিরিবর গোবর্ধনধারী ॥
—মিঞা তানসেন
*স্বরলিপি : সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
পোহাল শর্বরী
ভৈরবী—ধামার
পোহাল শর্বরী।
বৃন্দাবন-কেলিকুঞ্জে সব সখী রঙ্গে ভঙ্গে,
ফাগুন মাসে খেলে হোলি, সঙ্গে শ্রীহরি।
মধুর মৃদঙ্গ বাজে আনন্দসঙ্গীত-মাঝে,
মুরলী বাজায় শ্যাম বংশীধারী ॥
ঝুলনে আবীর খেলা, খেলে আজি নন্দলালা,
হেরি সে অপূর্ব লীলা বিমোহিত ব্রজনারী,
নাচে ময়ূর-ময়ূরী কিবা, কুঞ্জবনে কি নবশোভা,
গুঞ্জে গুঞ্জে নাচে অলিদল, শুক-সারী ॥
—স্বামী প্রজ্ঞানানন্দ
↑ Contents
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ সঙ্গীত
খণ্ডন ভব-বন্ধন, জগ-বন্দন বন্দি তোমায়
মিশ্র বাহার—চৌতাল
খণ্ডন ভব-বন্ধন, জগ-বন্দন বন্দি তোমায়।
নিরঞ্জন, নর-রূপ ধর, নিৰ্গুণ গুণময়॥
মোচন অঘদূষণ, জগভূষণ, চিদ্ঘনকায়।
জ্ঞানাঞ্জন-বিমল-নয়ন, বীক্ষণে মোহ যায়॥
ভাস্বর ভাব-সাগর, চির-উন্মদ-প্রেম-পাথার।
ভক্তার্জন-যুগল চরণ, তারণ-ভব-পার॥
জম্ভিত-যুগ-ঈশ্বর, জগদীশ্বর, যোগসহায়।
নিরোধন, সমাহিতমন নিরখি তব কৃপায়॥
ভঞ্জন-দুঃখগঞ্জন, করুণাঘন, কর্ম-কঠোর।
প্রাণার্পণ, জগত-তারণ, কৃন্তন-কলিডোর॥
বঞ্চন-কামকাঞ্চন, অতিনিন্দিত-ইন্দ্রিয়রাগ।
ত্যাগীশ্বর, হে নরবর! দেহপদে অনুরাগ॥
নির্ভয়, গতসংশয়, দৃঢ়নিশ্চয়-মানসবান্।
নিষ্কারণ-ভকত-শরণ, ত্যজি জাতি-কুল-মান॥
সম্পদ তব শ্রীপদ ভব-গোষ্পদ-বারি যথায়।
প্রেমার্পণ, সমদরশন, জগজন-দুঃখ যায়॥
নমো নমো প্রভু! বাক্য-মনাতীত, মনোবচনৈকাধার।
জ্যোতির জ্যোতি উজল-হৃদিকন্দর তুমি তমো-ভঞ্জন হার॥
ধে ধে ধে লঙ্গ রঙ্গ ভঙ্গ, বাজে অঙ্গ সঙ্গ মৃদঙ্গ,
গাহিছে ছন্দ ভকতবৃন্দ, আরতি তোমার॥
(জয় জয় আরতি তোমার, হর হর আরতি তোমার,
শিব শিব আরতি তোমার)
—স্বামী বিবেকানন্দ
↑ Contents
ওঁ হ্রীং-ঋতং ত্বমচলো গুণজিৎ গুণেড্যঃ
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ স্তোত্রম*
ওঁ হ্রীং-ঋতং ত্বমচলো গুণজিৎ গুণেড্যঃ
ন-ক্তন্দিবং সকরুণং তব পাদপদ্মম্।
মো-হঙ্কষং বহুকৃতং ন ভজে যতোঽহং
তস্মাত্ত্বমেবশরণং মম দীনবন্ধো!
ভ-ক্তির্ভগশ্চ ভজনং ভবভেদকারি
গ-চ্ছন্ত্যলং সুবিপুলং গমনায় তত্ত্বম্।
ব-ক্রোধৃতন্তু হৃদি মে ন চ ভাতি কিঞ্চিৎ
তস্মাত্ত্বমেব শরণং মম দীনবন্ধো!
তে-জস্তরত্তি তরসা ত্বয়ি তৃপ্ততৃষ্ণাঃ।
রা-গে কৃতে ঋতপথে ত্বয়ি রামকৃষ্ণে।
ম-র্ত্যামৃতং তব পদং মরণোর্মিনাশং
তস্মাত্ত্বমেব শরণং মম দীনবন্ধো!
কৃ-ত্যং করোতি কলুষং কুহকান্তকারি
ষ্ণা-ন্তং শিবং সুবিমলং তব নাম নাথ!
য-স্মাদহং ত্বশরণো জগদেকগম্য
তস্মাত্ত্বমেব শরণং মম দীনবন্ধো!
—স্বামী বিবেকানন্দ
* স্বরলিপি: সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
ওঁ স্থাপকায় চ ধর্মস্য সর্ব-ধর্ম-স্বরূপিণে
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ-প্রণাম-মন্ত্রম্
ওঁ স্থাপকায় চ ধর্মস্য সর্ব-ধর্ম-স্বরূপিণে,
অবতার-বরিষ্ঠায় রামকৃষ্ণায় তে নমঃ॥
ওঁ নমঃ শ্রীভগবতে রামকৃষ্ণায় নমো নমঃ
ওঁ নমঃ শ্রীভগবতে রামকৃষ্ণায় নমো নমঃ
ওঁ নমঃ শ্রীভগবতে রামকৃষ্ণায় নমো নমঃ॥
—স্বামী বিবেকানন্দ
↑ Contents
বিশ্বস্য ধাতা পুরুষস্ত্বমাদ্যোঽব্যক্তেন রূপেণ ততং ত্বয়েদম্
কেদার — ঝাঁপতাল
বিশ্বস্য ধাতা পুরুষস্ত্বমাদ্যোঽব্যক্তেন রূপেণ ততং ত্বয়েদম্।
হে রামকৃষ্ণ ত্বয়ি ভক্তিহীনে, কৃপা-কটাক্ষং কুরু দেব নিত্যম্॥
ত্বং পাসি বিশ্বং সৃজসি ত্বমেব, ত্বমাদিদেবো বিনিহংসি সর্বম্।
হে রামকৃষ্ণ ত্বয়ি ভক্তিহীনে, কৃপা-কটাক্ষং কুরু দেব নিত্যম্॥২
মায়াং সমাশ্রিত্যকরোষি লীলাং, ভক্তান্ সমুদ্ধতুমনন্ত-মূর্তিঃ।
হে রামকৃষ্ণ ত্বয়ি ভক্তিহীনে কৃপা-কটাক্ষং কুরু দেব নিত্যম্॥৩
বিধৃত্য রূপং নরবক্তৃয়াবৈ বিজ্ঞাপিতো ধর্ম ইহাতি গুহাঃ।
হে রামকৃষ্ণ ত্বয়ি ভক্তিহীনে কৃপা-কটাক্ষং কুরু দেব নিত্যম্॥৪
তপোঽথ তে ত্যাগমদৃষ্টপূর্বং দৃষ্টা নমস্যন্তি কথং ন বিজ্ঞাঃ।
হে রামকৃষ্ণ ত্বয়ি ভক্তিহীনে কৃপা-কটাক্ষং কুরু দেব নিত্যম্॥৫
শ্ৰুত্বাত্র তে নাম ভবন্তি ভক্তাঃ দৃষ্টা বয়ং তন্নতু ভক্তিযুক্তাঃ।
হে রামকৃষ্ণ ত্বয়ি ভক্তিহীনে কৃপা-কটাক্ষং কুরু দেব নিত্যম্॥৬
সত্যং বিভুং শান্তমনাদিরূপং প্রসাদয়ে ত্বামজমন্তশূন্যম্।
হে রামকৃষ্ণ ত্বয়ি ভক্তিহীনে কৃপা-কটাক্ষং কুরু দেব নিত্যম্॥৭
জানামি তত্ত্বং নহি দেশিকেন্দ্রং কিম্বা স্বরূপং কথমেব ভাবম্।
হে রামকৃষ্ণ ত্বয়ি ভক্তিহীনে কৃপা-কটাক্ষং কুরু দেব নিত্যম্॥৮
নিরঞ্জনং নিত্যমনন্তরূপং ভক্তানুকম্পাধৃতবিগ্রহং বৈ।
ঈশাবতারং পরমেশমীড্যং তং রামকৃষ্ণং শিরসা নমামঃ॥
—স্বামী অভেদানন্দ
↑ Contents
ওঁ-কার বাচ্যং স্ববিকাশমাদ্যং নিত্যং বিশুদ্ধং ত্ৰিগুণৈৰ্বিমুক্তম্
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ স্তোত্রম্
ওঁ-কার বাচ্যং স্ববিকাশমাদ্যং নিত্যং বিশুদ্ধং ত্ৰিগুণৈৰ্বিমুক্তম্॥
সাক্ষিস্বরূপং জগতাং জনেশং শ্রীরামকৃষ্ণং সততং নমামি॥
রা-গাদিশূন্যং করুণাধিবাসং জ্ঞানপ্রকাশং ভবপাশনাশম্।
আনন্দরূপং মৃদুমঞ্জুহাসং শ্রীরামকৃষ্ণং সততং স্মরামি॥
ম-গ্নং ভবান্ধাবভিতারয়ন্তং স্বাঙ্কং নয়ন্তং দুরিতং চরন্তম্।
ভক্তার্তিভারং কৃপয়া হরন্তং শ্রীরামকৃষ্ণং শরণং ব্রজামি॥
কৃ-চ্ছং তপোযজ্ঞমহং ন জানে মন্ত্ৰং ন যন্ত্রং স্তবনঞ্চ কিঞ্চিৎ।
জানে সদাহং শরণং বরেণ্যং হে দীনবন্ধো তব পাদযুগ্মম্॥
ষ-ড়বৈরিণো মে প্রসভং প্রমত্ত-মাতঙ্গবন্মাং নিয়তং তুদন্তি।
হা দেব দেবেশ জগন্নিবাস দাসোঽস্মি তে মাং পরিপশ্য রক্ষ॥
না-হং প্রযাচে মণিরত্বপূর্ণং হর্ম্যং মনোজ্ঞ-সুরবৃন্দসেব্যম্।
মেরোঃসমানং রজতং সুবর্ণং কান্তাং সুরম্যাং ভুবি সর্বরাজ্যম্॥
য-দ্ যোগিবৃন্দা জনহীনদেশে মগ্নাঃ সমাধৌ পরিচিন্তয়ন্তি।
যাচে ত্বহং তে ভুবনৈকনাথ ব্রহ্মাদিবন্দ্যং চরণারবিন্দম্॥
ন-ন্বেব জানাসি মহেশ্বরোঽসি দীনাতি দীনশ্চ পদাশ্রিতোঽহম্।
সংযচ্ছ তন্মে স্বকৃপা গুণেন ভক্তিং ত্বদীয়ামচলাং বিশুদ্ধাম্॥
মন্দ প্ৰমত্তোঽপি গুণবিত্তিহীনঃ কথং নু বেদ্মি স্তবনং তবাহম্।
স্তত্ত্বা যথা ত্বাং করুণৈক সিন্ধো প্রাপ্স্যামি তন্মাং প্ৰবিধেহি শিক্ষাম্॥
নমামি নিত্যং তব পাদযুগ্মং ধ্যায়ামি নিত্যং তব পূর্ণরূপম্।
করোমি নিত্যং কমলাঘি পূজাং নাথ ত্বদন্যচ্ছরণং ন জানে॥
—স্বামী যোগেশ্বরানন্দ
↑ Contents
ব্রহ্ম-রূপমাদি-মধ্য-শেষ-সর্ব-ভাষকম্
শ্রীরামকৃষ্ণ-স্তোত্র-দশকম্
(কেদার-একতাল)
ব্রহ্ম-রূপমাদি-মধ্য-শেষ-সর্ব-ভাষকম্,
ভাব-ষট্ক-হীন-রূপ-নিত্য-সত্যমদ্বয়ম্।
বাঙ্মনোহতি-গোচরঞ্চ নেতি-নেতি-ভাবিতম,
ত্বং নমামি দেব-দেব রামকৃষ্ণমীশ্বরম্ ॥১
আদিতেয়-ভী-হরং সুরারি-দৈত্য-নাশকম্
সাধু-শিষ্ট-কামদং মহী-সুভার-হারকম্।
স্বাত্মরূপ-তত্ত্বকং যুগে যুগে চ দর্শিতম্, তং নমামি... ॥২
সর্বভূত-স্বর্গ-কর্ম-সূত্র-বন্ধ-কারণম্
জ্ঞান-কর্ম-পাপ-পুণ্য-তারতম্যসাধনম্।
বুদ্ধি-বাস-সাক্ষি-রূপ-সর্ব-কর্ম-ভাসনম্, তং নমামি ....॥৩
সর্ব-জীব-পাপ-নাশ কারণং ভবেশ্বরম্
স্বীকৃতঞ্চ গর্ভবাস দেহ-ধানমীদৃশম্।
যাপিতং স্ব-লীলয়া চ যেন দিব্য জীবনম্, তং নমামি.... ॥8
তুল্য-লোষ্ট্র-কাঞ্চনঞ্চ হেয়-নেয়-ধীগতম্,
স্ত্ৰীষু নিত্য-মাতৃভাব-শক্তিরূপ ভাবুকম্।
জ্ঞান-ভক্তি-ভুক্তি-মুক্তি-শুদ্ধ-বুদ্ধি-দায়কম্, তং নমামি.... ॥৫
সর্ব-ধর্ম-গম্য-মূল-সত্য-তত্ত্ব-দেশকম্,
সিদ্ধ-সর্ব-সম্প্রদায়-সম্প্রদায়-বর্জিতম্।
সর্ব-শাস্ত্র-মর্ম-দর্শি-সর্ববিন্নিরক্ষরম্, তং নমামি..... ॥৬
চারুদর্শ-কালিকা-সুগীত-চারু-গায়কম্
কীৰ্ত্তনেষু মত্তবচ্চ নিত্য-ভাববিহ্বলম্ ।
সৃপদেশ-দায়কং হি শোক-তাপ-বারকম্, তং নমামি, ....॥৭
পাদপদ্ম-তত্ত্ব-বোধ-শান্তি-সৌখ্য-দায়কম্
সক্ত-চিত্ত ভক্ত-সূনু নিত্য-বিত্ত-বর্ধকম্।
দত্তি-দর্প-দারণস্তু নির্ভরঞ্জগদ্গুরুম্, তং নমামি....৷৷৮
পঞ্চবর্ষ-বাল-ভাব-যুক্ত-হংস-রূপিনম্,
সর্ব লোকরঞ্জনং ভবান্ধি সঙ্গ ভঞ্জনম্।
শান্তি-সৌখ্যসদ্ম-জীব-জন্মভীতিনাশনম্, তং নমামি..... ॥৯
ধর্ম-হান-হারকং ত্বধর্ম-কর্ম-বারকম্,
লোক-ধর্ম-চারণঞ্চ সর্ব-ধর্ম-কোবিদম্ ৷
ত্যাগি-গেহি-সেব্য-নিত্য-পাবনাঘ্ৰি-পঙ্কজম্, তং নমামি..... ॥১০
স্তোত্রশূন্য-সোমকং সদীশ-ভাব-ব্যঞ্জকম্,
নিত্য-পাঠকস্য বৈ বিপত্তি-পুঞ্জ-নাশকম্,
স্যাৎ কদাপি জাপ-যাগ-যোগ-ভোগ-সৌলভম্,
দুর্লভন্তু রামকৃষ্ণ-রাগ-ভক্তি-ভাবনম্ ॥১১
ইতি শ্রীবিরজানন্দ-রচিতং ভক্তি-সাধকম্।
স্তব-সারং সমাপ্তং বৈ শ্রীরামকৃষ্ণ-তূণকম্ ॥১২
—স্বামী বিরজানন্দ
↑ Contents
ভব-ভয়-ভঞ্জন পুরুষ নিরঞ্জন
গৌড় সারঙ্গ—তিনতাল
ভব-ভয়-ভঞ্জন, পুরুষ নিরঞ্জন,
রতি-পতি-গঞ্জন-কারী।
যতি-জন-রঞ্জন, মনোমদ-খণ্ডন,
জয় ভব-বন্ধন-হারী॥
জয় জন-পালক, সুরদল-নায়ক,
জয় জয় বিশ্ব-বিধাতা।
চির-শুভ-সাধক, মতি-মল-পাবক
জয় চিত সংশয়-ত্ৰাতা॥
সুর-নর-বন্দন, বিজর বিবন্ধন,
চিত-মন-নন্দন-কারী।
রিপু-চয়-মন্থন, জয় ভব তারণ
স্থল-জল-ভূধর-ধারী॥
শম-দম-মণ্ডন, অভয় নিকেতন,
জয় জয় মঙ্গল-দাতা।
জয় সুখ-সাগর, নটবর নাগর,
জয় শরণাগত-পাতা॥
ভ্রম-তম-ভাস্কর, জয় পরমেশ্বর,
সুখকর-সুন্দর-ভাষী।
অচল সনাতন, জয় ভব-পাবন,
জয় বিজয়ী অবিনাশী॥
ভকত-বিমোহন, বর-তনু-ধারণ,
জয় হরিকীর্তন-ভোলা।
গদ-গদ-ভাষণ, চিত-মন-তোষণ,
ঢল-ঢল-নৰ্তনলীলা॥
মতি-গতি-বর্ধন, কলি-মল-মর্দন
বিষয়-বিরাগ-প্রসারী।
জড়-চিত চেতক, ভব-জল ভেলক
জয় নর-মানস-চারী।
জয় পুরুষােত্তম, অনুপম-সংযম,
জয় জয় অন্তরযামী।
খরতর-সাধন, নর-দুখ-বারণ,
জয় রামকৃষ্ণ নমামি॥
—দেবেন্দ্রনাথ মজুমদার
↑ Contents
দুখিনী ব্রাহ্মণী কোলে, কে শুয়েছ আলাে করে
সাহানা ঝাপতাল*
দুখিনী ব্রাহ্মণী কোলে, কে শুয়েছ আলাে করে,
কেরে ওরে দিগম্বর এসেছ কুটীর দ্বারে॥
ভূতলে অতুল-মণি, কে এলিরে যাদুমণি,
তাপিতা হেরে অবনী, এসেছ কি সকাতরে॥
ব্যথিতে কি দিতে দেখা, গােপনে এসেছ একা,
বদনে করুণা মাখা, হাস কাঁদ কার তরে।
মরি মরি রূপ হেরি, নয়ন ফিরাতে নারি,
হৃদয়-সন্তাপ-হারী, সাধ ধরি হৃদি পরে॥
—গিরিশচন্দ্র ঘােষ
* স্বরলিপিঃ সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
অরূপ-সায়রে লীলা-লহরী, উঠিল মৃদুল করুণাবায়
খাম্বাজ-চৌতাল*
অরূপ-সায়রে লীলা-লহরী, উঠিল মৃদুল করুণাবায়,
আদিঅন্তহীন, অখণ্ডে বিলীন, মায়ায় ধরিলে মানবকায়॥
মনের ওপারে কোথা কোন দেশ, শশী তপনের নাহি পরবেশ,
তব হাসিরাশি কিরণ বরষি, উজলে সেথাও চারু বিভায়॥
প্রেমের এ তনু অতনু-গঞ্জন, কি মধুর বিভা বিকাশে নয়ন,
যে হেরে সে জন তনু-প্রাণ মন, চরণে অৰ্পণ করিতে চায়;
তােমারি আশায় কত যুগ গত, সংশয় যত আজি তিরােহিত,
যা আছে আমার লহ উপহার সঁপিনু জীবন তব সেবায়॥
—স্বামী প্রেমেশানন্দ
*স্বরলিপিঃ সাধন সঙ্গীত। মহাপুরুষ স্বামী শিবানন্দ প্রশংসিত এই গানখানি একতালেও গাওয়া হয়ে থাকে।
↑ Contents
বঙ্গ-হৃদয়-গােমুখী হইতে, করুণা-গঙ্গা বহিয়া যায়
পিলু বারোয়া—একতাল*
বঙ্গ-হৃদয়-গােমুখী হইতে, করুণা-গঙ্গা বহিয়া যায়,
এস ছুটে এস কে আছ মানব, শুষ্ক-কণ্ঠ পিপাসায়॥
ব্যর্থ-বাসনা-অনল-দহন, সহিলে কত না জনম মরণ,
আলেয়ার সাথে ছুটিতে ছুটিতে শ্রমজ-সলিল-সিক্ত-কায়;
স্নিগ্ধ সলিলে বারেক ডুবিলে সকল জ্বালা জুড়াবে তায়॥
জাহ্নবী-তীরে তৃষ্ণা-কাতর, অন্ধ যে জন খোঁজে সরােবর,
রামকৃষ্ণ-পূত-গঙ্গা ব্রহ্মানন্দ সাগরে ধায়;
হােক অবসান ব্যর্থ-প্রয়াণ, এস ছুটে এস ধরি গাে পায়॥
—স্বামী প্রেমেশানন্দ
* স্বরলিপিঃ সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
মলয় সমীরে ভেসে আসে কি মধুর গীতি-লহরী
ভৈরবী—একতাল*
মলয় সমীরে ভেসে আসে কি মধুর গীতি-লহরী।
চল দেখে আসি উজলিছে দিশি কোটি-শশী-রূপ মাধুরী॥
তপ-ক্ষীণ কায়, ক্ষুদিরাম হায়, সাধনা করি কঠোর,
কোন্ দেবতায় আনিলা ধরায় নন্দন-বন-বিহারী॥
পাপ-তাপ ভরা, এ মলিন ধরা স্বার্থ কলুষময়,
এই মরূভূমে বুঝি এল নেমে সিঞ্চিতে প্রেম-বারি॥
কে আছ অলস, হৃদয় নীরস, স্বার্থ-মােহেতে ভুলিয়া,
(আজি) প্রেমের দীক্ষা, ত্যাগের শিক্ষা, লহ আপনা পাসরি॥
—স্বামী প্রেমেশানন্দ
* স্বরলিপিঃ সুরবিতান
↑ Contents
(আজি) কোকিল-কূজনে, মলয় পবনে, শিহরি’ উঠিছে প্রাণ
বেহাগ-খাম্বাজ-একতাল*
(আজি) কোকিল-কূজনে, মলয় পবনে, শিহরি’ উঠিছে প্রাণ।
(যেন) বিস্মৃত কত স্বপনেতে শ্রুত, মনে জাগে শত তান॥
দেববালা যত হাত ধরাধরি, নাচিছে গাহিছে ধরা আলাে করি,
ঘেরিয়া শিশুরে ক্ষুদিরাম ঘরে-নিরখি চাঁদ বয়ান॥
চাঁদে গড়া তনু প্রেমেরি নয়ন, চন্দ্রামণি কোলে কে শিশু-রতন,
বারেকের তরে এস হৃদি পরে, জুড়াই তাপিত প্রাণ॥
হেরি হাসি রাশি ব্যাকুল হৃদয়, বুক চিরে রাখি মনে সাধ হয়,
(পাছে) মর-জগতের মলা-মাটি লাগি ও হাসি হইবে ম্লান॥
কোটি জনমের যত অশ্রুপাত, সফল করিতে এসেছে কি নাথ?
ভেদ ভুলাইতে প্রেম বিলাইতে জগতে করিতে ত্রাণ,
(যত) দ্বেষ দ্বন্দ্ব মােহবন্ধ হােক চির-অবসান॥
—স্বামী প্ৰেমেশানন্দ
* শ্রী ইন্দ্রদয়াল ভট্টাচার্য মহাশয়ের কণ্ঠে শ্রীশ্রীমা এ গানখানি শুনে ভাবে বিহ্বল হয়ে পড়েন। তিনি গানখানি তার কাছ থেকে লিখিয়ে রেখেছিলেন। ইন্দ্রদয়াল ভট্টাচার্য মহাশয় সন্ন্যাসের পরে স্বামী প্রেমেশানন্দ নাম গ্রহণ করেন।
↑ Contents
কে এসে মােহন বেশে মজালে হে মন
ভৈরবী—একতাল
কে এসে মােহন বেশে মজালে হে মন,
মন-ভুলান রূপটি তােমার যােগিজন-উচাটন॥
তুমি বুঝি বৃন্দাবনে, খেলেছিলে রাখাল সনে,
সেই যমুনা-পুলিনে, ব্রজগােপীর প্রাণধন,
সে কথা কি নাই হে মনে, যশােদা-জীবন-ধন,
যমুনা বইত উজান বাঁশীর তানে মােহন॥
মাতালে নদে এসে গৌরবেশে,
(তােমার) দু’নয়নে প্রেমধারা মজে কার রসে,
(আবার) জগাই মাধাই তরায়ে দু’ভাই রাখলে নাম পতিতপাবন॥
(আমার মন মজালে রামকৃষ্ণ হে)॥
রামকৃষ্ণ রূপ ধরে এসেছে জগতের তরে
(বুঝি) জীবের দশা মলিন হেরে গলেছে তােমারি মন;
এসেছ বেশ করেছ করুণা করে,
আমার মত কাঙ্গাল কত আছে হে পড়ে,
(সবে) টেনে নিয়ে কোল দিয়ে জানাও নাম জগত-তারণ॥
—নীরদরঞ্জন মজুমদার
↑ Contents
(আজি গাওরে) জয় জয় রামকৃষ্ণ নাম
কীর্তন—একতাল
(আজি গাওরে) জয় জয় রামকৃষ্ণ নাম।
জয় কামারপুকুর জয় জয় রঘুবীর
চিন্ময় চেতন শালগ্রাম (গাওরে)
(বল জয় জয় রঘুবীর...রামকৃষ্ণ শ্রীবিগ্রহ...চিন্ময়)
বন্দি ক্ষুদিরাম কুল ত্রিকাল বিশুদ্ধ মূল
প্রভু যথা লইয়া জনম। (দীন কাঙ্গালের ঘরে)
(মহারাজ রাজেশ্বর প্রভু.......)
কামারপুকুর মাটি বন্দি দন্তে তৃণকাটি
বাল্যলীলা যথা সমাপন। (শ্রীরামকৃষ্ণ ভাবাবেশে.....)
বন্দি শ্রীদক্ষিণেশ্বর যথা প্রভু গদাধর
নরলীলা বিস্তারের তরে;
দ্বাদশ বৎসর ধরি কঠোর সাধনা করি
জাগাইলে ভবতারিণী রে। (মুখে জাগ মা জাগ মা বলে......)
(তােমায় যুগে যুগে জাগাইনু)॥
বন্দি পঞ্চবটীমূল, বিল্বতরু গঙ্গাকূল
প্রভু যথা করিলা সাধনা।
(সাধনার ধন হয়ে—পূর্ণব্রহ্ম নারায়ণ।)
আচরি সকল ধর্ম, বুঝাইল গৃঢ় মর্ম
এক ব্রহ্ম, কহে জীবে নানা।
(শিব রাম কৃষ্ণ কালী, ঈশা মুসা ভিন্ন বলি)॥
রামকৃষ্ণ ভক্তগণে লীলার সহায় জেনে
(আমি) ধূলি হয়ে রহি তাদের পায়॥
(জনমে জনমে যেন.......)
সবে এক এক অবতার, দেহ মাত্র নরাকার।
আমি বুঝিয়াছি শ্রীগুরু কৃপায়।
(কেহ ব্রহ্মা কেহ বিষ্ণু...যুগে যুগে সঙ্গী এঁরা)
(জয় রামকৃষ্ণ বলে, প্রেমানন্দে বাহু তুলে।)
—শরচ্চন্দ্র চক্রবর্তী
↑ Contents
যুগে যুগে হরি নরদেহ ধরি করিলে প্রেমের লীলা
ঝিঝিট-খাম্বাজ-একতাল
যুগে যুগে হরি নরদেহ ধরি করিলে প্রেমের লীলা।
জীব-মঙ্গলে ভূতলে এসে সহিলে দুঃখ জ্বালা॥
স্বরূপ লুকায়ে কাঙ্গাল বেশ, ছলিতে মানবে ধরেছ বেশ।
সরল বালক মুখে ‘মা’ ‘মা’ বুলি, খেলিলে নূতন খেলা॥
কে পারে চিনিতে তুমি না চিনালে, জানিব কেমনে তুমি না জানালে
শরণ নিয়েছি চরণকমলে ঘুচাও ত্রিতাপ-জ্বালা॥
দূর করাে প্রভাে মায়া আবরণ, স্বরূপ তােমার হােক প্রকটন।
‘যে রাম যে কৃষ্ণ সেই রামকৃষ্ণ’, নব অবতার-লীলা॥
—স্বামী প্রেমেশানন্দ
↑ Contents
কে তুমি আবার করুণাপাথার সেই সুরধুনী তীরে
ভৈরবী—একতাল*
কে তুমি আবার করুণাপাথার সেই সুরধুনী তীরে।
কেন সদা আহা আকুলপরাণে ভাসিছ নয়ন নীরে॥
সদানন্দময়ী আছে কোলে করে, তবু কেন বল দু’নয়ন ঝরে;
তাপিত ধরায় তারিতে কি হায়, সুধাইছ জননীরে॥
কেন আসিয়া হৃদয়-দুয়ারে, মােরে ডাকিতেছ বারে বারে;
আমি এমনি মগন মােহের কুহকে, দেখেও দেখি না তােমারে।
এস দেব এস পতিতপাবন, এস আজি মম হৃদয়ের ধন;
সফল কর হে বিফল জীবন, দুখ নাশ চির তরে॥
—স্বামী চণ্ডিকানন্দ
*স্বরলিপিঃ দিব্যগীতি
↑ Contents
জয় জয় রামকৃষ্ণ ভুবন-মঙ্গল
ললিত—তিনতাল (প্রভাতী সুর)*
জয় জয় রামকৃষ্ণ ভুবন-মঙ্গল,
জয় মাতা শ্যামাসুতা অতি নিরমল।
জয় বিবেক-আনন্দ পরম দয়াল
প্রভুর মানস-সুত জয় শ্রীরাখাল॥
জয় প্রেমানন্দ প্রেমময় কলেবর,
জয় শিবানন্দ জয় লীলা-সহচর।
যােগী, যােগানন্দ জয় নিত্য নিরঞ্জন,
জয় শশী গুরুপদে গততনুমন॥
সেবাপর যােগিবর, অদ্ভুত-আনন্দ,
অভেদ-আনন্দ জয় গত-মােহবন্ধ।
যােগ-রত ত্যাগ-ব্রত তুরীয় আখ্যাত,
শরত সুধীর শান্ত যেন গণনাথ॥
জীবে শিব-সেবাব্রত গঙ্গাধর বীর
জয় শ্রীবিজ্ঞানানন্দ প্রশান্ত গম্ভীর।
প্রবীণ গােপাল মাতৃ-সেবাপরায়ণ,
সারদা সারদাপদে গত প্রাণমন॥
বালক-চরিত্র জয় সুবােধ সরল,
নাগবর ত্যাগ-বীর বিবেক-সম্বল।
কথামৃত-বরিষণ গৌর জলধর,
গিরিশ ভৈরব জয় বিশ্বাস-আকর॥
রামকৃষ্ণ-দাস-দাস জয় সবাকার,
রামকৃষ্ণ-লীলাস্থান জয় বার বার।
রামকৃষ্ণ নাম জয় শ্রবণ-মঙ্গল,
ভকত-বাঞ্ছিত জয় চরণ-কমল॥
—স্বামী প্রেমেশানন্দ
* স্বরলিপিঃ আনন্দলহরী
↑ Contents
ভারত গগনে কোন্ রবি আজ উদিল বিশ্ব উজলি
রামকেলি—তেওরা
ভারত গগনে কোন্ রবি আজ উদিল বিশ্ব উজলি।
কিরণে কাহার হৃদয় সবার ভরিয়া পড়িছে উছলি॥
দিশি দিশি শুনি মঙ্গল গান, ভেদ বিবাদের বুঝি অবসান।
লালসা-অনলে কোন্ সে দেবতা দিলা প্রেমবারি ঢালি॥
মােহের তিমির ঢেকেছে ভুবন, পাপ তাপে জীব করিছে রােদন,
হেরি বুঝি পুনঃ নরনারায়ণ এসেছেন প্রেমে গলি।
খােল তবে আজি হৃদয়-দুয়ার, আসন রচনা কররে তাঁহার;
‘জয় গুরু’ বলি করিয়া হুঙ্কার উঠ আজি শির তুলি॥
—স্বামী চণ্ডিকানন্দ
↑ Contents
মায়ার মরত ধামে নব রূপ ধরে এলে
সাহানা—ঝাপতাল
মায়ার মরত ধামে নব রূপ ধরে এলে,
অতুল রাতুল তনু, ভ্রূভঙ্গে ভুবন ভুলে॥
নেহারি জীবে তাপিত, কে তুমি ব্যথিত চিত,
ভকত সনে মিলিত, তারিতে তনয় কুলে॥
কাম-কাঞ্চন মােহিত, মানবে হেরি তৃষিত,
শিখালে এ মহীতলে, ত্যাগে শুধু শান্তি মিলে॥
সাধন করিয়া ছলে, ভেদ-বাদ ঘুচাইলে,
“যত মত তত পথ” সত্য তত্ত্ব বিকাশিলে॥
যেই রাম সেই কৃষ্ণ, এক তনু রামকৃষ্ণ,
অখিল-জগত ইষ্ট, ভেদ নহে কোন কালে॥
অন্তরে আছে হে সাধ লভিয়ে তব শ্রীপদ,
অকূল ভব গােষ্পদ, বিচারি তরিব হেলে।
—অজ্ঞাত
↑ Contents
ভারত-ভাগ্য-গগনে রাজে নবীন তপন-ভাতিমা
ভৈরবী—তিনতাল
ভারত-ভাগ্য-গগনে রাজে নবীন তপন-ভাতিমা।
নবারুণ রাগে দশদিশি ভাতিল, জাগিল পরাণে চেতনা॥
সুপ্ত জনার খুলিল নয়ন, রিক্ত হিয়ায় মৃদু স্পন্দন,
হেরি নিখিল জন-মন আনন্দে মগন।
কোটি কণ্ঠ তুলি গাহিছে জয়, ‘রামকৃষ্ণ জয়’, ‘রামকৃষ্ণ জয়’,
(শুনি) আসিছে সকল ভকত দল পায়ে ঢালিতে সঞ্চিত বেদনা॥
—স্বামী পুরুষাত্মানন্দ
↑ Contents
তুমি হে সাধের ঠাকুর আমি সাধ-বিহীন
নিশাসাগ—একতাল
তুমি হে সাধের ঠাকুর আমি সাধ-বিহীন।
(তুমি) সাধের তরে বলির দ্বারে বাঁধা চিরদিন॥
সাধের পণে কিন্তে তােমায় সাধ হলাে না হায়,
(আমার) সাধ বিনে বিষাদে প্রভু সাধের জীবন যায়,
সাধ মাগি রাঙ্গা পায়;
(ওহে) সাধ দিয়ে সাধ পুরাও প্রভু আমি কৃপাধীন॥
রথের মাঝে কেমন সাজে দেখতে বড় সাধ,
(তুমি) দীনের সখা দিয়ে দেখা ঘুচাও অবসাদ,
মিনতি করি হৃদয়-চাঁদ,
দীনবন্ধু নামটি তােমার আমি অতি দীন॥
প্রেমের পথে হৃদয়-রথ করে বিচরণ,
রথযাত্রা হেরে ভবের যাত্রা দিব বিসর্জন, হবে না গমনাগমন;
রামকৃষ্ণ ব’লে প্রেম সলিলে ভাসবো নিশিদিন॥
—দেবেন্দ্রনাথ মজুমদার
↑ Contents
রামকৃষ্ণ নামের বান ডেকেছে ভাই
কীর্তন ঝিঝিট—একতাল
রামকৃষ্ণ নামের বান ডেকেছে ভাই।
কোথা পাপী তাপী আয় রে ছুটে, সুখে নাম-তরঙ্গে ভেসে যাই।
(রামকৃষ্ণ বলে)॥
‘রামকৃষ্ণ’ মধুর নাম, মুখে বল রে অবিরাম,
ভবের কষ্ট নষ্ট হবে পূরবে মনস্কাম।
ঐ দেখ নাম শুনে এসেছে ধেয়ে, ওরে এমন দয়াল আর তাে নাই
(রামকৃষ্ণের মত)॥
যােগে যুগে কিবা ফল, রামকৃষ্ণ মুখে বল,
অনায়াসে করে পাবি চতুর্বর্গ ফল,
ধ’রে নামের ভেলা পারে যাবি (হেসে) যমের মুখে দিয়ে ছাই
(রামকৃষ্ণ ব’লে)॥
ও ভাই নামের এমনি বল, প্রাণ করে শীতল,
হয় কি না হয় ডেকে দেখ সত্য কিবা ছল,
ওরে নামের বলে তরে গেছে, কত মহাপাপী শুনতে পাই
(আমাদের মত)॥
রামকৃষ্ণ গুণ-ধাম, তােমার পতিতপাবন নাম,
মােরা ভজনবিহীন, দীন অভাজন, হ’য়াে নাকো বাম,
দাও নামে রতি, পদে মতি, অন্য ধনরত্ন নাহি চাই
(নাথ তােমা বিনে)॥
—দেবেন্দ্রনাথ মজুমদার
↑ Contents
ভয় কি রে ভাই, ডাক রে সবাই, প্রাণ খুলে রামকৃষ্ণ বলে
বাউল সুর—একতাল
ভয় কি রে ভাই, ডাক রে সবাই, প্রাণ খুলে রামকৃষ্ণ বলে,
সে যে দুর্বলের বল, টলায় অটল, পাষাণ প্রাণে প্রেম উথলে॥
(রামকৃষ্ণ নামে)
কি কব তার দয়ার কথা, পতিত জনে বড়ই ব্যথা,
যেথায় পতিত সে যায় তথা, প্রাণ জুড়ায়ে করে কোলে॥
(রামকৃষ্ণ আমার)
বাছে না সে সুজন কুজন, চায় না ভজন, চায় না পূজন,
ব্যাকুল হয়ে ডাকে যে জন, কূলে যায় সে অবহেলে॥
(রামকৃষ্ণ ব’লে)
আকাশে রামধনুর মেলা, ভঙ্গুর এ জীবনের খেলা,
এই বেলা ডাক থাকতে বেলা, ভবের খেলা যাবে চলে॥
(রামকৃষ্ণ নামে)
আপনার কে আছে ভবে, মুখ চেয়ে কার আছ তবে,
‘রামকৃষ্ণ’ ‘রামকৃষ্ণ’ রবে, ভাসাও হৃদি নয়ন-জলে॥
(রামকৃষ্ণ ব’লে)
—দেবেন্দ্রনাথ মজুমদার
↑ Contents
নদীয়ার পথে পথে কাঙ্গালের বেশে হরি
খাম্বাজ—তিনতাল
নদীয়ার পথে পথে কাঙ্গালের বেশে হরি,
নাম প্রেম বিলাইলে ধরাতলে অবতরি।
সেধে ফিরে ঘরে ঘরে, প্রেম নিবি আয় কে রে,
ভাসিয়া নয়ন-নীরে, যারে তারে পায়ে ধরি॥
হেলায় দিলে না কান, হলি নিষ্ঠুর পাষাণ,
বড় ব্যথা পেয়ে প্রাণে, অভিমানে গেছে ফিরি।
ধরি পুনঃ করুণায়, রামকৃষ্ণ নবকায়
বহে জীব-পাপরাশি, কঠোর সাধনা করি॥
নিরক্ষর দীন হীন, রােগে দেহ বিমলিন,
উন্মত্ত পাগল যেন, সাজিয়া দীন ভিখারী।
সবারে আপন বলি, নিতে চাহে কোলে তুলি,
আর ফিরায়ে না তারে, রাখ গাে হৃদয় চিরি॥
—স্বামী প্রেমেশানন্দ
↑ Contents
বাঞ্ছা পূর্ণ হল, আজি ধরাতে রামকৃষ্ণ এল
খট-মিশ্র—যৎ
বাঞ্ছা পূর্ণ হল, আজি ধরাতে রামকৃষ্ণ এল।
তত্ত্ব লাভের বিড়ম্বনা, দ্বৈতভাবের বিবাদ গেল॥
রামকৃষ্ণ একাকার, এ নব ভাবে প্রচার,
এক অনন্ত সবার মূলাধার;—
যে যা বলে তাতেই মিলে একজনার খেলা সকল॥
যে কালী সে বনমালী, হরি বলি ঈশাই বলি,
আল্লা বলে মােল্লা ভজায় কর্তাভজায় সেই কেবল,
স্বভাবে সহজে পাবে অভাবে হবে বিফল॥
—কালীপদ ঘােষ
↑ Contents
ভকত-বিলাসী, দীন ভক্তে দেখা দাও হে আসি
কীর্তন—একতাল
(‘এই কর শ্রীহরি তােমার নাম নিয়ে যাই’—সুর)
ভকত-বিলাসী, দীন ভক্তে দেখা দাও হে আসি,
আমি ধন চাই না মুক্তি চাই না হে, শুধু পদ-অভিলাষী,
(আমার রাজপদে কাজ নাই)॥
তুমি যে আমার সর্বমূলাধার, ধর্ম-অর্থ-মােক্ষ-কাম।
(ঠাকুর) তুমি মম প্রিয়, পরম আত্মীয়
(তাই) গেয়ে বেড়াই তােমার নাম।
প্রভু হে, প্রিয় হে, রামকৃষ্ণ গুণধাম, বড় আপন জেনে তােমায় ডাকি।
বড় ভালবাসার ধন জেনে হে, আমি তােমায় ভালবাসি।
(আমার চিরসাথী জেনে—ব্যথার ব্যথী জেনে—ইত্যাদি)।
এস অনাথ-শরণ, ত্রিতাপ-হরণ, জনম মরণ নাশি,
এস যুগপ্রবর্তক, ধর্ম-সংস্থাপক, ভকত-হৃদয়বাসী,
প্রভু হে, প্রিয় হে, দেখা দাও হে আসি,
এস সর্বত্যাগি-যােগি-বেশে,
এস সন্ন্যাসীর সাজ সঙ্গে নিয়ে হে, আমায় সাজাতে সন্ন্যাসী॥
(এস বিবেক বৈরাগ্য নিয়ে—এস ত্যাগের মন্ত্র কর্ণে দিয়ে—
মধুর রামকৃষ্ণ নাম কর্ণে দিয়ে)॥
—বৃন্দাবনচন্দ্র গােপ
↑ Contents
তুমি কাঙ্গাল বেশে এসেছ হরি, কাঙ্গালে করুণা করিতে হে
ইমন-পূরবী—একতাল*
তুমি কাঙ্গাল বেশে এসেছ হরি, কাঙ্গালে করুণা করিতে হে,
প্রেম বিতরিতে মরুসম চিতে, পতিত জনে তারিতে হে॥
রামকৃষ্ণ নামে অমিয় ঢালা, হেরিলে ও রূপ জুড়ায় জ্বালা,
(তব) চরণ তলে পরাণ সঁপিলে, ভাবনা পলায় দূরেতে হে॥
করি তব কথা অমৃত পান, জাগিয়া উঠিছে অবশ প্রাণ।
হতাশ হৃদয়ে শত আশা জাগে, তােমার মধুর নামেতে হে॥
—স্বামী প্রেমেশানন্দ
* স্বরলিপিঃ সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
বন্দি কামারপুকুর পুণ্যলীলাভূমি
মনােহরসাহী-খয়রা
বন্দি কামারপুকুর পুণ্য-লীলাভূমি।
যেথা নরলীলা তরে জনমিলা তুমি॥
দুঃখিনী-ব্রাহ্মণী নমি লুটায়ে অবনী।
পাইল যে তােমা হেন সুত গুণমণি॥
রূপ-লাবণ্য-খনি গদাধর চাঁদ।
অনিমিষ নিরখিয়ে না পূরিল সাধ॥
জগতের নাথ তুমি জগত-আশ্রয় হে।
ধরাভার নিবারিতে ভূতলে উদয় হে॥
রামকৃষ্ণ দাসে কয়, কি দিব হে পরিচয়
ব্যক্ত তুমি ত্রিভুবন-স্বামী;
কি দিব তব উপমা, পিনাকী না পায় সীমা,
তােমারি তুলনা নাথ তুমি॥
—নীরদরঞ্জন মজুমদার
↑ Contents
তুমি আসিলে তুমি আসিলে হে নাথ, পতিত কাঙ্গালে তারিতে
বাহার—কাওয়ালী
তুমি আসিলে তুমি আসিলে হে নাথ, পতিত কাঙ্গালে তারিতে,
শত অপমানে ম্রিয়মান জনে আশার বারতা শুনাতে॥
বিগত-শান্তি-বেদনাদগ্ধ, হেরি জীবকুল দুরাশা মুগ্ধ;
মধুর চরিতে মােহিলে এ চিতে, যেচে দিলে প্রেম-অমৃতে॥
প্রেমের সাগর তুমি প্রভু মাের, মানবের দুঃখ হেরিয়া,
কঠোর সাধনে শীর্ণ শরীর, সুরধুনী-তীরে বসিয়া;
জীব-পাপ-ভার বহি প্রাণপণে, কত রােগ-জ্বালা সহিলে আপনে?
হায়! প্রভু তবু এখনাে গেল না দ্বেষ, ভেদ, পাপ জগতে॥
—স্বামী প্ৰেমেশানন্দ
* স্বরলিপিঃ সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
ত্রেতাতারী রাম, দ্বাপরের শ্যাম, রামকৃষ্ণ দোঁহে একাধারে
ইমন-কল্যাণ—একতাল
ত্রেতাতারী রাম, দ্বাপরের শ্যাম, রামকৃষ্ণ দোঁহে একাধারে,
গৌতমের প্রাণ শঙ্করের জ্ঞান, লয়ে অবতীর্ণ ধরা পরে।
রামানুজ, গােরা, এক প্রেমে জোড়া, কবীর, নানক এক ডােরে,
যত অবতার সমষ্টি সবার, রামকৃষ্ণ রূপে এইবারে॥
যত মত পথ’, সব একমত, রামকৃষ্ণ কয় ভাবভরে,
ইষ্ট আপনার, ইষ্ট সবাকার, ভিন্ন রূপে ভক্ত এক হেরে॥
মহা অবতার রামকৃষ্ণ রায়, নরদেহ ধরি মধুর লীলায়,
জগতের সব ধরম মাতায়, দেখে বুঝ ভারত অন্তরে॥
—স্বামী সুন্দরানন্দ
↑ Contents
এসেছে নূতন মানুষ দেখবি যদি আয় চলে
বাউল—একতাল*
এসেছে নূতন মানুষ দেখবি যদি আয় চলে,
(তার) বিবেক-বৈরাগ্য ঝুলি দুই কাঁধে সদা ঝুলে।
শ্রীবদনে মা মা বাণী পড়ি গঙ্গা সলিলে,
(বলে) “ব্রহ্মময়ী, গেল মা দিন দেখা তাে নাহি দিলে”॥
নাস্তিক অজ্ঞানী নরে সরল কথায় শিখালে,
যেই কালী সেই কৃষ্ণ, নাম ভেদ এক মূলে॥
‘একোয়া’ ‘ওয়াটার’ ‘পানি’ ‘বারি’ নাম দেয় জলে,
‘আল্লা’ ‘গড’ ‘ঈশা মুশা’ কালী’ নাম ভেদে বলে॥
দীন, ধনী, মানী, জ্ঞানী বিচার নাই জাতি কুলে,
আপন-হারা পাগল-পারা সরলে নেহারিলে॥
দু বাহু তুলিয়ে ডাকে, আয়রে তােরা আয় চলে,
তােদের তরে কৃপা করে বসে আছি বিরলে;
যতন করি পারের তরী বেঁধেছি ভবের কূলে॥
—দেবেন্দ্রনাথ মজুমদার
* স্বরলিপিঃ সুরবিতান
↑ Contents
রামকৃষ্ণ নাম-অমিয় পিওরে মন আমার
মূলতান—একতাল*
‘রামকৃষ্ণ’ নাম-অমিয় পিওরে মন আমার,
(নামে) জুড়াবে তাপিত তনু ঘুচিবে মােহ-আঁধার॥
(আজি) প্রকৃতির সনে মিশাইয়ে তান,
গাওহে তাঁহার মহিমার গান,
(হৃদে) ‘রামকৃষ্ণ’ ‘রামকৃষ্ণ’ জপরে অনিবার॥
—অজ্ঞাত
* স্বরলিপিঃ সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
কে তুমি এলে এবার, প্রেমিক উদাসীর ভানে
বাউল—একতাল
কে তুমি এলে এবার, প্রেমিক উদাসীর ভানে,
তােমার যমুনা সরযূ কোথা, লীলা গঙ্গা-পুলিনে।
গঙ্গাতীরে কাতর স্বরে মা মা বলা বদনে,
এমন ব্যাকুলতা মায়ের তরে, কেউ কখনাে দেখিনে॥
‘টাকা মাটি, মাটি টাকা’ নূতন সাধন গােপনে,
(তােমার) অপূর্ব সন্ন্যাস-লীলা নরদেহ ধারণে॥
দীনের বেশে আশে পাশে, খুঁজছ যত দীন জনে,
জীবের তরে ঝরছে নয়ন, বসে আছ আনমনে॥
তুমি কি চরাতে ধেনু রাখাল দল সনে,
যমুনা নাচিত কি হে, তােমার বেণু-রব শুনে।
তুমি কি হে বুদ্ধিরূপী, পশুবধ-দমনে,
ছেড়ে সুখের বাসা সকল আশা নিয়েছ ডাের-কৌপীনে।
তুমি কি সন্ন্যাসী-গােরা, মাতােয়ারা নাম গানে,
ডুবালে তরালে নদে, রাধা-প্রেম-বিতরণে?
যে হও তুমি দয়ার খনি, স্থান দিও ঐ চরণে,
(তব) পদ-ভেলা ভাসিয়ে ভবে, পার হ’য়ে যাই তুফানে॥
(জয় রামকৃষ্ণ রামকৃষ্ণ বলে)
—দেবেন্দ্রনাথ মজুমদার
↑ Contents
অযুত কণ্ঠে বন্দনা-গীতি, ভুবন ভরিয়া উঠিছে
ছায়ানট—একতাল*
অযুত কণ্ঠে বন্দনা-গীতি, ভুবন ভরিয়া উঠিছে।
(তব) অমিয় বারতা, দেশ দেশান্তরে হৃদয়ে হৃদয়ে পশিছে॥
বঙ্গ-হৃদয়-সরসী-সলিলে চারু শতদল ফুটিছে
বিশ্ব-মানব বিস্ময়ে হেরি রূপে সৌরভে মাতিছে।
প্রেমের ভূপতি! পতাকা তােমার বিজয়-গরবে ভাতিছে,
ভেদ বিবাদের চির অবসান, হেন আশা মনে জাগিছে॥
ক্ষীণ কণ্ঠ তুলি হীন এ বীণায়, ‘রামকৃষ্ণ’ নাম গাহিছে,
প্রেমরাজ্যে তব দিও তারে স্থান, হেন চিরদাস মাগিছে।
—স্বামী প্ৰেমেশানন্দ
* স্বরলিপিঃ সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
ফুলসাজে রসরাজে হেরিয়ে জুড়াল মন
সাহানা—ঝাপতাল
ফুলসাজে রসরাজে হেরিয়ে জুড়াল মন,
মরি কি সুন্দর শােভা, চিত-আঁখি-বিনোদন॥
ফুল্ল-ফুল-হার গলে, সুধীর সমীর দোলে,
কোমল পদ-কমলে, প্রফুল্ল ভকত মন,
বিভাের চিত-ভ্রমর, রূপরসে নিমগন॥
দেখরে নয়ন ভরি, গােলক-বিহারী হরি,
রামকৃষ্ণ রূপে আজি করেন কৃপা বিতরণ,
ফুল-সাজে ভক্তমাঝে ভকত-হৃদি-রঞ্জন॥
এমন মােহন সাজে, কে সাজালে রসরাজে,
ধন্য সে ধরণীমাঝে, সফল তার জীবন,
দেখরে মােহন ছবি জগজন-বিমােহন॥
—দেবেন্দ্রনাথ মজুমদার
↑ Contents
রামকৃষ্ণ-চরণ-সরােজে, মজরে মন-মধুপ মাের
কৌমুদী-খাম্বাজ—একতাল*
রামকৃষ্ণ-চরণ-সরােজে, মজরে মন-মধুপ মাের,
কণ্টকে আবৃত বিষয়-কেতকী, থেকো না থেকো না তাহে বিভাের॥
জনম-মরণ-বিষম-ব্যাধি, নিরবধি কত সহিবে আর।
প্রেম-পীযুষ পিয়রে শ্রীপদে, ভবেরি যাতনা রবে না তাের॥
ধর্মাধর্ম-সুখ-দুঃখ-শান্তি-জ্বালা-দ্বন্দ্ব-খেলা মাঝে নাহি নিস্তার;
জ্ঞান কৃপাণে পরম যতনে কাটরে কাটরে করম ডাের,
‘রামকৃষ্ণ’ নাম বলরে বদনে, মােহেরি যামিনী হইবে ভোর।
দুঃস্বপন-জ্বালা রবে না রবে না ছুটে যাবে তাের ঘুমেরি ঘাের॥
—দেবেন্দ্রনাথ মজুমদার
* স্বরলিপিঃ সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
আয় রে ভাই, মিলে সবাই ‘রামকৃষ্ণ’ বলে ডাকি
কামােদ-মিশ্র—একতাল
আয় রে ভাই, মিলে সবাই ‘রামকৃষ্ণ’ বলে ডাকি।
দেখি কেমন করে থাকে দূরে, পরাণ ভরে ডেকে দেখি॥
মুখে তাঁর নামটি নিলে, প্রাণটি যায় অম্নি গলে,
নামের গুণে দেখা মিলে সে কথাটি জান না কি॥
নামের তুলনা নাই রে, প্রেমে জগত মাতিল রে,
সাধ হয় যুগল চরণ ধরে সযতনে হৃদে রাখি॥
‘রামকৃষ্ণ’ নামটি নে রে, নাম বিনে আর গতি নাই রে,
নামেতে যাব তরে আমরা কি ভাই রইব বাকি॥
‘রামকৃষ্ণ’ রূপটি ধরে, এসেছেন জগতের তরে,
এমন দয়াল অবতারে, পাপীতাপীর ভয় ভাবনা কি॥
—নীরদরঞ্জন মজুমদার
↑ Contents
কেমনে তােমা বিনে, বাঁচি প্রাণে জগত-জীবন
বারোয়া—একতাল
কেমনে তােমা বিনে, বাঁচি প্রাণে জগত-জীবন,
বল কি আছে আমার, বিনে দুটি অভয় চরণ॥
তুমি হে অনন্ত অপার, ভক্তের তরে তুমি সাকার,
আরাে কত আছে আকার লীলা তােমার বু’ঝে ক’জন॥
তুমি হে প্রেমিকের সখা নামটি তােমার অমিয় মাখা,
প্রেমহীনে দাও হে দেখা, (নইলে) কেমন তুমি অনাথ-শরণ॥
—নীরদরঞ্জন মজুমদার
↑ Contents
ছেড়ে আজ ধূলা খেলা নূতন খেলায় মেতেছে মন
গৌড়-সারঙ্গ—একতাল
ছেড়ে আজ ধূলা খেলা নূতন খেলায় মেতেছে মন,
শিখাও রামকৃষ্ণ নিধি, খেলার বিধি যেমন যেমন।
তুমি হে গুণমণি, খেলুড়ের শিরােমণি,
খেলা বৈ নাই কিছু কাজ, ক’রছ সৃজন পালন নিধন॥
রাখাল সনে বৃন্দাবনে, কল্লে খেলা বনে বনে,
খেলছ নিয়ে জগজ্জনে, ইচ্ছা তােমার হয় যা যখন॥
খেলতে বড় ভালবাসি, ছুটে ছুটে তাই তাে আসি,
শিখাও হে এমন খেলা, ভবের খেলা হয় হে মােচন।
কোন খেলায় নাহি ডরি, শুন হে হৃদবিহারী,
যদি হে কৃপা করি, দাও তােমার ঐ অভয় চরণ॥
চোর-খেলাতে বুড়ী ছুঁলে, চোর হতে আর হয় না মূলে,
খেল রামকৃষ্ণ বলে, বুড়ী ছোঁয়ার এই তাে সাধন॥
জয় ‘রামকৃষ্ণ’ জয়, জয় ‘রামকৃষ্ণ’ জয়,
জয় ‘রামকৃষ্ণ’ জয়, বালক-সখা পতিত-পাবন॥
—দেবেন্দ্রনাথ মজুমদার
↑ Contents
নমো ‘রামকৃষ্ণ’ রূপ-ধারণ, মোহন মনোহারী
দেশ—একতাল
নমো ‘রামকৃষ্ণ’ রূপ-ধারণ, মোহন মনোহারী,
জগ-তারণ-কারণ নাম, শমন-শাসন-কারী,
বল ‘রামকৃষ্ণ’ নাম, প্রাণে পাবিরে আরাম॥
সত্য সনাতন, প্রেম-রূপ-ঘন, ভকত-চিত-শোভন,
তাপিত তরে নররূপ ধ’রে, যুগে যুগে অবতরণ;
স্বগণ সনে মিলন, লীলা সাধন কারণ,
মহাভাব প্রকটন-কারী; দীন শ্রীচরণ ভিখারী,
দেখা দাও, প্রাণ জুড়াও, আমায় কোলে তুলে লও।
—নীরদরঞ্জন মজুমদার
↑ Contents
(মধুর) ‘রামকৃষ্ণ’ নাম বল মন আমার
ভৈরবী—একতাল
(মধুর) ‘রামকৃষ্ণ’ নাম বল মন আমার।
দূরে যাবে তোর মোহ আঁধার॥
কাতরে ডাকলে তাঁরে সে কি দূরে রইতে পারে,
অমনি এসে ভালবেসে মুছাবে রে তোর অশ্রুধার॥
নামটি আবার বল, যদি না লাগে ভাল,
পরাণ খুলে নামটি নিলে, বইবে প্রাণে শান্তি-ধার;
অবহেলে পরশ-রতন, নিয়ে রইলি কাম-কাঞ্চন,
‘রামকৃষ্ণ’ নামে হও না মগন নূতন খেলায় মজ এবার॥
—নীরদরঞ্জন মজুমদার
↑ Contents
দিবা বিভাবরী ডাক প্রাণভরি, ‘জয় রামকৃষ্ণ’ ব’লে
ঝিঁঝিট—একতাল*
দিবা বিভাবরী ডাক প্রাণভরি, ‘জয় রামকৃষ্ণ’ ব’লে।
পাপ তাপ যাবে, প্রাণ জুড়াইবে, নামেরি মহিমা বলে॥
তরু-পত্র-প্রান্তে লম্বিত নীহার, জান কি পতনে কি বিলম্ব তার,
পদ্মপত্রে জল, জীবন চঞ্চল, কেমনে র’য়েছ ভুলে॥
উঠ উঠ ভাই থেক না অলসে, দেখ নাম রসে ধরা যায় ভেসে,
গায় দেশ-বিদেশে ‘রামকৃষ্ণ’ নাম, প্রেমের লহরী তুলে।
সে নামে থাকে না ভবেরি বন্ধন, ঘুচে যায় মায়া কামিনী-কাঞ্চন,
হয় মৃত্যুঞ্জয়, সদানন্দে রয়, প্রেমানন্দে পড়ে ঢলে॥
আহা মরি হেন ‘রামকৃষ্ণ’ নাম, নাহি তাতে রুচি বিধি মোরে বাম,
তুমি গুণধাম হ’য়ো নাকো বাম, স্থান দাও পদতলে॥
—দেবেন্দ্রনাথ মজুমদার
* স্বরলিপি: সুরবিতান
↑ Contents
পরম পুরুষ সিদ্ধ যোগী মাতৃভক্ত যুগাবতার
দুর্গা, মিশ্র—একতাল
পরম পুরুষ সিদ্ধ যোগী মাতৃভক্ত যুগাবতার।
পরমহংস শ্রীরামকৃষ্ণ লহ প্রণাম নমস্কার॥
জাগালে ভারত শ্মশান তীরে, অশিব-নাশিনী মহাকালীরে;
মাতৃনামের অমৃতনীরে ভাসালে মৃত ভারত আবার॥
সত্যযুগের পুণ্যস্মৃতি, আনিলে কলিতে তুমি তাপস,
পাঠালে ভারত দেশে দেশে ঋষি পুণ্য-তীর্থ-বারি-কলস।
মন্দিরে মসজিদে গীর্জায়, পূজিলে ব্রহ্মে সমশ্রদ্ধায়,
তব নাম মাখা প্রেম নিকেতনে ভরিয়াছে তাই ত্রিসংসার॥
—নজরুল
↑ Contents
জয় ‘রামকৃষ্ণ’, ‘রামকৃষ্ণ’ বল আমার মন
বাউল—দাদরা (কীর্তন—একতাল)*
জয় ‘রামকৃষ্ণ’, ‘রামকৃষ্ণ’ বল আমার মন।
যুগ-অবতার যিনি পূর্ণব্রহ্ম নারায়ণ॥
জীব-দুঃখেতে কাতর, ধরি নর-কলেবর,
বারংবার অবতার জগত ঈশ্বর;
(এবার) মাধুর্য-ঘন-মূরতি জিত-কামিনী-কাঞ্চন;
(ঐশ্বর্য বিহীন লীলা)॥
পূর্ব পূর্ব অবতার, এলো কলাংশে যাঁহার,
স্বয়ং সে দক্ষিণেশ্বরে এসেছে এবার,
ওরে চক্ষু মেলে চেয়ে দেখ, পাবেরে নব জীবন;
(কত আর ঘুমাবে জীব, কাম-কাঞ্চন-আবেশে)॥
রামকৃষ্ণের কৃপায় বিবেকানন্দ বিলায়,
ভক্তি মুক্তি বিনামূল্যে কে নিবি রে আয়।
‘রামকৃষ্ণ’ বলে নেও রে তুলে, যার যত হয় প্রয়োজন।
(ধর্ম অর্থ কাম মোক্ষ)॥
—শরৎচন্দ্র চক্রবর্তী
* স্বরলিপি: আনন্দলহরী
↑ Contents
তুমি ব্রহ্ম, ‘রামকৃষ্ণ, তুমি কৃষ্ণ, তুমি রাম
জয়জয়ন্তী—ঝাঁপতাল*
তুমি ব্রহ্ম, ‘রামকৃষ্ণ, তুমি কৃষ্ণ, তুমি রাম,
তুমি বিষ্ণু, তুমি জিষ্ণু, প্রভবিষ্ণু প্রাণারাম।
তুমি আধেয় আধার, তুমি ব্রহ্ম নিরাকার,
তুমি নর-রূপ-ধর, বিজিত-কনক-কাম॥
অপার-করুণা-সিন্ধু, তুমি দেব দীনবন্ধু,
যাচে ইন্দু কৃপাবিন্দু, চরণে করি প্রণাম॥
—শরৎচন্দ্র চক্রবর্তী১
* স্বরলিপি: দিব্যগীতি
১ দিব্যগীতি গ্রন্থে রচয়িতা ‘ইন্দ্রভূষণ’ বলা আছে।
↑ Contents
‘রামকৃষ্ণ’, শ্যাম, শ্যামা, শিবে ভেদ ভেব না আমার মন
লগ্নী-খাম্বাজ—কারফা
‘রামকৃষ্ণ’, শ্যাম, শ্যামা, শিবে ভেদ ভেব না আমার মন।
নামরূপের গেলাপে ঢাকা আছেন সেই এক নিরঞ্জন॥
চিনির ছাঁচে উট হাতী ঘোড়া, পুতুল পাখী রথ হয় যেমন,
যার যেমন মন লয় সে তেমন, এক চিনিতে সব গঠন॥
ভেদ ভাবনা মন ছাড় না, সুখ পাবে না তায় কখন,
বহুতে এক দেখলে তবে, পারিরে সেই মোক্ষধন॥
অস্থি মাংস মেদ শোণিতে সকল শরীর হয় সৃজন,
এক আত্মারাম বিহরেন তায়, কে হিন্দু ভাই কে যবন॥
সাধ যদি তোর থাকে রে মন, পেতে সত্য সনাতন,
(তবে) ভাসিয়ে দে না দ্বেষাদ্বেষী, পর না চোখে প্ৰেমাঞ্জন॥
—দেবেন্দ্রনাথ মজুমদার
↑ Contents
নীলকমল নয়নযুগল কি যেন কি বিষাদে বিমলিন
বেহাগ-খাম্বাজ—ঠুংরী
নীলকমল নয়নযুগল কি যেন কি বিষাদে বিমলিন,
কোমল হৃদয়েতে কেন গো ব্যথা পেতে সাজিলে ধরাতে দীনহীন॥
পঞ্চবটী মূলে বিল্বতরু তলে সাধিলে সাধনা সুকঠিন,
দ্বাদশ বৎসর নাহি অবসর, করিলে সুন্দর তনু ক্ষীণ॥
কোন সে প্রেমলোকে ছিল গো চিরসুখে, ভেদ-বিবাদ বেদনা-বিহীন;
মলিন ভূতলে প্রেমে নেমে এলে, দীনহীনজনে কোলে তুলে নিলে,
মানব-মঙ্গলে তনু তেয়াগিলে, সহিলে যাতনা নিশিদিন॥
—স্বামী প্রেমেশানন্দ
↑ Contents
বড় আশা করে এসেছি ঠাকুর করুণা নয়নে চাও হে
ইমন-কল্যাণ—কাওয়ালী
বড় আশা করে এসেছি ঠাকুর করুণা নয়নে চাও হে।
দিয়ে রাঙ্গা চরণ রাজীবলোচন, কামনা মোদের পুরাও হে॥
হৃদয় কমল বিকাশ করিয়া, প্রকাশ আসিয়া তায়—
ভকতি-হিল্লোলে প্রেমে-পরিমলে, পুলকে পূরিবে কায়;
মাতিয়া যাইবে মন মধুকর,
পিবে বসি শুধু শ্রীচরণের মধু বিভোর হইয়া তায়—
তৃষিত এ চিত হবে তিরপিত, একবার দেখা দাও হে॥
দয়ার আধার প্রেম-সুধাকর রামকৃষ্ণ গুণমণি
আসি বারে বারে নানারূপ ধরে, তারিলে তাপিত প্ৰাণী॥
মোদের তারিতে হবে (ঠাকুর)
আর বল কেবা আছে, যাব কার কাছে, লইবে মোদের ভার।
মোরা অতি দীন ভজন-বিহীন, নিজ গুণে কৃপা কর হে॥
—অজ্ঞাত
↑ Contents
কাঠুরে তুই দূর বনে যা, দূর বনে যা এই বেলা
বাউল—দাদরা
কাঠুরে তুই দূর বনে যা, দূর বনে যা এই বেলা।
কেঠো বনে কাল কাটালি ঘুচলো না (তোর) জঠর জ্বালা॥
রামকৃষ্ণ দিলেন বলে, মিলে ধন দূর বনে গেলে (ও কাঠুরে)।
ও তুই এবার যা দূর বনে চলে, পাবি চন্দনের চেলা॥
আরও যদি যাস এগিয়ে, রজত খনি দেখবি গিয়ে (ও কাঠুরে)।
ওরে তার ওধারে সোনা হীরে মণি মানিক রতন মালা।
দেহের মাঝে আছে সে বন, যদি না পাস তার অন্বেষণ (ও কাঠুরে)।
ওরে ধর রামকৃষ্ণ চরণ, সেবন যার করেন কমলা॥
—অক্ষয়কুমার সেন
↑ Contents
আপনি করিলে আপনার পূজা আপনার স্তুতি গান
নায়েকী-কানাড়া—একতাল
আপনি করিলে আপনার পূজা আপনার স্তুতি গান
ভবতারিণীর পূজারী ঠাকুর তুমি হে আমার প্রাণ॥
কেহ বলে তুমি সাধক-প্রধান, কেহ দেয় তোমায় দেবতারি মান,
(আমি) গৌরব সব ত্যজিয়ে দিয়েছি হৃদয়ে আসন দান॥
যবে মনে পড়ে করুণার ছবি, পর দুখে ম্রিয়মান,
পর পাপ বহি রোগ-জ্বালা সহি’ তাপিতে করিলে ত্রাণ।
দেব কি মানব পরিচয়ে আজ, হেন প্রেমিকের বল কিবা কাজ,
শুধু লয় মনে রাতুল চরণে করিতে জীবন দান॥
—স্বামী প্রেমেশানন্দ
↑ Contents
তুমি এলে ফাল্গুনে
ভীমপলশ্ৰী—একতাল
তুমি এলে ফাল্গুনে।
ফুল্ল কানন মলয়ানিল কম্পনে
কোকিল-কুল-কূজিত মুখরিত অলি গুঞ্জনে॥
হেরি ধরণী রঞ্জিতা, উৎসব উল্লসিতা,
চন্দ্রা-উদর-সিন্ধু-মথন উদিত চন্দ্রকিরণে॥
(তব) কুসুমকোমল অঙ্গ, (তাহে) উথলে রূপ তরঙ্গ,
মন্মথ শত নিমেষে নিহত বঙ্কিমায়ত নয়নে।
সাকেতপুরীভূষণ, কৃষ্ণ নন্দনন্দন
বিধি হরিহর সদাই বিভোর চরণপদ্ম ধেয়ানে॥
—স্বামী প্রেমেশানন্দ
↑ Contents
‘হরি ওঁ রামকৃষ্ণ’ বল মন আমার
মিশ্র জয়জয়ন্তী—কাহারবা*
‘হরি ওঁ রামকৃষ্ণ’ বল মন আমার।
‘সারদা-রামকৃষ্ণ’ নাম বল একবার॥
সুধামাখা হরি ওঁ রামকৃষ্ণ নাম।
অন্তকালে ‘হরি ওঁ রামকৃষ্ণ’ নাম
তারকব্রহ্ম হরি ওঁ রামকৃষ্ণ নাম
নিবে তোরে ‘শ্রীসারদা-রামকৃষ্ণ ধাম’।
হয়ে যাবি পূর্ণকাম পুলকে অপার॥
—স্বামী চণ্ডিকানন্দ
* স্বরলিপিঃ জয়রামবাটী মাতৃমন্দির প্রকাশিত ভজন সঙ্গীত গ্রন্থে রয়েছে।
↑ Contents
পাখী তুই ঠিক বসে থাক রামকৃষ্ণ নামের মাস্তুলে
বাউল
পাখী তুই ঠিক বসে থাক রামকৃষ্ণ নামের মাস্তুলে।
ও তোর, বৃথা উড়া নড়া চড়া কূল পাবি’নে অকূলে॥
(ও) তুই যেদিক যাবি দেখতে পাবি জলে জলাকার।
(ও তার) নাহি অস্ত দিগ্দিগন্ত অপার পাথার।
(ও তোর) ধরবে ডানা ঘোর যাতনা পড়বি মহা মুস্কিলে॥
(ও সে) অনন্ত অনন্ত ভাবে অন্ত কে করে,
প্রধান গ্রন্থ বেদ বেদান্ত গেল চুপ মেরে;
পুরাণেরা দিশেহারা সার কৈল নাম শেষকালে॥
এদিকে অবিদ্যা মায়া পিশাচী করাল,
পাতিয়াছে মন মোহিনী রূপ রসাদির জাল।
পাখী তুই পড়বি ফাঁদে মরবি কেঁদে প্রাণ হারাবি বেহালে॥
(ঐ মাস্তুল ছেড়ে চলে এলে)॥
—অক্ষয়কুমার সেন
↑ Contents
উথলেছে প্রেম-পারাবার
(বাউল) ঝিঁঝিট-বাহার—একতাল
উথলেছে প্রেম-পারাবার।
(তোরা) আয় না ছুটে ভবের মুটে, ভাসিয়ে দে না মাথার ভার॥
যার লেগেছে বোঝা, তার হ’য়েছে সোজা,
বোঝাবুঝির বুঁচকি ফেলে মারছে সে মজা,
(তুই) রইলি বসে বোঝার আশে, করবি শেষে হাহাকার॥
প্রেম-সাগরে ভাসিয়ে দে না গা,—
যাবি ভেসে এমন দেশে যার পাশে নাই গাঁ—
(ওরে) চন্দ্র সূর্য ধ্বংস হলেও হয় না সেথা অন্ধকার (বোকা)॥
সেথায় সবই উল্টা ঢং, সেথায় সবই উল্টা ঢং,
হেথায় কালো সেথায় সাদা বুঝবি কি ভাই রং,
(ও তোর) কার্য-কারণ, সব অকারণ, নাই তথায় তার অধিকার॥
মানবের দুঃখে নয়ন তাঁহার ঝরিতেছে অনিবার৷
গুরুদাস কেঁদে বলে ভাই, আর বিচারে কাজ নাই,
বোঝাবুঝি অনেক হ’ল (এখন) সোজায় চল ভাই,
‘রামকৃষ্ণ’ আমার প্রেমের পাথার, ডুবলে হবি ভবপার (বোকা)॥
—দেবেন্দ্রনাথ মজুমদার
↑ Contents
আজি এ জীর্ণ বীণায় আমার, গাব নব সমাচার
সুরট মিশ্র—একতাল
আজি এ জীর্ণ বীণায় আমার, গাব নব সমাচার।
মুছ আঁখিজল চাহ মুখ তুলি, ক্ষুদ্র ভাবিয়া আছ যেবা ভুলি,
দীনের তরে দীনের সুহৃদ্ ধরাতে এল আবার;
মানবের দুঃখে নয়ন তাঁহার ঝরিতেছে অনিবার॥
হে ভীরু, ভয় ভাবনা যত কর কর পরিহার;
শুন কান পাতি অমৃত-গীতি, ভুলে যাও আজি মরণ-ভীতি,
ঐ ডাকে হায় লইতে হেলায় জনম মরণ পার॥
—স্বামী প্রেমেশানন্দ
↑ Contents
ফাগুন হাওয়ায় পরশ রসে শুক্নো তরু মুঞ্জরে
ভৈরবী—একতাল
ফাগুন হাওয়ায় পরশ রসে শুক্নো তরু মুঞ্জরে,
পায়ে দলা লতায় কুসুম ফুটে মরু-প্রান্তরে॥
শীতের মেঘে গগন ছাওয়া, উড়িয়ে নে যায় পাগলা হাওয়া,
রবি শশীর হাসি রাশি ভাসে দিগদিগন্তরে॥
রামকৃষ্ণ মলয় বায়, লাগল কি সবারই গায়!
(তাই) নিখিল চিতে প্রেমের কুসুম ফুটল আজি ফুটল রে।
কে আছে রে অন্ধ কালা, কালের ডাকে করি’ হেলা,
দে খুলে দে বুকের বাঁধন লাগুক হাওয়া অন্তরে॥
হেলায় কোণে ধূলায় শয়ন, বিশ্ব সভায় তার প্রয়োজন,
সকল জীবন সফল হ’ল এবার যুগযুগান্তরে।
জ্যোতির খেলা গগনতলে দাঁড়া এসে মাথা তুলে,
ভাসবে নয়ন জলে হ’লে বসন্তের অন্ত রে॥
—স্বামী প্রেমেশানন্দ
↑ Contents
আবার যদি এলে হরি আবার দিলে দরশন
বসন্ত—ঝাঁপতাল
আবার যদি এলে হরি আবার দিলে দরশন।
আবার জীবে দিলে অভয় ওহে শ্রীমধুসূদন॥
জ্বালাও তবে প্রাণের আগুন, জ্বলুক শিখা দ্বিগুণ দ্বিগুণ;
বজ্র-বীণায় ঝঙ্কৃত কর স্পন্দিত হোক ত্রিভুবন॥
পাঞ্চজন্য বাজাও আবার দ্বাপরের সেই রুদ্র-তান,
যে গান শুনে সব্যসাচীর ক্লৈব্য ছাড়ি আত্মদান।
অভী’র মন্ত্রে উঠুক ভারত মুগ্ধ নেত্রে দেখুক জগৎ,
কর্ম যাদের ধর্মেরি তরে সেই জাতির আর নাই মরণ ॥
—স্বামী চণ্ডিকানন্দ
↑ Contents
জয়তু জয়তু রামকৃষ্ণ, জয় ভবভয়হারি হে
কীর্তন—একতাল*
(“চিন্তয় মম মানস হরি'— সুর)
জয়তু জয়তু রামকৃষ্ণ, জয় ভবভয়হারি হে।
জয়তু জয়তু পরমব্রহ্ম, জয় নর-রূপ ধারী হে॥
কাম-কাঞ্চন-আঁধারে, ধরণী ডুবিল হেরে,
(তুমি) উদিলে সূর্য অমিতবীর্য, যুগে যুগে অবতরি হে॥
(এবার) মহা সমন্বয়ের তরে, রামকৃষ্ণ একাধারে;
ডাক্ছ কেন সকাতরে, জগতের নরনারী হে॥
(আমি) শুনেছি অভয়বাণী, তুমি জগৎচিন্তামণি;
(তাই) তোমারি দ্বারে অতি কাতরে, এসেছি দীন ভিখারী হে॥
—বিনোদেশ্বর দাশগুপ্ত
* স্বরলিপি: সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
হাতে হাতে তালি দিয়ে বল রামকৃষ্ণ নাম
নামাবলি—খেমটা*
হাতে হাতে তালি দিয়ে বল রামকৃষ্ণ নাম,
রামকৃষ্ণ রামকৃষ্ণ একাধারে কৃষ্ণ রাম।
রামকৃষ্ণ নাম বল অবিরাম, তারকব্রহ্ম রামকৃষ্ণ নাম॥
এ যুগেতে সারদা রামকৃষ্ণ নামের ভেলা,
পারে যেতে চাসরে যদি কর্ ত্বরা এই বেলা।
এ যুগেতে সারদা রামকৃষ্ণ মধুর নাম,
যুগের হাওয়া লাগিয়ে পালে হরিগুণগান (কর রামকৃষ্ণ নাম)॥
শরণাগতির কোনো বিকল্প যে নাই,
সংসারাগ্নিতে কেন পুড়ে মর ভাই।
মরি মরি রামকৃষ্ণ মধুর নাম গান,
সারদা নামের সাথে কর সুধাপান (কর রামকৃষ্ণ নাম)॥
মোদের [জীবের] দুখে কাতর হয়ে পরব্রহ্ম এসেছে,
কলসে কলসে অপার কৃপাবারি এনেছে।
আয় ত্বরা আয় ত্বরা ওরে করি আত্মনিবেদন,
জীবনে মরণে রাখি’ অভয় [যুগল] চরণ॥
—স্বামী সর্বগানন্দ
* স্বরলিপি: আনন্দলহরী
↑ Contents
ঘরে আমার চাঁদ উঠেছে ঘুচে গেছে অন্ধকার
বাউল
ঘরে আমার চাঁদ উঠেছে ঘুচে গেছে অন্ধকার।
(ও সে) চাঁদের ছটায় বেশ দেখা যায় যেই নিরাকার সেই সাকার,
অপরূপ চাঁদের বাতি রাতি নাই দিন দিবা রাতি (অচঞ্চল জ্যোতিঃ)
ঘরে নাই চুরি ডাকাতি অরাতির অত্যাচার॥
অহঙ্কার বুদ্ধি দুজন ধরা পড়ে গেছে এখন (চোরের মতন),
আমার মনের নাই সেই মলিন বরণ, জ্ঞানসিংহ চৌকিদার।
আবাস বাটীর পাঁচটা রন্ধ্র হয়ে গেছে কপাট বন্ধ (মরি কি আনন্দ),
রূপ রসাদির আবিল গন্ধ প্রবেশে পথ পায় না আর।
চির কেলে আঁধার ঘরে চাঁদের খেলা তার ভিতরে (হয় কি রে)
ও তার সাধ যদি হয় দেখিবারে রামকৃষ্ণ নাম কর সার॥
—অক্ষয়কুমার সেন
↑ Contents
কে উদিল ঐ ভারত-গগনে, নেহার নেহার মনরে আমার
ভৈরবী—একতাল
কে উদিল ঐ ভারত-গগনে, নেহার নেহার মনরে আমার।
উজল স্নিগ্ধ কিরণে কাহার, দূরে গেল আজি ধরার আঁধার॥
তরুণ অরুণ অপরূপ ভাতি, রূপ অনুপম জিনি নিশাপতি;
ভকত-বিহগ গায় প্রেম-গীতি, ধায় দিশি দিশি আনন্দে অপার॥
বিভেদ-বিবাদ-তপত-পবন, ভব-মরু-মাঝে বহে অনুক্ষণ;
সুখ-মরীচিকা-মুগধ-নয়ন, জীবগণ তাহে করে হাহাকার।
মরু-কান্তারে নন্দনবন, সৃজন কারণ তব আগমন
মিলন-মলয় ধীরি ধীরি বয়, মনে লয় দুখ ঘুচিল ধরার ॥
—স্বামী চণ্ডিকানন্দ
↑ Contents
মগন-হৃদয়-ভকত জাগে দয়াল নামগানে
খাম্বাজ—একতাল
মগন-হৃদয়-ভকত জাগে দয়াল নামগানে।
জয় রামকৃষ্ণ রামকৃষ্ণ নাম-সুধা পানে ॥
রজত-আসন ধরণী-শাসন না চাহি মণিকাঞ্চনে।
তুলসী-মাল মৃগ-ছাল, রামকৃষ্ণ বদনে।
ভুবন-মোহন রমণী-রতন না চাহি আলিঙ্গনে।
চাহে মন রামকৃষ্ণ-স্থান অভয় চরণে
নাহিক সাধ মধুর স্বাদ রসনা পরিতোষণে॥
চাহে মন রামকৃষ্ণ-চরণামৃত সেবনে।
(রামকৃষ্ণ রামকৃষ্ণ রামকৃষ্ণ ধ্যানে)
—কালীপদ ঘোষ
↑ Contents
কে তুমি তাপস কাঁদিছ কাতরে নীরবে সুরধুনী তীরে
কাফি-সিন্ধু—তেওরা
কে তুমি তাপস কাঁদিছ কাতরে নীরবে সুরধুনী তীরে।
দু’নয়নে তব করুণার ধারা অবিরত বহে শতধারে॥
দলিছে মানবে শত অবিচার, কোটি নারায়ণ করে হাহাকার।
(তাই) জীবন দেবতা পূজিলে এবার বেদীতে বসায়ে নরে?
তোমার মহান দুঃখ আমার জীবনে প্রভো করো সঞ্চার।
মানবের দুঃখে কাঁদিতে শিখুক ক্ষুদ্র আমার এ অন্তর।
তুচ্ছ স্বাৰ্থ-সুখ-আশে ভুলি আর থাকিব না, চাহ মুখ তুলি।
লহ দেব লহ এ জীবন ডালি, তব নরদেব পূজা উপচারে॥
—স্বামী চণ্ডিকানন্দ
↑ Contents
কে তুমি তমোনাশন নাথ, জগত-তারণ রাজিত রামকৃষ্ণ নামে সুধাময়
সিন্ধু-বিজয়—তেওরা
কে তুমি তমোনাশন নাথ, জগত-তারণ রাজিত রামকৃষ্ণ নামে সুধাময়৷
যুগে যুগে তব শুভ আগমন, বিদিত আগমপুরাণে,
দুরিত-দলন, ভকত-পালন, উদ্ধারণ জন মায়া ঘোরে॥
নিত্য চিন্ময় আনন্দময়, স্বরূপ তোমারি সনাতন,
ভকত-প্রাণ-তাপ-হরণ, দেহ ধারণ লীলাতরে॥
জ্যোতি-বিমল বিকাশ-কারণ, চির-মোহ-ঘন-বারণ,
চকিত ভুবন তব দরশনে, প্রণত জগজন করজোড়ে॥
সর্ব-ধরম-সমান-কারণ, নানা-মত-যোগ-সাধন,
কাম-কাঞ্চন-লেশ-বিহীন, নিরঞ্জন! নমি ভকতি ভরে॥
—নীরদরঞ্জন মজুমদার
↑ Contents
রামকৃষ্ণ গুণধাম (আমারি)
মিশ্র-দেশ—তিনতাল
রামকৃষ্ণ গুণধাম (আমারি)
ভব-সন্তাপিত-দগ্ধহৃদয়-মরু-সিঞ্চিত মঙ্গল বারি-বিসারী॥
পূর্ণানন্দ শ্রীরাম-শ্যাম যুগ-মুরতি এক অবতার বিহারী।
নিখিল-চরাচর-ধর্ম-সমন্বয়-সাম্য-সনাতন-স্থাপন-কারী ॥
শারদ-চন্দ্র-নিন্দিত-মুখ উজ্জ্বল শান্তি নির্ঝর মৃদু হাস্যে।
তপ্ত প্রাণ-মন দীন ভকত নিত্যামৃত প্রেমমধু দাস্যে।
পঞ্চবটীতট-ধ্যান-ধারণ-রত রম্য-মূরতি-রূপ-ধারী।
ভক্তে অভয় তব দেহ পদ-পঙ্কজ জয় জয় দয়াল ভরাময়-বারী॥
—হৃষীকেশ চক্রবর্তী
↑ Contents
রামকৃষ্ণের বেদীতলে মোরা মিলিয়াছি একপ্রাণ
ইমন-কল্যাণ—দাদরা*
[“অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষিত কর সন্তানে তব আজ”—সুর]
রামকৃষ্ণের বেদীতলে মোরা মিলিয়াছি একপ্রাণ।
পরা অপরা বিদ্যা সাধিয়া লভিব দিব্য জ্ঞান॥
শৌর্যে করিয়া অঙ্গ-ভূষণ সত্যের তরে ধরিব জীবন।
সর্বশক্তি আছে অন্তরে, জানিয়াছি সন্ধান॥
‘ত্যাগ ও সেবা’র সাধনা সহায়ে মানুষ হইব মোরা,
তাই যে মোদের জাতির সাধনা, সেই সনাতন ধারা।
‘বিবেকে’র সেনা আমরা সবাই, উন্নত শির মোদের সদাই,
উচ্চ কণ্ঠে মোরা গেয়ে যাই মহামিলনের গান, ‘বিবেকে’র জয় গান;
গাহি আনন্দে “জয় মহামায়ী” জয় জয় ভগবান।
জয় জয় ভগবান, জয় জয় ভগবান
—স্বামী চণ্ডিকানন্দ
* স্বরলিপি: আনন্দলহরী
↑ Contents
অনুরাগ বিহনে সাধনায় ফলে না ফল
বাউল
অনুরাগ বিহনে সাধনায় ফলে না ফল।
দিনকরে শূন্যভরে তুলছে সাত সাগরের জল॥
ক্ষুদ্র বীজ বালির মতন মাটির ভিতর করে রোপণ (আশ্চর্য কেমন)
গোপনে রসের আকর্ষণ তুলে দেহে আঁকুর কল॥
রাগে স্রোতস্বতীর রীতি একটানা বয় দিবারাতি (অবিরাম গতি)।
সাগরে সঙ্গম পিরীতি হ’লে তবে প্রাণ শীতল॥
রাগের খেলা চাঁদের দেশে যেথা কৃষ্ণ ছুটে আসে (মিলিবে কিসে)
পাবে তুমি অনায়াসে রামকৃষ্ণ পদ কর সম্বল॥
—অক্ষয়কুমার সেন
↑ Contents
কেন দেখা দিলে, কি করিতে এলে, কবে দুঃখনিশা হবে অবসান
ইমন-কল্যাণ—একতাল
কেন দেখা দিলে, কি করিতে এলে, কবে দুঃখনিশা হবে অবসান।
কত সহি আর দিবসে আঁধার, সোনার ভারত হয়েছে শ্মশান॥
মৎস্য-কূর্মবেশে জীবদুঃখ নাশে তারিলে ভারতে বারে বারে এসে,
(এবার) জীবে দয়া হেরি, মনে লয় হরি,
জগতে তারিতে হ’লে মূর্তিমান॥
সাগর-সলিলে ভাসিল পাষাণ, যজ্ঞ-বিঘ্ন-রক্ষ-বংশ অবসান,
রাম-রাজ্য স্মরি ঝরে অশ্রুবারি,
(এবে) অনাহারে সহি শত অপমান॥
দণ্ডিতে দম্ভীরে আসিলে দ্বাপরে, নাচি রণরঙ্গে শোণিত-সায়রে
নাশি বাহুবলে কংস-শিশুপালে, এবে কংস-শত হের দহে প্রাণ
জ্ঞান মূর্তিমান্ নরদেহ ধরি, জীবের কল্যাণে গেহ পরিহরি,
সাজিয়া ভিখারী দ্বারে দ্বারে ঘুরি, বিতরিলে জ্ঞান ব্রহ্ম-নিরবাণ॥
হের প্রেতভূমি-সম ধরাতল, পাপভারে যেন করে টলমল।
কর তমোনাশ, হও হে প্রকাশ, ‘এস রামকৃষ্ণ’, কর জীবে ত্রাণ॥
—স্বামী প্রেমেশানন্দ
↑ Contents
রামকৃষ্ণ নাম গাও মন অবিরাম
মালকোষ—সুরফাঁক্তা
রামকৃষ্ণ নাম গাও মন অবিরাম।
জুড়াবে তাপিত প্রাণ দুঃখ হবে অবসান,
হিয়ায় হেরিবে সদা সুখে প্রাণারাম॥
আহা কি মোহন রূপ যাই বলিহারি,
নয়ন ফিরে না হায়, বারেক নেহারি।
চিত-মনোহারী জগজন-তারি
করুণা বিতরি হরি এলো ধরাধাম॥
—স্বামী চণ্ডিকানন্দ
↑ Contents
জয় রামকৃষ্ণ জয় নররূপধারী
প্রভাতী—ত্রিতাল
জয় রামকৃষ্ণ জয় নররূপধারী
ধরার যতেক ধর্ম সমন্বয়কারী।
শুদ্ধা ভকতি বিগ্রহ জয় গৌরহরি,
আচণ্ডালে প্রেম দিলে বলি হরি হরি॥
জয় রামানুজাচার্য জীব হিতকারী
শঙ্কর শিবাবতার জ্ঞান মূর্তিধারী,
জীব উদ্ধারিলে বুদ্ধ নির্বাণ প্রচারি॥
পূর্ণ মনুষ্যত্ব রূপ শ্রীকৃষ্ণ মুরারি॥
রাজধর্ম সংস্থাপিলে রামরূপে হরি॥
জীবে দয়া প্রচারিলে যিশুরূপ ধরি
মোহম্মদ মানব-সাম্য প্রবর্তনকারী॥
শিখ ধর্ম সংস্থাপক শ্রীগুরু নানক
লাওসে কনফুসিয়াস জীব উদ্ধারক॥
জরথুস্ট্র পারস্যেতে এসে অবতরি
শিখালে নতুন ধর্ম আপনি আচরি॥
যুগে যুগে যত ঋষি আসিলে ভুবনে
দয়া করে পদরেণু, দাও অভাজনে॥
—স্বামী চণ্ডিকানন্দ
↑ Contents
নমো নমো দেব, নমো নর দেব, নমো ভবভয়হারী
আশাবরী—একতাল
নমো নমো দেব, নমো নর দেব, নমো ভবভয়হারী।
ভুবন পাবন নমো নারায়ণ, রামকৃষ্ণ-রূপধারী॥
মদ-গর্বিত দুষ্ট-দলনে, সাধু-সজ্জন পালনে,
ধরম স্থাপনে আসিলে ভুবনে যুগে যুগে অবতরি॥
দখিন সহরে কত না সাধনা; জীবে তরাইতে কত না ভাবনা,
দীন দুখী তরে দু’নয়ন ঝরে, জগজন-দুখ-হারী।
সকল জীবেতে এক নারায়ণ, মন্দিরে যাঁরে করে আরাধন,
শিখালে মানবে এ নব সাধন, বিতরিলে প্রেমবারি॥
—স্বামী চণ্ডিকানন্দ
↑ Contents
এসেছে আজ প্রাণের ঠাকুর, দেখবি যদি চলে আয়
বাউলাঙ্গ—কাওয়ালী*
এসেছে আজ প্রাণের ঠাকুর, দেখবি যদি চলে আয়।
পাষাণ গলে তাঁর নামেতে, প্রেমে ভুবন ভেসে যায়॥
মরি কি রূপ মাধুরী, মেটে না সাধ যতই হেরি (গো)।
মনে লয় তায় হৃদে ধরি, পরাণ সঁপি রাঙ্গা পায়॥
সদাই যেন আপন হারা, মা নামেতে মাতোয়ারা (রে)
হাসে কাঁদে পাগল পারা, ক্ষণে নাচে ক্ষণে গায়।
মোদের তরে মায়ের কাছে কাতরে করুণা যাচে গো।
এমন আপন আর কে আছে—আপামরে প্রেম বিলায়।
—স্বামী চণ্ডিকানন্দ
* স্বরলিপিঃ আনন্দলহরী
↑ Contents
সীমাকে বীচ অসীম দেশকা কৌন অতিথি আয়া রে
গজল—কাহারবা
সীমাকে বীচ অসীম দেশকা কৌন অতিথি আয়া রে।
জান পহচান ন হ্যয় তথাপি দিলমে অচ্ছা ভায়া রে॥
ক্যা য়হ হায় অওধ বিহারী বৃন্দাবন কা ক্যা বনচারী।
জড় বিজ্ঞান কা দর্পহারী কৌন অতিথি আয়া রে॥
বেদ, বাইবেল, পুরাণ, কুরাণ, তন্ত্র ইস্মে হ্যয় মূর্তিমান্।
বান্ধা প্রেমসে সভী কে প্রাণ, কৌন যাদুগর আয়া রে॥
সভী মতকা সাধন কিয়া ভেদ ঔর দ্বন্দ্ব দূর কর দিয়া।
বিশ্ব জনকো আপনা লিয়া কৌন দিলারা আয়া রে॥
জো হো সো হো হম্ ন জানে অগুন্কা গুণ কৌন বাখানে?
কেবল য়হী দিল্মে মানে হমার প্যারা আয়া রে॥
—স্বামী মেঘেশ্বরানন্দ
↑ Contents
জয়-নিখিল-জন-মনোহারী; নরোত্তমরূপ-ধারী রে
পিলু-বারোঁয়া—তিনতাল
জয়-নিখিল-জন-মনোহারী; নরোত্তমরূপ-ধারী রে।
রতি-পতি-গঞ্জন, রূপ-অতুলন, দীনেশ দীন-বেশ-ধারী রে।
সদা নিজ ভাবে ভোলা, শ্রীমুখে মা মা বলা, ভকত মনপ্রাণহারী।
জয় ভবেশ্বর, নবযুগ ঈশ্বর, সর্ব ধর্ম সমকারী রে॥
জয় নর-দুঃখ-বারণ, ত্যাগী-কাম-কাঞ্চন, কলিমল-মর্দনকারী।
জয় ভক্তেশ্বর ভকত বিমোহন, ভকত মনোতমোহারী রে॥
—রাধাকান্ত মল্লিক
↑ Contents
ভব পারাবারে হে রামকৃষ্ণ তুমি যে তরণীসম
ভৈরবী—একতাল
ভব পারাবারে হে রামকৃষ্ণ তুমি যে তরণীসম।
তুমি দীননাথ তুমি মোর প্রিয় তুমি যে দেবতা মম॥
যুগে যুগে এই ঘোর সংসারে, তুমি যে ঠাকুর আস বারে বারে,
ধরণীর দুঃখ যন্ত্রণা সহি’ লয়েছ জনম মরণ॥
মোহ বন্ধন যত সংস্কার, অজ্ঞান রূপী যতই আঁধার,
আনো তুমি সেথা আলো পারাবার, হে প্রভু বিশ্বপালন॥
এস এই দীন হৃদয় মাঝারে তব জয় ধ্বনি উঠে বারে বারে,
সবাকার প্রাণে সব ঘরে ঘরে, ভরিয়া সকল ভুবন॥
—নিতাইদাস সান্যাল
↑ Contents
রামকৃষ্ণ শরণং রামকৃষ্ণ শরণম্
শুক্ল-বিলাবল—কাওয়ালী*
রামকৃষ্ণ শরণং রামকৃষ্ণ শরণম্
রামকৃষ্ণ শরণং শরণ্যে।**
(প্রভু) কৃপাহি কেবলং কৃপাহি কেবলং
কৃপাহি কেবলং শরণ্যে॥
শরণাগতোঽহং শরণাগতোঽহং
শরণাগতোঽহং শরণ্যে॥
নমো শ্রীগুরবে নমো শ্রীগুরবে
নমো শ্রীগুরবে নমো নমঃ॥
রামকৃষ্ণ রামকৃষ্ণ জয় জয় রামকৃষ্ণ।
রামকৃষ্ণ রামকৃষ্ণ জয় জয় রামকৃষ্ণ॥
—অরুণ চট্টোপাধ্যায়
* স্বরলিপি : আনন্দলহরী
** রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের দশম অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী বীরেশ্বরানন্দজী মহারাজের প্রিয়গান। গানটিতে ব্যাকরণগত ভুল আছে। ‘শরণ্যে’ শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গ বলে ঠাকুরের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হতে পারে না, তবু, পূজ্যপাদ সঙ্ঘাধ্যক্ষ মহারাজের স্বীকৃতি থাকায় এই ভাবেই বেলুড় মঠে গানটি গীত হয়।
↑ Contents
তুমি নয়নাভিরাম, তুমি চন্দ্রাভিরাম
ভৈরবী—একতাল
তুমি নয়নাভিরাম, তুমি চন্দ্রাভিরাম
(তুমি) ক্ষুদিরামনন্দন, বিবেকানন্দ-ধন,
তুমি নবঘনশ্যাম।
(তুমি) মুনিগণ জীবন, পতিত পাবন,
তুমি সীতাপতি রাম।
(তুমি) বেদ তুমি বিদ্যা, তুমি ভগবান,
(তুমি) অকুলেতে কূল, তুমি সর্বকর্মমূল তুমি
(তুমি) যােগীজন দুর্লভসারদাবল্লভ
তুমি নয়নাভিরাম।
—অহিভূষণ নন্দ
↑ Contents
আজি কি আনন্দ অপার (হলাে), রামকৃষ্ণ এল এবার
কামােদ মিশ্র—একতাল
আজি কি আনন্দ অপার (হলাে), রামকৃষ্ণ এল এবার॥
কিবা রূপ বলিহারি, নয়ন ফিরাতে নারি।
(এল) নিত্যরূপ পরিহরি’ ঘুচাইতে ধরারি ভার॥
মায়ার তিমির বিনাশি’ মহা ঘাের, বিকাশি’ করুণার রাশি,
যুগে যুগে অবতর, বহু নামরূপ ধর তােষিতে ভকত পিপাসী।
নানা ভাবে মহালীলা, ভূতলে আনন্দ মেলা,
ধুলাে খেলা ছেড়ে এই বেলা, (তার) অভয়চরণ কররে সার॥
—নীরদরঞ্জন মজুমদার
↑ Contents
জীবন প্রভাতে মরমের সাথে বল জয় রামকৃষ্ণ রে
প্রভাতী-ভজন—কাহারবা
জীবন প্রভাতে মরমের সাথে বল জয় রামকৃষ্ণ রে।
বল রামকৃষ্ণ, জপ রামকৃষ্ণ, ভজ মন রামকৃষ্ণ রে॥
জয় গুরু ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর সহস্রারে প্রভু উঁহু পরমেশ্বর।
‘জয় গুরুজীকি জয়’ বলরে মন নিরাশ্রয় শান্ত হবে গাে মন প্রাণ রে॥
লজ্জাপটাবৃতা দেবী কৃপাময়ী স্নেহময়ী জননীকি জয়।
জয় জ্ঞানদায়িকে দেবী সারদে বরাভয়দায়িকে জয়॥
মূর্ত মহেশ্বর উজ্জ্বল ভাস্কর বিবেকানন্দ কি জয়॥
জয় রামকৃষ্ণ ভক্তগণ জয় আনন্দে জয়গান গাহ মন রে॥
—প্রমথনাথ গাঙ্গুলী
↑ Contents
কে ঐ আসিলরে কামারপুকুরে পুলকে নাচিয়া উঠে প্রাণ
পিলু-বারােয়া—কাহারবা*
কে ঐ আসিলরে কামারপুকুরে পুলকে নাচিয়া উঠে প্রাণ।
দুঃখ নিশা কাটিল সুখ রবি হাসিল গগনে উঠিল নব গান॥
মানিক রাজার আম্রকাননে, কে ঐ শিশু খেলে ফুল্ল আননে।
লীলা অভিনয় নবনব গানে, হিয়া শিহরিয়া উঠে তান॥
কত গানে গানে অমিয় কথায় পলকেতে পরান মাতায়।
মন প্রাণারাম লীলা অভিরাম আঁখি সদা নিরখিতে চায়॥
আমারেও নাও তােমার এ খেলায়, ভাইরে গদাই ধরি দু’টি পায়।
যুগে যুগে হরি তােমার এ লীলায়, লহ মম তনু মনপ্রাণ॥
—স্বামী চণ্ডিকানন্দ
* স্বরলিপিঃ সুরবিতান
↑ Contents
আজি প্রেমানন্দে মন রে গাহ রামকৃষ্ণ নাম
ভৈরবী—একতাল*
আজি প্রেমানন্দে মন রে গাহ রামকৃষ্ণ নাম।
গাহ রামকৃষ্ণ নাম জপ রামকৃষ্ণ নাম,
নাম সুধা পানে রহ মত্ত অবিরাম॥
কামারপুকুর হ’ল পুণ্য ব্রজধাম,
সখাগণ লয়ে খেলে লীলা অভিরাম;
(যেন), মানস মুকুরে ভাসে সে ছবি সুঠাম।
নমাে নমাে চন্দ্রাদেবী নমাে ক্ষুদিরাম,
কৃপাময়ী মা জননী লহ গাে প্রণাম।
জয়রামবাটীর মাটি চন্দন সমান,
আমার মা জননীর জন্মভূমি মহাতীর্থস্থান,
মায়ের চরণে শরণ নিলে পুরে মনস্কাম।
—প্রমথনাথ গাঙ্গুলী
* স্বরলিপি: আনন্দলহরী
↑ Contents
শ্রীরাম তুঁহি, কৃষ্ণ তুঁহি, পরব্রহ্ম নারায়ণ, তুঁহি আদি শকতি
মালকোষ—ঝাপতাল*
শ্রীরাম তুঁহি, কৃষ্ণ তুঁহি, পরব্রহ্ম নারায়ণ, তুঁহি আদি শকতি।
তুঁহি সৃজন-পালন-সংহরণ-কর, শান্তি-বিধারণ তুঁহি ব্ৰহ্মজ্যোতিঃ।
জগন্নাথ প্রকট হাে, য়হ পুণ্যভূমিমে,
শিখাবত সব-ধরম-সমজ্ঞান-প্রতীতি।
ধন্য রামকৃষ্ণ তুম দয়াল ভগবান,
দেহুঁ প্রভু জ্ঞানধন অউর শুধ ভকতি॥
—স্বামী অপূর্বানন্দ
* স্বরলিপিঃ সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
নয়নাভিরাম মাের নয়নাভিরাম
ভজন—কাহারবা
নয়নাভিরাম মাের নয়নাভিরাম
এস রামকৃষ্ণ মাের নয়নাভিরাম।
এস যশােদা দুলাল তুমি রঘুপতি রাম॥
দক্ষিণেশ্বর তব লীলা কিবা মনােহর
কভু শ্যামা রূপ ধর কভু সাজ শঙ্কর
শ্রীরাধার ভাবে কভু কাঁদে তব অন্তর
ধূলায় লুটায়ে বল কোথা নব ঘনশ্যাম।
পঞ্চবটীর মূলে জাহ্নবী কিনারায়
যেচে প্রেম বিলাইতে ডাক ‘ওরে আয় আয়’।
ভকত কুসুম যত আনিলে আপন সাথ
নন্দন কাননের সুন্দর পারিজাত
সে কুসুমে ভরি সাজি আপনি পূজারী সাজি’
করিলে আপন পূজা ধরি মুখে নিজ নাম॥
—প্রমথনাথ গাঙ্গুলী
↑ Contents
(আজি) কামারপুকুরে চল মন
বেহাগ—তিনতাল
(আজি) কামারপুকুরে চল মন।
সুখের নেশায় ঘুরি’ জনম জনম ধরি’,
কত রবে বিষাদ-মগন,
(বলাে), কত রবে বিষাদ মগন॥
কামারপুকুরে আসি নিত্য লীলায়
অরূপ ধরিয়া রূপ ভুবন ভুলায়,
(সে যে) কত না আদরে তােরে ডাকে আয় আয়,
ওরে আয় ওরে চলে আয়,
চলে আয় জুড়াবি জীবন,
(তুই) চলে আয় জুড়াবি জীবন॥
—স্বামী চণ্ডিকানন্দ
↑ Contents
বাণীরূপে রহিয়াছ মূরতি ধরি
মিশ্র-খাম্বাজ—কাহারবা
বাণীরূপে রহিয়াছ মূরতি ধরি’
রামকৃষ্ণ তােমায় প্রণাম করি॥
অন্তর বিহারী ছিল তব সঙ্গে,
দেখাইলে তুমি তারে নানা রূপ ভঙ্গে
ধ্রুবতারা রহাে হৃদি-গগন ভরি’॥
মুক্তি-দেউলে ফোটালে যে ফুল
প্রেমের সুগন্ধে দুলিল দোদুল,
ভব-পারাবারে তুমি পারের তরী॥
মায়াপাশ বন্ধন শােক-তাপ ক্রন্দন,
তব বাণী দিল চির শান্তিবারি,
জগতের বেদনায় দিলে নব চেতনা,
পরমানন্দ তুমি দিশারী॥
—অজ্ঞাত
↑ Contents
প্রেমভরে মন রে গাহ রামকৃষ্ণ নাম
ভজন—কাহারবা
(সুর—প্রেম মুদিত মনসে কহ রাম রাম রাম)
প্রেমভরে মন রে গাহ রামকৃষ্ণ নাম,
শ্রীরামকৃষ্ণ নাম, শ্রীরামকৃষ্ণ নাম।
আনন্দ বৰ্ষক নাম মম প্রাণারাম
রামকৃষ্ণ নাম, শ্রীরামকৃষ্ণ নাম, শ্রীরামকৃষ্ণ নাম॥
অন্তরে যতনে রাখ মনরে অবিরাম
দীন কাঙ্গালের ধন রামকৃষ্ণ নাম
রামকৃষ্ণ নাম, শ্রীরামকৃষ্ণ নাম, শ্রীরামকৃষ্ণ নাম॥
একই বৃন্তে ফুটিলরে রাধা, কৃষ্ণ, শ্যাম,
শিব, কালী, ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শ্যামা সীতারাম।
নাম ব্ৰহ্ম একই জেনে মনরে গাহ নাম,
জনম মরণ সাথী রামকৃষ্ণ নাম,
রামকৃষ্ণ নাম, শ্রীরামকৃষ্ণ নাম, শ্রীরামকৃষ্ণ নাম॥
—প্রমথনাথ গাঙ্গুলী
↑ Contents
হরি আমার প্রেম-মধুর, ভকত-হৃদয়-রঞ্জন
মিশ্র খাম্বাজ—একতালা
(বন্দি তােমায় ভারত-জননী’সুর)
হরি আমার প্রেম-মধুর, ভকত-হৃদয়-রঞ্জন
তব লীলা-ছলে ত্রিভুবন-সৃজন-পালন-নাশন।
পাতকী তরিতে ভূভার হরিতে যুগে যুগে অবতরণ—
নর-শরীর ধারণ॥
সিংহলে লীলা ভাসাইলে শিলা, অযাচিতে হরি প্রেম দিলে,
ভূচরে খেচরে দিলে বানরে অমর-বাঞ্ছিত চরণ,
নব-দূর্বাদল-শ্যামল-সুন্দর পবন-নন্দন-বন্দন,
যােগিজন-মনােমােহন॥
অধর-অমৃত করিয়া পূরিত বাজালে মােহন বাঁশরী
নিখিলের মন করিলে হরণ কমল-নয়নে নেহারি,
ও রূপ হেরিলে যােগী যােগ ভুলে, কুল-মান ত্যজে কুল-নারী—
ব্রজ-বিপিন-বিহারী॥
(বসি) সুরধুনী-তীরে পতিতের তরে কে তুমি কাঁদিছ, কাতরে,
পাপভারে ভরা ধরণী হেরিয়ে ব্যথা পেলে বুঝি অন্তরে,
এসেছ আবার হরি কি আমার দেখা দিতে চিরকিঙ্করে—
রামকৃষ্ণ রূপ ধরে॥
—স্বামী প্রেমেশানন্দ
↑ Contents
সংঘমূরতি শ্রীরামকৃষ্ণ প্রণমি তােমারে বারংবার
ভৈরবী—একতাল*
সংঘমূরতি শ্রীরামকৃষ্ণ প্রণমি তােমারে বারংবার।
তুমিই সংঘ, তুমিই ধর্ম, প্রণমি প্রণমি পদে তােমার॥
সকল জাতির শান্তির তরে সর্ব ধর্ম বিগ্রহ ধরে,
সংঘরূপেতে যুগের ধর্ম নিখিল বিশ্বে কর প্রচার॥
বিতরিতে তব অমিয়বারতা বিবেকানন্দে দিয়েছ ভার,
সংঘগুরুর অন্তরে বসি’ করিতেছ তুমি জীব-উদ্ধার।
হে যুগদেবতা, মঙ্গলময়, চরণে তােমার দাও আশ্রয়
মোদের জীবনে হােক্ তব জয় শুভ মতি দাও তব সেবার॥
—স্বামী চণ্ডিকানন্দ
* স্বরলিপিঃ সুরবিতান
↑ Contents
পাল তুলে দাও, হাল তুলে নাও, কৃপা-পবন বয়ে যায়
বাউল—কারফা
পাল তুলে দাও, হাল তুলে নাও, কৃপা-পবন বয়ে যায়,
রামকৃষ্ণ-প্রেমের তরঙ্গেতে ছুটবে তরী দরিয়ায়—কৃপা-পবন বয়ে যায়॥
আয়রে তােরা আয়, (মিছে) বসে কেন কিনারায়,
সাগর পানে যাবার তরী ভাসতেছে ঐ দেখা যায়, কৃপা-পবন বয়ে যায়॥
অচিন আলাে হােথা জ্বলে অমর সুর-তরুর তলে,
পরম ধনে লয়ে কোলে প্রাণের ঠাকুর ডাকে আয়,
(রামকৃষ্ণ-ঠাকুর ডাকে আয়) কৃপা-পবন বয়ে যায়॥
শান্তি হােথায়, নেইকো জ্বালা, প’রে আমার দুখের মালা,
হাসে ঠাকুর নাচে ঠাকুর, কেবল সুধা দিতে চায়,
(রামকৃষ্ণ-ঠাকুর ডাকে আয়) কৃপা-পবন বয়ে যায়॥
—শ্ৰীশঙ্করীপ্রসাদ বসু
↑ Contents
(আমি) শরণাগত চরণে
বেহাগ—দাদরা
(আমি) শরণাগত চরণে
নাহং নাহং তুঁহু তুঁহু তুঁহু, সদা যেন রয় স্মরণে॥
(তুমি) অনন্ত করুণাপাথার, কৃপা বিতরিতে হয়েছ সাকার
শ্রীরামকৃষ্ণ যুগ অবতার কলি-কল্মষ হরণে॥
যদিও বহিছে কৃপা সমীরণ, পাল তুলে দিতে করিনে যতন
মায়ামোহে সদা বিজড়িত মন মজে না ও দুটি চরণে॥
ভরসা কেবল হে মহাশরণ, রামকৃষ্ণ নাম শঙ্কাহরণ
সম্পদ তব অভয়চরণ ভব গােষ্পদ তরণে॥
—মাধুর্যময় মিত্র
↑ Contents
ধিয়া তা ধিয়া ধিয়া নাচরে গদাই
কাফি—তিনতাল
ধিয়া তা ধিয়া ধিয়া নাচরে গদাই।
যে নাচে ভুলায়ে ছিলে যশােমতী মাঈ॥
চন্দ্রমণি মাকে ঘিরিয়া ঘিরিয়া,
হেলিয়া দুলিয়া নাচ আঁচল ধরিয়া।
চন্দ্রবদনে তাের হাসিটি হেরিয়া,
নিমিষে সকল দুখ পাসরিয়া যাই॥
অপরূপ লীলা তােমার কামারপুকুরে,
স্বরগ নামিল কিরে ক্ষুদিরাম ঘরে।
ভাসে যত নরনারী নয়নের নীরে,
পুলকে শিহরে ধনী কামারিণী আই॥
—স্বামী চণ্ডিকানন্দ
↑ Contents
(তুমি) অনাদি অনন্ত পুরুষ প্রশান্ত রামকৃষ্ণ প্রাণকান্ত হে
বসন্ত-বাহার—তেওরা
(তুমি) অনাদি অনন্ত পুরুষ প্রশান্ত রামকৃষ্ণ প্রাণকান্ত হে।
(সদা) ব্যাকুল প্রাণে তব-মহিমা-গানে বেদ-বেদান্ত শ্রান্ত হে।
(কিবা) তপত কাঞ্চন-আভা সুশােভন ঢল ঢল খেলে অঙ্গে হে।
(ঐ) ভব চরণ প্রভু অজয়-শাসন যাহে ভবে প্রাণান্ত কৃতান্ত হে॥
কিবা সুন্দর মৃদুহাসি বিলাসে, হেরে মােহধ্বান্ত হে।
বিগত-শােক-সন্তাপ পাপ, রহে মন শান্ত হে।
(তুমি) যােগেশ-জীবন ভকত-শরণ, ত্রিলােক-পাবন একান্ত হে।
(তব) কৃপা কেমনে পাইব নাথ, আমি নিতান্ত ভ্রান্ত হে॥
—দেবেন্দ্রনাথ মজুমদার
↑ Contents
তুমি বন্ধু তুমি নাথ বিপদহারী পরমপুরুষ
ইমন—চৌতাল
তুমি বন্ধু তুমি নাথ বিপদহারী পরমপুরুষ
প্রপন্নে অভয় দান কর হে, প্রেমনিলয় তাপবিনাশ॥
অরূপ বিভায় জ্যোতিরপুঞ্জে নিত্য আসীন ভাবের কুঞ্জে,
অনাদি সৃষ্টি তােমার ইচ্ছা, শ্রীরামকৃষ্ণ মদনত্রাস॥
ত্রিগুণেশ্বর কালাতীত তুমি প্রকৃতি-পূরণ ত্রিভুবন-স্বামী
কোটি কল্প কোটি সূর্য, কোটি চন্দ্র-ধরা দেবদেবী-দাস॥
গাইছে সাম-গানেতে মহিমা তুমি গাে তােমার নিত্য উপমা।
শরণাগত দীনাকিঞ্চন স্থান পাবে পদে করিছে আশ॥
—স্বামী সর্বগানন্দ
* স্বরলিপিঃ আনন্দলহরী
↑ Contents
বল বল সুরধুনী
দেশ—দাদরা
বল বল সুরধুনী,
তােমার বেলায় কী লীলা ঘটিল অবাক হইয়া শুনি॥
কোথা কোন দেশ কামারপুকুর,
জয়রামবাটী সে বা কতদূর—
কে বা ক্ষুদিরাম, কে বা গদাধর, কে বা দেবী চন্দ্রামণি,
কোন্ দেবতার ভিক্ষাজননী কামারকন্যা ধনী॥
বিশালাক্ষীর পথ কোন্ দিকে কোথায় ভূতির খাল,
কৃষ্ণ মেঘের কোলে কোথা চলে শ্বেতবলাকার পাল?
কে সে উন্মাদ সাধক মহান সঞ্চার করে পাষাণে পরাণ
তন্ত্রে দীক্ষা কারে করে দান ভৈরবী ব্রাহ্মণী—
শিশু রামলালা খেলে কার সনে কে বা সে পরমগুণী॥
কহ জাহ্নবী তােতার কাহিনী কহ কেশবের কথা,
মথুর কেমনে অর্ঘ্য রচিলা রাসমণি সেবারতা।
সেদিন কাহারা গেয়েছিল গান
কারা এসেছিল সঁপিয়া পরাণ—
জ্বেলেছিল কারা পাগলের পারা মহাসাধনার ধুনি,
কারে ঘেরি’ এই লীলা অভিনয়
কেবা সে মধ্যমণি॥
—জিতেন্দ্রনাথ সরকার
↑ Contents
জয় ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণ-প্রভু, জয় পার্তিহারী
প্রচলিত-কাহারবা*
(গঙ্গা-আরতি সুর)
জয় ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণ-প্রভু, জয় পার্তিহারী। (জয়)
আদি শক্তি তুমি এলে যে,
আদি শক্তি তুমি এসেছ, মানব হিতকারী।
(জয়) জয় পাপার্তিহারী। (জয়) জয় রামকৃষ্ণ হরি॥
শুদ্ধ মনে তব মহিমা গােচর হয় ক্ষণিকে। (প্রভু গােচর)
বরিষ কৃপা মাগাে সারদা,
বরিষ কৃপা ওমা সারদা, পরম জ্ঞানদায়িকে।
(ওমা) হর মনােহারি কালিকে॥
দীন জনে দয়া করাে দুখ-হরণ কুশল স্বামী। (দুখ-হরণ)
লজ্জা নিবৃত করাে মম (২)
অনাথ নাথ তুমি।
(প্রভু) মম অন্তরযামী॥
হৃদি-কন্দরে হােক বিকশিত তব শ্রীঅভয়চরণ
(প্রভু তব শ্রী...)
মম মানস চঞ্চল হে (২)
দূর করাে কাম-কাঞ্চন।
হে প্রভু আদি শরণ॥
বিবেকানন্দ নরঋষি করি তুমি আকর্ষণ। (প্রভু করি)
নিয়ে এলে জগতের কল্যাণে,
নিয়ে এলে আমাদের কল্যাণে—
প্রেম ও জ্ঞানের মিশ্রণ।
পেয়েছি যে মােরা মহাধন॥ (প্রভু)
জানকী হৃদয়নাথ ত্রেতাযুগে শ্রীরাম
দ্বাপরেতে রাধিকা মােহন। (তুমি দ্বাপরেতে)
ইদানীং তুমি রামকৃষ্ণ,
কলিযুগে সেই রামকৃষ্ণ, সারদার তনুপ্রাণমন। (প্রভু)
ভকতের বাঞ্ছিত ধন॥
সুন্দর নামামৃত তব, ধ্বনিছে তুরীভেরি আজ। (কত ধ্বনিছে)
কেমনে বসিয়া রব বলাে (২)
সমরাঙ্গনে পরি’ সাজ,
তব জয়-গান শুনি’ আজ।
ওঁ জয় শ্রীগুরুমহারাজ॥ (ওঁ...)
—স্বামী সর্বগানন্দ
* স্বরলিপিঃ আনন্দলহরী
↑ Contents
প্রসীদ প্রসীদ শিব শঙ্কর হে
কেদার—আদ্ধা
প্রসীদ প্রসীদ শিব শঙ্কর হে,
করি প্রণিপাত, ত্রাহি অনাথনাথ
আমরাও অনাথ কিঙ্কর হে॥
আমরা যে সতৃষ্ণ ত্রাহি রামকৃষ্ণ, তুমি প্রেম সুধা সাগর হে।
কণিকা বিতরি পিপাসা লও হরি, আমরা যে তােমারি যা কর হে॥
চরণে পরশি, করুণা বরষি হৃদয়-সরসী পূর্ণ কর-হে।
হয়ে মােরা পূর্ণকাম, গাহিক তােমার নাম, কঁপাইবে সেই তান অম্বর হে।
এসে মহারাজ, হৃদাসনে রাজ, পরি যােগী সাজ সুন্দর হে।
তবাদেশ মত, চলিব নিয়ত হইয়ে প্ৰণত অন্তর হে॥
—বৃন্দাবনচন্দ্র গােপ
↑ Contents
নিরাকার ভজন
একরূপ অরূপ নাম বরণ অতীত আগামীকালহীন
বড়হংস-সারঙ্গচৌতাল*
একরূপ, অরূপ-নাম-বরণ, অতীত-আগামীকালহীন,
দেশহীন, সর্বহীন, “নেতি নেতি” বিরাম যথায়।
সেথা হ’তে বহে কারণ-ধারা, ধরিয়ে বাসনা বেশ উজলা
গরজি গরজি উঠে তার বারি,“অহমহমিতি” সর্বক্ষণ।
সে অপার ইচ্ছা-সাগরমাঝে, অযুত অনন্ত তরঙ্গ রাজে,
কতই রূপ কতই শকতি, কত গতি-স্থিতি কে করে গণন ।
কোটি চন্দ্র, কোটি তপন, লভিয়ে সেই সাগরে জনম,
মহাঘাের রােলে ছাইল গগন, করি দশদিক জ্যোতিঃ মগন।
তাহে বসে কত জড় জীব প্রাণী, সুখ দুঃখ জরা জনম মরণ,
সেই সূর্য, তারি কিরণ, যেই সূর্য সেই কিরণ ।
—স্বামী বিবেকানন্দ
* স্বরলিপি ঃ সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
নাহি সূর্য নাহি জ্যোতিঃ নাহি শশাঙ্ক সুন্দর
বাগেশ্রী—আড়া
নাহি সূর্য নাহি জ্যোতিঃ, নাহি শশাঙ্ক সুন্দর।
ভাসে ব্যোমে ছায়াসম, ছবি-বিশ্ব-চরাচর।
অস্ফুট মন-আকাশে, জগত সংসার ভাসে;
ওঠে ভাসে ডুবে পুনঃ, অহংস্রোতে নিরন্তর ।
ধীরে ধীরে ছায়াদল, মহালয়ে প্রবেশিল,
বহে মাত্র “আমি আমি এই ধারা অনুক্ষণ।
সে ধারাও বদ্ধ হ’ল, শূন্যে শূন্য মিলাইল,
‘অবা-মনসােগােচর বােঝে-প্রাণ বােঝে যার ॥
—স্বামী বিবেকানন্দ
↑ Contents
এক পুরাতন পুরুষ নিরঞ্জনে চিত্ত সমাধান কর রে
ঝিঝিট-খাম্বাজ—ঠুংরি*
এক পুরাতন পুরুষ নিরঞ্জনে, চিত্ত সমাধান কর রে।
আদি সত্য তিনি কারণ-কারণ, প্রাণরূপে ব্যাপ্ত চরাচরে,
জীবন্ত জ্যোতির্ময়, সকলের আশ্রয়, দেখে সেই যে জন বিশ্বাস করে।
অতীন্দ্রিয় নিত্য চৈতন্যস্বরূপ, বিরাজিত হৃদিকন্দরে;
জ্ঞান প্রেম পুণ্যে ভূষিত নানাগুণে, যাঁহার চিন্তনে সন্তাপ হরে।
অনন্ত গুণাধার প্রশান্ত-মূরতি, ধারণা করিতে কেহ নাহি পারে,
পদাশ্রিত জনে, দেখা দেন নিজ গুণে, দীন হীন বলে দয়া করে।
চির ক্ষমাশীল কল্যাণদাতা, নিকট সহায় দুঃখসাগরে;
পরম ন্যায়বান, করেন ফলদান, পাপপুণ্য কর্ম অনুসারে।
প্রেমময় দয়াসিন্ধু, কৃপানিধি, শ্রবণে যাঁর গুণ আঁখি ঝরে,
তার মুখ দেখি, সবে হও রে সুখী, তৃষিত মন প্রাণ যাঁর তরে।
বিচিত্র শােভাময় নির্মল প্রকৃতি, বর্ণিতে সে অপরূপ বচন হারে;
ভজন সাধন তার, কর হে নিরন্তর, চির ভিখারী হয়ে তার দ্বারে।
—ত্রৈলােক্যনাথ সান্যাল
* স্বরলিপি ঃ দিব্যগীতি
↑ Contents
অনুপম মহিম পূর্ণব্রহ্ম কর ধ্যান নিরমল পবিত্র ঊষাকালে
ভৈরব—ফঁাপতাল
অনুপম-মহিম পূর্ণব্রহ্ম কর ধ্যান, নিরমল পবিত্র ঊষাকালে।
ভানু নব তার সেই প্রেম-মুখচ্ছায়া, দেখ ঐ উদয়গিরি শুভ্র ভালে।
মধু সমীরণ বহিছে এই যে শুভদিনে, তার গুণ গান করি অমৃত ঢালে;
মিলিয়ে সবে যাই চল ভগবত-নিকেতনে, প্রেম-উপহার লয়ে হৃদয়-থালে।
—দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
↑ Contents
তাঁহারে আরতি করে চন্দ্রতপন দেব মানব বন্দে চরণ
বড়হংস-সারঙ্গ-চৌতাল*
তাঁহারে আরতি করে চন্দ্র-তপন, দেব মানব বন্দে চরণ,
আসীন সেই বিশ্ব-শরণ, তার জগত-মন্দিরে। '
অনাদিকাল অনন্তগগন,
সেই অসীম মহিমা মগন,
তাহে তরঙ্গ উঠে সঘন আনন্দ নন্দ নন্দ রে ॥
হাতে লয়ে ছয় ঋতুর ডালি, পায়ে দেয় ধরা কুসুম ঢালি,
কতই বরণ কতই গন্ধ, কত গীতি, কত ছন্দরে ।
বিহগ গীত গগন ছায়,
জলদ গায়, জলধি গায়,
মহাপবন হরষে ধায়, গাহে গিরি-কন্দরে।
কত কত শত ভকত-প্রাণ, হেরিছে পুলকে গাহিছে গান,
পুণ্য কিরণে ফুটিছে প্রেম, টুটিছে মােহবন্ধ রে।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
* স্বরবিতান—২২
↑ Contents
আদি নাদ প্রণবরূপ সম্পূরণ দাও হে তব প্রসাদ
ইমন-কল্যাণ—সুরফাঁক্তা**
আদি নাদ প্রণবরূপ সম্পূরণ, দাও হে তব প্রসাদ,
শান্তিসিন্ধু, মহেশ, সকল গুণনিধান।
অযুত লােক, অকথিত বাণী তােমারি হে, মােহন রব অনুপম,
পুরে মহাগগন ভাবে মােহি জগজন।
অনুপম, অবিনাশী,
অনন্ত, অগম্য, অপার,
সুন্দর, অতি অপূর্ব ভাতি, নিরঞ্জন;
সকল-সুখ-কারণ, সকল-দুঃখ-নিবারণ,
তারণ, ভয়ভঞ্জন সুরনরমুনি-বন্দন ।
—জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর
** ব্রহ্মসঙ্গীত স্বরলিপি-২
↑ Contents
চিদানন্দ সিন্ধুনীরে প্রেমানন্দের লহরী
কীর্তন—(খয়রা)*
চিদানন্দ সিন্ধুনীরে প্রেমানন্দের লহরী।
মহাভাব রসলীলা কি মাধুরী মরি মরি।
বিবিধ বিলাস রঙ্গ প্রসঙ্গ, কত অভিনব ভাব-তরঙ্গ,
ডুবিছে উঠিছে করিছে রঙ্গ, নবীন নবীন রূপ ধরি।
(হরি হরি হরি বলে)
মহাযােগে সমুদায় একাকার হইল,
দেশ কাল ব্যবধান ভেদাভেদ ঘুচিল,
(আশা পূরিল রে,—আমার সকল সাধ মিটে গেল)
এখন আনন্দে মাতিয়া, দুবাহু তুলিয়া,
বল রে মন হরি হরি।
—ত্রৈলােক্যনাথ সান্যাল
* স্বরলিপি ঃ শ্রীরামকৃষ্ণের প্রিয় সঙ্গীত।
↑ Contents
টুটল ভরম ভীতি ধরম করম নীতি
(ঝাঁপতাল)
টুটল ভরম ভীতি ধরম করম নীতি
দূর ভেল জাতি কুলমান;
কঁহা হাম, কঁহা হরি, প্রাণমন চুরি করি,
বঁধূয়া করিলা পয়ান;
(আমি কেনই বা এলাম গাে, প্রেমসিন্ধুতটে)
ভাবেতে হওল ভাের, অবহি হৃদয় মাের
নাহি যাও আপনা পসান,
প্রেমদাস কহে হাসি, শুন সাধু জগবাসী,
এয়সাহি নূতন বিধান।
কিছু ভয় নাই! ভয় নাই!
—প্রেমদাস
↑ Contents
ঐ যে দেখা যায় আনন্দধাম
সিন্ধু-বিজয়—তেওরা
ঐ যে দেখা যায় আনন্দধাম
অপূর্ব শােভন ভব-জলধির পারে, জ্যোতির্ময় ।
শােক-তাপিত জন সবে চল, সকল দুঃখ হবে মােচন;
শান্তি পাইবে হৃদয় মাঝে, প্রেম জাগিবে অন্তরে।
কত যােগীন্দ্র ঋষি মুনিগণ, না জানি কি ধ্যানে মগন,
স্তিমিত-লােচন-কি অমৃত-রস-পানে ভুলিল চরাচর;
কি সুধাময় গান গাইছে সুরগণ, বিমল বিভুগুণ-বন্দন,
কোটি চন্দ্র তারা উলসিত, নৃত্য করিছে অবিরাম ॥
—জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর
↑ Contents
নিবিড় আঁধারে মা তাের চমকে অরূপরাশি
বাগেশ্রী—আড়াঠেকা
নিবিড় আঁধারে মা তাের চমকে অরূপরাশি।
তাই যােগী ধ্যান ধরে হয়ে গিরি-গুহাবাসী ।
অনন্ত আঁধার কোলে মহানির্বাণ-হিল্লোলে,
চিরশান্তি-পরিমল অবিরল যায় ভাসি ॥
মহাকাল রূপ ধরি, আঁধার বসন পরি,
সমাধি মন্দিরে ও মা, কে তুমি গাে একা বসি?
অভয়-পদ-কমলে, প্রেমের বিজলী খেলে১
চিন্ময়-মুখ মণ্ডলে শােভে অট্ট অট্টহাসি ॥
—ত্রৈলােক্যনাথ সান্যাল
১ পাঠান্তর ঃ জ্বলে
↑ Contents
প্রতিমা দিয়ে কি পূজিব তােমারে এ বিশ্ব নিখিল তােমারি প্রতিমা
জয়জয়ন্তী—একতাল (মধ্যলয়)*
প্রতিমা দিয়ে কি পূজিব তােমারে, এ বিশ্ব নিখিল তােমারি প্রতিমা।
মন্দির তােমার কি গড়িব মাগাে! মন্দির যাঁহার দিগন্ত নীলিমা!
তােমার প্রতিমা শশী, তারা, রবি, সাগর, নিঝর, ভূধর, অটবী,
নিকুঞ্জভবন, বসন্তপবন, তরু, লতা, ফল, ফুলমধুরিমা।
সতীর পবিত্র প্রণয় মধু—মা! শিশুর হাসিটি, জননীর চুমা,
সাধুর ভকতি, প্রতিভা, শকতি,—তােমারি মাধুরী তােমারি মহিমা।
যেই দিকে চাই এ নিখিলভূমি,—শতরূপে মাগাে বিরাজিছ তুমি,
বসন্তে, কি শীতে, দিবসে, নিশীথে, বিকশিত তব বিভব গরিমা ।
তথাপি মাটির এ প্রতিমা গড়ি, তােমারে পূজিতে চাই মা ঈশ্বরী!
অমর কবির হৃদয় গভীর ভাষায় যাহার দিতে নারে সীমা,
খুঁজিয়ে বেড়াই অবােধ আমরা, দেখিয়া আপনি দিয়েছ মা ধরা,
দুয়ারে দাঁড়ায়ে হাতটি বাড়ায়ে, ডাকিছু নিয়ত করুণাময়ী মা।
—দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
* স্বরলিপি ঃ শ্রেষ্ঠ দ্বিজেন্দ্র স্বরলিপি
↑ Contents
সত্যমঙ্গল প্রেমময় তুমি ধ্রুবজ্যোতি তুমি অন্ধকারে
ইমন-কল্যাণ—তেওড়া**
সত্যমঙ্গল প্রেমময় তুমি, ধ্রুবজ্যোতি তুমি অন্ধকারে।
তুমি সদা যার হৃদে বিরাজ দুখ জ্বালা সেই পাশরে ।
সব দুখ জ্বালা সেই পাশরে ।
তােমার জ্ঞানে, তােমার ধ্যানে, তব নামে কত মাধুরী
যেই ভকত সেই জানে, তুমি জানাও যারে সেই জানে।
ওহে, তুমি জানাও যারে সেই জানে ৷
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
** স্বরবিতান—২৩
↑ Contents
প্রথম আদি তব শক্তি
বসন্ত—সুর ফাঁকতাল*
প্রথম আদি তব শক্তি
আদি পরমােজ্জ্বল জ্যোতি তােমারি হে
গগনে গগনে ॥
তােমার আদি বাণী বহিছে তব আনন্দ,
জাগিছে নব নব রসে হৃদয়ে মনে ।
তােমার চিদাকাশে ভাতে সূরয চন্দ্র তারা,
প্রাণ-তরঙ্গ উঠে পবনে।
তুমি আদি কবি, কবিগুরু তুমি হে,
মন্ত্র তােমার মন্দ্রিত সব ভুবনে ।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
* স্বরবিতান—৩৬
↑ Contents
ওরে আমার প্রাণপিঞ্জরের পাখি গাও না রে
বাউল—একতাল
ওরে আমার প্রাণপিঞ্জরের পাখি, গাও না রে।
সদা সত্যং শিব সুন্দরং, ও নাম প্রাণভরে গাও না রে।
পড় পড় আত্মারাম, ডাক ডাক প্রাণারাম,
আমার হৃদয়মাঝে প্রাণবিহঙ্গ ডাক অবিরাম;
ডাক তৃষিত চাতকের মতাে, পাখি অলস থেকো না রে।
ব্ৰহ্মকল্পতরুশাখে বসে রে পাখি,
বিভুগুণ গাও দেখি, গাও গাও;
আবার ধর্ম অর্থ কাম মােক্ষ, সুপক্ক ফল খাও না রে,
ওকি বলরে পাখি বল, তাের নয়নে কেন জল,
বুঝি হরিনামামৃত-পানে হয়েছ বিহুল;
আহা! কি সুন্দর দেখাচ্ছে তােমায়, পাখি নীরব হয়াে নারে।
অসার বিহঙ্গজনম কর রে সফল,
করি নাম কোলাহল, সুবিমল,
গেয়ে অবিরাম আত্মারাম, মােক্ষধামে উড়ে যাও না রে ।
—পুণ্ডরীকাক্ষ মুখােপাধ্যায়
↑ Contents
কে তােমারে জানতে পারে তুমি না জানালে পরে
প্রসাদী, লুম-ঝিঝিট—দাদরা
কে তােমারে জানতে পারে, তুমি না জানালে পরে।
বেদ বেদান্ত পায় না অন্ত, খুঁজে বেড়ায় অন্ধকারে ॥
যাগ যজ্ঞ তপােযােগ,
সকলই হয় কর্মভােগ,
কর্ম তােমার মর্ম কি পায় তুমি সর্বকর্মপারে।
সৃষ্টি জোড়া তােমার মায়া, কায়া নাই কেবলি ছায়া,
মাঠের মাঝে আকাশ ধরা, ঘুরে সারা চারি ধারে ৷
তুমি প্রভু ইচ্ছাময়,
যদি তােমার ইচ্ছা হয়,
অসাধ্য সুসাধ্য তার, তুমি কৃপা কর যারে ॥
তব কৃপা আশা করি, রয়েছি জীবন ধরি,
কৃপানাথ কৃপা করি, এস ব’স হৃদমাঝারে ।
—দেবেন্দ্রনাথ মজুমদার
↑ Contents
অচল ঘন-গহন-গুণ গাও তাহারি
বাহার—ঝাঁপতাল*
অচল ঘন-গহন-গুণ গাও তাহারি;
গাও আনন্দে সবে রবি চন্দ্র তারা।
সকল তরুরাজি সাজি ফুল ফলে গাও রে;
বিহঙ্গ-কুল গাও আজি মধুরতর তানে।
গাও জীব জন্তু আজি যে আছ যেখানে,
জগতপুরবাসী সবে গাও অনুরাগে;
মম হৃদয় গাও আজি মিলিয়ে সব সাথে,
ডাক নাথ ডাক নাথ বলি, প্রাণ আমারি ।
—বিষ্ণুরাম চট্টোপাধ্যায়
* স্বরলিপি ঃ সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
যাবে কিহে দিন আমার বিফলে চলিয়ে
মূলতান—একতাল*
যাবে কিহে দিন আমার বিফলে চলিয়ে।
আছি নাথ, দিবানিশি আশা-পথ নিরখিয়ে।
তুমি ত্রিভুবন-নাথ, আমি ভিখারি অনাথ,
কেমনে বলিব তােমায় ‘এস হে মম হৃদয়ে।
হৃদয় কুটীর দ্বার, খুলে রাখি অনিবার,
কৃপা করে একবার এসে কি জুড়াবে হিয়ে ।
—বেচারাম চট্টোপাধ্যায়
* স্বরলিপি ঃ সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
সত্যং শিব সুন্দর রূপ ভাতি হৃদিমন্দিরে
কীর্তন—একতাল**
সত্যং শিব সুন্দর রূপ-ভাতি হৃদিমন্দিরে।
নিরখি নিরখি অনুদিন মােরা ডুবিব রূপসাগরে ।
(সে দিন কবে বা হবে; দীনজনের ভাগ্যে নাথ)
জ্ঞান-অনন্তরূপে পশিবে, নাথ, মম হৃদে,
অবাক হইয়ে অধীর মন শরণ লইবে শ্রীপদে।
আনন্দ-অমৃত রূপে উদিবে হৃদয়-আকাশে
চন্দ্র উদিলে জকার যেমন ক্রীড়ায় মন হরষে;
আমরাও নাথ তেমনি করে, মাতিব তব প্রকাশে।
শান্তং শিব অদ্বিতীয় রাজ-রাজ-চরণে,
বিকাইব ওহে প্রাণসখা, সফল করিব জীবনে।
এমন অধিকার কোথা পাব আর স্বর্গভােগ জীবনে ॥ (সশরীরে)
শুদ্ধমপাপবিদ্ধং রূপ হেরিয়া নাথ তােমার,
আলােক দেখিলে আঁধার যেমন যায় পলাইয়া সত্ত্বর,
তেমনি নাথ, তােমার প্রকাশে পলাইবে পাপ আঁধার।
ওহে ধ্রুবতারাসম হৃদে জ্বলন্ত বিশ্বাস হে,
জ্বালি দিয়ে দীনবন্ধু পুরাও মনের আশ;
নিশিদিন প্রেমানন্দে মগন হইয়ে হে,
আপনারে ভুলে যাব, তােমারে পাইয়ে হে ॥
(সে দিন কবে হবে হে)
—পুণ্ডরীকাক্ষ মুখােপাধ্যায়
** স্বরলিপি ঃ শ্রীরামকৃষ্ণের প্রিয় সঙ্গীত
↑ Contents
প্রভু ম্যয় গােলাম ম্যয় গােলাম ম্যয় গােলাম তেরা
আশবরী—একতাল*
প্রভু ম্যয় গােলাম, ম্যয় গােলাম, ম্যয় গােলাম তেরা।
তু দেওয়ান তু দেওয়ান, তু দেওয়ান মেরা।
দো রােটি, এক লঙ্গোটি তেরে পাস ম্যয় পায়া।
ভগতি ভাব দে আউর, নাম তেরা গাঁবা ।
তু দেওয়ান মেহেরবান নাম তেরা মীরা;
অক্ কি বার দে দীদার মেহর কর ফকীর ।
তু দেওয়ান মেহেরবান নাম তেরা বারেয়া
দাস কবীর শরণ মে আয়া, চরণ লাগে তারেয়া ৷৷
—কবীর
* স্বরলিপি ঃ সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
গগনময় থাল রবিচন্দ্র দীপক বনে তারকামণ্ডল চমকে মােতি রে
জয়জয়ন্তী—ঝাঁপতাল *
গগনময় থাল রবিচন্দ্র দীপক বনে, তারকামণ্ডল চমকে মােতি রে।
ধূপ মলয়ানিল, পবন চৌরি করে, সকল বন রাই ফুলন্ত জ্যোতি রে ।
ক্যায়সে আরতি হােবে, ভবখণ্ডন তেরি আরতি,
অনাহত শব্দ বাজন্ত ভেরী রে ।
হরি-চরণ-কমল-মকরন্দ লােভিত মন, অনুদিন মােহেয়া পিয়াসা,
কৃপাজল দেও নানক-সারঙ্গ কো হাে যায়ে তেরে নাম বাসা ।
—গুরু নানক
* স্বরলিপি ঃ সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
দয়াঘন তােমা হেন কে হিতকারী
আশা—কাওয়ালী**
দয়াঘন, তােমা হেন কে হিতকারী?
দুঃখ সুখে সম বন্ধু এমন কে, শােক তাপ ভয়হারী?
সঙ্কটপূরিত ঘাের ভবার্ণব তারে কোন্ কাণ্ডারি;
কার প্রসাদে দূরপরাহত রিপুদল বিপ্লবকারী?
পাপদহন-পরিতাপ নিবারি, কে দেয় শান্তির বারি;
ত্যজিলে সকলে অন্তিমকালে কে লয় ক্রোড় প্রসারি।
—সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর
** ব্রহ্মসঙ্গীত / দিব্যগীতি
↑ Contents
প্রভু মেরে অবগুণ চিত ন ধরাে
ভৈরবী*—যৎ
প্রভু মেরে অবগুণ চিত ন ধরাে।
সমদরশী হৈ নাম তিহারা, চাহে তাে পার করাে ।
ইক লােহা পূজা মে রাখত, ইক রহত ব্যাধঘর পরাে।
পারশ কে মন দ্বিধা নাহী হ্যায়
দুহু এক কাঞ্চন করাে ৷
ইক নদিয়া ইক নার মৈলাে নীর ভরাে;
জ মিলি দোনাে এক বরণ ভয়ে সুরসরি নাম ভয়াে ॥
ইক জীব ইক ব্রহ্ম কহাবত সুরদাস ঝগরাে,
অজ্ঞানাে সে ভেদ হােবে, জ্ঞানী কাহে ভেদ করাে।
—সুরদাস
* খেতড়ি রাজবাড়িতে স্বামী বিবেকানন্দের অবস্থান কালে, জনৈকা বাঈজী স্বামীজীকে গান শােনাতে আগ্রহ প্রকাশ করায় তিনি গণিকার সঙ্গীত শুনতে অস্বীকার করেন। অনেক পীড়াপীড়ির পর স্বামীজী স্বীকৃত হলে পর বাঈজী এই গানটি শুনিয়ে স্বামীজীকে মােহিত করেন।
↑ Contents
তুঝসে হামনে দিলকো লগায়া, যো কুছ হৈ সাে তুহী হৈ
গজল—ঠুংরী**
তুঝসে হামনে দিলকো লগায়া, যো কুছ হৈ সাে তুহী হৈ।
এক তুকো অপনা পায়, যাে কুছ হৈ সাে তুহী হৈ ।
সবকে মকান দিলকা মকী তু, কৌন সা দিল হৈ জিসমে নহী তু।
হর একদিলমে হৈ তু সমায়া, যাে কুছ হৈ সাে তুহী হৈ ।
ক্যা মলায় ক্যা ইত্সা, ক্যা হিন্দু ক্যা মােসলমান।
জৈসে চাহা তুনে বনায়া, যাে কুছ হৈ সাে তুহী হৈ।
কাবা মে ক্যা, ঔর দেবল মে ক্যা, তেরী পরস্তিশ হােগী সবজা।
সবনে তুঝকো সির হ্যায় ঝুকায়া, যাে কুছ হৈ সাে তুহী হৈ।
অর্শ সে লেকর ফর্শ জমীন্ তক্, ঔর জমীন সে অর্শ বরী তক্।
যহাঁ র্মৈ দেখা তুহী নজর আয়া, যাে কুছ হৈ সাে তুহী হৈ।
সােচা সমঝা দেখা ভালা তু জ্যাসা ন কোঈ উঁঢ় নিকালা।
অব অহ্ সমঝ মে জাফর কী আয়া, যযা কুছ হৈ সাে তুহী হৈ ৷
—জাফর আলী
** স্বরলিপি ঃ দিব্যগীতি
↑ Contents
পীলে রে অবধূত হাে মালা প্যালা প্রেম হরিরস কা রে
খাম্বাজ-যৎ*
পীলে রে অবধূত হাে মালা, প্যালা প্রেম হরিরস কা রে।
পাপ পুণ্য দো ভুগতন আয়ে, কোন্ তেরা হ্যায় তু কিসকা রে
জো দম জীবে হরি কা গুন গায়েল, ধন যৌবন স্বপন নিশিকা রে ।
বাল অবস্থা খেল গবাই, তরুণ ভয়া নারী বশ কা রে।
বৃদ্ধ ভয়া কফ বায়ুনে ঘেরা, ঘাট পড়া জামন কা রে, .
নাভ কমলমে হ্যায় কস্তুরী, ক্যায়সে ভরম মিটে পশুকা রে।
বিনা সদগুরু নর য়া্সাহি ঢ়ুঁঢ়ে় জ্যায়সা মৃগ ফিরে বনকা রে।
—অজ্ঞাত।
* স্বরলিপি ঃ সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
মন চল নিজ নিকেতনে
সুরট-মল্লার—একতাল*
মন চল নিজ নিকেতনে।
সংসার-বিদেশে, বিদেশীর বেশে, ভ্রম কেন অকারণে?
বিষয় পঞ্চক আর ভূতগণ, সব তাের পর কেহ নয় আপন,
পর-প্রেমে কেন হয়ে অচেতন, ভুলিছ আপন জনে?
সত্য পথে মন কর আরােহণ, প্রেমের আলাে জ্বালি চল অনুক্ষণ,
সঙ্গেতে সম্বল রাখ পুণ্যধন, গােপনে অতি যতনে।
লােভ মােহ আদি পথে দস্যুগণ, পথিকের করে সর্বস্ব মােষণ১
পরম যতনে রাখরে প্রহরী শম দম দুই জনে ।
সাধুসঙ্গ নামে আছে পান্থধাম, শ্রান্ত হলে তথা করিবে বিশ্রাম,
পথভ্রান্ত হলে শুধাইবে পথ সে পান্থনিবাসিগণে;
যদি দেখ পথে ভয়েরি আকার, প্রাণপণে দিও দোহাই রাজার,
সে পথে রাজার প্রবল প্রতাপ, শমন ভরে যাঁর শাসনে।
—অযােধ্যানাথ পাকড়াশী
* দক্ষিণেশ্বরে প্রথম মিলনের দিনে স্বামী বিবেকানন্দের মুখে এই গানটি শুনে শ্রীশ্রীঠাকুর মােহিত হয়েছিলেন।
১ পাঠান্তর ঃ হরণ
↑ Contents
তুঁহী পরম তীর্থ তুঁহী পরম অর্থ
ইমন-কল্যাণ—ঝাঁপতাল
তুঁহী পরম তীর্থ, তুঁহী পরম অর্থ,
তুঁহী এক অব্যর্থ, যােগীজন গাবে ।
তুঁহী পরশমণি, তুঁহী অনন্তখনি,
সুর নর ঋষি মুনি, সদানন্দ পাবে ।
তুঁহী মহত যশ তুঁহী আদিপুরুষ,
তুঁয়া আদেশ ঈশ পঞ্চভূত ধাবে;
তেরােহী জ্ঞানমে তেরােহী ধ্যানমে,
বিজয়-প্রাণমে সুখ-শান্তি আবে ।
—অজ্ঞাত
↑ Contents
তুমি বন্ধু তুমি নাথ নিশিদিন তুমি আমার
মিশ্র জয়জয়ন্তী—একতাল*
তুমি বন্ধু, তুমি নাথ, নিশিদিন তুমি আমার।
তুমি সুখ, তুমি শান্তি, তুমি হে অমৃত পাথার।
তুমি তাে আনন্দ লােক, জুড়াও প্রাণ, নাশ শােক।
তাপ-হরণ, তােমার চরণ, অসীম শরণ দীন জনার।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
* স্বরবিতান-৪
↑ Contents
সুন্দর তােমারি নাম দীনশরণ হে
কাফি—ঝাঁপতাল**
সুন্দর তােমারি নাম, দীনশরণ হে;
বরিষে অমৃতধার, জুড়ায় শ্রবণ, ও প্রাণরমণ হে ॥
এক তব নাম ধন, অমৃত-ভবন হে,
অমর হয় সেইজন, যে করে কীর্তন হে ।
গভীর বিষাদরাশি নিমেষে বিনাশে,
যখনি তব নামসুধা শ্রবণে পরশে,
হৃদয় মধুময় তব নাম গানে, হয় যে হৃদয়নাথ চিদানন্দ ঘন হে ॥
—পুণ্ডরীকাক্ষ মুখােপাধ্যায়
** স্বরলিপি ঃ সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
তুমি হে ভরসা মম অকূল পাথারে
কাফিসিন্ধু—ঝাঁপতাল*
তুমি হে ভরসা মম অকূল পাথারে।
আর কেহ নাই যে বিপদভয় বারে, এ আঁধারে যে তারে ॥
এক তুমি অভয়পদ জগত-সংসারে,
কেমনে বল দীনজন ছাড়ে তােমারে ॥
করিয়ে দুঃখ অন্ত সুবসন্ত হৃদে জাগে,
যখনি মম আঁখি তব জ্যোতিঃ নেহারে;
জীবন-সখা তুমি, বাঁচি না তােমা বিনে,
তৃষিত মন প্রাণ মম, ডাকে তােমারে ॥
—জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর
* স্বরলিপি ঃ সাধন সঙ্গীত
↑ Contents
কে হে তুমি সুন্দর অতি সুন্দর অতি সুন্দর
ভৈরব—একতাল
কে হে তুমি সুন্দর,—অতি সুন্দর, অতি সুন্দর!
কভু নবীন ভানু ভালে, কভু ভূষিত নীরদ-মালে,
কভু বিহগ-কূজিত-কুহক-কণ্ঠে গাহিছ অতি সুন্দর!
কভু নির্মল নীল প্রাতে, কনক-কিরীট মাথে,
অভ্রভেদী অচলাসনে রাজিছ অতি সুন্দর!
কভু পুষ্পিত নভ-কুঞ্জে তব নৈশ বংশী গুঞ্জে;
কভু পীত-জ্যোৎস্না-বসন শ্যাম মূরতি অতি সুন্দর!
—অতুলপ্রসাদ সেন
↑ Contents
আর কেন মন এ সংসারে যাই চল সেই নগরে
বাউল—দাদরা
আর কেন মন-এ সংসারে, যাই চল সেই নগরে।
সেথা দিবানিশি পূর্ণশশী আনন্দে বিরাজ করে।
পক্ষ ভেদে ক্ষয় উদয়—নাইকো চঁাদের সে পুরে।
নাই ক্ষুধা তৃষ্ণা ভােগ পিপাসা, পূৰ্ণানন্দ বিহরে ।
সুধাকরে সুধা ক্ষরে, রবি বিষ বিতরে।
মনের মতন চকোর বিনা চাদের সুধা চঁাদ হরে ।
(ও মন) তােমার মতন হয় যে জনা, সেই তাে গরল পান করে।
(আবার) জ্ঞান হারায়ে বিষের জ্বালায় কেবল গতায়াত করে ।
সেই নগরে বাস করে যে প্রেমিক ধন্য কয় তারে।
(তারা) সাকারকে করে নিরাকার, নিরাকার সাকার করে ৷
—প্রেমিক
↑ Contents
তােমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা
আলাইয়া—ঝাঁপতাল*
তােমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা,
এ সমুদ্রে আর কভু হব নাকো পথহারা ।
যেথা আমি যাই নাকো তুমি প্রকাশিত থাকো,
আকুল নয়ন জলে ঢালাে গাে কিরণধারা ॥
তব মুখ সদা মনে জাগিতেছে সঙ্গোপনে,
তিলেক অন্তর হলে না হেরি কূল কিনারা।
কখনও বিপথে যদি, ভ্রমিতে চাহে এ হৃদি
অমনি ও মুখ হেরি শরমে সে হয় সারা ॥
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
* স্বরবিতান-২৩
↑ Contents
আমরা যে শিশু অতি অতিক্ষুদ্র মন
কানাড়া—কাওয়ালী
আমরা যে শিশু অতি, অতিক্ষুদ্র মন—
পদে পদে হয়, পিতা চরণস্থলন ||
রুদ্রমুখ কেন তবে দেখাও মােদের সবে।
কেন হেরি মাঝে মাঝে ভ্রকুটি ভীষণ ॥
ক্ষুদ্র আমাদের 'পরে করিয়াে না রােষ
স্নেহবাক্যে বলাে, পিতা, কী করেছি দোষ।
শতবার লও তুলে, শতবার পড়ি ভুলে
কী আর করিতে পারে দুর্বল যে জন |
পৃথ্বীর ধূলিতে দেব, মােদের ভবন
পৃথ্বির ধূলিতে অন্ধ মােদের নয়ন।
জন্মিয়াছি শিশু হয়ে, খেলা করি ধূলি লয়ে
মােদের অভয় দাও দুর্বলশরণ |
একবার ভ্রম হলে আর কি লবে না কোলে,
অমনি কি দূরে তুমি করিবে গমন।
তা হলে যে আর কভু উঠিতে নারিব প্রভু,
ভূমিতলে চিরদিন রব অচেতন ॥
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
↑ Contents
(একতাল) চিদাকাশে হল পূর্ণ প্রেমচন্দ্রোদয় হে
কীর্তন—তাল ফেরতা *
(একতাল) চিদাকাশে হল পূর্ণ প্রেমচন্দ্রোদয় হে।
উথলিল প্রেমসিন্ধু কি আনন্দময় হে।
(জয় দয়াময়, জয় দয়াময়, বল জয় দয়াময়)
চারিদিকে ঝলমল করে ভক্ত গ্রহদল,
ভক্তসঙ্গে ভক্তসখা লীলারসময় হে।
(বল জয় দয়াময়, হরি দয়াময়, আনন্দময়ীর জয়)।
স্বর্গের দুয়ার খুলি, আনন্দ-লহরী তুলি;
নববিধান বসন্ত সমীরণ বয়,
(কিবা) তাহে মন্দ মন্দ, ছুটে লীলারস প্রেমগন্ধ,
ঘ্রাণে যােগিবৃন্দ যােগানন্দে মত্ত হয় হে।
(বল জয় দয়াময়, হরি দয়াময়, নববিধানের জয়)
(ঝাঁপতাল) ভবসিন্ধুজলে, বিধান-কমলে, আনন্দময়ী বিরাজে
(কিবা) আবেশে আকুল, ভক্ত অলিকুল, পিয়ে সুধা তার মাঝে।
(খয়রা) দেখ দেখ মায়ের প্রসন্ন বদন, ভুবনমােহন চিত্ত বিনােদন।
পদতলে দলে দলে সাধুগণ, নাচে গায় প্রেমে হইয়ে মগন;
কিবা অপরূপ আহা মরি মরি, জুড়াইল প্রাণ দরশন করি,
প্রেমদাসে বলে সবে পায়ে ধরি, গাও ভাই মায়ের জয় ॥
—ত্রৈলােক্যনাথ সান্যাল
* স্বরলিপি ঃ শ্রীরামকৃষ্ণের প্রিয় সঙ্গীত
↑ Contents
ভজন পরমাত্মাকে করলেরে
কল্যাণ—কাওয়ালী
ভজন পরমাত্মাকে করলেরে।
আদি অনাদিকো মন মে সুমর লেরে ॥
ব্রহ্মাকো ভুল করকে, ভ্রম মে ভুল রহত,
ঈশ জগদীশ কো ধ্যান ধরে পাপ গরে ॥
—অজ্ঞাত
↑ Contents
অসীম রহস্য মাঝে কে তুমি মহিমাময়
সারঙ্গ—ঝাঁপতাল*
অসীম রহস্য মাঝে কে তুমি মহিমাময়।
জগত শিশুর মত চরণে ঘুমা’য়ে রয় ।
অভিমান অহঙ্কার মুছে গেছে নাহি আর,
ঘুচে গেছে শােক তাপ, নাহি দুঃখ নাহি ভয়
কোটি রবি শশী তারা, তােমাতে হয়েছে হারা,
অযুত কিরণ-ধারা তােমাতে পাইছে লয় ।
—বলেন্দ্রনাথ ঠাকুর
* ব্রহ্মসঙ্গীত স্বরলিপি-৪
↑ Contents
মন্দিরে মম কে আসিল হে! সকল গগন অমৃতমগন
আড়ানা—একতাল
মন্দিরে মম কে আসিল হে! সকল গগন অমৃতমগন,
দিশি দিশি গেল মিশি, অমানিশি দূরে-দূরে ॥
সকল দুয়ার আপনি খুলিল, সকল প্রদীপ আপনি জ্বলিল,
সব বীণা বাজিল নব নব সুরে সুরে ।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
↑ Contents
অখিল ব্রহ্মাণ্ড পতি প্রণমি চরণে তব
মিশ্র ঝিঁঝিট—ঝাঁপতাল*
অখিল ব্রহ্মাণ্ড পতি, প্রণমি চরণে তব,
প্রেম-ভক্তিভরে শরণ লাগি।
দুর্মতি দূর করি শুভ মতি দাও হে,
এই বরদান ভগবান মাগি ।
ঘাের নিষ্ঠুর রিপু অন্তরে বাহিরে
ভীত অতি আমি এ অন্ধকারে।
দীন-বৎসল তুমি তার নিজ সেবকে,
তব অভয় মূরতি ভয় নিবারে ।
বিষয়-মােহাৰ্ণবে মগন হয়ে ডাকি হে,
দীনহীনে প্রভু রাখাে রাখাে।
তব কৃপা যে লভে,
কি ভয় ভব-সঙ্কটে,
কাটি যাবে বিপদ লাখাে লাখাে ৷৷
—দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
* গানখানি অন্যভাবেও গাওয়া হয়।
↑ Contents
মাঝে মাঝে তব দেখা পাই চিরদিন কেন পাই না
কাফি-সিন্ধু—যৎ**
মাঝে মাঝে তব দেখা পাই, চিরদিন কেন পাই না? ॥
কেন মেঘ আসে হৃদয় আকাশে, তােমারে দেখিতে দেয় না।
(মােহ মেঘে তােমাদের দেখিতে দেয় না।
অন্ধ করে রাখে, তােমারে দেখিতে দেয় না।)
ক্ষণিক আলােকে আঁখির পলকে তােমায় যবে পাই দেখিতে,
ওহে ‘হারাই হারাই’ সদা হয় ভয়, হারাইয়া ফেলি চকিতে ৷
(আশ না মিটিতে হারাইয়া—পলক না পড়িতে হারাইয়া
হৃদয় না জুড়াতে হারাইয়া ফেলি চকিতে)
কি করিলে বল পাইব তােমারে, রাখিব আঁখিতে আঁখিতে
ওহে এত প্রেম আমি কোথা পাব নাথ, তােমারে হৃদয়ে রাখিতে?
(আমার সাধ্য কি তােমারে দয়া না করিলে কে পারে—-
তুমি আপনি না এলে কে পারে হৃদয়ে রাখিতে।)
আর কারাে পানে চাহিব না আর, করিব হে আমি প্রাণপণ।
তুমি যদি বল এখনি করিব বিষয়-বাসনা বিসর্জন ॥
(দিব শ্রীচরণে বিষয়—দিব অকাতরে বিষয়
দিব তােমার লাগি বিষয় বাসনা বিসর্জন।)
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
** স্বরবিতান-২৩
↑ Contents
প্রেমানন্দে রাখ পূর্ণ আমারে দিবস রাত
সিন্ধু—একতাল*
প্রেমানন্দে রাখ পূর্ণ আমারে দিবস রাত,
বিশ্বভুবনে নিরখি সতত সুন্দর তােমারে;
চন্দ্রসূর্য-কিরণে তােমার করুণ-নয়নপাত ।
সুখ-সম্পদে করি হে পান তব প্রসাদবারি।
দুঃখ-সঙ্কটে পরশ পাই তব মঙ্গল হাত।
জীবনে জ্বাল অমর দীপ তব অনন্ত আশা।
মরণ অন্তে হউক তােমারি চরণে সুপ্রভাত।
লহাে লহাে মাের সব আনন্দ, সকল প্রীতি গীতি।
হৃদয়ে বাহিরে একমাত্র তুমি আমার নাথ |
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
* স্বরবিতান-২৩
↑ Contents
দেখিলে তােমার সেই অতুল প্রেম আননে
বাহার—একতাল*
দেখিলে তােমার সেই অতুল প্রেম-আননে,
কি ভয় সংসার-শােক, ঘাের বিপদ-শাসনে ॥
অরুণ উদয়ে আঁধার যেমন যায় জগত ছাড়িয়ে,
তেমনি দেব, তােমার জ্যোতি মঙ্গলময় বিরাজিলে;
ভকত-হৃদয় বীতশােক তােমার মধুর সান্ত্বনে।
তােমার করুণা, তােমার প্রেম, হৃদয়ে প্রভু ভাবিলে,
উথলে হৃদয়, নয়ন-বারি রাখে কে নিবারিয়ে;
জয় করুণাময়, জয় করুণাময়, তােমার প্রেমে গাইয়ে,
যায় যদি যাক্ প্রাণ তােমার কর্ম সাধনে ॥
-গণেন্দ্রনাথ ঠাকুর
* স্বরলিপি : দিব্যগীতি
↑ Contents
(ওহে) রাজারাজেশ্বর দেখা দাও
কানাড়া—কাওয়ালী
(ওহে) রাজারাজেশ্বর দেখা দাও।
করুণা ভিখারী আমি, করুণ-নয়নে চাও।
চরণে উৎসর্গ দান,
করিয়াছি এই প্রাণ,
সংসার-অনলকুণ্ডে ঝলসি গিয়াছে তাও।
কলুষ কলঙ্কে ভরা অবারিত এ হৃদয়
মােহে মুগ্ধ-মৃতপ্রায় হয়ে আছি দয়াময়,
মৃতসঞ্জীবনী দানে শােধন করিয়া লেও।
—স্বর্ণকুমারী ঘােষাল
↑ Contents
দেহ জ্ঞান দিব্য জ্ঞান দেহ প্রীতি শুদ্ধা প্রীতি
আলাহিয়া—একতাল*
দেহ জ্ঞান, দিব্য জ্ঞান, দেহ প্রীতি, শুদ্ধা প্রীতি,
তুমি মঙ্গল-আলয়, (ওহে) তুমি মঙ্গল-আলয়।
ধৈর্য দেহ, বীর্য দেহ, তিতিক্ষা সন্তোষ দেহ,
বিবেক বৈরাগ্য দেহ, দেহ ও পদে আশ্রয়।
ওহে, দেহ ও পদে আশ্রয় ।
—মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ
* স্বরলিপি : দিব্যগীতি
↑ Contents
বহে নিরন্তর অনন্ত আনন্দধারা
লচ্ছাসার—ঝাঁপতাল **
বহে নিরন্তর অনন্ত আনন্দধারা।
বাজে অসীম নভেমাঝে অনাদি রব, জাগে অগণ্য রবি-চন্দ্র-তারা ।
একক অখণ্ড-ব্রহ্মাণ্ড-রাজ্যে পরম এক সেই রাজ-রাজেন্দ্র-রাজে।
বিস্মিত-নিমেষহত বিশ্ব চরণে বিনত, লক্ষশত ভক্তচিত বাক্যহারা ।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
** স্বরবিতান-২২
↑ Contents
বিশ্ব ব্যাপিয়া বিরাজিছ যদি পাই না কেন হে ডাকিয়া
কালেংড়া—একতাল
বিশ্ব ব্যাপিয়া বিরাজিছ যদি, পাই না কেন হে ডাকিয়া,
অন্ধ নয়ন হেরে না তােমারে, কে রেখেছে আঁখি ঢাকিয়া ॥
খুলে দাও আঁখি মায়ার বন্ধন, ঢালিতে ভকতি-কুসুম-চন্দন,
যেন শান্তি-সুধা লভে এ জীবন, তােমার চরণ পূজিয়া ॥
ডুবে যায় রবি নাহি আর বেলা, পারি না খেলিতে মিছে ধূলা খেলা,
লভিতে চরণ আকুল এ মন, দেখা দাও হৃদে আসিয়া।
—অজ্ঞাত
↑ Contents
নাথ তুমি সর্বস্ব আমার প্ৰাণাধার সারাৎসার
আলাহিয়া—একতাল*
নাথ তুমি সর্বস্ব আমার, প্ৰাণাধার সারাৎসার।
নাহি তােমা বিনে কেহ ত্রিভুবনে, বলিবার আপনার ।
তুমি সুখ শান্তি সহায় সম্বল, সম্পদ ঐশ্বর্য জ্ঞান বুদ্ধিবল,
তুমি বাসগৃহ, আরামের স্থল, আত্মীয় বন্ধু পরিবার ।
তুমি ইহকাল, তুমি পরিত্রাণ, তুমি পরকাল, তুমি স্বর্গধাম,
তুমি শাস্ত্রবিধি, গুরু কল্পতরু, অনন্ত সুখের আধার।
তুমি হে উপায়, তুমি হে উদ্দেশ্য, তুমি স্রষ্টা পাতা, তুমি হে উপাস্য,
দণ্ডদাতা পিতা, স্নেহময়ী মাতা, ভবার্ণবে কর্ণধার ।
—গগনচন্দ্র হােম
*স্বরলিপি : দিব্যগীতি
↑ Contents
আমার মাথা নত করে দাও হে তােমার চরণ ধূলার তলে
ইমন কল্যাণ—তেওড়া
আমার মাথা নত করে দাও হে তােমার চরণ-ধূলার-তলে।
সকল অহঙ্কার হে আমার ডুবাও চোখের জলে ।
নিজেরে করিতে গৌরব দান নিজেরে কেবলি করি অপমান,
আপনারে শুধু ঘেরিয়া ঘেরিয়া ঘুরে মরি পলে পলে ৷
আমারে না যেন করি প্রচার আমার আপন কাজে,
তােমারই ইচ্ছা করহে পূর্ণ আমার জীবন মাঝে।
যাচি হে তােমার চরম শান্তি পরাণে তােমার পরম কান্তি,
আমারে আড়াল করিয়া দাঁড়াও হৃদয় পদ্ম-দলে ৷
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
↑ Contents
তুমি নাহি দিলে দেখা কে তােমায় দেখিতে পায়
জয়জয়ন্তী—ঝাঁপতাল
তুমি নাহি দিলে দেখা, কে তােমায় দেখিতে পায় ?
তুমি না ডাকিলে কাছে, সহজে কি চিত ধায় ?
তুমি পূর্ণ পরাৎপর, তুমি অগম্য অপার,
ওহে নাথ, সাধ্য কার, ধ্যানেতে ধরে তােমায় ॥
মনেরে বুঝাই এত তুমি বাক্যমনাতীত,
তবু প্রাণ ব্যাকুলিত, তােমারে দেখিতে চায়।
দিয়ে দীনে দরশন, কর হে দুঃখ মােচন,
ওহে লজ্জানিবারণ, শীতল কর হৃদয়।
—বেচারাম চট্টোপাধ্যায়
↑ Contents
খেলিছ এ বিশ্ব লয়ে বিরাট শিশু আনমনে
ভৈরবী—তিনতাল
খেলিছ এ বিশ্ব লয়ে বিরাট শিশু আনমনে।
প্রলয় সৃষ্টি তব পুতুল খেলা, নিরজনে প্রভু নিরজনে।
শূন্যে মহা আকাশে, (তুমি) মগ্ন লীলা বিলাসে,
ভাঙিছ গড়িছ নিতি ক্ষণে ক্ষণে, নিরজনে প্রভু নিরজনে।
তারকা রবি শশী খেলনা তব, হে উদাসী!
পড়িয়া আছে, রাঙা পায়ের কাছে, রাশি রাশি;
নিত্য তুমি হে উদার, সুখে দুখে অবিকার,
হাসিছ খেলিছ তুমি আপন মনে নিরজনে প্রভু, নিরজনে।
—কাজী নজরুল ইসলাম
↑ Contents
ব্যাকুল অন্তর মম দরশন চাহে (তােমারি)
ভৈরব—ঝাঁপতাল
ব্যাকুল অন্তর মম দরশন চাহে (তােমারি)।
বিহনে তােমারে নাথ প্রাণ যে দহে ॥
দিবস-রজনী, নাথ, সহিতেছে যাতনা।
তুমি নাকি দিলে দেখা সব দুঃখ যায় হে ।
তাই, প্রভু, বড় আশে এসেছি তব দুয়ারে;
পরশে শীতল কর নিরমল কর হে ॥
অভিষিক্ত কর মােরে তব জ্যোতি প্রকাশিয়ে
শূন্য হৃদয়ে মম তুমি, দেব, এস হে।
—অজ্ঞাত
↑ Contents
অন্তর মম বিকশিত করাে অন্তরতর হে
ভৈরবী—একতাল*
অন্তর মম বিকশিত করাে অন্তরতর হে—
নির্মল করাে উজ্জ্বল করাে, সুন্দর করাে হে ॥
জাগ্রত করাে, উদ্যত করাে, নির্ভয় করাে হে।
মঙ্গল করাে, নিরলস নিঃসংশয় করাে হে ।
যুক্ত করাে হে সবার সঙ্গে, মুক্ত করাে হে বন্ধ,
সঞ্চার করাে সকল কর্মে, শান্ত তােমার ছন্দ ৷৷
চরণ-পদ্মে মম চিত নিঃস্পন্দিত কর হে।
নন্দিত করাে, নন্দিত করাে, নন্দিত করাে হে ৷
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
* স্বরবিতান-২৪
↑ Contents
তােমারি ইচ্ছা হউক পূর্ণ করুণাময় স্বামী
ভৈরবী—একতাল*
অন্তর মম বিকশিত করাে অন্তরতর হে—
নির্মল করাে উজ্জ্বল করাে, সুন্দর করাে হে ॥
জাগ্রত করাে, উদ্যত করাে, নির্ভয় করাে হে।
মঙ্গল করাে, নিরলস নিঃসংশয় করাে হে ।
যুক্ত করাে হে সবার সঙ্গে, মুক্ত করাে হে বন্ধ,
সঞ্চার করাে সকল কর্মে, শান্ত তােমার ছন্দ ৷৷
চরণ-পদ্মে মম চিত নিঃস্পন্দিত কর হে।
নন্দিত করাে, নন্দিত করাে, নন্দিত করাে হে ৷
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
* স্বরবিতান-২৫
↑ Contents
তােমারি রাগিণী জীবনকুঞ্জে বাজে যেন সদা বাজে গাে
ইমন-কল্যাণ—তেওরা**
তােমারি রাগিণী জীবনকুঞ্জে বাজে যেন সদা বাজে গাে।
তােমারি আসন হৃদয়পদ্মে রাজে যেন সদা রাজে গাে ॥
তব নন্দন-গন্ধ-মােদিত ফিরি সুন্দর ভুবনে;
তব পদ-রেণু মাখি লয়ে তনু, সাজে যেন সদা সাজে গাে ॥
সব বিদ্বেষ দূরে যায় যেন তব মঙ্গল মন্ত্রে,
বিকাশে মাধুরী হৃদয়ে বাহিরে তব সঙ্গীত-ছন্দে
তব নির্মল নীরব হাস্য হেরি অম্বর ব্যাপিয়া,
তর গৌরবে সকল গর্ব লাজে যেন সদা লাজে গাে ॥
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
* * স্বরবিতান-৪
↑ Contents
নিশীথ-শয়নে ভেবে রাখি মনে, ওগাে অন্তরযামী
বাগেশ্রী—তেওড়া*
নিশীথ-শয়নে ভেবে রাখি মনে, ওগাে অন্তরযামী,
প্রভাতে প্রথম নয়ন মেলিয়া তােমারে হেরিব আমি
ওগাে অন্তরযামী ।
জাগিয়া বসিয়া শুভ্র আলােকে তােমার চরণে নমিয়া পুলকে
মনে ভেবে রাখি দিনের কর্ম তােমারে সঁপিব স্বামী
ওগাে অন্তরযামী ।
দিনের কর্ম সাধিতে সাধিতে, ভেবে রাখি মনে মনে,
কর্ম-অন্তে সন্ধ্যাবেলায় বসিব তােমারই সনে।
দিবা অবসানে ভাবি বসে ঘরে, তােমার নিশীথ-বিরাম-সাগরে,
শ্রান্ত প্রাণের ভাবনা বেদনা নীরবে যাইবে নামি।
ওগাে অন্তরযামী।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
* স্বরবিতান-২২
↑ Contents
প্রাণারাম প্রাণারাম প্রাণারাম
জয়জয়ন্তী মিশ্র—ঝাঁপতাল**
প্রাণারাম, প্রাণারাম, প্রাণারাম!
কি যেন লুকানাে নামে, (তাই) মিষ্ট এত তব নাম।
নাম-রসে ডুবে থাকি, ব্রহ্মাণ্ড সুন্দর দেখি,
বিশ্বে বহে প্রেম-নদী, সুধার-ধারা অবিরাম।
(তুমি) নামে ভুলায়েছ যারে, সে কি যেতে পারে দূরে,
নাম-রসে যে মজেছে, সে বুঝেছে কি আরাম।
আমারে ভুলায়ে রাখ, হৃদি আলাে করে থাক,
জীবনে মরণে মম তুমি চির সুখ-ধাম।
—মনােমােহন চক্রবর্তী
** স্বরলিপি ঃ দিব্যগীতি
↑ Contents
আলাের দেশের যাত্রী মােরা মহা ভাগ্যবান
ভৈরবী-দাদরা
আলাের দেশের যাত্রী মােরা মহা ভাগ্যবান।
আলাের তরে অবহেলে সঁপি আপন প্রাণ।
অন্ধকারে পাছে রেখে চলছি মােরা আলাের দিকে,
মানি নাকো কোন বাধা আনতে নব জ্ঞান ।
সত্য মােদের নিত্য সাথী,
প্রাণটা সবার ব্যথার ব্যথী;
ভয়ের মাথায় মারি লাথি রাখতে আপন মান।
সত্য রাজার সৈন্য মােরা, রাজ্য যাঁহার বিশ্বজোড়া,
শাসন যাঁহার প্রেমে ভরা, নামটি ভগবান ।
—স্বামী চণ্ডিকানন্দ
↑ Contents
নিত্য শুদ্ধ বুদ্ধ মুক্ত সচ্চিদানন্দরূপ
মুলতান—চৌতাল
নিত্য শুদ্ধ বুদ্ধ মুক্ত সচ্চিদানন্দরূপ;
জাকো না কছু উপাধি পার ব্রহ্ম অত অনুপ।
সকল জগত উপাদান, মূল প্রকৃতি হ্যায় নিদান;
জাকো সংযােগ জনিত, ব্যক্ত হােত নামরূপ।
মায়া সঙ্গত ঈশ্বর, একহু অনেক হােত;
ভােগত অদৃষ্টজফল, জাকো জ্যায়সে হি করম।
স্বপ্নাবস্থিত রহে জীব, হেম পূর্ব হােত গর্ভ;
জাগ্রত বৈশ্বানর নীত হররঙ্গ বৰ্ণত স্বরূপ।
—অজ্ঞাত
↑ Contents
যদি এ আমার হৃদয় দুয়ার বন্ধ রহে গাে কভু
সিন্ধুভৈরবী—একতাল *
যদি এ আমার হৃদয়-দুয়ার বন্ধ রহে গাে কভু
দ্বার ভেঙ্গে তুমি এস মাের প্রাণে, ফিরিয়া যেয়াে না প্রভু।
যদি কোন দিন এ বীণার তারে তব প্রিয় নাম নাহি ঝঙ্কারে,
দয়া করে তবু রহিও দাঁড়ায়ে, ফিরিয়া যেয়াে না প্রভু।
যদি কোন দিন তােমার আহ্বানে সুপ্তি আমার চেতনা না মানে
বজ্ৰ-বেদনে জাগায়াে আমারে, ফিরিয়া যেয়াে না প্রভু।
যদি কোন দিন তােমার আসনে আর কাহারেও বসাই যতনে,
চিরদিবসের হে রাজা আমার, ফিরিয়া যেয়াে না প্রভু।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
* স্বরবিতান-২৭
↑ Contents
আজি কি পুলকে নাচে হিয়া
আসােয়ারী—একতাল
আজি কি পুলকে নাচে হিয়া।
মহা মিলনের মােহন বাঁশরী নিখিলে উঠিল বাজিয়া |
দূরে গেল যত ধরম দ্বন্দ্ব, টুটিল সন্দ স্বার্থ-বন্ধ,
আজি আনন্দ, আজি আনন্দ, কার প্রেম-মুখ হেরিয়া ।
—স্বামী চণ্ডিকানন্দ
↑ Contents
জানি তুমি মঙ্গলময় প্রতি পলকে পাই পরিচয়
কাফি—কাওয়ালী**
জানি তুমি মঙ্গলময়, প্রতি পলকে পাই পরিচয়।
সুখে রাখ দুখে রাখ, যে বিধান হয়, কিছুতেই নাহি ভয়।
আর যাই কর প্রভু, মােরে ত্যজিবে না কভু,
এই মাের ভরসা; এস প্রভু, এস প্রভু, হৃদয় মাঝে
শুভ হবে নিশ্চয় ॥
—জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর
** ব্রহ্মসঙ্গীত স্বরলিপি-৪
↑ Contents
এ কী এ সুন্দর শােভা! কী মুখ হেরি এ
ইমন-ভূপালী—তিনতাল*
এ কী এ সুন্দর শােভা! কী মুখ হেরি এ!
আজি মাের ঘরে আইল হৃদয়নাথ, প্রেম উৎস উথলিল আজি ।
বলাে হে প্রেমময় হৃদয়ের স্বামী, কি ধন তােমারে দিব উপহার?
হৃদয় প্রাণ লহাে লহাে তুমি, কী বলিব;
যাহা কিছু আছে মম সকলি লও হে নাথ।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
* স্বরবিতান-২৩
↑ Contents
(তুই) পূজার প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখিস্ হৃদয় দেউল মাঝে
কাফি-সিন্ধু—তেওরা
(তুই) পূজার প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখিস্ হৃদয়-দেউল মাঝে।
ভক্তি-প্রেমের ধূপটী জ্বালাস, নিত্য সকাল সাঁঝে।
পাবি যেদিন দুঃখ ব্যথা, দেবতারি পায় নােয়াস্ মাথা,
বলিস্ “তােমার ইচ্ছা ফলুক, আমার জীবন মাঝে।
আপনাকে তার ভৃত্য রাখিস, তঁাকে করিস্ রাজা,
তার তরে তুই আসন পাতিস, ফুলের মালা সাজা।
তবু যদি দেখা না পাস্ চোখের জলে বেদন জানাস
বলিস্ “প্রিয়! তােমার তরে এ দেহে প্রাণ আছে ৷”
—নির্মল কুমার বড়াল
↑ Contents
তুমি নির্মল কর মঙ্গলকরে মলিন মর্ম মুছায়ে
ভৈরবী—একতাল *
তুমি, নির্মল কর, মঙ্গলকরে মলিন মর্ম মুছায়ে;
তব, পুণ্য কিরণ দিয়ে যাক্, মাের মােহ-কালিমা ঘুচায়ে।
লক্ষ্য শূন্য লক্ষ্য বাসনা ছুটিছে গভীর আঁধারে,
জানি না কখন ডুবে যাবে কোন্ অকূল গরল পাথারে।
প্রভু, বিশ্ব-বিপদহন্তা, তুমি দাঁড়াও রুধিয়া পন্থা,
তব শ্রীচরণতলে নিয়ে এস মাের মত্ত-বাসনা গুছায়ে ।
আছ, অনল অনিলে, চির নভােনীলে, ভূধরসলিলে, গহনে,
আছ, বিটপিলতায়, জলদের গায়, শশীতারকায় তপনে;
আমি, নয়নে বসন বাঁধিয়া, বসে, আঁধারে মরিগাে কঁদিয়া;
আমি, দেখি নাই কিছু বুঝি নাই কিছু, দাও হে দেখায়ে বুঝায়ে ।
—রজনীকান্ত সেন
*ব্রহ্মসঙ্গীত স্বরলিপি-২
↑ Contents
আমায় সকল রকমে কাঙ্গাল করেছ গর্ব করিতে চূর
মিশ্র ইমন-কল্যাণ—একতাল**
আমায়, সকল রকমে কাঙ্গাল করেছ—গর্ব করিতে চূর;
(তাই) যশঃ ও অর্থ, মান ও স্বাস্থ্য, সকলি করেছে দূর।
ঐগুলি সব মায়াময় রূপে, ফেলেছিল মােরে অহমিকা কূপে;
তাই সব বাধা সরায়ে দয়াল করেছ দীন আতুর;
আমায় সকল রকমে কাঙ্গাল করিয়া গর্ব করিতে চুর ॥
যায়নি এখনাে দেহাত্মিকা-মতি, এখনও কি মায়া দেহটার প্রতি,
এই, দেহটা যে ‘আমি’, এই ধারণায় হয়ে আছি ভরপুর;
তাই সকল রকমে কাঙ্গাল করিয়া গর্ব করিছে চুর
ভাবিতাম, “আমি লিখি বুঝি বেশ, আমার সঙ্গীত ভালবাসে দেশ,
তাই, বুঝিয়া দয়াল ব্যাধি দিলে মােরে, বেদনা দিলে প্রচুর,
আমায়, কত না যতনে শিক্ষা দিতেছে গর্ব করিতে চুর ॥
—রজনীকান্ত সেন
** রজনীকান্তের গানের স্বরলিপি দ্রষ্টব্য।
↑ Contents
আমি তাে তােমারে চাহিনি জীবনে তুমি অভাগারে চেয়েছ
মিশ্র-কানাড়া—একতাল*
আমি তাে তােমারে চাহিনি জীবনে, তুমি অভাগারে চেয়েছ;
আমি না ডাকিতে, হৃদয় মাঝারে নিজে এসে দেখা দিয়েছ।
চির আদরের বিনিময়ে, সখা, চির অবহেলা পেয়েছ;
(আমি) দূরে ছুটে যেতে, দু’হাত পসারি’, ধরে টেনে কোলে নিয়েছ!
“ও পথে যেও না, ফিরে এস,” বলে কানে কানে কত কয়েছ;
(আমি) তবু চলে গেছি; ফিরায়ে আনিতে পাছে পাছে ছুটে গিয়েছ।
(এই) চির অপরাধী পাতকীর বােঝা হাসিমুখে তুমি ব’য়েছ;
(আমার) নিজ হাতে গড়া বিপদের মাঝে, বুকে করে নিয়ে রয়েছ।
—রজনীকান্ত সেন
* রজনীকান্তের গানের স্বরলিপি দ্রষ্টব্য।
↑ Contents
আনন্দ বদনে বল মধুর ব্রহ্মনাম
কীর্তন-খেমটা
আনন্দ বদনে বল মধুর ব্রহ্মনাম।
নামে উথলিবে সুধাসিন্ধু, পিয়ে অবিরাম।
(পান কর আর দান কর হে)।
যদি হয় কখন শুষ্ক হদয়, করাে নাম গান।
(বিষয়-মরীচিকায় পড়ে হে) (প্রেমে হৃদয় সরস হবে হে)
(দেখ যেন ভুল না রে, সেই মহামন্ত্র)।
(বিপদকালে ডেকো তারে দয়াল পিতা ব’লে)।
সবে হুঙ্কারিয়ে ছিন্ন কর পাপের বন্ধন।
(“জয় ব্রহ্ম জয়’ বলে হে)।
এস ব্রহ্মানন্দে মাতি সবে হই পূর্ণকাম।
(প্রেমযােগে যােগী হয়ে হে)।
—পুণ্ডরীকাক্ষ মুখােপাধ্যায়
↑ Contents
কবে আমি বাহির হলেম তােমারি গান গেয়ে
ইমন-কল্যাণ—তেওরা*
কবে আমি বাহির হলেম তােমারি গান গেয়ে
সে তাে আজকে নয়, সে আজকে নয়।
ভুলে গেছি কবে থেকে আসছি তােমায় চেয়ে
সে তাে আজকে নয়, সে আজকে নয় ॥
ঝরনা যেমন বাহিরে যায়, জানে না সে কাহারে চায়,
তেমনি করে ধেয়ে এলেম জীবন-ধারা বেয়ে
সে তাে আজকে নয়, সে আজকে নয় ।
কতই নামে ডেকেছি যে, কতই ছবি এঁকেছি যে,
কোন আনন্দে চলেছি তার ঠিকানা না পেয়ে
সে তাে আজকে নয়, সে আজকে নয়।
পুষ্প যেমন আলাের লাগি, না জেনে রাত কাটায় জাগি,
তেমনি তােমার আশায় আমার হৃদয় আছে ছেয়ে-
সে তাে আজকে নয়, সে আজকে নয় ।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
* স্বরবিতান-৩৭
↑ Contents
কবে জীবন কুঞ্জে আনিয়া বিছাবে তােমারি আসনখানি
দেশ—একতাল
কবে জীবন-কুঞ্জে আনিয়া বিছাবে তােমারি আসনখানি।
হৃদি-মন-তারে বাজিয়া উঠিবে তােমার অমৃত বাণী ॥
কবে সবার মাঝারে তােমারে দেখিব,
তােমারে পূজিতে সবারে পূজিব,
ব্যথিত-বেদনা জাগাব পরাণে তােমারি বেদনা জানি।
কবে তােমারি পরশে জড়তা ঘুচিবে,
তােমারি আলােকে চেতনা ডুবিবে,
আমার আমিরে তুলিয়া লইবে তােমার চরণে টানি ॥
—রমেশ রায়
↑ Contents
য়হ্ জগমে আয়া নরধারী মানুষী তন্ কেঁউ শুধ্ ভজনা
ইমন-কল্যাণ—তিনতাল।
য়হ্ জগমে আয়া নরধারী, মানুষী তন্ কেঁউ শুধ্ ভজনা।
মূঢ় ভঁয়াে যাচে বিষয়াদি জৈ হােবে অপযশ রটনা।
অবতাে কাহেকো দিন গোয়াবে জগদীশ্বর কো কেঁউ নহি রটনা।
মমে ইয়াদ করকে দেখাে ঈশ্বর বিন নেহি কোই অপনা।
—অজ্ঞাত
↑ Contents
বিপদ ভয় বারণ যে করে ওরে মন
ছায়ানট—ঝাঁপতাল*
বিপদ-ভয়-বারণ যে করে ওরে মন
তারে কেন ডাকো না।
মিছা ভ্রমে ভুলে সদা রয়েছ ভব-ঘােরে মজি,
এ কি বিড়ম্বনা।
এ ধন জন না রবে হেন,
হে যেন ভুলাে না,
ছাড়ি অসার ভজহ সার, যাবে ভব যাতনা।
এখন হিত-বচন শােন যতনে করি ধারণা,
বদন ভরি নাম হরি কর সতত ঘােষণা;
যদি এ ভবে পার হবে, ছাড় বিষয়-কামনা
সঁপিয়ে তনু হৃদয় মন, তার কর সাধনা।
—যদু ভট্ট
* ব্রহ্মসঙ্গীত স্বরলিপি-৪
↑ Contents
আর ঘুমাইওনা মন মায়াঘােরে কতদিন রবে অচেতন
টোড়ি-ভৈরবী—একতাল
আর ঘুমাইওনা মন। মায়াঘােরে কতদিন রবে অচেতন।
কে তুমি কি হেতু এলে, আপনারে ভুলে গেলে,
চাহরে নয়ন মেলে, ত্যজ কুস্বপন ॥
রয়েছাে অনিত্য ধ্যানে, নিত্যানন্দে হের প্রাণে,
তমাে পরিহরি হেরাে তরুণ তপন।
—গিরিশচন্দ্র ঘােষ
↑ Contents
সব দুঃখ দূর করিলে দরশন দিয়ে মােহিলে প্রাণ
আশাবরী-ঝাঁপতাল*
সব দুঃখ দূর করিলে
দরশন দিয়ে মােহিলে প্রাণ।
সপ্তলােক ভুলে শােক,
তােমারে পাইয়ে-
কোথায় আমি অতি দীন হীন।
—অজ্ঞাত
*স্বামী বিবেকানন্দ গীত
↑ Contents
ওগাে কে তুমি আমারে বল
ভূপালী মিশ্র—একতাল
ওগাে কে তুমি আমারে বল ?
কেন অযাচিতভাবে ফের পাছে পাছে বিপদেতে আগে চল ।
ডাকি না তােমারে তবু তুমি আস, চাই না তােমারে তবু ভালবাস,
জেনেছি আমার হৃদয় আকাশ তােমারি আভায় আলাে।
কভু স্বামী কভু সখারূপ ধরে, মা হয়ে কখন আস স্নেহভরে,
তােমাধনে ধনী নয় গাে যে জন (তার) জনম বিফলে গেল ।
—অজ্ঞাত
↑ Contents
গাওরে আনন্দময়ীর নাম দিবানিশি অবিরাম
লুম্ ঝিঝিট—ঠুংরি
গাওরে আনন্দময়ীর নাম দিবানিশি অবিরাম।
ওরে আমার একতন্ত্রী, প্রাণের আরাম।
একাকী বিরলে ব’সে, ডুবে যােগানন্দরসে,
দেখ সে রূপ অনিমেষে হৃদে স্বর্গধাম।
অভয়ার অভয়চরণ, হৃদয়ে করিয়ে ধারণ,
পরিহর চতুর্বর্গ ধর্ম অর্থ কাম ।
—ত্রৈলােক্যনাথ সান্যাল
↑ Contents
দিবানিশি করিয়া যতন হৃদয়েতে রচেছি আসন
ধুন—কাওয়ালি*
দিবানিশি করিয়া যতন
হৃদয়েতে রচেছি আসন—
জগতপতি হে, কৃপা করি হেথা কি করিবে আগমন।
অতিশয় বিজন এ ঠাই, কোলাহল কিছু হেথা নাই-
হৃদয়ের নিভৃত নিলয় করেছি যতনে প্রক্ষালন।
বাহিরের দীপ রবি তারা ঢালে না সেথায় করধারা—
তুমিই করিবে শুধু, দেব, সেথায় কিরণবরিষণ।
দূরে বাসনা চপল, দূরে প্রমােদ-কোলাহল
বিষয়ের মান অভিমান করেছে সুদূরে পলায়ন।
কেবল আনন্দ বসি সেথা, মুখে নাই একটিও কথা—
তােমারি সে পুরােহিত, প্রভু, করিবে তােমারি আরাধন—
নীরবে বসিয়া অবিরল চরণে দিবে সে অশ্রুজল,
দুয়ারে জাগিয়া রবে একা মুদিয়া সজল দুনয়ন |
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
* স্বরবিতান-৪৫
↑ Contents
অনন্ত হয়েছ ভালই করেছ থাক চিরদিন অনন্ত অপার
ভৈরবীু-পিল —[একতাল] চৌতাল*
অনন্ত হয়েছ ভালই করেছ, থাক চিরদিন অনন্ত অপার।
ধরা যদি দিতে ফুরাইয়া যেতে, তােমারে ধরিতে কে চাহিত আর ।
ভুলায়েছ যারে তব প্রলােভনে, সে কি ক্ষান্ত হবে তব অন্বেষণে ?
না পায় না পাবে, যায় প্রাণ যাবে, কভু কি ফুরাবে অন্বেষণ তার?
যত পাছে পাছে ছুটে যাব আমি,
তত আরাে আরাে দূরে রবে তুমি,
যতই না পাব, তত পেতে চাব, ততই বাড়িবে পিপাসা আমার ।
আদর্শ তােমারে দেখিব যত,
তােমার স্বভাব পেয়ে হব তােমার মতাে;
ফুরাবে না তুমি, ফুরাব না আমি, তােমাতে আমাতে হব একাকার।
—কালীনাথ ঘােষ
*ব্রহ্মসঙ্গীত স্বরলিপি-৫
↑ Contents
সকল গর্ব দূর করি দিব তােমার গর্ব ছাড়িব না
আড়ানা-একতাল**
সকল গর্ব দূর করি দিব, তােমার গর্ব ছাড়িব না।
সবারে ডাকিয়া কহিব যেদিন পাব তব পদরেণুকণা।
তব আহ্বান আসিবে যখন সে কথা কেমনে করিব গােপন!
সকল বাক্যে সকল কর্মে প্রকাশিবে তব আরাধনা ।
যত মান আমি পেয়েছি যে কাজে সে দিন সকলি যাবে দূরে;
শুধু তব মান দেহে মনে মাের বাজিয়া উঠিবে এক সুরে।
পথের পথিক সে-ও দেখে যাবে, তােমার বারতা মাের মুখভাবে,
ভব-সংসার-বাতায়ন-তলে বসে রব যবে আনমনা ।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
** স্বরবিতান—২৩
↑ Contents
তােমারি নাম বলব আমি বলব নানা ছলে
বেহাগ—কাহারবা*
তােমারি নাম বলব, আমি বলব নানা ছলে
(আমি) ব’লব একা বসে আপন মনের ছায়া তলে ।
ব’লবাে বিনা ভাষায়, বলবাে বিনা আশায়,
বলবাে মুখের হাসি দিয়ে, ব’লবাে চোখের জলে ।
বিনা-প্রয়ােজনের ডাকে ডাকবাে তােমার নাম,
সেই ডাকে মাের শুধু শুধুই পূরবে মনস্কাম।
শিশু যেমন মাকে,
নামের নেশায় ডাকে,
বলতে পারে এই সুখেতেই মায়ের নাম সে বলে ।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
* স্বরবিতান—৪০
↑ Contents
তােমারি গেহে পালিছ স্নেহে তুমিই ধন্য ধন্য হে
খাম্বাজ—একতাল**
তােমারি গেহে পালিছ স্নেহে, তুমিই ধন্য ধন্য হে।
আমার প্রাণ তােমারি দান, তুমিই ধন্য ধন্য হে ॥
পিতার বক্ষে রেখেছ মােরে, জনম দিয়েছ জননী-ক্রোড়ে,
বেঁধেছ সখার প্রণয়-ডােরে, তুমিই ধন্য ধন্য হে ৷৷
তােমার বিশাল বিপুল ভুবন করেছ আমার নয়ন লােভন,
নদী গিরি বন সরসশােভন, তুমিই ধন্য ধন্য হে ৷৷
হৃদয়ে বাহিরে স্বদেশে বিদেশে যুগে যুগান্তে নিমেষে নিমেষে,
জনমে মরণে শােকে আনন্দে তুমিই ধন্য ধন্য হে ॥
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
** স্বরবিতান-৪
↑ Contents
আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়েছিলে দেখতে আমি পাইনি
গৌড়সারঙ্গ—একতাল*
আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়েছিলে দেখতে আমি পাইনি।
তােমায় দেখতে আমি পাইনি।
বাহির পানে চোখ মেলেছি, আমার হৃদয় পানেই চাইনি।
আমার সকল ভালবাসায় সকল আঘাত সকল আশায়
তুমি ছিলে আমার কাছে, তােমার কাছে যাইনি।
তুমি মাের আনন্দ হয়ে ছিলে আমার খেলায়
আনন্দে তাই ভুলেছিলেম, কেটেছে দিন হেলায়।
গােপনে রহি গভীর প্রাণে আমার দুঃখ সুখের গানে
সুর দিয়েছ তুমি, আমি তােমার গান তাে গাই নি ॥
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
* স্বরবিতান-৪১
↑ Contents
এই লভিনু সঙ্গ তব সুন্দর হে সুন্দর
দেশ—ঝম্পক**
এই লভিনু সঙ্গ তব, সুন্দর হে সুন্দর।
পুণ্য হ’ল অঙ্গ মম, ধন্য হ’ল অন্তর; সুন্দর হে সুন্দর ।
আলােকে মাের চক্ষু দু’টি মুগ্ধ হয়ে উঠিল ফুটি,
হৃদ-গগনে পবন হ’ল সৌরভেতে মন্থর; সুন্দর, হে সুন্দর ।
এই তােমারি পরশ-রাগে চিত্ত হ’ল রঞ্জিত;
এই তােমারি মিলন-সুধা রইল প্রাণে সঞ্চিত।
তােমার মাঝে এমনি করে নবীন করি লও হে মােরে,
এই জনমে ঘটালে মাের জন্ম-জনমান্তর; সুন্দর, হে সুন্দর ।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
** স্বরবিতান-৪০
↑ Contents
বিমল প্রভাতে মিলি এক সাথে বিশ্বনাথে কর প্রণাম
ভায়রাে—ত্রিতাল*
বিমল প্রভাতে, মিলি এক সাথে, বিশ্বনাথে কর প্রণাম ।
উদিল কনক-রবি রক্তিম রাগে,
বিহঙ্গকুল সবে হরষে জাগে,
তুমি হে মানব, নব অনুরাগে, পবিত্র নাম তার কররে গান ।
—জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর
*ব্রহ্মসঙ্গীত স্বরলিপি-৫
↑ Contents
তােমারি দেওয়া প্রাণে তােমারি দেওয়া দুঃখ
মিশ্র-অলেয়া—তেওরা**
তােমারি দেওয়া প্রাণে, তােমারি দেওয়া দুঃখ,
তােমারি দেওয়া বুকে, তােমারি অনুভব।
তােমারি দু'নয়নে, তােমারি শােকবারি,
তােমারি ব্যাকুলতা, তােমারি হা হা রব ॥
তােমারি দেওয়া নিধি, তােমারি কেড়ে নেওয়া,
তােমারি শঙ্কিত আকুল পথ-চাওয়া;
তােমারি নিরজনে ভাবনা আনমনে,
তােমারি সান্ত্বনা, শীতল সৌরভ |
আমিও তােমারি গাে, তােমারি সকলি তাে,
জানিয়ে জানে না, এ মােহ-হত চিত,
আমারি বলে কেন, ভ্রান্তি হ’ল হেন,
ভাঙ্গ এ অহমিকা, মিথ্যা গৌরব ॥
—রজনীকান্ত সেন
** রজনী কান্তের গানের স্বরলিপি
↑ Contents
তুমি যত ভার দিয়েছ সে ভার করিয়া দিয়েছ সােজা
বাউল—একতাল*
তুমি যত ভার দিয়েছ সে ভার করিয়া দিয়েছ সােজা।
আমি যত ভার জমিয়ে তুলেছি সকলি হয়েছে বােঝা।
এ বােঝা আমার নামাও বন্ধু, নামাও--
ভারের বেগেতে চলেছি কোথায়, এ যাত্রা তুমি থামাও |
আপনি যে-দুখ ডেকে আনি সে-যে জ্বালায় বজ্ৰানলে—
অঙ্গার করে রেখে যায়, সেথা কোন ফল নাহি ফলে।
তুমি যাহা দাও সে-যে দুখের দান
শ্রাবণধারায় বেদনার রসে সার্থক করে প্রাণ ॥
যেখানে যা কিছু পেয়েছি কেবলি সকলি করেছি জমা--
যে দেখে সে আজ মাগে যে হিসাব, কেহ নাহি করে ক্ষমা ।
এ বােঝা আমার নামাও বন্ধু, নামাও
ভারের বেগেতে ঠেলিয়া চলেছি, এ যাত্রা মাের থামাও।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
* স্বরবিতান-২৬
↑ Contents
তােমার অসীমে প্রাণমন লয়ে যত দূরে আমি ধাই
বেহাগ-কাওয়ালী**
তােমার অসীমে প্রাণমন লয়ে যত দূরে আমি ধাই—
কোথাও দুঃখ, কোথাও মৃত্যু, কোথা বিচ্ছেদ নাই।
মৃত্যু সে ধরে মৃত্যুর রূপ, দুঃখ হয় হে দুঃখের কূপ,
তােমা হতে যবে হইয়ে বিমুখ আপনার পানে চাই ৷
হে পূর্ণ, তব চরণের কাছে যাহা-কিছু সব আছে আছে আছে-
নাই-নাই-ভয়, সে শুধু আমারই, নিশিদিন কাঁদি তাই।
অন্তর-গ্লানি সংসার-ভার পলক ফেলিতে কোথা একাকার
জীবনের মাঝে স্বরূপ তােমার রাখিবারে যদি পাই ।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
** স্বরবিতান-৪
↑ Contents
মােকো কঁহা ঢ়্যুঁঢ়ে বন্দে ময় তাে তেরে পাস ম্যেঁ
সিন্ধু খাম্বাজ—তিনতাল*
মােকো কঁহা ঢ়্যুঁঢ়ে বন্দে, ম্যঁয় তো তেরে পাস ম্যেঁ।
হােয়ে ম্যয় ঝগড়ি, বিগড়ি না ছুরি গঢ়াস ম্যেঁ,
না হােয়ে নাে খাল রােমে, না হড্ডি না মা ম্যেঁ।
দেবল মে না মজিদ মে না কাশী কৈলাস ম্যেঁ।
না হােয়ে ম্যয় অউধ দ্বারকা মেরা ভেট বিশ্বাস ম্যেঁ ৷
হােয়ে ম্যয় ক্রিয়া করমূমে, না যােগ বৈরাগ সন্ন্যাস ম্যেঁ।
খুঁজেগা তাে অব মিলুঙ্গা, পলভরকী তলাস ম্যেঁ ।
সহরুসে বাহার ডেরা হমারি, কুঠিয়া মেরী মৌয়াস ম্যেঁ ।
কহত কবীর শুন ভাই সাধু, সব সন্তী সাথ ম্যেঁ ।।
—কবীর
* স্বরলিপি : দিব্যগীতি
↑ Contents
ওহি দেশকো হামে জানা
পিলু-বারােয়া—ঠুংরী
ওহি দেশকো হামে জানা।
যহা নেহি অপনা আউর বেগানা ।
(জহাঁ) চন্দ্র সূরয নেহি ভাওয়ে, শােক তাপ নেহি পাওয়ে;
(হা) নেহি জমী আউর আসমানা ॥
(জহ) মিট গয়ী সব ধন্দা, রাম রহিম এক বন্দা;
(যহা) নহি বেদ আউর কোরাণা ।
(জহ) আগম নিগম নহি বাণী, জীয়ত মরত নহি জানি;
(জহাঁ) যাকে ফিন্ নহি আনা।
—গিরিশচন্দ্র ঘােষ
↑ Contents
জাগাে সকল অমৃতের অধিকারী
মিশ্র আশাবরী—ঝাঁপতাল*
জাগাে সকল অমৃতের অধিকারী,
নয়ন খুলিয়ে দেখ করুণানিধান, পাপতাপহারী।
পূরব অরুণ-জ্যোতি মহিমা প্রচারে, বিহগ যশ গায় তাহারি ।
হৃদয় কপাট খুলি দেখরে যতনে, প্রেমময় মূরতি জন-চিত্তহারী;
ডাক রে নাথে, বিমল প্রভাতে পাইবে শান্তির বারি ।
—দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
* ব্রহ্মসঙ্গীত স্বরলিপি-১
↑ Contents
মহারাজ এ কি সাজে এলে হৃদয়পুর মাঝে
বেহাগ-ঝাপতাল**
মহারাজ, এ কি সাজে এলে হৃদয়পুর মাঝে।
চরণতলে কোটি শশী সূর্য মরে লাজে ।
গর্ব সব টুটিয়া মূৰ্ছি পড়ে লুটিয়া,
সকল মম দেহ মন বীণা সব বাজে।
এ কি পুলক-বেদনা বহিছে মধুবায়ে!
কাননে যত পুষ্প ছিল মিলিল তব পায়ে।
পলক নাহি নয়নে, হেরি না কিছু ভুবনে
নিরখি শুধু অন্তরে সুন্দর বিরাজে।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
** স্বরবিতান-৩৬
↑ Contents
প্রভু দাঁড়াও তােমায় দেখি
মিশ্র-জৌনপুরি—একতাল
প্রভু, দাঁড়াও তােমায় দেখি।
নিয়ে সকল দাবি দাওয়া, চিরজীবন হয় নি চাওয়া,
আজকে যদি চোখ তুলেছি, তুমিই পলাবে কি?
দুই চোখে যে কুলায় না মাের তােমার রূপের আলাে,
লক্ষ কোটি নয়ন দিলে হ’ত সে মাের ভাল,
নােঙর-ছেড়া মত্ত হিয়া, চলেছিল পথ ভুলিয়া,
থামুক সে মাের যাত্রা আজি, চরণ-তলে ঠেকি ৷৷
—নিরুপমা দেবী
↑ Contents
বিশ্ব ভুবন রঞ্জন ব্রহ্মা পরমজ্যোতি
মেঘমল্লার—সুরফাঁকতাল*
বিশ্ব-ভুবন-রঞ্জন, ব্রহ্মা পরমজ্যোতি,
অনাদি দেব জগ-পতি, প্রাণের প্রাণ।
কতই কৃপা বরষিছ, প্রাণ জুড়ায় সুমধুর প্রেম-সমীরে,
দুখ-তাপ সকলি হয় অবসান ৷৷
সবাকার তুমি হে পিতা বন্ধু মাতা,
অনন্ত লােক করে তব প্রেমামৃত পান।
অনাথ-শরণ এমন আর কেবা তােমা হেন,
ডাকি তােমারে, দেখা দাও প্রভু হে কৃপা নিধান ॥
—দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
* ব্রহ্মসঙ্গীত স্বরলিপি-৩
↑ Contents
চমৎকার অপার জগত রচনা তােমার
কানাড়া—ঝাঁপতাল*
চমৎকার অপার জগত রচনা তােমার।
শােভার আগার বিশ্ব-সংসার ||
অযুত তারক চমকে রতন কাঞ্চন-হার।
কত চন্দ্র কত সূর্য নাহি অন্ত তার ।
শােভে বসুন্ধরা ধনধান্যময়
(হায়) পূর্ণ তােমার ভাণ্ডার ॥
হে মহেশ, অগণন লােক গায়,
‘ধন্য তুমি ধন্য এই গীতি অনিবার ।
—দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
* স্বরলিপি ঃ দিব্যগীতি
↑ Contents
বিবিধ সঙ্গীত
ডুব্ ডুব্ ডুব্ রূপসাগরে আমার মন
বাউল—আড়খেমটা*
ডুব্ ডুব্ ডুব্ রূপসাগরে, আমার মন।
তলাতল পাতাল খুঁজলে, পাবিরে প্রেম রত্নধন ॥†
ডুব্ ডুব্ ডুব্ ডুবলে পাবি হৃদয় মাঝে বৃন্দাবন।
দীপ দীপ দীপ্ জ্ঞানের বাতি, হৃদে জ্বলবে অনুক্ষণ
ড্যাং ড্যাং ড্যাং ডাঙ্গায় ডিঙে চালায় আবার সে কোন জন,
কুবীর বলে শোন্ শোন্ শোন্ ভাব গুরুর শ্রীচরণ।
—কুবীর গোঁসাই
*স্বরলিপি ঃ শ্রীরামকৃষ্ণের প্রিয় সঙ্গীত।
† পাঠান্তর ঃ “তলাতল পাতাল খুঁজে পাবিনাকো রত্নধন”
↑ Contents
কত গান তো হ’ল গাওয়া আর মিছে কেন গাওয়াও
গজল—ঠুংরী
কত গান তো হ’ল গাওয়া আর মিছে কেন গাওয়াও?
যদি দেখা নাহি দিবে, তবে মিছে কেন চাওয়াও?
যদি যতই মরি ঘুরে, তুমি ততই রবে দূরে,
তবে কেন বাঁশীর সুরে তব তরে শুধু ধাওয়াও?
যদি সন্ধ্যা হ’লে বেলা নাহি মিলে তব বেলা,
পথ-ভোলা মোর ভেলা এ অকূলে কেন বাওয়াও?
যদি আমার দিবা রাতি কাটি যাবে বিনা সাথি,
তবে কেন বঁধুর লাগি পথ পানে শুধু চাওয়াও?
বড় ব্যথা তোমায় চাওয়া আরও ব্যথা ভুলে যাওয়া;
যদি ব্যথী না আসিবে এত ব্যথা কেন পাওয়াও?
—অতুলপ্রসাদ সেন
↑ Contents
সাধু সজ্জনকো সৎসঙ্গ মিল
খাম্বাজ—লুম্—কাওয়ালী
সাধু-সজ্জনকো সৎসঙ্গ মিল
জব সচ্চিদানন্দকী কৃপা ভাওএ।
জোহি খবর নহী গ্রন্থমে
সাধু বিন রাহু কওন বতাওএ,
সাধু সম হিতকারী ন কোঈ,
মাতার পিতর মিতরকী ভাঈ।
অন্ধাকো সূঝ চোর সমঝ
প্রভু চরণাম্বুজেকো মিলাও এ ৷
—দয়াসখী
↑ Contents
হরিসে লাগি রহ রে ভাই
ভজন (শ্রীরামকৃষ্ণ গীত)*
হরিসে লাগি রহ রে ভাই।
তেরা বনত বনত বনি যাই ৷৷
তেরী বিগড়ী বাত বনি যাই ॥
রাকা তরে বাঁকা তরে, তরে সদন কসাই।
সুগা পঢ়ায়কে গণিকা তরী, তরী হ্যায় মীরাবাঈ ৷৷
দৌলত দুনিয়া মাল খাজানা বধিয়া বৈল চরাই।
জবহী কালকা ডঙ্কা বাজী খোঁজ খবর না পাই ॥
য়্যায়সী ভক্তি কর ঘট ভিতর ছোড় কপট চতুরাই।
সেবা বন্দগী আউর ন্যূনতা, সহজ মিলে রঘুরাই ॥
কহত কবীর শুন ভাই সাধু সদ্গুরু বাত বাতাই।
ইয়া দুনিয়া দিন চার দিহাড়ে রহো রাম লব লাই ॥
—কবীর
*স্বরলিপি : দিব্যগীতি
↑ Contents
এই বেলা নে ঘর ছেয়ে
বাউল
এই বেলা নে ঘর ছেয়ে।
এবারে বর্ষা ভারি, হও হুঁশারী, লাগো আদা-জল খেয়ে।
যখন আসবে শ্রাবণা, দেখতে দেবে না।
বাঁশ বাখারি পচে যাবে, ঘর ছাওয়া হবে না।
যেমন আসবে ঝটকা, উড়বে মটকা, মটকা যাবে ফাঁক হয়ে।
(তুমিও যাবে হাঁ হয়ে)।
—অজ্ঞাত
↑ Contents
প্রেমে জল হয়ে যাও গলে
বাউল—আড়খেমটা *
প্রেমে জল হয়ে যাও গলে।
কঠিনে মেশে না সে, মেশে রে সে তরল হলে ৷
অবিরাম হ’য়ে নত,
চলে যাও নদীর মত,
কলকলে অবিরত, ‘জয় জগদীশ’ বলে ৷
বিশ্বাসের তরঙ্গ তুলে,
মোহপাড়ি ভাঙ্গ সমূলে,
চেও না কোনও কূলে শুধু নেচে গেয়ে যাওরে চলে ৷
সে জলে নাইবে যা’রা
থাকবে না মৃত্যু-জরা,
পানে পিপাসা যাবে, ময়লা যাবে ধুলে;
যারা সাঁতার ভুলে নামতে পারে, (তাদের) টেনে নে’ যাও একেবারে,
ভেসে যাও ভাসিয়ে নে’ যাও, সেই পরিণাম-সিন্ধু-জলে ৷
—রজনীকান্ত সেন
* স্বরলিপি : কান্ত-গীতি-মাল্য; কেউ কেউ বলেন যে, গানখানি নাকি শ্রীরামকৃষ্ণদেব গাইতেন। এই তথ্যটি আদৌ সত্য নয়।
↑ Contents
যমুনে এই কি তুমি সেই যমুনা প্ৰবাহিণী
কীর্তন—লোফা
যমুনে, এই কি তুমি সেই যমুনা প্ৰবাহিণী।
ও যার বিমল তটে, রূপের হাটে, বিকাত নীলকান্ত মণি ৷৷
কোথা সে ব্রজের শোভা,
গোলোক হ’তেও মনোলোভা,
কোথা শ্রীদাম বলরাম, সুবল সুদাম,
কোথা সে সুনীল তনু, ধেনু বেণু মা যশোদা রোহিণী।
কোথা নন্দ উপানন্দ,
মা যশোদার প্রাণগোবিন্দ,
ধড়া-চূড়া-পরা কোথা ননী-চোরা।
কোথা সে বসন চুরি, ব্রজনারীর পূজিতা মা কাত্যায়নী ॥
কোথা চারু চন্দ্রাবলী কোথা বা সে জলকেলি,
কোথা ললিতা সখী সুহাসিনী;
কোথা সে বংশীধারী রাসবিহারী
কোথা সে নূপুরধ্বনি,
বামেতে রাই বিনোদিনী
না বাজ়ে কিঙ্কিণী,
মধুর হাসি মধুর বাঁশি নাহি শুনি;
ও যার, মোহন সুরে উজান ভরে বইতে তুমি আপনি ৷
তোমারি তটে তটে, তোমারি বাটে বাটে,
তোমারি সন্নিকটে কই সে ধরনি,
ও যার নামের লাগি, মোহন চূড়া লুটাইত ধরণী ৷
দেখাইয়া দাও আমারে, যমুনে সেই বামারে,
অনাথের নাথ-হৃদ-মাঝারে, পা দুখানি;
পরিব্রাজক বলে, চরণ তলে লুটাই শির দিনযামিনী ৷৷
—কৃষ্ণপ্রসন্ন সেন
↑ Contents
তারে কৈ পেলুম সই হলাম যার জন্য পাগল
বাউল—লোফা
তারে কৈ পেলুম সই, হলাম যার জন্য পাগল।
ব্রহ্মা পাগল, বিষ্ণু পাগল, আর পাগল শিব ৷৷
তিন পাগলে যুক্তি ক’রে ভাঙ্গল নবদ্বীপ।
আর এক পাগল দেখে এলাম বৃন্দাবন মাঝে।
রাইকে রাজা সাজাইয়া আপনি কোটাল সাজে ৷
আর এক পাগল দেখে এলাম নবদ্বীপের পথে।
রাধা-প্রেম সুধা ব’লে করোয়া কিস্তি হাতে।
—অজ্ঞাত
↑ Contents
সবারে বাস্রে ভাল, নইলে মনের কালো ঘুচ্বে না রে
ভৈরবী—একতাল
সবারে বাস্রে ভাল, নইলে মনের কালো ঘুচ্বে না রে।
আছে তোর যাহা ভাল, ফুলের মত দে সবারে ॥
করি তুই আপন আপন হারালি যা ছিল আপন;
এবার তোর ভরা আপণ, বিলিয়ে দে তুই যারে তারে ॥
যারে তুই ভাবিস্ ফণী, তারো মাথায় আছে মণি;
বাজা তোর প্রেমের বাঁশী—ভবের বনে ভয় বা কারে?
সবাই যে তোর মায়ের ছেলে; রাখবি কারে কারে ফেলে?
একই নায়ে সকল ভায়ে যেতে হবে রে ওপারে ॥
—অতুলপ্রসাদ সেন
↑ Contents
প্রেমিক লোকের স্বভাব স্বতন্তর
বাউল—একতাল
প্রেমিক লোকের স্বভাব স্বতন্তর।
ও তার থাকে না, ভাই আত্ম পর ৷
প্রেমিক এম্নি রত্ন ধন, কিছু নাইক তার মতন
বিবিধ সঙ্গীত
ইন্দ্রপদকে তুচ্ছ করে, প্রেমিক হয় যে জন,
ও সে হাস্য মুখে সদাই থাকে, হৃদয় জুড়ে সুধাকর ॥
প্রেমিক চায় না কো জাতি, চায় না সুখ্যাতি,
(ভাবে) হৃদয় পূর্ণ, হয় না ক্ষুন্ন, রটলে অখ্যাতি,
ও তার হস্তগত সুখের চাবি থাকবে কেন অন্য ডর?
প্রেমিকের চালটা বেয়াড়া,
বেদবিধি ছাড়া,
আঁধার কোলে চাঁদ গেলে তার মুখে নাই সাড়া,
ও সে চৌদ্দ ভুবন ধ্বংস হলেও আমানেতে বানায় ঘর ৷
—ত্রৈলোক্যনাথ সান্যাল
↑ Contents
কত ঢেউ উঠেছে রে দিল দরিয়ায়
বাউল—একতাল
কত ঢেউ উঠেছে রে দিল-দরিয়ায়।
ঢেউ দেখে বুক শুকিয়ে উঠে, না হেরি কোন উপায় ॥
(একে) মন মাঝি আনাড়ি, (তায়) রিপু ছয় জনা দাঁড়ি,
তারা কেউ শুনে না আমার কথা দায় হল ভারি,
এরা ইচ্ছামত কর্ম করে, (বুঝি) মাঝ গাঙ্গে তরী ডুবায় ॥
তরী পাঁচ কাঠে আঁটা, আছে নয় দিকে ফুটা
তায় জন্মাবধি নাই মেরামত, বুজান তার নটা।
পাপ চাপনের ভাবনা ভারি, (বুঝি) ঢেউয়ের চোটে ফেটে যায় ৷৷
(ঐ) হরিনামের ভেলা,
প্রেমিক বলে এই বেলা
রাখ না কাছে ভয় কি তুফান হলই বা মেলা,
যখন ডুববে তরী ভেলায় চড়ি, (ও ভাই) কূল পাবি হরির কৃপায় ॥
—প্রেমিক
↑ Contents
যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে
বাউল—দাদরা *
যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে।
একলা চলো, একলা চলো, একলা চলো রে ॥
যদি কেউ কথা না কয়—(ওরে ওরে ও অভাগা!)
যদি সবাই থাকে মুখ ফিরায়ে, সবাই করে ভয়-
তবে পরাণ খুলে’,
ও তুই মুখ ফুটে তোর মনের কথা, একলা বল রে;
যদি সবাই ফিরে’ যায় —–(ওরে ওরে ও অভাগা!)
যদি গহন পথে যাবার কালে কেউ ফিরে না চায়—
তবে পথের কাঁটা
ও তুই রক্তমাখা চরণতলে একলা চলো রে ॥
যদি আলো না ধরে—(ওরে ওরে ও অভাগা!)
যদি ঝড় বাদলে আঁধার রাতে দুয়ার দেয় ঘরে-
তবে বজ্রানলে
আপন বুকের পাঁজর জ্বালিয়ে নিয়ে একলা জ্বলো রে ॥
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
* স্বরবিতান-৪৬; ভাঙ্গাগান : মূলগান-‘হরি নাম দিয়ে জগৎ মাতালে আমার একলা নিতাই
↑ Contents
(হরি) আপনি নাচ আপনি গাও আপনি বাজাও তালে তালে
সিন্ধুখাম্বাজ—পোস্তা
(হরি) আপনি নাচ; আপনি গাও, আপনি বাজাও তালে তালে,
মানুষ তো সাক্ষিগোপাল মিছে আমার আমার বলে।
ছায়াবাজীর পুতুল যেমন, জীবের জীবন তেমন,
দেবতা হ’তে পারে, যদি তোমার পথে চলে।
দেহ যন্ত্রে তুমি যন্ত্রী, আত্মরথে তুমি রথী,
জীব কেবল পাপের ভাগী, নিজ স্বাধীনতার ফলে।
সর্বমূলাধার তুমি, প্রাণের প্রাণ হৃদয়-স্বামী,
অসাধুকে সাধু কর, তুমি নিজ পুণ্যবলে।
—ত্রৈলোক্যনাথ সান্যাল
↑ Contents
সে দিন কবে বা হবে
কীর্তন
সে দিন কবে বা হবে?
হরি বলিতে ধারা বেয়ে পড়বে (সে দিন কবে বা হবে?)
সংসার বাসনা যাবে (সে দিন কবে বা হবে?)
অঙ্গে পুলক হবে (সে দিন কবে বা হবে?)।
—অজ্ঞাত
↑ Contents
রহ শিক জান মান কহ্যো হ্যায় পুরাণ মো ভগবান আপ করতার
ধ্রুপদাঙ্গ সঙ্গীত
রহ শিক জান মান কহ্যো হ্যায় পুরাণ, মো ভগবান আপ করতার ॥
দীনবন্ধু দয়াসিন্ধু, পতিতপাবন, আনন্দকন্দতোসে-কহত হুঁ পুকার;
তানসেন কহে নিরমল সদা রহিয়ে, নর দেহ ন হো বার বার ৷
—তানসেন
↑ Contents
আমার এ সাধের বীণা
বেহাগ—যত্
আমার এ সাধের বীণা—
যত্নে গাঁথা তারের হার।
যে যত্ন জানে, বাজায় বীণে,
উঠে সুধা অনিবার ৷৷
তানে মানে বাঁধলে ডুরি,
তারে শতধারে বয় মাধুরী,
বাজে না আলগা তারে,
টানে ছিঁড়ে কোমল তার।
সাধের বীণার মরম যে জানে,
সে তো তার বাঁধে না টানে,
দীনের কথা মধুর গাঁথা শুনে সে প্রাণে;
যে জোর ক’রে ডোর বাঁধবে টেনে,
বীণা নীরব রবে তার।
—গিরিশচন্দ্র ঘোষ
↑ Contents
প্রেমগিরি-কন্দরে যোগী হয়ে রহিব
মুলতানী—আড়া
প্রেমগিরি-কন্দরে যোগী হয়ে রহিব।
আনন্দনির্ঝরপাশে যোগধ্যানে বসিব |
সে আনন্দপ্রস্রবণে, পুণ্যচন্দ্রমা কিরণে,
মোহন মাধুরী খেলা প্রাণভরে হেরিব।
মিটাতে বিরহ তৃষ্ণা কৃপজলে আর যাব না,
হৃদয় করঙ্গ পূরি, শান্তিবারি তুলিব ৷
তত্ত্বফল আহরিয়ে, জ্ঞানক্ষুধা নিবারিয়ে,
বৈরাগ্য-বন-কুসুমে, শ্রীপাদপদ্ম পূজিব।
(কভু) বসি ভাবশৃঙ্গ পরে’ পদামৃত পান করে,
হাসিব কাঁদিব আবার নাচিব আর গাইব ॥
—অশ্বিনীকুমার দত্ত
↑ Contents
নিচুর কাছে হ’তে নিচু হতে শিলি না রে মন
বাউল—দাদরা*
নিচুর কাছে হ’তে নিচু হতে শিলি না রে মন।
(ও) তুই সুখী জনের করিস পূজা, দুঃখীর অযতন মূঢ় মন ৷৷
লাগে নি যার পায়ে ধূলি, কি নিবি তার চরণ-ধূলি?
নয় রে সোনায়, বনের কাঠেই হয় রে চন্দন মূঢ় মন ৷৷
প্রেম-ধন মায়ের মতন, দুঃখী সুতেই অধিক যতন;
এই ধনেতে ধনী যে জন সেই তো মহাজন মূঢ় মন ৷৷
বৃথা তোর কৃচ্ছ্ব-সাধন; সেবাই নরের শ্রেষ্ঠ সাধন।
মানবের পরম তীর্থ দীনের শ্রীচরণ মূঢ় মন।
মতামতের তর্কে মত্ত, আছিস্ ভুলে সরল সত্য;
সকল ঘরে সকল নরে আছেন নারায়ণ মূঢ় মন ৷৷
—অতুলপ্রসাদ সেন
* কাকলি-৫
↑ Contents
মনের কথা কইব কি সই কইতে মানা
বাউল—আড়খেমটা
মনের কথা কইব কি সই কইতে মানা।
দরদী নইলে প্রাণ বাঁচে না ৷
মনের মানুষ হয় যে জনা, ও তার নয়নেতে যায় গো চেনা,
সে দুই একজনা।
ভাবে ভাসে, রসে ডুবে ও সে উজান পথে করে আনাগোনা ॥
(ভাবের মানুষ উজান পথে)
মনের মানুষ মিলবে কোথা বগলে তাঁর ছেঁড়া কাঁথা ।
ও সে কারু সনে কয়না কথা,
ভাবের মানুষ উজান পথে করে আনাগোনা ॥
—অজ্ঞাত
↑ Contents
পাগলা ! মনটারে তুই বাঁধ
ভৈরবী—যত্
পাগলা ! মনটারে তুই বাঁধ;
কেনরে তুই যেথা সেথা পরিস্ প্রাণে ফাঁদ?
শীতল বায়ে আসলে নিশি, তুই কেনরে হোস্ উদাসী?
(ওরে) নীলাকাশে অমন ক’রে হেসেই থাকে চাঁদ ॥
শৈল-শিরে সোনার খেলা দেখিস যবে প্রভাত-বেলা,
তুই কেনরে হোস্ উতলা দেখে মোহন ছাঁদ?
করুণ সুরে গাইলে পাখি তোর কেন রে ঝরে আঁখি।
কবে তুই মুছবি নয়ন, ঘুচরে মনের ধাঁদ?
সংসারেতে উঠলে হাসি, তুই শুনিস্ রে ব্রজের বাঁশী!
(ওরে) ভাবিস্ কিরে সবই গোকুল, সবাই কালাচাঁদ?
কতই পেলি ভালবাসা, তবু না তোর মেটে আশা!
এবার তুই একলা ঘরে নয়ন ভ’রে কাঁদ!
—অতুলপ্রসাদ সেন
↑ Contents
আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ’ সত্যসুন্দর
রাগ মহীশুর—তাল দাদরা *
আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ’, সত্যসুন্দর ॥
মহিমা তব উদ্ভাসিত মহাগগনমাঝে,
বিশ্বজগত মণিভূষণ বেষ্টিত চরণে ॥
গ্রহতারক চন্দ্রতপন ব্যাকুল দ্রুত বেগে
করিছে পান, করিছে স্নান, অক্ষয় কিরণে ॥
ধরণী’পর ঝরে নির্ঝর, মোহন মধু শোভা
ফুলপল্লব-গীতগন্ধ-সুন্দর-বরণে ৷
বহে জীবন রজনীদিন চিরনূতনধারা;
করুণা তব অবিশ্রাম জনমে মরণে ॥
স্নেহ প্রেম দয়া ভক্তি কোমল করে প্রাণ,
কত সান্ত্বন করে বর্ষণ সন্তাপহরণে ॥
জগতে তব কী মহোৎসব, বন্দন করে বিশ্ব
শ্রীসম্পদ ভূমাস্পদ নির্ভয়শরণে ॥
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
* স্বরবিতান-৪ (ভজন ভাঙ্গা সুর)
↑ Contents
হরিগুণ গাওয়ে, তব্ সুখ পালয়ে কেঁও নহি মন হরি নাম রটনা
ভূপালী—ঢিমা তিনতাল
হরিগুণ গাওয়ে, তব্ সুখ পালয়ে, কেঁও নহি মন হরি নাম রটনা।
দৃষ্টিমে বিচার করকে দেখো জগমে কোই নহি আপনা ॥
—অজ্ঞাত
↑ Contents
যদি তোর হৃদ্-যমুনা হ’লরে উছল রে ভোলা
বাউল-কীৰ্তন—একতাল
যদি তোর হৃদ্-যমুনা হ’লরে উছল, রে ভোলা!
-তবে তুই একূল ওকূল ভাসিয়ে দিয়ে চল, রে ভোলা ॥
আজি তুই ভরা প্রাণে ছুটে যা নৃত্যে গানে,
যে আসে প্রেম-প্লাবনে ভাসিয়ে দিয়ে চল্, রে ভোলা!
যে আসে মনের দুখে, যে আসে ফুল্ল মুখে,
টেনে নে সবায় বুকে, তোর থাক্না চোখে জল, রে ভোলা ॥
চলে যা মন জুড়িয়ে; দু ধারের ফুল কুড়িয়ে,
মালা তোর হলে বিফল করবি কি তুই বল্, রে ভোলা!
মিছে তোর সুখের ডালি, মিছে তোর দুখের কালি,
দুদিনের কান্না হাসি, ছল্ ছল্ ছল্, রে ভোলা ॥
জীবনের হাটে আসি, বাজা তুই বাজা বাঁশি,
থাক্ সেথা বেচা-কেনার দারুণ কোলাহল, রে ভোলা!
অরূপের রূপের খেলা চুপ্ করে তুই দেখ দু'বেলা;
কাছে তোর এলে কুরূপ, তুই মুখ ফিরিয়ে চল, রে ভোলা!
—অতুলপ্রসাদ সেন
↑ Contents
যে ধ্রুবপদ দিয়েছ বাঁধি বিশ্বতানে
কানাড়া—ঝাঁপতাল*
যে ধ্রুবপদ দিয়েছ বাঁধি বিশ্বতানে,
মিলাব তাই জীবনগানে ॥
গগনে তব বিমল নীল, হৃদয়ে লব তাহারি মিল,
শান্তিময়ী গভীর বাণী নীরব প্রাণে ॥
বাজায় ঊষা নিশীথকূলে যে গীতভাষা,
সে ধ্বনি নিয়ে জাগিবে মোর নবীন আশা,
ফুলের মতো সহজ সুরে প্রভাত মম উঠিবে পুরে,
সন্ধ্যা মম সে সুরে যেন মরিতে জানে ৷
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
*স্বরবিতান-৩০
↑ Contents
সারদা মাতার আদরের ধন সারদানন্দ তুমি মহান্
কেদারা—কাওয়ালী**
সারদা মাতার আদরের ধন সারদানন্দ তুমি মহান্।
রামকৃষ্ণ-চরণ সেবক, যীশু অন্তরঙ্গ শান্ত ধীমান ৷৷
প্রশান্ত গম্ভীর সুবিপুল কায়, হিয়া কাঁপে ডরে ভাষা না জুগায়।
অন্তরে বিমল প্রেমমন্দাকিনী অবিরল বহে জননীর প্রায় ॥
রামকৃষ্ণ লীলাপ্রসঙ্গ তোমার অনন্ত অপূর্ব জ্ঞানের ভাণ্ডার।
চণ্ডালে বেদ বিতরিতে ভবে এলে বেদব্যাস কলিতে আবার ॥
রামকৃষ্ণ-সঙ্ঘ-জননীর দ্বারে দ্বারী হ’য়ে মহা সৌভাগ্য মানিলে।
বাসুকীর মত যত ভার শিরে মহানন্দে মার কৃপায় বহিলে ॥
গুরু কৃপা বলে তাপসপ্রধান, সর্বভূতে করি ব্রহ্ম দরশন;
শিব-জ্ঞানে জীব-সেবায় সঁপিলে, অবহেলে নিজ তনু প্রাণ মন।
অচল অটল সুমেরু সমান, নায়ক আদেশ করিলে পালন;
গুরু সংঘভার করি সঞ্চালন, অকাতরে সয়তনে আজীবন ৷৷
—স্বামী গৌরীশ্বরানন্দ
** শ্রীমৎ স্বামী সারদানন্দজী সম্বন্ধে।
↑ Contents
লম্বোদর সুন্দর তনু কে তুমি যতিজ্ঞানী শিরোমণি
খাম্বাজ—একতাল*
লম্বোদর সুন্দর তনু কে তুমি যতিজ্ঞানী শিরোমণি,
ভকত-প্রধান, সেবা মূর্তিমান, বেদের বাখান করিছে লেখনি।
সর্বংসহ সৌম্য মূরতি, জ্ঞান আবরণে পূর্ণ ভকতি,
যোগ-কৰ্ম কুশল অতি সমাহিত-চিত থাক দিবাযামী।
শিবানীর কোলে গণেশের প্রায়, হে মহাতাপস কে তুমি ধরায়,
অর্পিত চিত মায়ের সেবায়, তুচ্ছং ব্রহ্মপদমপি গণি ৷
—স্বামী চণ্ডিকানন্দ
* শ্রীমৎ স্বামী সারদানন্দজী সম্বন্ধে।
↑ Contents
রামকৃষ্ণ মানসতনয় ব্রহ্মানন্দ ব্রজ রাখাল
গৌড়-সারঙ্গ—একতাল**
রামকৃষ্ণ মানসতনয় ব্রহ্মানন্দ ব্রজ রাখাল ৷
নিত্যসিদ্ধ ঈশকোটি করুণা মুরতি অতি দয়াল ॥
জ্ঞানী শিরোমণি, রসিক নাগর, বিবেক বৈরাগ্য প্রেমের আকর।
জীব-দুখে বিগলিত করুণায় এলে কৃষ্ণ-সখা ধরায় আবার ॥
কভু বৃন্দাবনে, যমুনাপুলিনে, নর্মদা কূলে বিজন বনে;
ধ্যান-গমন তাপস মহান, দিবা বিভাবরী ব্রহ্মানন্দে লীন।
রামকৃষ্ণ-সংঘ নায়ক, কর্ম-জ্ঞান-ভক্তি-দেশিক;
পতিত তাপিতে কৃপা বিতরিতে সদা শিবময় শান্ত সরল ৷
—স্বামী গৌরীশ্বরানন্দ
** শ্রীমৎ স্বামী ব্রহ্মানন্দজী বিষয়ক
↑ Contents
ফিরে চল ফিরে চল ফিরে চল আপন ঘরে
মালকোষ—তেওরা
ফিরে চল, ফিরে চল, ফিরে চল আপন ঘরে।
চাওয়া-পাওয়ার হিসাব মিছে, আনন্দ আজ আনন্দ রে ৷৷
আকাশ-ভরা জোছনা ধারা বাতাস বহে বাঁধন হারা,
প্রেমের সুরে ভরা ভুবন, ব্যথার বেদন ঘুচিল রে ॥
মরণ-নীলা সাগর হ’তে জীবন বহে সুধা-স্রোতে,
জীবনে মরণ মরণে জীবন, ভয় কিবা কি-বা দুঃখ রে ॥
আকাশ-পাখী কহিছে গাহি? ‘মরণ নাহি, মরণ নাহি',
রজনী দিন জীবন ধারা, ঐ যে ঝরে, ঐ যে ঝরে ॥
—সৌরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়
↑ Contents
সেই বৃন্দাবনের লীলা অভিরাম সবি
কীর্তন
সেই বৃন্দাবনের লীলা অভিরাম সবি,
আজো পড়ে মনে মোর—পড়ে যে কেবলি মনে!
সেই আলোর দুলাল শ্যামলের প্রেম ছবি,
আজো পড়ে মনে মোর—পড়ে যে কেবলি মনে।
সেই সখা সখী মিলি’ কুতূহলে ঘাটে যাওয়া :
সেই নির্মল নীল যমুনার জলে নাওয়া
সেথা সমস্বনে সবে গুণমণি-গুণ-গাওয়া
আর কখনো বা প্রিয়তম-দরশন পাওয়া
আজো পড়ে মনে মোর—পড়ে যে কেবলি মনে।
সেই ফুল-ফুল-খেলা কত অরণ্যে বনে
কত তারার দেয়ালি আকাশের আল্পনে
কত মুরলীধ্বনি শুনিয়া পিয়াসী মনে,
খোঁজা কুঞ্জে কুঞ্জে মিলন-মনোমোহনে
আজো পড়ে মনে মোর–পড়ে যে কেবলি মনে।
কত চাঁদিনি-রাতে সে—অপরূপ রূপরাস
কত রূপের মন্ত্রে জাগানো প্রেমবিলাস
চির রঙিনের রঙে রঙানো হৃদি-উছাস
কত আপনা হারায়ে বঁধুর বরণ আশ
আজো পড়ে মনে মোর–পড়ে যে কেবলি মনে।
ওরা হাসে আজ, বলে, “হায় রে মধুর স্বপন!”
বলে “কৃষ্ণকাহিনী”—কল্পনা—কবি কথন!”
(ওরা হাসে—ওরা জানে না—তাই হাসে—
ওরা জানে না—তাই মানে না—আমি জানি—তাই মানি—
আমি অন্তরে তোমার বাঁশরি শুনেছি, তাই বঁধু আমি জানি)
তাই এসব কথা তো শোনে না আমার স্বপন,
ব্রজ রমণীর কথা— আর সে রমণী-রমণ—
আজো পড়ে মনে মোর—পড়ে যে কেবলি মনে।
—দিলীপকুমার রায়
↑ Contents
দেখেছি রূপ-সাগরে মনের মানুষ কঁাচা সােনা
বাউল—লোফা *
দেখেছি রূপ-সাগরে মনের মানুষ কঁাচা সােনা।
তারে ধরি ধরি মনে করি,
ধরতে গেলে ধরা দেয় না ।
বহুদিন ভাব তরঙ্গে, ভেসেছি কতই রঙ্গে,
সুজনের সঙ্গে হবে দেখা-শােনা;
তারে আমার আমার মনে করি,
আমার হয়ে আর হল না ||
সে মানুষ চেয়ে চেয়ে,
ফিরতেছি পাগল হয়ে,
মরমে জ্বলছে আগুন আর নিভে না।
(আমায়) বলে বলুক লােকে মন্দ
বিরহে তার প্রাণ বাঁচে না |
পথিক কয়, ভেব না রে ডুবে যাও রূপ-সাগরে,
বিরলে বাস কর যােগসাধনা;
একবার ধরতে পেলে মনের মানুষ,
ছেড়ে যেতে আর দিও না ।
—অজ্ঞাত
* এই সুর অবলম্বনে রবীন্দ্রনাথের ভাঙাগান : ভেঙে মাের ঘরের চাবি নিয়ে যাবি কে
↑ Contents
মহাপুরুষের বাণী
সিন্ধু-মিশ্র
মহাপুরুষের বাণী
যুগে যুগে বিধাতার বারতা বহিয়া শান্তি দেয় গাে আনি।
তাই ভকতগণ একসাথে মিলি জনম উৎসবে প্রাণ দেয় ঢালি।
তারই পূজা ওগাে দেবতারি পূজা অন্তর মাঝে জানি।
যবে ধর্মের গ্লানি এ ধরা মাঝে দেবতা নামেন মানুষের সাজে
দুর্গত জনে মুকতিদানে নরনারায়ণ তারে নত হয়ে মানি।
ব্রজের কিশাের বুদ্ধ নিমাই পরমহংস অবতার ভাই
একি লীলা ওগাে দেবতা মানবে চিরদিন কানাকানি ॥
—অমূল্যভূষণ সেন
↑ Contents
শুধু দুদিনেরই খেলা
ভৈরবী—কাওয়ালী
শুধু দুদিনেরই খেলা।
ঘুম না ভাঙ্গিতে আঁখি না মেলিতে
দেখিতে দেখিতে ফুরায় বেলা ।
আশার ছলনে কত উঠি পড়ি,
কত কঁাদি হাসি কত ভাঙ্গি গড়ি;
বাঁধিতে ঘর, হাটেরই ভিতর
ভেঙ্গে যায় এই সাধের খেলা।
আমাদেরও এই দেহপ্রাণমন,
সুখ-দুঃখ এই জীবন-মরণ—
এও বিধাতার পুতুল খেলা;
শুধু গড়া আর ভাঙ্গিয়া ফেলা।
—অজ্ঞাত
↑ Contents
সমুখে শান্তি পারাবার ভাসাও তরণী হে কর্ণধার
পূরবী—একতাল*
সমুখে শান্তি পারাবার ভাসাও তরণী হে কর্ণধার,
তুমি হবে চিরসাথি, লও লও হে ক্রোড় পাতি,
অসীমের পথে জলিবে জ্যোতি ধ্রুবতারকার ।
মুক্তিদাতা, তােমার ক্ষমা তােমার দয়া হবে চিরপাথেয় চিরযাত্রার,
হয় যেন মর্তের বন্ধন-ক্ষয়, বিরাট বিশ্ব বাহু মেলি লয়—
পায় অন্তরে নির্ভয় পরিচয় মহা অজানার।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
* স্বরবিতান-৫৫
↑ Contents
বিদ্যাপীঠের তরুলতা মুগ্ধ করে মন
বিদ্যাপীঠ গীতি
মিশ্র-ইমন—ভূপালী
বিদ্যাপীঠের তরুলতা মুগ্ধ করে মন,
হৃদয় মাঝে রচে সে যে সােনারি স্বপন
ও তার তুলনা ভাই দেখতে নাহি পাই ভ্ৰমি ত্রিভুবন
সাধের বিদ্যাপীঠ যে মােদের, শােভার নিকেতন
বিদ্যাপীঠের উদার মাঠে বিস্তারিত স্নেহ
মন ভরে দেয় প্রাণ ভরে দেয় সবল করে দেহ
ঘর ছাড়া পায় ঘর, আপন হল পর, দেখেছ কি কেহ
বিদ্যাপীঠের প্রাঙ্গণেতে মিটিবে সন্দেহ।
বিদ্যাপীঠের গগনতলে দীপ্ত আলাে জ্বলেরে
সেই আলােকের শিক্ষা বয়ে ছাত্রদল চলে রে
চব দেশ দেশান্তরে ঘুরব মরু প্রান্তরে
অভীঃ হাওয়ার বাণী সাধি নূতন জগৎ গড়বাে রে ॥
—স্বামী হিরন্ময়ানন্দ
↑ Contents
প্রভু তেরী দয়া হয় অপার তুঁ অগম অগােচর অবিকল
কাফি
নিরাকার
প্রভু তেরী দয়া হয় অপার, তুঁ অগম, অগােচর, অবিকল;
চর-অচর, সকল কো কুঁ আধার, পতিতনকে উদ্ধার।
দীননাথ পতিতরু, দূরবল, মহৎ-অপরাধী,
শরণাগত হুঁ চতুর তেহার, মােহে পার উতার।
—অজ্ঞাত
↑ Contents
মহা সিংহাসনে বসি শুনিছ হে বিশ্বপিত
ভৈরবী—ঝাপতাল*
মহা সিংহাসনে বসি শুনিছ, হে বিশ্বপিত,
তােমারি রচিত ছন্দে মহান্ বিশ্বের গীত।
মর্তের মৃত্তিকা হয়ে ক্ষুদ্র এই কণ্ঠ লয়ে
আমিও দুয়ারে তব হয়েছি হে উপনীত।
কিছু নাহি চাহি দেব, কেবল দর্শন মাগি।
তােমারে শােনাব গীত, এসেছি তাহারি লাগি।
গায় যেথা রবি শশী সেই সভামাঝে বসি
একান্তে গাইতে চাহে এই ভকতের চিত।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
* স্বরবিতান-৮
↑ Contents
পাদপ্রান্তে রাখ সেবকে
ঝিঁঝিট—একতালা*
পাদপ্রান্তে রাখ সেবকে,
শান্তি-সদন সাধন-ধন দেব-দেব হে ॥
সর্বলােক-পরম-শরণ, সকল মােহ-কলুষ-হরণ,
দুঃখ-তাপ-বিঘ্ন-তরণ, শােক-শান্ত-স্নিগ্ধ-চরণ,
সত্যরূপ প্রেমরূপ হে,
দেব-মনুজ-বন্দিত-পদ বিশ্বরূপ হে ॥
হৃদয়ানন্দ পূর্ণ ইন্দু তুমি অপার প্রেমসিন্ধু।
যাচে তৃষিত অমিয়বিন্দু, করুণালয় ভক্তবন্ধু
প্রেমনেত্রে চাহ’ সেবকে,
বিকশিতদল চিত্তকমল হৃদয়-দেব হে ॥
পুণ্যজ্যোতি-পূর্ণ গগন, মধুর হেরি সকল ভুবন,
সুগন্ধ-মুদিত পবন, ধ্বনিত-গীত হৃদয়-ভবন।
এস এস’ শূন্য জীবনে,
মিটাও আশ সব তিয়াস অমৃত-প্লাবনে ॥
দেহ জ্ঞান, প্রেম দেহ, শুদ্ধ চিত্তে বরিষ স্নেহ,
ধন্য হােক হৃদয় দেহ, পুণ্য হােক্ সকল গেহ।
পাদপ্রান্তে রাখ’ সেবকে
শান্তিসদন সাধনধন দেব দেব হে ॥
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
* স্বরবিতান-২৬
↑ Contents
শুভ কর্মপথে ধর নির্ভয় গান
মিশ্র—কাহারবা*
শুভ কর্মপথে ধর নির্ভয় গান।
সব দুর্বল সংশয় হােক অবসান ।
চির-শক্তির নিঝর নিত্য ঝরে লহ সে অভিষেক ললাট’পরে।
তব জাগ্রত নির্মল নূতন প্রাণ
ত্যাগব্রতে নিক দীক্ষা, বিঘ্ন হতে নিক শিক্ষা
নিষ্ঠুর সঙ্কট দিক সম্মান।
দুঃখই হােক তব বিত্ত মহান।
চল’ যাত্রী, চল’ দিনরাত্রি
কর অমৃতলােকপথ অনুসন্ধান।
জড়তাতামস হও উত্তীর্ণ, ক্লান্তিজাল কর’ দীৰ্ণ বিদীর্ণ-
দিন-অন্তে অপরাজিত চিত্তে মৃত্যুতরণ তীর্থে কর’ স্নান ।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
* স্বরবিতান—৪৭
↑ Contents
শৌর্য দাও বীর্য দাও নবীন জীবন দাও
ভৈরবী-দাদরা**
শৌর্য দাও, বীর্য দাও, নবীন জীবন দাও,
পরা অপরা বিদ্যা দাও, দিব্য চেতন দাও ।
কর্মে শক্তি দাও, হৃদয়ে ভকতি দাও,
নির্মল শুভ বুদ্ধি দাও, জ্ঞান গরিমা দাও ।
ত্যাগেতে মতি দাও, সেবাতে প্রীতি দাও,
স্বার্থ দ্বন্দ্ব ভেদবুদ্ধি চিরতরে মুছে দাও।
এ নবযুগের নবীনতন্ত্রে দীক্ষিত কর মিলন মন্ত্রে,
সার্থক কর জীবন মােদের চরণে শরণ দাও ।
—স্বামী চণ্ডিকানন্দ
** স্বরলিপি ঃ আনন্দ লহরী
↑ Contents
কে তুমি রাখাল রাজা সাজিয়ে নরের সাজে
দরবারী কানাড়া—ঝাঁপতাল
কে তুমি রাখাল রাজা সাজিয়ে নরের সাজে।
গােলকে আসন ছাড়ি এসেছ গুরুর কাজে।
সরল বালক অতি মায়া মুক্ত মহামতি
বালগােপাল মূরতি অন্তরে সদা বিরাজে ।
বাহিরে বালক হাস ভিতরে ব্রহ্মবিকাশ
কে চিনিতে পারে তােমায় চেনা নাহি দিলে নিজে ||
তব পদে করি নতি জাগিছে গুরু ভকতি
গুরুদত্ত মন্ত্র যেন নিয়ত অন্তরে বাজে ।
—শরৎচন্দ্র চক্রবর্তী
↑ Contents
মহিষাসুরমর্দিনী-স্তোত্রম্
মহিষাসুরমর্দিনী-স্তোত্রম্*
অয়ি গিরিনন্দিনি নন্দিতমেদিনি বিশ্ববিননাদিনি নন্দিনুতে
গিরিবরবিন্ধ্যশিরােহধিনিবাসিনি বিষ্ণুবিলাসিনি জিষ্ণুনুতে।
ভগবতি হে শিতিকণ্ঠকুটুম্বিনি ভূরিকুটুম্বিনি ভূরিকৃতে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥১॥
সুরবরবর্ষিণ দুর্ধধর্ষিীণ দুর্মুখমর্ষিীণ হর্ষরতে
ত্রিভুবনপােষিণি শঙ্করতােষিণি কিন্বিষমমাষিণি ঘােষরতে।
দনুজনিরােষিণি দিতিসুতররাষিণি দুর্মদশাষিণি সিন্ধুসুতে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে | ২||
অয়ি জগদম্ব মদম্ব কদম্ব বনপ্রিয়বাসিনি হাসরতে
শিখরি শিরােমণি তুঙ্গহিমালয় শৃঙ্গনিজালয় মধ্যগতে।
মধুমধুরে মধুকৈটভগঞ্জিনি কৈটভঞ্জিনি হাসরতে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে | ৩ ||
অয়ি শতখণ্ড বিখণ্ডিতরুণ্ড বিতুণ্ডিতশুণ্ড গজাধিপতে
রিপুগজগৎ বিদারণচণ্ড পরাক্রমশুণ্ড মৃগাধিপতে।
নিজভুজদণ্ড নিপাতিতখণ্ড বিপাতিতমুণ্ড ভটাধিপতে।
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ॥৪॥
8 11
অয়ি রণদুর্মদ শত্রুবধােদিতদুর্ধরনির্জর শক্তিতে
চতুরবিচার ধুরীণমহাশিব দূতকৃত প্রমথাধিপতে।
দুরিতদুরীহ দুরাশয়দুর্মতি দানবদূত কৃতান্তমতে।
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে | ৫||
অয়ি শরণাগত বৈরিবধূবর বীরবরাভয় দায়করে
ত্রিভুবনমস্তক শূলবিরােধি শিরােইধিকৃতামল শূলকরে।
দুমিদুমিতামর দুন্দুভিনাদমহােমুখরীকৃত দিগ্মকরে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে || ৬ ||
অয়ি নিজহুংকৃতিমাত্র নিরাকৃত ধূম্রবিলােচন ধূম্ৰশতে
সমরবিশােষিত শােণিতবীজ সমুদ্ভবশশাণিত বীজলতে।
শিবশিবশুম্ভ নিশুম্ভমহাহব তর্পিতভূত পিশাচরতে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে || ৭||
ধনুরনুষঙ্গ রণক্ষণসঙ্গ পরিস্ফুরদঙ্গ নটকটকে
কনকপিশঙ্গ পৃষৎকনিষঙ্গ রসঙটশৃঙ্গ হতাবটুকে।
কৃতচতুরঙ্গ বলক্ষিতিরঙ্গ ঘটদ্বহুরঙ্গ রটদ্বটুকে।
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে।। ৮ ||
জয় জয় জপ্য জয়েজয়শব্দ পরস্তুতি তৎপর বিশ্বনুতে
ঝণঝণ ঝিংঝিমি ঝিংকৃতনূপুর শিঞ্জিতমােহিত ভূতপতে।
নটিত নটার্ধ নটী নট নায়ক নাটিতনাট্য সুগানরতে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে। ৯।
অয়ি সুমনঃ সুমনঃ সুমনঃ সুমনঃ সুমনােহর কান্তিযুতে
শ্রিতরজনী রজনী রজনী রজনী রজনীকর ববৃতে।
সুনয়ন বিভ্রমর ভ্রমর ভ্রমর ভ্রমর ভ্রমরাধিপতে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ১০ |
সহিতমহাহব মল্লমতল্লিক মল্পিতরল্লক মল্লরতে
বিরচিত বল্লিক পল্লিক মল্লিক ঝিল্লিক ভিল্লিক বর্গবৃতে।
সিতকৃতফুল্ল সমুল্লসিতারুণতল্লজ পল্লব সল্ললিতে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে || ১১ ॥
অবিরল গণ্ডগলন্মদমেদুর মত্তমতঙ্গজরাজপতে
ত্রিভুবনভূষণ ভূতকলানিধি রূপপয়ােনিধি রাজসুতে।
অয়ি সুদতীজন লালসমানস মােহনমন্মথ রাজপুতে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে || ১২
কমলদলামল কোমলকান্তি কলাকলিমল ভাললতে
সকলবিলাস কলানিলয়ম কেলিচলকল হংসকুলে।
অলিকুলসঙ্কুল কুবলয়মণ্ডল মৌলিমিলদ্বকুলালিকুলে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে || ১৩ |
করমুরলীরব বীজিতকৃজিত লজ্জিতকোকিল মঞ্জুমতে
মিলিতপুলিন্দ মনােহরগুঞ্জিত রঞ্জিতশৈল নিকুঞ্জগতে।
নিজগণভূত মহাশবরীগণ সদ্গুণসংভৃত কেলিতলে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে। ১৪ |
কটিতটপীত দুকুলবিচিত্র ময়ুখতিরস্কৃত চন্দ্ররুচে
প্রণতসুরাসুর মৌলিমণিস্ফুরদংশুলসন্নখ চন্দ্ররুচে।
জিতকনকাচল মৌলিমদোর্জিত নির্ভরকুঞ্জর কুম্ভকুচে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে || ১৫ |
বিজিতসহস্ৰকরৈক সহস্ৰকরৈক সহস্ৰকরৈকনুতে
কৃতসুরতারক সঙ্গরতারক সঙ্গরতারক সূনুসুতে।
সুরথসমাধি সমানসমাধি সমাধিসমাধি সুজাতরতে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে।১৬ ||
পদকমলং করুণানিলয়ে বরিবস্যতি যােইনুদিনং সুশিবে
অয়ি কমলে কমলানিলয়ে কমলানিলয়ঃ স কথং ন ভবেৎ।
তবপদমেব পরং পদমিত্যনুশীলয়তাে মম কিং ন শিবে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে। ১৭ |
কনকলসকল সিন্ধুজলৈরনুষিঞ্চতি তে গুণরঙ্গভুবং
ভজতি স কিং ন শচীকুচকুম্ভ তটীপরিরম্ভ সুখানুভবম্।
তব চরণং শরণং করবাণি নতামরবাণি নিবাসি শিবম্
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে।। ১৮ |
তব বিমলেন্দুকুলং বদনেন্দুমলং সকলং ননু কূলয়তে
কিমু পুরুহুতপুরীমুখী সুমুখীভিরসৌ বিমুখী ক্রিয়তে।
মম তু মতং শিবনামধনে ভবতী কৃপয়া কিমুত ক্রিয়তে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে। ১৯।
অয়ি ময়ি দীনদয়ালুতয়া কৃপয়ৈব ত্বয়া ভবিতব্যমুমে
অয়ি জগত জননী কৃপয়াসি যথাসি তথানুমিতাসিরতে ।
যদুচিতমত্র ভবত্যুররী কুরুদুরুতাপমপাকুরুতে।
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে || ২০ ||
*স্বরলিপি ঃ সুরবিতান
↑ Contents